Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ অদ্ভুত হেমিংওয়ে > রনক জামান

অদ্ভুত হেমিংওয়ে > রনক জামান

প্রকাশঃ June 20, 2017

অদ্ভুত হেমিংওয়ে > রনক জামান
0
1

প্রতিটি মানুষের গল্প একইভাবে সমাপ্ত হয়, সামান্য পার্থক্য থাকে তাদের বেঁচে থাকার ছোট ছোট গল্পগুলোর ভেতরতবে একজন মানুষ থেকে অন্যজন কতটা ব্যতিক্রম তা নির্ধারিত হয় সে কিভাবে মারা গিয়েছে তার উপর।

উক্তিটি বিখ্যাত “ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সী”-এর লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের। ২১ জুলাই, ১৮৯৯ সালে আমেরিকায় জন্ম নেয় হাতেগোনা, নিজ দমে দাপুটে, কিংবদন্তী লেখকদের একজন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। লিখে গেছেন “আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস”, “টু হুম দ্যা বেল টোলস”, “সান অলসো রাইজেস” এর মতো বিখ্যাত উপন্যাসগুলো। লিখেছেন পঞ্চাশের বেশি ছোটগল্প, দুটো নন-ফিকশন বই, যার একটি “আ মুভেবল ফিস্ট”। যেটিকে বলা হয় প্যারিসের অভিজ্ঞতার উপর রচিত সেরা গ্রন্থ। তাঁর অধিকাংশ রচনাই পরবর্তীতে আমেরিকান ক্লাসিক হয়ে ওঠে। অর্জন করেন সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার। লেখালেখির বাইরে তিনি নিজেও হয়ে ওঠেন আলোচিত ও আগ্রহ-উদ্দীপক এক চরিত্র। তাঁর অধিকাংশ লেখাই নিজেরই জীবনের অভিজ্ঞতার উপর লিখিত। ফলে তা একদিকে যেমন সাহিত্যের সেরা সংযোজন হয়ে ওঠে, অন্যদিকে তিনি নিজেও হয়ে ওঠেন রহস্যমণ্ডিত। অদ্ভুত সব স্বভাব, ঘটনা, জীবনযাপনের রীতি, কথাবার্তা, সবকিছু আজও পাঠকের আগ্রহ ধরে রেখেছে।

প্যারি রিভিউ-তে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “কী মনে হয় আপনার, একজন ভালো লেখক হয়ে ওঠার জন্য সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি কেমন হতে পারে?”

জবাবে হেমিংওয়ে বলেন, এক্ষেত্রে তার উচিত হবে বাইরে বেরিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে নিজেকে ঝুলিয়ে দেয়া, তাহলে সে বুঝতে পারবে যে ভালো লেখা কতটা অসম্ভব কঠিন কাজএটা উপলব্ধি হবার পর দড়ি কেটে নামতে পারে সে, যাতে বাকি জীবন নিজেকে কোনোরূপ ছাড় না দিয়েই নিজতাগিদে যতটা সম্ভব ভালো লিখে যাবার চেষ্টা করতে পারেঅন্তত তখন গলায় দড়ি দেবার একটা নিজস্ব গল্প তো থাকবে তাঁর লেখার মতো

ব্যক্তিগত জীবনে একজন বক্সারও ছিলেন তিনি। অন্যান্য লেখকের লেখনীশক্তির উপমাও তাঁর কাছে রিং-এর দাপটের বেশে বলতেন। টলস্টয়ের লেখনীশক্তির প্রশংসা হিসেবে বলেছিলেন, তাঁর সাথে কিছুতেই রিঙে উঠতে সাহস করি না আমি

রিংয়ে জেমস জয়েসকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনাও যথেষ্ট প্রচলিত। এই অদ্ভুত স্বভাবের লেখক বেঁচে গেছেন এক মারকুটে জীবন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আর্মিতে তাঁকে না নেয়া হলে সেই যুদ্ধাহতদের বহনকারী রেডক্রস এম্বুলেন্সের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেন ইতালিতে। তখন সেখানে সাক্ষাৎ হয় এক নার্সের সাথে, তাঁর প্রেমের ঘটনার উপর লিখে ফেলেন কালজয়ী উপন্যাস, “আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস”।

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের এমনই কিছু অদ্ভুত দিক

[১] ছোটবেলা হেমিং তাঁকে মেয়েদের মতো করে সাজুগুজু করিয়ে রাখতেন সাদারঙা ফ্রক পরিয়ে। হেমিংওয়েকে তাঁর মা আদর করে ডাকতেন, “আমার ডাচ পুতুল” ও “সুইটি” বলে। পরবর্তীতে লেখক “সুইটি” শব্দটিকে ব্যাঙ্গ করে বলতেন, “ফুইটি”। এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, “আমি কোনো ডাচ পুতুল-টুতুল নই। ঐ ফুইটিকে কবেই গুলি করে উড়িয়ে দিয়েছি।”

[২] “দ্যা গ্রেট গ্যাটসবি”-র লেখক স্কট ফিটজেরাল্ড ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ে দুজন বন্ধু ছিলেন। প্যারিস অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা “আ মুভেবল ফিস্ট”-এ ঘটনাটি তিনি নিজেই উল্লেখ করেন।

এক অনুষ্ঠানে ফিটজেরাল্ড তাঁর কানে কানে জানালেন, “আমার গোপনাঙ্গ সম্ভবত তুলনামূলকভাবে ছোট, জেল্ডা আমার উপর এ ব্যাপারে অসন্তুষ্ট, আমার গোপনাঙ্গের আকৃতি ছোট, এই নিয়ে সে মাঝে মাঝেই বলে, সাইজ ম্যাটারস।”

হেমিংওয়ে এরপর তাঁকে ডেকে ওয়াশরুমে গিয়ে ফিটজেরাল্ডের গোপনাঙ্গ মেপে দেখে অনুষ্ঠানের কক্ষে ফিরে গেলেন। ভরা সভার মধ্যে উচ্চস্বরে ফিটজেরাল্ডকে বললেন, “আরে এটা কোনো ব্যাপারই না। নিজেকে দেখো, উপর থেকে নিচে তাকালে এমন মনে হতেই পারে। একবার বাইরে যাও, প্যারিসের সবগুলো নগ্ন মূর্তির গোপনাঙ্গ দেখে এসো, ওদের তুলনায় ওদের ঐটা কত ছোট খেয়াল কোরো। এরপর এসে আয়নায় নিজেকে ভালো করে দেখলে বুঝবে, তোমার অনুপাতে ওটা আসলে ঠিকই আছে, ঘাবড়ানোর কিচ্ছু নেই।”

[৩] হেমিংওয়ে প্রচুর মদ্যপান করতেন। এক অনুষ্ঠানে ব্যায়বহুল লাঞ্চের সময় শ্যাম্পেইনের বোতল খুলতে খুলতে বলেন, “টাকা খরচ করবার যোগ্য জিনিস হলো এটা। বাকিসব অপচয়।”

একবার তাঁর পছন্দের এক বারের বাথরুম থেকে ইউরিনাল তুলে নিয়ে নিজের বাড়িতে বসালেন। বারের লোকজন এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন যে, এই বারে তিনি এত বেশি টাকার মদ খেয়েছেন আর তার অধিকাংশই প্রস্রাব করে এই ইউরিনালে অনেক টাকা ফেলেই এসেছেন। সে হিসেবে, এই ইউরিনাল তাঁরই প্রাপ্য।

[৪] হেমিংওয়ের বিখ্যাত এক উক্তি ছিল, “মূলত লিখবার কিছুই নেই। যা করবার আছে তা হলো, একটা টাইপরাইটারের সামনে বসা এবং নিজেরই রক্তপাত করা।” তবে যতদূর জানা যায় (এবং তাঁর ব্যক্তিগত ছবির এলবাম হতে), অধিকাংশ সময় লেখক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই টাইপরাইটারে কাজ করতেন। লিখতেন তাঁর শোবার ঘরে, টেবিলে টাইপরাইটার না রেখে একটা বুকশেলফের উপর রাখতেন, সেখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লিখতেন। নড়াচড়ার মধ্যে কিছুক্ষণ পরপর শরীরের ভার এক পা থেকে অন্য পায়ে ভর দিতেন স্রেফ।

[৫] হেমিংওয়ের শিকারের খুব শখ ছিল এ কথা সবারই জানা। নিজের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন শিকারে। জানা যায়, একদিনে একশ খরগোশ শিকার করেছিলেন তিনি। এছাড়া শিকার করতেন সিংহ, চিতাবাঘ, হায়েনা, পাখি। “পশু-পাখি ও মাছ শিকারে আমি জীবনের প্রচুর সময় ব্যয় করেছি। তাই তখন নিজেকে আর শিকার করবার প্রয়োজন ছিল না,” আভা গার্ডনারকে বলেছিলেন তিনি একবার।

[৬] দ্যা ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সী-এর এই লেখকের নেশা ছিল মৎস্য শিকার করা। ১৯৪২-৪৩ এ কিউবার উত্তর উপকূলে প্রচুর সময় কাটান এই কাজে। তাঁর নিজের বোটে একটা মেশিনগান রাখতেন তিনি হাঙর মারতে, যাতে হাঙরগুলো তাঁর শিকার না খেয়ে যেতে পারে। একদিনে সাতটি মারলিন মাছ শিকার করবার বিশ্বরেকর্ড এখনো তাঁর দখলে। এ ব্যাপারে তিনি জানিয়েছিলেন, শুধু মেশিনগানই নয়, এই কাজের জন্য তাঁর বোটে গ্রেনেডও রয়েছে যথেষ্ট পরিমানে।

বক্সার হেমিংওয়ে
বক্সার হেমিংওয়ে

[৭] তবে তিনি পশু-পাখির প্রতি হিংস্র ছিলেন, এরকম সমালোচনা থাকলেও পশুপ্রাণি প্রেমের নজিরও রয়েছে বেশ। এক সময় একটা ভালুকের সাথে ঘুমাতেন তিনি, এমনকি একসাথে মদ্যপান করতেন ভালুকটির সাথে। নিউ ইয়র্কারের সাবেন স্টাফ লেখিকা লিলিয়ান রস ১৯৫০ সালে হেমিংওয়ে সম্পর্কে এক দীর্ঘ রচনা প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে লেখিকা উল্লেখ করেন, একবার বারে হেমিংওয়ের সাথে তার দীর্ঘক্ষণ কথোপকথন হয়। কথা হয় ব্রোঞ্জ নামে এক চিড়িয়াখানার ভালুক নিয়ে। জানা যায়, জন্তু-জানোয়ারের প্রতি হেমিংওয়ের কোমল একটা দিক ছিল। রচনায় লেখিকার ভাষ্যে, “এক সময় হেমিংওয়ে ভালুকের সাথে থাকতেন, ভালুকটির সাথে তাঁর খাতির ছিল বন্ধুর মতো। নিজে প্রচুর মদ্যপান করতেন, ভালুকটিও তাঁর সাথে মদ খেত, তারপর একসাথে ঘুমিয়ে পড়ত দুজন।”

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের এই অদ্ভুত ঘটনা আর কোথাও উল্লেখ না থাকায় ব্যাপারটা অস্পষ্ট যে এটা সত্যি ঘটনা নাকি লেখিকার গল্পের কাল্পনিক অংশ বা গুজব। লিলিয়ান রস পরবর্তীতে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা না করে ধাঁধাঁর মতোই রেখে দেন।

[৮] লেখকদের জীবনে রাইটার্স ব্লক খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তবে আর্নেস্ট হেমিংওয়ে নিজের ক্ষেত্রে রাইটার্স ব্লক সইতে পারতেন না। প্রতিদিনই কিছুটা হলেও লিখতেন। আর প্রতিদিনকার লেখা শব্দসংখ্যা টুকে রাখতেন নিজের ঘরের দেয়ালে। যেগুলোর গড় প্রায় ৫০০ শব্দের মতো। যদিও সেখান থেকে প্রচুর বাদ দিতেন বা পরদিন সেটাকেই পুনরায় লিখতেন। জানা যায়, এ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস এর পাণ্ডুলিপি তিনি প্রায় উনচল্লিশবার লিখেন। সমস্যা কোথায় ছিল, কাহিনীতে, নাকি বর্ণনাতে, জানতে চাইলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন, “না, সেসব কিছুই না। স্রেফ শব্দগুলোকে আরো শাণিত করতেই তাঁকে এ কাজ করতে হয়।”

বয়স যখন ষাট বছর অতিক্রান্ত হলো, তখন তিনি প্রায় লিখতেই পারছিলেন না। ১৯৬১ সালে জন এফ কেনেডি সম্পর্কে রচিত এক গ্রন্থে মন্তব্য হিসেবে কয়েকটা লাইন লিখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি জানান, “আমার আর হচ্ছে না, একটি লাইনও সম্ভব হচ্ছে না। আসছেই না লেখা।” বলেই কেঁদে ফেলেন।

[৯] পশুপ্রাণির প্রতি প্রেমের আরেকটি নজির হচ্ছে তাঁর ছয় আঙুলবিশিষ্ট বেড়ালগুলো। তাঁর সংগ্রহে ছিল বেশ কিছু অদ্ভুত বেড়াল, যাদের একেকটি থাবায় ছয়টি করে আঙুল ছিল। এরকম বেড়াল তাঁকে প্রথম উপহার দেন এক জাহাজী। পরবর্তীতে তাঁর ফ্লোরিডাতে কি ওয়েস্টের বাড়িটিতে পঞ্চাশের বেশি বেড়ালের পোষেন, যার অধিকাংশই এরকম ছয় আঙুলবিশিষ্ট ছিল। ঐ বাড়িটিকে পরে জাদুঘর বানানো হয়, “দ্যা হাউজ অব ক্যাট” নামে। আর ছয় আঙুলবিশিষ্ট সেইসব বেড়ালদেরকে বলা হতো “হেমিংওয়ে কিটি ক্যাট”।

[১০] নোবেলবিজয়ী এই লেখকের শেষ বয়সে তাঁর নামের সাথে কেজিবি গুপ্তচর সন্দেহের দাগ পড়েছিল। ১৯৪০ এর দশকে তিনি “আরগো” ছদ্মনামে কেজিবির এক ডকুমেন্টারি কাজে অংশগ্রহণ করেন। যদিও তা গুপ্তচরসংক্রান্ত কোনো ব্যাপার ছিল না। তবু কেজিবির সদস্যদের সাথে হাভানায় এবং লন্ডনে দুইবার সাক্ষাৎ করেন। ফলে এফবিআই তাঁকে সন্দেহের উপর নজরদারি রাখে। শোনা যায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে তিনি স্বীকারোক্তিও প্রদান করেন, তবে তা যে কেবল ডকুমেন্টারি কাজ ছিল, সে কথা উল্লেখ করলেও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই ভুল অভিযোগ নিয়েই তাঁকে বেঁচে থাকতে হয়েছিল।

[১১] আর্নেস্ট হেমিংওয়ের পাতায় অন্যান্য বিশ্বরেকর্ডের পাশে সম্ভবত সবথেকে বেশি রোগ-শোক-সমস্যার সাথে মোকাবিলা করে টিকে থাকার বিশ্বরেকর্ডও থেকে থাকবে। কেননা তিনি একাধারে ছিলেন এনথ্রাক্স, ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া, স্কিন ক্যান্সার, হেপাটাইটিস, ডায়বেটিসের রোগী। এবং এসব রোগ নিয়েও বেঁচে যান এক তুমুল জীবন। অসুখগুলোর ফলে তাঁর একটা কিডনি নষ্ট ছিল, প্লীহা নষ্ট ছিল, লিভার সিরোসিস ছিল। শুধু অসুখগুলোই নয়, তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান দুটো মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা থেকেও। দুর্ঘটনার পর তাঁর মেরুদণ্ডের কশেরুকা সংযোগ নষ্ট ছিল, মাথার খুলি ফেটে গিয়েছিল, একটা হাড় ভাঙা ছিল। এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই সমস্যাগুলো সাথে নিয়েই বসবাস করেন।

কিন্তু তাঁকে এসব কিছুই পরাজিত করতে পারেনি। ২ জুলাই, ১৯৬১ সালের সকালবেলা, আত্মহত্যা করে যেন নিজের মৃত্যুকেও দখলে নিয়ে নিয়েছেন শেষমেশ।

[১২] তাঁর প্রিয় দোনলা বন্দুক, যেটা দিয়ে অনেক শিকারের স্মৃতি বিজড়িত, এক আড্ডায় কিউবার বাড়িতে বন্ধুদের সামনে সেটাকে নিজের কপালে ঠেকিয়ে বলে উঠলেন, “দেখো, এভাবেই কিন্তু আমি কাজটা করতে যাচ্ছি”। নিজেকেও প্রিয় শটগানেই শিকার করেছিলেন তিনি অবশেষে।

তবে তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যাই ছিল কিনা এ ব্যাপারে রহস্য আজ অবধি রয়ে গেছে। যেদিন তাঁর মৃত্যু হয় সেদিন সকালবেলা বন্দুক পরিষ্কার করছিলেন তিনি। এর পরপরই বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা যায়। তাঁকে পাওয়া যায় মৃত অবস্থাতে, মাথায় গুলির চিহ্ন। তাঁর মৃত্যুর তদন্তকারী পুলিশ অফিসার জানিয়েছিলেন যে তার এটিকে কোনো আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না, বরং দুর্ঘটনা হিসেবেই মনে হচ্ছে।

ঘটনার আগে বেশ অনেকদিন ধরেই লেখক সাইকোলজিক্যালি খুব অস্থির ও বিষণ্ণ ছিলেন। এই মানসিক অসুস্থতার জন্য বহুদিন তিনি চিকিৎসারতও ছিলেন।

আত্মহত্যার কি মহড়া দিয়েছিলেন হেমিংওয়ে!
আত্মহত্যার কি মহড়া দিয়েছিলেন হেমিংওয়ে!

[১৩] হেমিংওয়ে পরিবারের সকলেই এরকম আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল, যাকে “Hemingway Curse” নামে অভিহিত করে তাঁর ছেলে “পাপা হেমিংওয়ে” নামে যে বইটি লিখেছিলেন, সেখানে বিস্তারিতভাবেই উল্লেখ করা হয়, কিভাবে তাদের পরিবারে আত্মহত্যা এক প্রকার পরম্পরা বা অভিশাপ হিসেবে দেখা দেয়। ১৯২৬ সালে আত্মহত্যা করেছিলেন হেমিংওয়ের বাবা। এরপর একষট্টি বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। আত্মহত্যা করে তাঁর বোন ও ভাই। পরবর্তীতে হেমিংওয়ের নাতনীও আত্মহত্যা করেছিল। পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর বর্ণনাদাতা অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

মৃত্যুর একবছর আগে ক্যাস্টোর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি কিউবায় গিয়ে। দুজনে মাছও মেরেছেন।
মৃত্যুর একবছর আগে ক্যাস্টোর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি কিউবায় গিয়ে। দুজনে মাছও মেরেছেন।

[১৪] প্রতি বছর জুলাইতে যেন জীবদ্দশায় ফিরে আসেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। প্রতি বছর জুলাইয়ের প্রথম শনিবারে কি ওয়েস্ট-এর স্লোপি বারে ‘হেমিংওয়ে লুক এলাইক সোসাইটি’ আয়োজন করে থাকে এক অদ্ভুত প্রতিযোগীতার, যেখানে হেমিংওয়ের মতো দেখতে চেহারার প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে থাকে।

 

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close