Home গল্প অপরাহ্ণ সুসমিতো >> আয়না ও অবশিষ্ট > ছোটগল্প

অপরাহ্ণ সুসমিতো >> আয়না ও অবশিষ্ট > ছোটগল্প

প্রকাশঃ May 28, 2018

অপরাহ্ণ সুসমিতো >> আয়না ও অবশিষ্ট > ছোটগল্প
0
0

অপরাহ্ণ সুসমিতো >> আয়না ও অবশিষ্ট > ছোটগল্প

 

রাতটা ঠক করে গ্লাসে এসে ধাক্কা খেলো। ছোট সাইজের একটা গ্লাস। বহু ব্যবহারে অনেকটা বিবর্ণ। তাতে কিছু আসে যায় না। রাতের সাথে এই পুরানো গ্লাসের একটা আলো আঁধারের সম্পক্ক আছে। রাত একটু বেড়ে গেলেই এই নিরীহ গ্লাসের সাথে রাতটা খানিক ঢল ঢলানি খেলে।
গ্লাসটা সামনে নিয়ে যে লোকটা এই ময়লা মাছি প্রিয় বেঞ্চটাতে বসে আছে, সে পৃথিবীর কোটি কোটি নিরীহ লোকের মতোই একজন। ভিড় বাড়াতে বা মিছিলের শক্তি বাড়াতে বা জনসভার মাঝে অগুনতি মাথার সংখ্যা বৃদ্ধিতে একজন। লোকটার পেছনে যে বাল্বটা হলুদাভ আলো ছড়াচ্ছে, সেখানে হাতে গোণা কয়েকটা পোকা মাকড়ও আছে।
এই জেলা শহরে এরকম একটা শুঁড়িখানা আছে জানা ছিল না।
ভেতরে আরো কিছু লোকজন আছে। চারপাশে একটা মদ-আশ্রিত টোটকা গন্ধ। সিনেমায় দেখা শুঁড়িখানার চাইতেও করুণ। কোথাও কোন গান বাজছে না। তবে কয়েকজন লোক স্বাভাবিক স্বরগ্রামের চাইতেও উঁচু গলায় কথা বলছে। কান খুলে ওদের দিকে থ্রো করলেও কথার মর্ম বোঝা যাবে না। আমি লোকটার সামনে দাঁড়ালাম। খুব আস্তে করে বিনয়ী গলায় বললাম; বসতে পারি?
লোকটা পাত্তা না দিলো আমাকে। আবার একটু স্বর বাড়িয়ে বলতে লোকটা গম্ভীর জবাব দিলো;
: চড়াই বসবার পারে, মেইয়ে ছেলে বসবার পারে, তুমিও বসবার পারে বাহে।
আমি তার সামনে বসতেই ঢুলুনি লোকটা হেসে ফেলল।
: ডিবি’র লোক নাকি? চেনা চেনা লাগছে।
মাথা নাড়লাম। লোকটা এবার জোরে হেসে উঠল;
: ফ্যামিলি প্লানিং? রাবার দিবে? কনডম দিবে বাহে?
মাথা নাড়ছি।
রাতের কালো জাম বাইরে আটকে আছে। এই শুঁড়িখানায় অল্প আলোরও একটা হাতুড়ি বাটাল ক্ষমতা আছে। কালো অন্ধকার এখানে ঢুকছে না। বাইরে থমকে আছে। লোকটার জন্য আরো এক গ্লাস আর আমার জন্য এক গ্লাস অর্ডার করলাম। খালি গা মতোন এক লোক ঠকাস ঠকাস করে গ্লাস রাখল সামনে। ঝোলার ভিতর চানাচুর, বাদাম ছিল, বের করে টেবিলে রাখলাম। লোকটার প্রতিক্রিয়া হলো না। লোকটার চোখের রঙ কি বোঝা গেল না, কি পরিমান পান করেছে বুঝতে পারছি না। কথা বলছে হাত নেড়ে নেড়ে;
: দেখ বাহে তুমি যদি বাইবেল সোসাইটির ছাওয়াল হও, কেটে পড়ো। কাজ হবার নাই। ঈশ্বর থাকে মন্দির মসজিদ চার্চে। এই মদের দোকানে তোমার ঈশ্বর আসবে নাই। বোতলের ভেতর ঢলঢল করে মাল।
লোকটা জোরে হাসতে লাগল।
কেউ এই হাসি শুনছে না। যদিচ তেজ আছে এই শব্দের, বহু দম লাগে। রাতের দোনলা বন্ধুক আমার মাথার দিকে তাক করে আছে। অসহ্য গন্ধসমেত গ্লাসের মদ চুমুক করলাম। একটা তীরন্দাজ শলাকা জ্বলে জ্বলে নামল।
এক মুঠো বাদাম মুখে দিলাম। লোকটাকে সাধলাম, সে নিল না। লবন মাখানো বাদাম এই মালের সাথে বেশ লাগছে। বুকটা সোজা করে লোকটাকে বললাম;
: আমি ডাবল এম এ
লোকটা চুমুক দিল। গলা খাকারি দিয়ে আবার বললাম;
: বাহে আমি ডাবল এম এ
চোখ বড় বড় করে আমার দিকে নিস্পৃহ গলায় তাকালেন। পাত্তা না দিয়ে বললেন;
: গরুরও তো ২টা শিং থাকে।
আমার ড. কাজী মোতাহার হোসেনের কথা মনে পড়ল। অবাক হয়ে লোকটাকে দেখছিলাম।
লোকটা হো হো হাসছে। বলছে;
: শরাবের নেশা সত্যের নেশা। মাতাল কান্না করতে করতে সব দরজা জানালা খুলে সত্য বলে। আদালতের কাঠগড়ায় পবিত্র গ্রন্থ ছুঁয়েও স্বাভাবিক ভাবে মিথ্যা বলে। সেখানে সবাইকে শরাব পান করিয়ে যদি উঠানো যেতো! আপনি এখন মদ খাচ্ছেন, এখন দেখব আপনি কতোটুকু সত্য কথা বলেন।
…আপনি এতো সুগন্ধী মেখেছেন কেন? ও সুগন্ধী বাবু আমাকে মদ খাওয়াচ্ছেন কেন?
শহরে সন্ধ্যা নামা মানে হলো কারো কারো কাজ শেষ করে হুমহুম বাড়ি ফেরা। কারো কারো পা চলে না, কারো বাড়ি ফিরতে ইচ্ছা করে না,তবু ফিরতে হয়। সন্ধ্যার আকাশের ওপারে আকাশ। আকাশের মতো মনের ওপারে মন। মানুষের কয়টা মন আসলে? রাতের একটা একাকীত্বের ঘণ্টা আছে। বুক হু হু করতে করতে কেউ শুঁড়িখানায় ঢোকে। বিবর্ণ ময়লা পানশালা। অনেক রাত অব্দি এক একেকটা জীবনের গল্পে একেকটা গ্লাস। কেউ সুখ ওড়ায়, কেউ দু:খ বিলায়, কেউ রাজা-উজির বধ করে। গেলাসে বুদবুদ করে জীবনের নানা রঙ। কখনো হড়বড় করে উগড়ে দেয়, বমি করে।
রঙহীন কাচের গেলাশে রঙিন জল ঢালতে ঢালতে হঠাৎ নিজের প্রতিবিম্ব দেখে চমকে উঠি। কী ভীষণ সাদাকালো ‘গতকাল’ ছেড়ে ‘আগামীকাল’-এর কথা ভাবতে ভাবতে অজান্তে ‘আজ’ ভুলে যাই। অথচ ধারণ করতে হয় ‘আজ’কেই।
সামনে আমার জন্মদিন আসছে, জন্মদিন মানেই মনে করিয়ে দেয় খরচ হতে থাকা জীবনকালে কতো যাতনার কীট!

*
লোকটা বলেই যাচ্ছে আপন মনে;
: মদ ধরলাম বাচ্চাকাচ্চা হয় না বলে। তারপর শেষে হলো এক ছেলে। আমি অকঃপর সুমনের গানের মতো বৃদ্ধ হলাম। তার আগে সন্তান না হবার দু:খে মদ ধরলাম। আমি আর মদ ছাড়তে পারিনি।
প্রেমে প্রতারিত হয়ে লোকে নেশা করে। পার্বতীকে না পেয়ে দেবদাস হয়। আচ্ছা উল্টোটা হয় না কেন তেমন? প্রতারিত প্রেমিকা বা পার্বতী কেন মাতাল হয় না, কেন শুধু চোখের জল মোছে?
ব্যবসায় লোকসান, চাকুরীতে বৈষম্য, সংসারে অশান্তি সব কি পুরুষের একার হয়? মেয়েদেরও হয় সমান সমান। কয়জন মেয়ে শুঁড়িখানায় ঢোকে? তাকিয়ে দেখেন তো চারপাশে, একটাও মেয়েছেলে আছে?
হ্যাঁ ঢোকে। যখন আঙুল তুলে সমাজ দেখায় সে গণিকা। সমাজ বানায় গণিকা। তখন নিজের শরীর নিজের জীবনের প্রতি ঘেন্না ধরে যায়। ভুলে থাকতে তখন মেয়েটিও মদ ধরে, সাথে আরো কিছু। প্রেমহীন সমর্পনে নিজেকে নেশায় বুঁদ রাখে।
শিবরাম চক্রবর্তীর লেখাটার কথা মনে আছে?
মন্দির- মসজিদ-গির্জা যাই বানানো হোক না কেন‚ সেখানে শুধু একধর্মের লোকেরাই আসবে। সুতরাং পাশাপাশি মন্দির মসজিদ গির্জা গড়লে একদিন হয়ত মারামারি লাঠালাঠিও বেঁধে যেতে পারে। তাই অনেক ভেবেচিন্তে এই পায়খানাই বানিয়েছি। সবাই আসছে এখানে। আসবে চিরদিন। হিন্দু মুসলমান জৈন পার্শী খেরেস্তান। কেউ বাকি থাকবে না। সর্বধর্ম-সমন্বয় এইখানেই..
এই পায়খানার মতোই এই জায়গাটা। কোন ভেদাভেদ নেই। হরিজন আর আপনি সবাই এক।
রাত বাড়ল। খালি গা কর্মচারীটা এসে খালি গ্লাস প্লেট তুলে নেবার সময় তাড়া দিলো আমাদের উঠতে হবে। দোকান বন্ধ করে দিবে। পুলিশ এসে ঝামেলা পাকাবে না হয়।
চলুন উঠি; লোকটাকে বললাম।
টের পাচ্ছি স্বর জড়িয়ে যাচ্ছে। এই জড়িয়ে যাবার সাথে সাথে একটা প্রজাপতি ফিলিংস কাজ করছে মগজে টলটল। মাতাল পৃথিবীর একটা দেহাতীত সৌন্দর্য আছে। লোকটাকে বেশ আপন লাগে। আমরা দুজনের কাঁধে হাত রেখে হাঁটতে থাকি।

*
আমরা মনে হয় পরষ্পর অনেক দিন চিনি। হয়তো প্রতিদিন দেখি। কোন জড়তা কাজ করছে না আমাদের। লাজ ভয় আশংকা কিছুই নেই। দুজনের পা টলছে বলে দুজন পরম মমতায় দুজনের কাঁধে হাত রেখে পাশাপাশি হাঁটছি। জেলা শহরের নিরাপদ শুনশান রাত ১১টার পর রাস্তা। পথের পাশে দুটো কুকুর আমাদের দেখে ঘেউ ঘেউ করতে আরম্ভ করে। ওদের পক্ষে ঘেউ ঘেউ করাটা স্বাভাবিক। এভাবে ২টা শরীর ১সাথে আগে কখনো দেখেনি হয়তো। গভীর রাতের নীরব স্ট্যাটাস খান খান করে ঘেউ ঘেউ শব্দ।…
লোকটা একবার বাম হাত দিয়ে কুকুর দুটোকে তাড়ানোর চেষ্টা করল। একটু দূরে একটা খালি রিক্সা পেয়ে গেলাম। রিক্সাওয়ালা আমাদের নেবে না, সে বাড়ি ফিরবে, রিক্সা গ্যারেজে জমা দেবে। কে শোনে কার নিষেধ। আমরা উঠে পড়লাম…
রিক্সা চলছে।
মনে হচ্ছে দুজন মানুষ লীন হয়ে যাচ্ছে একত্রে।
রাতের বাতাসের বিপরীতে আমাদের টুনটুন রিক্সা…বাতাসের মৃদু আলোড়নে চুল ওড়ে। নেশার লাটিম ঘুরপাক খায় চোখের পাতায়। আমরা দুজন দুইপাশে থু থু ছুঁড়ি। কাকে যেন গালি দেই। কেউ কারো দিকে তাকাই না। কাউকে বিরক্ত করি না।
হয়তো আমরা কেউ নেশাই করিনি। আমরা হয়তো মাতাল নই। মানুষের পায়ে পায়ে কষ্টের মই গম্বুজ ধারণ করলে এমন বোধ আসে, যেখানে পুরো পৃথিবীকে উপেক্ষা করে শুধু শূন্যে থাকা কাউকে আপন মনে হয়।
ব্যাকরণের ভুল শুদ্ধ করা গেলে মনে ‘প্রত্যয়’ আসে, তৃপ্তির। সম্পর্কের মাঝে ভুল থাকলে মনে ‘বিভক্তি’ আসে, বিরক্তিরও।
পুরানো একটা গলির সামনে রিক্সা থামাতে আমি চমকে উঠলাম, এটা তো আমার গন্তব্য।
বুঝতে পারি এই রিক্সাঅলা ভাই সব চেনে।
পুরানো আমলের এক সাদামাটা একতলা বাড়ি। লোকটা আমার হাত ধরে বললেন; আসুন প্রতিষ্ঠিত কবি, বাসায় এক দণ্ড বসুন।
লোকটার সম্ভাষণ শুনে আমি চমকে উঠি। গলায় কী যেন আটকে ওঠে। মাতাল রাতের বিভা আমার চুলে ঢেউ খেলে যায়। বাসায় ঢুকতে খানিক দোনোমনো করলেও শেষ অবধি এক দুর্নিবার টানে ঘরে ঢুকেই পড়ি লোকটার সাথে..
খুব সাদামাটা বসবার ঘর। লোকটা আমাকে বসতে বলে ভিতরে ঢুকে গেল টলতে টলতে।
অল্পক্ষণের মধ্যেই এক মেয়ে ঘরে প্রবেশ করে। মেয়েটাকে দেখে আমি আরো চমকে উঠি…আমি সোফা থেকে ইমেইলের গতিতে লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে যাই। হাঁ হয়ে গেল মুখ…
মেয়েটা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে শুরু করে…মেয়েটা বসে না, আমিও না। শুনছি;
: হেলেনকে না পেয়ে হেলাল হাফিজ লেখেন ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। তাঁর খ্যাতি আসে। পেছন ফেরে তাকাতে হয় না। হেলাল হাফিজ কৌমার্য বিক্রি করেন ধনবতী নারীদের শয্যাসঙ্গী হয়ে। ওদিকে হেলেন? কবিতার ছত্রে-ছত্রে তার প্রেম পড়তে-পড়তে উন্মাদ হন। বাবার কথার অবাধ্য না হয়ে যে সংসারে শেকল পরেন তা আর থাকে না। পাগলিনীকে বেঁধে রাখতে হয় আসল শেকলে।
সিলভিয়া প্লাথ আত্মহত্যা করলেই কি টেড হিউজের লেখা থেমে থাকে? কিংবা বৌঠানের জন্য রবীন্দ্রনাথের? বনলতা কিংবা নীরা কিংবা সুজাতা, সুনন্দা অথবা আরো আরো সাধারণ মেয়েরা কবিকে প্রতিষ্ঠিত করে। মেয়েদের চোখের জল আর শুকায় না।
এই যে প্রকৃতি সে হলো ভালোবাসা আবার ভালোবাসাই প্রকৃতি। ভালোবাসা সবুজ বৃক্ষ। মূল কাণ্ড ডাল ধরে রাখতে পারে না, পাতা ঝরিয়ে দেয়। গোলাপকেও ঝরে পড়তে হয়। আবার ভালোবেসে সেই গাছেই গোলাপ ফোটে, সেই বৃক্ষেই পাতা গজায়। পাড় ভাঙে যে নদী তার পাড়েই আবার গড়ে ওঠে বসতি।
ভালোবাসা কখনো পুরুষ নয়। পুরুষ ভালোবাসাকে চরম মুহূর্তে ব্ল্যাকমেইল করে। অন্তর্জালে ছড়িয়ে, সংসারে পাঠিয়ে আগুন লাগায়। বদনাম করে। একদা যে প্রেমিকা ছিল, এক মুহূর্তে তাকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়।
ভালোবাসা হলো নারী। ভালোবাসার উল্টা পিঠে ঘৃণা থাকে না। থাকে না-বোধ, বলা যেতে পারে বোধহীনতা। যুগ পেরিয়ে গেলেও আবছা একটা মুখ মনে করে দু’ফোটা অশ্রু গড়িয়ে ভালোবাসাকেই ফিরিয়ে আনে। নারী তো অভিশাপ দেয় না, প্রতিশোধ নেয় না তবে অভিযোগ করে। ভালোবাসাহীনতা অভিযোগ করতে পারে না। তার ভেতরে পূর্ণতার বোধটুকুই যে আসে না। দোদুল্যমান ভালোবাসার কখনো বলে ‘তুমি সুখ যদি…আমি তোমারে পেয়েছি…আর কিছু নাহি চাই গো…’
আবার এও বলে ‘চিরসখা ছেড়ো না মোরে ছেড়ো না’
তীব্রতা কখনো ধীর হয়। রুপান্তর ঘটে বয়সের ভারে কিন্তু ভালোবাসাকে হারাতে চায়? কে চায় বিসর্জন দিয়ে শূন্য হতে? কেউ না।
তোমার গল্পের নায়ক কোথাও নেই, থাকে না। হারিয়ে যায়। গল্পের নায়িকা হারায় না। হারাতে দেয় না। সেই মেয়েটাই বাঁচিয়ে রাখে পুরুষটাকে, আশা করে করে… আশাই তো বাঁচিয়ে রাখে।
এই আমাদের জীবনের গল্প হোক ভিন্ন। এই মানুষটা বলুক…
সর্বত্র আমার সে আছে…
ও হারায় না, হারাতে পারেই না। হারতেও না।
বলতে বলতে মেয়েটি ডুকরে ওঠে আবার চট করে সামলে নেয়। ঝনঝন টোনে বলল;
: বসো কবি, একটু খাবার আনি। পালং শাক দিয়ে কই মাছ রেঁধেছি…বসো।
ভেতরের ঘরে মেয়েটি চলে যেতে যেতে আবার ঘুরে দাঁড়ায়। খুব মৃদু স্বরে বলে;
: সিনেমাটিক সমাপ্তির আশা করো না। মদ খেয়ে টলটল বাড়ি ফিরেছো। ভেবেছো চোখের জল মুছতে মুছতে টেবিলে থরে থরে গরম খাবার সাজিয়ে দিব? আর তুমি বিশ্রী করে হাপুশ হুপুশ খাবে? যাও ঘর থেকে বের হও..
লোকটার সাথে একটু কথা বলতে পারলে ভালো হতো…হাওয়ায় মিশে গেল নাকি? ঐ লোকটা কে হয় আমার?
মাথা নিচু করে বেরিয়ে পড়ি। কেউ যখন ঘর থেকে তাড়ায়, কী ই বা করার থাকে! আমরা দেউলিয়া হয়ে সংসার নাটক সাজাই। তারপর চরিত্রানুগ অভিনয়। নাটকের বাইরে যা হৃদয়ের চাওয়া যা স্বপ্ন যা সত্য… মাতাল রাত্রি এসে কড়া নাড়ে। হাতছানি দিয়ে ডাকে। বলে এ নাটক নয়। এইই তোমার সত্য।
বন্ধক রেখে এতোদিন কোথায় কেন এমনতর নি:স্বতার পালা?
একবার ডাক দিলেই একবার দেখা হলেই যদি লণ্ডভণ্ড…
তাই বুঝি ভয়?

*
বাইরে মধ্যরাতের ল্যাম্পপোস্ট।
জেলা শহরের জমাট নীরবতা।
আমার পা আর চলে না।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close