Home ছোটগল্প অপরাহ্ণ সুসমিতো / মনের বাড়ি নিজের বাড়ি

অপরাহ্ণ সুসমিতো / মনের বাড়ি নিজের বাড়ি

প্রকাশঃ January 11, 2017

অপরাহ্ণ সুসমিতো / মনের বাড়ি নিজের বাড়ি
0
0

অনুপম বাড়ি পর্ব

মাথার উপর বেয়ে চলে গেল মিগপুতুল । রোদে ঘেমে যাচ্ছি । ভাবছিলাম বাসার সামনের সব্জীঅলা থেকে শাকসব্জী কিনব । তোমাকে বলে গেছি ১০ মিনিটের মাঝে আসব । এসে দেখি সব্জীঅলা নেই । চলে গেলাম টাউন হাউজে ।

 

আমাদের শহরে নর্মাল লাইফ নেই । সঙ্গম কি পদ্ধতিতে হবে তা নিয়ে লড়াই । আমাদের তো জীবন থেমে থাকে না । মেয়েটা ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছে । জিপিএ ৫ পেয়েও নিশ্চয়তা নেই কোথায় চান্স পাবে ।

 

রিক্সাওয়ালাকে বললাম,কোণাকুণি যাও । বেচারা সাহস পায় না । কিছুক্ষণ আগে ওখানে নাকি ককটেল ফুটেছে । কোন এক ব্যাংকের কর্মচারী মারা গেছে ককটেলে । শুনে পেটের ভাত হজম হয়ে যায় ।

 

মাঝে মাঝে প্রচন্ড হতাশা গ্রাস করে,চা যেমন করে বিস্কুটকে । ইচ্ছা করে বোনের কাছে কানাডা চলে যাই । প্রচন্ড তুষারের মাঝে ভারী জ্যাকেট বুট পরে ঘুরে বেড়াব । ছেলেটা তুষারের বল বানিয়ে ওর বোনকে ছুঁড়ে দেবে জোরসে । আমি গরমে ঘেমে নেয়ে স্পষ্ট দেখতে পাই তুষারের বলটা গিয়ে পড়ছে পলিটিশিয়ানদের নাকে ।

 

সেদিন ভেবেছিলাম তোমার উপর রেগে গ্রামীণ ব্যাংক হবো,আমাকে খোঁচা দিয়ে বললে যে আমার জীবনটা কেটে যাবে রন্ধন মন্ত্রণালয়ে মানে রান্না ঘরে । আশ্চর্য রাগ করতে পারলাম না। ঠিকই তো । এখুনি বাসায় গিয়ে সোজা রান্না ঘরে ঢুকবো । এই অবরোধের মাঝেও আমাকে বরের জন্য নানা রকম মজাদার খাবার বানাতে হবে । অবরোধে দুপুরে বাসায় আসবে না । লোক পাঠিয়ে খাবার নিয়ে যাবে ।

 

কাচ্চি, কাবাব, একরকম মাছের ভর্তা সরষের তেল দিয়ে,টক দই দিয়ে বুরহানি (গোল মরিচের গুড়ো সহ অথচ কোথাও গোলমরিচের গুড়ো পেলাম না) …রান্না করতে হবে । খাবারের বহর দেখলে মনে হবে অফিস না পিকনিক পার্টি ।

 

টের পাই অফিসে সহকর্মীদের সাথে খাবার খেতে খেতে বর আমার লুক্কায়িত গর্ব অনুভব করে । সহকর্মীদের কাছে ঈর্ষণীয় আমার বর। খেয়েদেয়ে ঢেকুর তুলে বলবে;

 

: আর বলবেন না ভাই। অনুসূয়ার মা খানদানী পরিবারের। রান্না যা জানে না, অসাধারণ।

 

কল্পনায় টের পাই, ভরা পেটে বেসুরো গলায় গুনগুন করছে খাবারের পর …

 

বকুল ফুল বকুল ফুল সোনা দিয়া হাত কেন বান্ধাইলি …

 

কী আশ্চর্য, মহাগৌরবে আমার নাম পর্যন্ত ভুলে গেল। বলছে অনুসূযার মা। কেন আমার নাম নেই? পুরুষ!

 

বাসায় এসে দেখি তুমি অফলাইন। আমাকে কড়া কয়েক লাইন লিখে গেছো। রান্নাঘরে গিয়ে টের পাই হাত চলছে না। তোমার জন্য কোথায় যেন কষ্ট হলো মৃদু।

 

বোঝো না যে সংসারে একধরনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আছে সশ্রম।

 

কাচ্চির ঘ্রাণে ছড়িয়ে পড়ে রান্না ঘরের দোপাট্টা। মাথার ভিতরে অস্পষ্ট কয়েকটা লাইন মনে পড়ে গানের। কথাগুলো বিকশিত হয় না। মন খারাপ লাগে, এতো দ্রুত ভুলে যাচ্ছি। এতো সহজে নিজের নাম হারায়ে অনুসূয়ার মা হয়ে যাচ্ছি চারপাশে,কারো ফুপি, কারো খাম্মা (খালাম্মা), কারো ভাবী, কারো কাছে নীচতলার আপা…

অথচ একসময় সঙ্গীতভবনে আমার কতো সুনাম ছিল। ওস্তাদজী বলতেন;

 

: তুই লেগে থাক, তোর গলায় যাদু আছে, অনেক বড় হবি মা।

 

ড্রয়িংরুম থেকে শোবার রুম তারপর রান্নাঘর…ধীরে ধীরে মাকড়সার মতো পেঁচিয়ে যেতে থাকলাম। মুটিয়ে যাচ্ছি টের পাই, বাথরুম থেকে ভরা বালতি টানার সময় কষ্ট হয়।

 

গ্যাসের চুলায় টাকি মাছের ভর্তা ভেজে নিচ্ছি সরষের তেল আর রসুনকুচিতে। খুন্তি নাড়তে টের পাই কোথায় যেন লাবণ্য উড়ছে চোখের পাতায়তোমার লেখা কবিতাটা মাথায় মিতুমিতু করছে;

 

যে স্বরূপকাঠি নদীর জলে তোমার পা ধুয়েছে
যে পাতার আড়ালে কান পেতেছে অগণন পাখিসভা
তুমি তাকে নীড় ডাকো,তুমি তাকে নীড় ডাকো …

 

কী আশ্চর্য রান্না ঘরের ক্লান্তিকর দুপুরের চুরুলিয়া প্রহরে টের পাই অপরূপ ধ্রুপদীতে জুয়েল আইচ বাঁশি বাজাচ্ছেন, আমার দিকে মিষ্টি করে হাসছেন। ইশ এই ম্যাজিশিয়ানটা এতো সুন্দর করে হাসতে পারে!

 

আমার চোখের পাতা থেকে বিষণ্ণ কাচ্চি বিরিয়ানীর ফ্লেভর উড়ে যেতে থাকে, হারানো স্বরলিপি, সঙ্গীত ভবনের গান ভুলে গেলে কী হবে! দেখো, তোমার কবিতা আমার মুখস্থ।

মনে হলো আমি শনিবার সন্ধ্যায় বেলী ফুলের নির্যাস মেখে তোমার সাথে রয়্যাল হলে পিংক ফ্লয়েড শুনতে যাচ্ছি…ওমা তুমি টাক্সেডো পরেছো কেন? যদিও তোমাকে অন্যরকম ম্যানলি লাগছে।

 

জুয়েল আইচ আমার কানে কানে বলছে;

 

: ও মেয়ে তোমাদের শহর থেকে জাতিসংঘের দূত চলে গেছে। অবরোধ ভুলে গেছে ডিজিটাল বিরোধী সংঘ। কোথাও কেউ আর পোড়াচ্ছে না কিছু। দেখো যাও সব্জীঅলা তোমার বাসার সপাটে। যাও দুজন পিংক ফ্লয়েড শুনে এসো দুজনে মিশে।

 

গলায় এলো দুপুর ভাঙা রোদন গান। ওমা আমি গাইছি আবার। বসবার ঘরে দৌঁড়ে ঢুকতে মনে হলো অবিকল তোমার মতো তুমি বসে আছো জীবনানন্দের জামা পরে। এই কী করে ঠিকানা পেলে? বলো তো।

 

আমার সাথে চোখাচোখি হতেই হেসে দিলে অসভ্যের মতো …

 

ছুটির বাড়ি পর্ব

 

আজকে ছুটি। সকালে এত্তগুলো ভাত খেলাম, এখন সাড়ে এগারোটা, এখনি খিদা লাগছে! এরকম খাই খাই করলে তো আমি শালগম হয়ে যাবো! আমি একটা পাতলা বেতের লাঠির মত শরীরে অভ্যস্ত,ওহ নো ওয়ে শালগম হতে চাই না।

কাল প্যান্ট কিনতে গিয়ে আমার কোমর মেপে বলে ৩১! আমি হতবাক হয়ে গেছি! অসম্ভব ৩১ হতে পারে না। ২৮ পরে ২৯-এর প্যান্ট কিনে এনেছি।

 

বিরক্তিটা আমার মাথার উপর প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর মতো ঘুরছে। বিরক্তি এক পর্যায়ে রাগে টার্ন করে। এই যে এখন আমি রাগ করে আছি এ জন্য এমন খিদা লাগতে পারে।

 

আমি সারাদিন মুখে একটা কথাও বলি না কিন্তু মাথার ভেতর এমন খোশগল্প! এত শব্দহীন বাচাল আমি !

 

আমার বড় বোন এবং মা অনেক কথা বলে, অনেক। চিন্তাও করা যাবে না কত বেশি।

আজ ভোর বেলা সপ্ন দেখেছি আমি প্রেগন্যান্ট…

 

(মোবাইল ফোনে লিখছি তো, সঠিক বানান লিখতে পারি না, তবে সঠিক বানাটা আমি জানি কিন্তু)

 

এখন আমার পেট সাম্রাজ্যে ব্যথা। অনেক। আমার ভাতার আমাকে সাহস দিচ্ছে। আচ্ছা ভাতার কেন বললাম একটু ভেবে নেই। ও তো আমাকে ভাত দেয় না। আমি চাকরি করি। ও বোঝাচ্ছে এভাবে বিজ্ঞান কিন্তু আমি পারছি না।

ঘুম ভেঙে গেল। তারপর বুঝলাম আমার টয়লেটে যাওয়া উচিত।

 

একটুখানি ফেসবুকে ঢুকেই মাথা ঘুরে উঠল। ফেসবুক হলো বিষণ্ণতার মন্ত্রণালয়। এত স্ট্রেস!

তারপর ডিঅ্যাকটিভেট করে বের হয়ে আসলাম।

 

তারপর ভাবলাম আমি বুড়ি হচ্ছি এবং আর কোন আশা-নেই-দলের মানুষ হয়ে গেছি।

 

দুপুরে না খেয়েই তোমার জামাকাপড় লন্ড্রিতে দিছি। আলমারি গোছাইছি। সোয়েটার চাদর একসাথে,হাফপ্যান্ট টি শার্ট একসাথে, পাঞ্জাবি একসাথে আর যেগুলো ফেলেও দিতে পারছি না কাজেও লাগবে না সেগুলো পেছনে আলাদা। তোমার জামাকাপড় গোছাতে আমার ভালো লাগছে।

সংসার সংসার লাগছে। নিজেকে পরিণত নারী বোধ হচ্ছে,এরকম মনে করো না বুঝলে? যারা অন্যের মোজা আর আন্ডারওয়ার গোছায়ে বেড়ায় তারা এই দুনিয়ায় ম্যাটার করে না।

 

তুমি সাকিব আল হাসান বা জাফর ইকবাল হও অসুবিধা নাই। আমি সাকিব আল হাসান বা জাফর ইকবালের বউ না। আমার কোন স্বামী নাই। দুনিয়ায় কেউ কারো স্বামী না। স্বামী একটা ভুল সিস্টেমের ফলাফল।

 

(পুনশ্চ : মোবাইল জনিত বানান )

 

তুমি শুক্রবার সারাদিন শুয়ে না থেকে চুল দাড়ি কাটায় আসতে পারতে।প্যান্টটা ঠিক করাতে দিতে পারতে। আমার সাথে কুইকি সঙ্গম করতে পারতে। তোমার জুতাটা কালি করতে পারতে। আগামী ৭ দিন কী কী পরবা সেগুলো ঠিক করে রাখতে পারতে।

 

কিছুই করো নাই।

 

তুমি ধরেই নিছো এইগুলো কেউ করে দেবে, বাই ডিফল্ট কাজগুলো হয়ে যাবে। আর যদি না হয় তাহলে দরকার নাই। এর মানে হচ্ছে আমার উপর চাপ প্রয়োগ করা যে করে দাও। যেই কাজ গুলোর কথা বললাম তার সবগুলো করতে ১ ঘন্টার বেশি লাগতো না,কিন্তু তুমি করোনি।

 

এইজন্য তুমিও আসলে একটা সো কলড পুরুষ। খালি খালি ভদ্রতা চোদাও!

 

প্লিজ এরকম করো না। এই দেশে থাকো তাই তিন পয়সা দিলেই কাজের বুয়া পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশ হলে তুমি চিন্তা করতে পারো যে কী করে চলতো?

আমি এই প্রত্যেকটা কাজই করে দিতে পারি। আমারও ১ ঘন্টার বেশি লাগবে না। কিন্তু আমাকে কি তুমি বলতে পারবা যে এগুলো আমার কেন করা উচিত?

 

একটা যুক্তিসংগত কারণ?

 

আমি জানি ভেতরে ভেতরে তুমি খাড়া পুরুষ অথচ মুখ ফুটে কিছুই বলবে না পাছে তোমার প্রগতি বিনষ্ট হয়!

 

 

সেই বাড়ি পর্ব

 

অন্য সবার মত নিঃশব্দ (আমার বর), এসব রান্না খাবার, গোছানো ঘর, পরিষ্কার বাসন, ইস্ত্রি করা জামা এসব তার প্রাপ্য এমন মনে করে না এবং সে খুব ভালো করেই স্বীকার করে সব কাজ দুই জনের মিলে করা উচিৎ।

যারা করে না, বউদের দিয়ে সব কাজ করায় তাদের খারাপ মনে করে।

এতো সব মনে করাকরির পরেও ফলাফল একই। নি:শব্দ প্রায় কিছুই করে না। এক্সকিউজ হচ্ছে সে সময় পায় না। কিন্তু আমিও যদি একই ভাবে সময় না পাই তার পরেও আমাকে করতে হবে কারণ খেতে হবে। বউ বলে কথা।

 

ও বলে চলো বাইরে থেকে কিনে খাই। তখন আমার আরও রাগ হয়, সব ভেঙে গুড়ো করে ফেলতে ইচ্ছা করে।

 

মা বাসায় থাকলে তো সে রান্না ঘরের দিকে ভুলেও যাবে না কারণ আমি নিজেও জানি রান্নাঘরের দিকে ও গেলেই তার মায়ের মন খারাপ হয়ে যায়, তার বাবা ফোন করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তাই আমি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি।

 

কিন্তু মাঝে মধ্যে মন খারাপ হয় যে তাহলে তাদের আমার জন্যে কেন চিন্তা হয়না? আমি অফিস থেকে ফিরতে ৩ বার বাস পাল্টাতে যে ক্লান্ত হয়ে পড়ি তারপর বাসায় ফিরে কাজ করলে কেন তাদের আমাদের জন্যে চিন্তা হয় না?

 

আমি যে একটা বই ও পড়ার সময় পাচ্ছি না। কোন ভালো চাকরির চেষ্টা করার সময় পাচ্ছি না, যেই দেশের নাম মুদ্রার নাম মুখস্থ করতে হয় চাকরির জন্যে সেসব করার আমার সময় নেই।

আমি যে পার্টি অফিসে যাওয়া, মিছিল মিটিং বন্ধ করে দিছি! আমার বন্ধু মোহন ভাই তো ঠিকই করে কারণ তার বউ তার সমস্ত কাজ করে দেয়। এখন এসবের কোন সমাধান নাই। কারণ আমি জানি যে অন্য ছেলেরা করে তো না-ই আবার সবকিছু রেডিমেড পাওয়া অধিকার মনেকরে। সেক্ষেত্রে নিঃশব্দ নিশ্চয় অনেকের থেকেই ভালো।

 

ও চাকরি করে, সকাল ৯ টা থেকে রাত ১০ টা…

 

বাসায় এসে পড়ে। ভিডিও দ্যাখে। ডকুমেন্টারি দ্যাখে। রিসার্চের পেপার লেখে। চিন্তাভাবনা করে। আর বলে যে সবকিছু একসাথে হয়না। আমি বললাম তাহলে কি দুনিয়ায় যারা রিসার্চ করে, ঐসব ইউরোপ আমেরিকার দেশে, তাদের সবার বউ বা মা বা কাজের বুয়া সব রেডি করে দেয়? তখন জবাব দেয় না।

 

আমার এক কলেজের বন্ধু মন্ট্রিয়লে মাস্টার্স করতে গ্যাছে, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার। ও বলল ওখানে যারা পড়তে আসছে সব পশুর মত খাটতে পারে, অনেক পড়ে আর নিজের খাবার অবশ্যই নিজে করে খায়, না খেয়ে অসুস্থ হয় না।

 

তাহলে, এই দোষ বাঙালির সংস্কৃতির ছাড়া আর কিসের! পুরুষতন্ত্র সেখানেও আছে, কিন্তু ফর্ম আলাদা। এই দেশের ছেলেরা এমন যে তাদের জন্যে প্রেম বোধ করা খুবই হাস্যকর!

 

সাহিত্যিকরা ধান্দাবাজ। প্রেমিকার রূপের বর্ণনা দিয়েই খালাস, বটিতে বসে মাছ কাটার, মশলা বাটার, বাচ্চার কাঁথা ধোয়ার বর্ণনা তারা দেবে না মোটেই।

 

অথচ ও ঐ ‘সাহিত্য’ করেছে যখন তখন ওর বউ এসব করে দিয়েছে। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হুমায়ূন আহমেদ!

 

বিচ্ছিরি!

 

নিঃশব্দ ছাড়া আর কারো সাথে থাকার কথা ভাবতেও পারি না। আমি কল্পনায়ও আনতে পারি না যে আর কারো সাথে থাকলে কী হতো !

 

ও আমাকে অন্তত: মানসিক দাসীতে পরিণত করেনি, আমাকে ‘বিবাহিত’ ফিল করতে বাধ্য করেনি, স্বামী-স্ত্রী ব্যাপার স্যাপার ওন ( own ) করতে বাধ্য করেনি। আর এই যে আশেপাশে যাদের দেখি, মানে আমরা দেখি, যত মুখে ভালো ভালো কথাই বলুক, সামন্ত অবশেষওলা বাঙালি মধ্যবিত্ত পুরুষের ছড়াছড়ি।

 

আমি কোনদিন অযথা ঝগড়া করি না, আমাদের তেমন ঝগড়া হয়ও না। এই জন্যেই বাসন ছুঁড়লে নিঃশব্দ চুপ করে থাকে! কিন্তু এরকম করতে আমার ভালো লাগে না। এখনো মন খারাপ লাগছে। আমি এসব ঝগড়া করে পাল্টাতে পারবো না।

 

সমাজ বদল লাগবে,উৎপাদন সম্পর্কের বদল লাগবে, এগজিস্টিং পরিবার সম্পর্কের ধরণে বদল লাগবে, মানুষে মানুষে সম্পর্কের ধরণেই আমূল বদল লাগবে।

 

একদিনে হওয়ার না জানি। এত সহজ না।

 

শ্যামলীতে সিনেমা দেখতে গেছিলাম। সাথে ছিলেন মরণ ভাই, আমাদের বুদ্ধিজীবী বন্ধু। মরণদা খুব ভালো ছেলে। লুকিয়ে বিসিএস দিয়েছিল, হয়ে গেছে কাস্টমস ক্যাডারে। এখনই উল্লসিত মরণদা। বনানীতে এরই মধ্যে জমিজমার দাম দেখা শুরু করেছে।

 

শ্যামলী মোহাম্মদপুর মিরপুর আমার ভালো লাগেনা। ঢাকা শহরের মাঝেই এক মফস্বল অথবা মফস্বলের মতো । কিন্তু আবার মফস্বলের নির্জনতা নাই, শুধু মফস্বলের যে একটা ছোঁক ছোঁক ভাব থাকে সেটা আছে, আপাদমস্তক bisree

 

এর চেয়ে ফার্মগেট ভালো,গুলিস্তান ভালো।

 

আসলে নিজে মধ্যবিত্ত বলে চারপাশে এতো মধ্যবিত্ত দেখতে অসহ্য লাগে। হয় গুলিস্তান নয়তো গুলশান। মাঝামাঝি শ্যামলী আমি নেব না।

 

কাল আয়নাবাজি দেখলাম। চারদিকে এতো প্রশংসা শুনছি…
এর চেয়ে কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ যে ঘেটু পুত্র কমলা বানালো সেটা চমৎকার ছিল। তারেক আনামের অসাধারণ অভিনয়।

হুমায়ূন আহমেদের সিনেমার একটা boishishto হলো একটা দেড় মিনিটের চরিত্র হলেও সেটার অভিনয় হবে একদম ১০০তে ১০০, নো হাংকিপাংকি। কোন ছাড় নেই।

অমিতাভ রেজা মরণদার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ছিল। ইকোনমিকসে সেকেন্ড হয়েছিল।

আমার ইকোনমিকস পড়তে ইচ্ছা করে। ইকোনমিকসের ছাত্রদের সবার মার্ক্সবাদী হবার কথা!

সিনেমা দেখার আগে আয়নায় নিজেকে দেখলাম, আমাকে ট্রাম্প গাধাটার মতো দেখাচ্ছে।

মনে হচ্ছে আমি যেন এই শহরের একটু মধ্যবিত্তের চেয়ে সচ্ছল কোন বাসার নিজেকে নিয়ে সচেতন কোনো মেয়ে।

 

আসলে তা একদম মিথ্যা। আমি এরকম Naa

 

নিজেকে আকর্ষণীয়া করার জন্য লিপস্টিক দিলাম। লিপস্টিক দেয়ার মেয়ে তো আমি না। আমি একদম র’। আমি শ্লথ। আমি নিজেকে ছাড়া আর যা কিছু আছে সব নিয়ে সচেতন। এই যে নিঃশব্দসহ আমার চারপাশের মানুষ জন যখন হিলারী ক্লিনটনের জন্য কাঁদছে, আমি হাসছি।

আমি পলায়নপর। আমি মিডিওকার। আবার মিডিওকার হিসেবে নিজেকে মেনে নেয়ায় আপত্তি আছে। তারমানে আমি চুড়ান্ত মিডিওকার।

 

আমি কোনো সুন্দর ছবির মত একটুও না।

 

আমার চরিত্র আমি নিজেই ব্যবচ্ছেদ করে একদম শুইয়ে দিতে পারি! এখানে চরিত্র বলতে প্রায়োরিটি, শুইয়ে দেয়া বলতে সুক্ষ্ম bisleshon…

 

কিন্তু কী লাভ এতো বিশ্লেষণ করে। উত্তরণের চেষ্টা নাই।

 

খিদে বাড়ি পর্ব

 

এই যে ঘরে ফিরে খিদা পেটে জলশূন্য শইল্লে রঙ ঢং করি।
দরজা বন্ধ করে উদ্ভট জামা পরি। কালারে কইরো মানা সে য্যান আমার কুন্জে আসে না । সখী জ্বালাইয়া মনের বাতি, জাইগা রইলাম সারা রাতি, বাসী হইলো আমার ফুলের বিছানা ।

 

এরকম গান গাইতে গাইতে মনে মনে বলি ।

 

তাহলে বেড়াতে নিয়ে যাও আমারে।
তোমাকে পরতে হবে কালো কোন জামা।
আমরা মিথ্যেমিথ্যি বেড়াতে যাবো ।

 

amar ekTa sada kalo shari ache, khub sundor, samner shite abar karo preme porle pora zabe, prem chaRa sada kalo shari pora thik na

 

অনেক দিন সঙ্গম করি না। সঙ্গম তো মেডিটেশন, ভীষণ মনোযোগ লাগে। নিঃশব্দের এতো সময় কই? সিনেমার মত না।
অত অপ্রাসঙ্গিক আলাপ করলে হয় না কিছু।

 

আমার মতো এমন পাক্কু মেয়ে আছে আর? মেয়েরা বেশি বুঝলে লাবণ্য নষ্ট হয়ে যায়। হা হা আমি তো সারাজীবন বেশি বুঝলাম।

 

আমি পাক্কু এবং স্মার্ট? আসলে কেমন মফস্বল তা লুকিয়ে রাখি। বাগেরহাট থাকতে আমার কতো যে বিয়ের প্রপোজাল আসত, ক্লাস নাইনে পড়ার সময় আমাদের স্কুলের ইংরেজির স্যার আমার পাজামা খুলে ফেলেছিল । হাউমাউ করে উঠেছিলাম। স্যার বলল কাউকে বললে আমার বাবা মা–কে মেরে ফেলবে গুণ্ডা দিয়া।

 

তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একটা ফর্সা ছেলে, একদম কাদা মাটির মতো, আমি ইচ্ছা মতো ছেলেটার প্যান্ট খুলে নিয়েছিলাম। দুইহাতে মেখে নিই আক্রোশ।

 

তাহলে শনিবার কমলা রঙের জামদানি শাড়ি পরব, আমার অদেখা প্রেমিক আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে, আর রবিবার মিষ্টি রঙেরটা। কোথায় নিয়ে যাবে আমি কিছু জানিনা। তার উপর shorto আছে। আমাকে যতই খারাপ দেখাক খারাপ লাগা যাবে না, মানে মনে করতে হবে বাহ্যিক চেহারা আল্লার দান, আর বিচার বিবেচনা এফিশিয়েন্সি মানুষের। আমি বোকা বোকা আচরণ করলে রাগ করতে পারে, আর যেসব জানিনা সেগুলো আমাকে জানাতে পারে। তার আগে ইচ্ছা হলে বলবে : ও মা এটাও জানো না!

 

হুম, আমার কাজের জায়গার অফিসে আমার কলিগ লিলিয়ান, ডেলার, এমিলি, ফ্রাসোঁয়া, এডাম। এদের সাথে আমি বাগেরহাটের ইংরেজিতে যোগাযোগ করি।

 

ওদের কানাডিয়ান অন্যরকম উচ্চারণ। আমার সব ইংরেজি বুঝতেই অসুবিধা হয়, তাই কানাডার প্রতি আলাদা অভিমান নেই।

 

আমরা যে বাসায় থাকি ওখানে সব বড়লোকেরা থাকে। যুদ্ধাপরাধী বিচারের প্রোসিকিউটর, সচিব, জাতি সংঘের অ্যাট্রাক্টিভ লোকজন, কনডম ব্যাবসায়ী। সেদিন সকালে লিফটে আমার সাথে উঠেছে এক মধ্যবয়সী; বোরিং স্যুট কোট পরা, উৎকট পারফিউম। পরে দেখলাম লাল টুকটুক রঙের ল্যান্ড ক্রুজারে উঠলো, সাথে এসিস্ট্যান্ট, আরও কত কী!

 

কিন্তু লিফটে আসার সময় তো তাকে আমার সেক্সি মনে হলো না! তো আমার যাকে সেক্সি মনে হয় না তার সচিব হয়ে কী লাভ হলো! মরণদা বলল এই লোক সচিব, আরো গাড়ি আছে।

 

আমার তো এই উছিলায় একদিনের জন্য সচিব হতে ইচ্ছা করল। লাল রঙের গাড়ি চড়ে মা’র সাথে দেখা করতে যাব। মাকে বলব : বাবা তোমাকে যা দিতে পারেনি। আসো মা আমি তোমাকে সব দিব । স অ ব..

 

বাগেরহাটের ফর্সা পোলাটা দেশে থাকলে এমন লাল রঙের ল্যান্ড ক্রুজারে উৎকট সুগন্ধি মেখে উঠত হয়তো…

এসব ফেলে একা ওখানে কেন গেল আমি কিছু ভেবে পাই না।

 

আচ্ছা যাকগে, নিজের কথা নিজের থাক। কিন্তু আশা করি নিঃশব্দ একজন সেক্সি স্বামী হবে এবং ওই উৎকট পারফিউম নেবে না, কারণ আমার পছন্দ না মোটেই!

ও চিকন গোয়ালিনী/রসের বিনোদিনী
ঐ রূপ যৌবন তোমার ভাটার পানি…

 

 

নদীর বাড়ি পর্ব

 

এখন চা করে আনলাম, আর সাথে শাশুড়ির ড্যাসিং বান্ধবীর পাঠানো চিতই পিঠা। চিতই পিঠায় এভাবে লবণ দেয়া যায় জানতাম না। আমার মামা বাড়িতে চিতই পিঠা করে হাড়িতে দুধে ভিজিয়ে রাখতো,আমরা বাচ্চারা পরের দিন সকালে উতসব মুডে পিঠা খেতাম। আমি বেশি পারতাম না,রোগা সবসময়। আপনার কোন একটা লেখায় পায়েসে লবণ দেয়া বিষয়ে লিখেছিলেন!

রাত আড়াইটা।সেই সিরিয়াল সারাদিন দেখেও শেষ করতে পারছি না,সিজন ৩ এপিসোড ৫ চলছে। এখন ভীষণ খিদা পাইছে।

কালকের মধ্যে শেষ হবে।
আর কোন সিরিয়াল শুরু করব না।

 

আপনার সাথে ভাগ্যিস কথা বলার সুযোগ নেই। থাকলে দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় আলাপ করতে করতে বিরক্ত করে ছাড়তাম,কারন কারো সাথে সারাদিনে কোন কথা বলি না।

 

মা ফোন দিয়েছে আজকে ৭ বার।রিসিভ করিনি।আহারে তার নিশ্চয় মন খারাপ হইছে।
কী অদ্ভুত! মা আর বড় বোন একমাত্র আমার কথা ভাবে ।আর আমি ঠিক এই দুইজনকেই মন চাইলেই এভয়েড করি! কারন জানি যে তাতে কিছু আসে যায় না।

 

চোখ ব্যথা করছে। আপনার কথা কত কোটি বার কত রকম মনে করেছি,যদি জানতেন! ভালো লাগছে। সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ হচ্ছে। এই শহরে কোনকিছুর সাথে সংযোগ বোধ করলে অনেক কষ্ট। আপনি ভালো। ডুব দিয়ে থাকা যায়।

 

একটু পরেই বের হব। আজ শ্যুটিং আছে মগবাজার। ফারুকী ভাইয়ের কাজ ।

একটা গান শুনুন ।

 

অকূল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙা নাও রে মাঝি, বায়া যাও রে
ক্যামন কইরা হে কান্ডারি ভিড়ামু এই ভাঙা তরী
নাইকো আমার সংগী সাথি দুই কূলে মোর কালো রাতি

 

রাস্তাঘাটে আপনার মতো দেখতে মানুষ খুঁজে পাচ্ছি! এমনকি এই যে ‘পিঁপড়া’ সিনেমাটার নায়কও দেখতে আপনার মতো লাগে।

 

বড় চুল, শ্যাওলা রঙের জুতো পরা,চেক জামা।আমি ভ্যাবলার মত তাকায় থাকলাম এবং হাসলাম এবং টান বোধ হলো ।

 

ভীষণ ভিড়ের মধ্যে এত্ত আওয়াজ। আমার কাধে ব্যাগ।এক হাতে ৪ আটি শাক, টমেটো ।এর মধ্যে আমি তাকায় থাকলাম। শ্যাওলা রঙের জুতো জোড়া সুন্দর ছিল, চুল একটু ধরে দেখতে ইচ্ছা করলো। আপনার মত দেখতে লোকটা দ্রুত রিক্সায় উঠে পড়ল, ইচ্ছে করছিল এইসব বাজার নিয়েই উঠে পড়ি ।বলি বাজার এবং আমাকে ধরে রাখতে…আমি কেমন হতচ্ছাড়া হয়ে যাচ্ছি!

 

নাহ, আপনি বুঝবেন না, কেউ বুঝবে না। নিঃশব্দকে দেখলাম দূর থেকে। তার বসের সাথে হা হা হি হি করতে করতে যাচ্ছে। বস মানেই হাহাহিহি।

পুরুষ বস কি অধীনস্ত নারী কাউকে পেলে সব আলাপ শুরু করে? আপনাকে বিষয়টা বললে আপনি এর পুরুষ জাগতিক ব্যাখ্যা শুরু করবেন।

কই,আমরা মেয়েরা বস হলে তো পুরুষ অধীনস্তদের সাথে এসব আলাপ করি না !

 

আজকে অফিসে অনেক কাজ ছিল, আমি একটু পর পর চোখ বন্ধ করে আপনাকে মনে করেছি
ভাবলাম লিখি।আবার মনে হল কী হবে লিখে?

 

অনেক ভাবলাম আপনার কী কী কারনে মন খারাপ হতে পারে, তো ভীষণ বোরিং সব কারণ মাথায় আসতে লাগল। জীবনের ঝামেলা তো সিনেমার মত উত্তেজনাকর না, বোরিং আর একঘেয়ে।

 

চারপাশের যন্ত্রণা কাটিয়ে ওঠার জন্য নিজের সাথে একরকম যুদ্ধ করছি। সময় গেলে ঠিক হবে জানি। আপনার কথা ভাবলে তাই শান্তি লাগে। আপনার কথা ভাবলে হেমন্তের মত লাগে।

আমি সব কিছু থেকে পালিয়ে আছি, মায়ের সূতি শাড়ির আঁচলে মুখ লুকানোর মত করে আপনাকে ভাবছি সারাদিন

 

শান্ত কপোতাক্ষ নদী একটা ,আমার যতক্ষণ ইচ্ছা পাড়ে বসে থাকবো, কেউ আপত্তি করতে পারবে না।

 

 

আমার বাড়ি পর্ব

 

ভীষণ খিদে পেয়েছে, এই দ্যাখেন পেটটা কেমন কাচুমাচু করে তাকিয়ে আছে, পেটের এক জোড়া চোখ আছে, খিদে পেলেই পিটপিট তাকায়।সে তাকাক।

 

এখন সব কাজ সেরে মেঝেতে বসলাম। কদিন টানা শ্যুটিং করে ক্লান্ত।

 

একটু আগে নিঃশব্দের পিঠে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকলাম। তারপর খাবার টেবিল গোছালাম।পেটের চোখের পিটপিট তাকানো আর সহ্য হচ্ছিল না।আমার তো নিজের বরের পিছে পাড়ার বখাটে ছেলেদের মত করে ঘুরতে হয়। ঠিক করেছি আমিও ওর মতো হয়ে যাব। শান্ত উদাস নির্লিপ্ত।

মন ভালো নাই, সাথে আজ মেজাজও খিটখিটে।

 

আমার আবার স্কুলে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে টাইম মেশিনে চড়ে। অন্তত কলেজে। হৈ হৈ কপোতাক্ষ নদ। পাটালি গুড়ের যশোর। শীত নামলে কুয়াশায় কারো মুখ দেখা যায় না। বেনাপোলে সাঁ সাঁ করে ট্রাক যায়, মানুষ লেপের মদ্যি থাকে।

 

নিঃশব্দ বাজাচ্ছে একটা স্যাক্সোফোনের আওয়াজ, দারুণ।স্যাক্সোফোন শুনলে আমার চোখে ভাসে কোন ব্ল্যাক ছেলে আর ব্ল্যাক কোকড়া চুলের মেয়ে নাচছে, আহা স্যাক্সোফোন।

 

নি:শব্দ রাত এগারটায় ঘুমায়।বেচারা সারাদিন খুব পরিশ্রম করে।

 

আমার দিন ঝড়ের বেগে কেটে যাচ্ছে। কেন জানেন? আপনার সাথে আমার কিছুই মেলে না তাই! আমি ভাবতে থাকি আপনার কখন রাতের খাবার শেষ হবে, ততক্ষণে আবার আমার ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়! সময় ধরতে পারছি না।

 

এত তাড়াহুড়া করে কিসের দিকে ছুটছি?
বুড়ো হয়ে মরে যাওয়া ছাড়া আর কী আছে সামনে?

 

গত দেড় বছর নিঃশব্দ কোনদিন নিজে থেকে আমার সাথে কিছু করেনি। আমাদের যৌনজীবন সুস্থ নেই। এইটা যে একটা সমস্যা তা সে মনেও করে না। ওর হচ্ছে না। ওর ইচ্ছাও করে না, সময়ও নেই।আমার ইচ্ছা করে।আমাদের যখন ৬ বছর আগে প্রথম দেখা হল, তখন ওর এমন ছিল। তারপর ৫ মাসের মত সময় গেলে সবকিছু ঠিক হলো, আমরা খুব সুন্দর সময় পার করেছি। কিন্তু এই দেড় বছর সব কেমন মিইয়ে গেল।

 

আমি এই কথাটা আপনি ছাড়া আর যে কোন পুরুষ বা মহিলাকে বললে তারা পাশবিক আনন্দ অনুভব করবে, ঠাট্টা করবে এবং নিঃশব্দকে নিচু চোখে দেখবে আর আমার সাথে সেক্স করতে চাইবে। আমি তাই কাউকে বলি না।
নিঃশব্দ মানুষটা চমৎকার। একজন ভীষণ রেয়ার ধরনের বুদ্ধিমান মানুষ। ওর সাথে থাকলে বেশিরভাগ মানুষের সাথে কথা বলার ইচ্ছাও থাকে না! এবং ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব এত ভালো যে তার কোন তুলনা করা যায় না।আমার এই যে সময় অসময়ে শ্যুটিং, কিছুতেই ওর না নেই।

কিন্তু আমি আমার এই অসুস্থ যৌনজীবন নিয়ে জীবনের আরও অপরাপর অপ্রাপ্তি, অপারগতার মতই দুঃখ পাই।

 

এটা সমাধান করার কোন উপায় নেই।

 

আমি চাইলে অন্যদের সাথে সহজেই যৌনতা এক্সপ্লোর করতে পারি,আমার জন্যে সেটা সহজ। মহিতোষ রায় বা হাবিব জায়গিরদার বা বটকু আসলাম বা মন্ত্রী আংকেল বা প্রযোজক, এদের যে কারো সাথে বা প্রত্যেকের সাথেই আমি তা করতে পারি।কিন্তু আমার ইচ্ছা করছে না মোটেই।নিঃশব্দ ছাড়া আর কারো সাথে কিছু করতেই এক রকম জিদ হয়। ভাবতে পারি না।

 

কিন্তু আমি জানি যে এই সময়গুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে, যাবে।জীবনও শেষ হয়ে যাবে। আমিও অন্য মহিলাদের মত যৌনতাকে ফোর্থ সাবব্জেক্ট করে জীবন যাপনের বয়সে এগিয়ে যাচ্ছি।

 

আমি আমার এই কথাগুলো আমার মাকেও বলতে পারবো না, ঈশ্বর থাকলেও না। আমার এক্স প্রেমিককে তো বলিইনি, তাহলে হয়ত না চাইলেও ভেবে নিতো একারণেই ওর সাথে সম্পর্ক নিয়ে আমি এত আনন্দিত!

 

আপনাকে বলতে পারলাম। আপনি আমার খুব কোন নিকটজন।

 

নাটকে আমার তেমন কোনো ডিম্যান্ড নেই, পত্রিকায় ইন্টারভিউ বা স্ক্যান্ডাল বা অংশগ্রহণ নেই, নিজেকে কাজে লাগানোর চেষ্টা নেই এবং সেই সাথে একটা সুস্থ আনন্দময় যৌন জীবনও নেই।

 

ফলাফল একটা টানা মন খারাপ।
একটা ভীষণ মিডিওকার জীবন যাপন।

 

আমি নি:শব্দকে ভালোবাসি। ভালোবাসার চেয়েও বিশেষ হচ্ছে খুব পছন্দ করি। সব একসাথে হয় না অথবা কিছুই আসলে হয় না।

 

 

দেনমোহরের বাড়ি পর্ব

 

মেয়েটা ভালোবেসে বিয়ে করেছিল ছেলেটাকে। বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সময় কাজী সাহেব দেনমোহরের অংক জানতে চাইলে মেয়েটা অরূপ রঙ ছেলেটার হাত ধরে পরম মমতায় বলেছিল : ৪টা গোলাপ।
কাজী সাহেব তার বাপের জন্মে এরকম অদ্ভুত দেনমোহরের কথা শোনেননি। শুধু গম্ভীর হয়ে মৃদু স্বরে বলেছিল মেয়েটাকে : মা, নিজেকে এত সস্তা করে ফেলেছেন?

বিয়ের ৪র্থ বছরে ছেলেটা প্রবল স্বামী হয়ে গেল, মেয়েটাকে গুনে গুনে ৪টা লাথি দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিতে চাইল। মেয়েটা প্রবল মানুষ হয়ে সোজা দাঁড়িয়ে বললো :

: বিয়ের ৪ বছরে আমাকে ১টাও গোলাপ দাওনি। দাও আমার মোহর ৪টা গোলাপ।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close