Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ অণুগল্প অপ্রস্তুত > অণুগল্প >> চৈতালী চট্টোপাধ্যায়

অপ্রস্তুত > অণুগল্প >> চৈতালী চট্টোপাধ্যায়

প্রকাশঃ June 30, 2017

অপ্রস্তুত  > অণুগল্প >> চৈতালী চট্টোপাধ্যায়
0
0

অপ্রস্তুত

– আহ্! লাগছে, খুব লাগছে আমার!

– প্লিজ সোনামনি, এই তো হয়ে গেছে, ব্লাউজটা সরাই আর একটু!

– ওহ্ মাগো!

– না না, লাগবে না, একটুও ব্যথা করবে না আর।

করুণ গলার স্বর, পাতলা মতো, শুনে বয়স আন্দাজ পাওয়া যায় না, তবু সন্দেহপ্রবণ মন ভাবলো, কোনও এক যুবতী-ই হবে-বা। ও! তবে এইজন্যই সুগত, আমি ওর বাড়িতে আসতে চাইলেই ‘না, না’ করত, ম্লান হয়ে যেত কেমন! তবে এইজন্যই বিয়ের ব্যাপারেও ওর এত দ্বিধাদ্বন্দ্ব! অথচ রিসর্টে নিয়ে যাওয়ার সময় তো…

– পারছি না, আমি আর পারছি না!

– লক্ষ্মীটি, আর একবার শুধু।

আমিও আর না পেরে ওই ঘর আর বসার ঘরের মাঝখানে যে পাতলা পর্দা রূপকের মতো হাওয়ায় দুলছে, আর চোখের সামনে নিষেধ ঝুলিয়ে রাখছে, সেটা একটানে সরিয়ে ভেতরের মৃদু আলো-আঁধারে ঢুকে পড়লাম। সুগত যে কতটা লম্পট, হাতে-নাতে ধরব আজ!

– এসো মধুশ্রী, ডাকল সুগত। সে-ডাকে আহ্বান নেই, অসহায় সহজতা আছে।

–আমার মা! ব্রেস্ট ক্যানসার! ড্রেসিং করতে হয় রোজ আমাকেই! এদিকে আবার প্যারালাইসিসে পা-দুটো অসাড়।

– কই, এসো! মার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দি।’

ক্লিষ্ট হাসি হাসে ও। পর্দার সঙ্গে লেপ্টে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। পর্দারই গায়ে বুনে-তোলা নকশা যেমন। সামনে, পেছনে, ডাইনে, বাঁয়ে পালানোর পথ খুঁজে পাই না আর!

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close