Home অনুবাদ অরুন্ধতী রায় > পরমসুখ মন্ত্রণালয় [উপন্যাস] >> ইশরাত তানিয়া ও রেশমী নন্দী অনূদিত

অরুন্ধতী রায় > পরমসুখ মন্ত্রণালয় [উপন্যাস] >> ইশরাত তানিয়া ও রেশমী নন্দী অনূদিত

প্রকাশঃ June 1, 2017

অরুন্ধতী রায় > পরমসুখ মন্ত্রণালয় [উপন্যাস] >> ইশরাত তানিয়া ও রেশমী নন্দী অনূদিত
0
1

[সম্পাদকীয় নোট : সেই ১৯৯৭ সালে, অর্থাৎ কুড়ি বছর আগে The God of Small Things শীর্ষক উপন্যাসটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিশ্বসাহিত্যে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন অরুন্ধতী রায় (জন্ম ১৯৬১)। অর্জন করেছিলেন ম্যান বুকার পুরস্কার (১৯৯৭)। তারপর দীর্ঘ নীরবতা। উপন্যাস লেখেননি তিনি। কিন্তু উপন্যাস না লিখলে কী হবে, সোচ্চার ছিলেন কাশ্মীরের স্বাধীনতা, মাওবাদী গেরিলাদের সমর্থন আর পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন সম্পর্কে। বইও লিখেছেন, কিন্তু সেই বইগুলির সবই ছিল রাজনৈতিক। অবশেষে, কদিন আগে প্রকাশিত হলো তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস The Ministry of Utmost Happiness. এই উপন্যাসের কাহিনির প্রধান চরিত্র আনজুম- এক হিজরা নারী। গোরস্থান আর ব্রাত্য-জনজীবনের পরিসরে উপন্যাসটি লেখা। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাঠক ও সমালোচকদের তীক্ষ্ণ দ্যুতিময় আলো আবার এসে পড়লো অরুন্ধতীর ওপর। পশ্চিমের সব প্রধান পত্রপত্রিকায় উপন্যাসটির রিভিউ বেরুচ্ছে। বিলেতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় উপন্যাসটির দুটি অধ্যায় প্রকাশের পাশাপাশি অরুন্ধতীর একটা অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “উপন্যাসের চাইতে আর কোনো কিছুই তাঁর কাছে বড় নয়।” তীরন্দাজের পাঠকদের জন্য আমরা গার্ডিয়ানে প্রকাশিত অধ্যায় দুটি বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করলাম।]

1 (1)2 (1)

অরুন্ধতী রায়

পরমসুখ মন্ত্রণালয়

অনুবাদ : ইশরাত তানিয়া ও রেশমী নন্দী

 প্রথম অধ্যায়

বুড়ো পাখিগুলো মরতে হলে কোথায় যায়?   

গোরস্থানে সে থাকত একটা গাছের মতো। খুব ভোরে কাকগুলোকে বিদায় দিত আর বাদুড়দের স্বাগত জানাত নীড়ে। সন্ধ্যায় ঠিক এর উল্টোটা করত। এই বদলে যাওয়া সময়টুকুর মাঝখানে, ওর উঁচু ডাল জুড়ে দেখা যেত সব ভূতুড়ে শকুন। নখ দিয়ে তাদের শান্তভাবে আঁকড়ে ধরা সে টের পেত। শরীরের একটা অংশ কেটে ফেললে যেমন ব্যথা হয়, ঠিক তেমন। সে বুঝতে পেরেছিল, যাদের সে জুটিয়েছে, ওরা বিভিন্ন অজুহাতের মধ্যেও সব মিলিয়ে অসুখী নয়। এমনকি গল্প থেকে বেরিয়ে যেতে হলেও ওরা সুখী।

যখন সে এখানে প্রথম এলো, গাছের মতোই কয়েক মাস নীরবে নিষ্ঠুরতা সইল। পিছু না হটেই। সে পেছন ফিরে দেখেনি কোন ছোট ছেলে ওর দিকে পাথর ছুঁড়ে ছিল। গলা বাড়িয়ে দেখেনি ওর বাকলে কী কী অপমান আঁচড়ে দিল। মানুষ তাকে বলত সার্কাসহীন ভাঁড় কিংবা রাজ্যহারা রাণী। এই কষ্টগুলোকে সে তার ডাল দিয়ে হাওয়ায় উড়িয়ে দিত। পাতার সুরেলা মর্মর ব্যথা জুড়িয়ে দিত মলম হয়ে।

ঠিক তার পরপরই এটা ঘটে। ফতেহপুর মসজিদের এক অন্ধ ইমাম, জিয়াউদ্দীন, ওর সাথে বন্ধুত্ব করেছিল। দেখা করতে যেত এলাকায়। তারপর একসময় জিয়াউদ্দীন ভাবল ওকে শান্তিতে ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

অনেকদিন আগে এক ইংরেজি-জানা লোক বলেছিল, ইংরেজিতে ওর নাম উল্টো করে লিখলে হয় মজনু। ইংরেজি গল্পে, মজনুকে বলে রোমিও আর লায়লা হলো জুলিয়েট। সে খুব মজা পেয়েছিল শুনে, জিজ্ঞেস করেছিল, “তার মানে, তুমি বলতে চাইছ আমি ওদের গল্পে খিচুড়ি পাকিয়েছি?” পরে দেখা হলে, ইংরেজি-জানা লোকটা জানিয়েছিল, একটা ভুল হয়েছে। ওর নাম উল্টো করে বানান করলে আসলে মুজনা হয়। এই নামের কেউ নাই, আর এই নামের কোনো মানেও হয় না। ও বলেছিল, “এটা কোনো ব্যাপারই না। ওদের সবাইকে মিলেই আমি। আমি রোমি আর জুলি, আমি লায়লা আর মজনু। আর মুজনাই বা কেন নই? কে বলেছে আমার নাম আনজুম? আমি তো আনজুম না। আমার নাম আনজুমান। আমি ম্যাহফিল । আমি আসর গুলজার করা এক সমাবেশ। আমি সবার, আবার কারোরই না। সবকিছুর আবার কোনোকিছুরই না। তুমি কি কাউকে নিমন্ত্রণ করতে চাও? সবাই নিমন্ত্রিত।”

ইংরেজি-জানা লোকটি বলেছিল, আনজুমের অনেক বুদ্ধি। সে নিজে কখনো এভাবে ভাবেইনি। আনজুম বলেছিল, “তোমার তো এইটুকু উর্দু জ্ঞান, এতে আর কতটুকুই-বা ভাবতে পারবে? কী মনে করো তুমি? ইংরেজি ভাষা তোমাকে এমনি এমনি খুব বুদ্ধিমান বানিয়ে দেবে?”

সে খুব হেসেছিল, আনজুমও। একটা ফিল্টার সিগারেট ওরা ভাগ করে টানছিল। উইলস নেভী কাট সিগারেট দামের তুলনায় স্রেফ ছোট। অভিযোগের সুর ইংরেজি জানা লোকের গলায়। আনজুম জানিয়েছিল ফোর স্কয়ার কিংবা পুরুষালী রেড অ্যান্ড হোয়াইটের চেয়ে এই সিগারেটই ওর বেশি ভালো লাগে।

সেই লোকটির নাম এখন আর আনজুমের মনে পড়ে না। হয়তো-বা কখনো জানাও হবে না। কবেই চলে গেছে সে, সেই যে ইংরেজি-জানা মানুষটা, যেখানে তার যাবার কথা। সরকারি হাসপাতালের পেছনে গোরস্থান। সেখানেই আনজুম থাকত। ওর সঙ্গী ছিল একটা গোদরেজের স্টিলের আলমারি। সেই আলমারির ভেতর থাকত আঁচড়ের দাগ-পড়া রেকর্ড, টেপ, ভাঙা হারমোনিয়াম, কিছু কাপড় আর গয়না। আরো ছিল ওর বাবার কবিতার বই, ওর ছবির অ্যালবাম আর খোয়াবগাহের আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু পত্রিকার ছেঁড়াখোড়া অংশ। কালো সুতায় আলমারির চাবি বেঁধে সে গলায় ঝুলিয়ে রাখত। সঙ্গে থাকত একটা রুপার দাঁত-খোঁচানোর কাঠি। একটা ছেঁড়া পারসি কার্পেটের ওপর ঘুমাত। দিনের বেলা কার্পেটটি তালাবন্ধ থাকত। রাত হলেই দুটি কবরের মাঝখানে সে কার্পেটটি মেলে দিত (মজার ব্যাপার হলো, পরপর দু-রাত একই কবরের মাঝখানে কখনও ঘুমাতো না)। সে তখনও ধূমপান করত। সেই নেভী কাট।

এক সকালে, সে শব্দ করে বুড়ো ইমামকে পত্রিকা পড়ে শোনাচ্ছিল। ইমাম ঠিকঠাক মতো শুনতে পাচ্ছিল না, জিজ্ঞেস করল, “এটা কি সত্য যে তোমাদের মধ্যে যারা হিন্দু তাদের দাহ না করে কবর দেওয়া হয়?”

এইরে মুশকিল হলো, বুঝতে পেরে আনজুম একটু এড়িয়ে যায়, “সত্য? সত্য, কী সেটা? সত্য কী?”

নিজের জিজ্ঞাসা থেকে সরে না গিয়ে ইমাম যান্ত্রিকভাবে বিড়বিড় করে, “সাচ খুদা হ্যায়। খুদাহি সাচ হ্যায়।” সত্য ঈশ্বর। ঈশ্বরই সত্য। এই ধরনের জ্ঞানের কথা ট্রাকের গায়ে লেখা থাকে। হাইওয়ে ধরে যে ট্রাকগুলো সশব্দে চলে যায়। তারপর দেখতে অক্ষম চোখ দুটো সরু করে আনে সে। ফিসফিস করে বলে, “আমাকে বলো তো যখন তোমরা মরে যাও, কোথায় তোমার কবর হয়? কে তোমাকে গোসল করায়? কে তোমাদের জন্য দোয়া করে?”

অনেকক্ষণ আনজুম কোনো কথা বলে না। কিছু পরে গা এলিয়ে অনেকটা অযাচিতের মতোই বলে, “ইমাম সাহেব, আকাশের বর্ণনা দেয়ার সময়, ধরেন সূর্য ডুবছে কিংবা রমযানের চাঁদ উঠছে, মানুষ যখন রঙের কথা বলে- এই যেমন লাল, নীল, কমলা। তখন আপনার মনে কী হয়?”

এভাবে দুজন দুজনকে ভীষণ গভীরভাবে তাড়িত করে, হৃদয়ে রক্ত ঝরে, আর দুজন পাশাপাশি বসে থাকে, চুপচাপ। কারো না কারো রৌদ্রোজ্জ্বল কবরের ওপর। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আনজুমই নীরবতা ভাঙে।

“আপনি আমাকে বলেন,” সে বলে, “আপনি তো ইমাম সাহেব, আমি না। বুড়ো পাখিগুলো মরতে হলে কোথায় যায়? ওরা কী আকাশ থেকে পাথরের মতো আমাদের ওপর এসে পড়ে? রাস্তায় আমরা কী ওদের শরীরের সাথে ঠোক্কর খাই? আপনার কী মনে হয় না একজন সর্বশক্তিমান- যে সমস্তটা দেখতে পায়, যে আমাদের পৃথিবীতে এনেছে, সে আমাদের নিয়ে যাবার জন্যও খুব ভালো ব্যবস্থা করে রেখেছে?”

সেদিন ইমাম অন্য সময়ের তুলনায় একটু আগেই উঠে পড়ে। আনজুম তাকিয়ে দেখে ওর ঠকঠকিয়ে চলে যাওয়া। কবরগুলোর মাঝখান দিয়ে যাওয়া। হাতের বেতটা ইমামের চোখের কাজ করে। দিশা পায় পথ চলার। লাঠিটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মদের খালি বোতল আর ফেলে দেয়া সিরিঞ্জে টুংটাং সুর তোলে। আনজুম ওনাকে বাধা দেয় না। আনজুম জানত তিনি ফিরে আসবেন। যত জটিল ধাঁধাই হোক না কেন, এসব দেখেই সে একাকীত্বকে চিনেছিল। সে টের পেত, অদ্ভুতভাবে ওরা একে অপরকে স্পর্শ করে আছে। ইমামের ওকে প্রয়োজন আর ওর ইমামকে। অভিজ্ঞতায় সে জেনেছে, প্রয়োজন আসলে এক ভাঁড়ার ঘর। সেখানে নির্মমতার জন্যও অনেকখানি জায়গা থেকে যায়।

খোয়াবগাহ থেকে আনজুমের চলে যাওয়াটা খুব স্বস্তির কিছু ছিল না। কিন্তু সে জেনেছিল খোয়াবগাহের স্বপ্ন আর গোপনীয়তা, শুধুমাত্র একা ওর সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেনি।

দ্বিতীয় অধ্যায়

খোয়াবগাহ

পাঁচ সন্তানের মধ্যে ও ছিল চতুর্থ, দিল্লীর দেয়ালঘেরা শহর শাহজাহানবাদে জানুয়ারির এক শীতের রাতে ও জন্মছিল, প্রদীপের আলোয় (বিদ্যুৎ ছিল না তখন)। আহলাম বাজি নামের যে ধাত্রী প্রসব করিয়েছিল, মায়ের হাতে দুটো শাল জড়িয়ে বাচ্চাটাকে দিয়ে বলেছিল, “ছেলে হয়েছে।” সেই পরিস্থিতির কথা ভাবলে, এমন ভুল কেন হলো, বোঝা যায়।

গর্ভধারণের একমাসের মাথায় জাহানারা বেগম ও তার স্বামী ঠিক করেছিল, ছেলে হলে নাম রাখবে আফতাব। তাদের আগের তিন সন্তানই মেয়ে। ছয় বছর তারা আফতাবের জন্মের জন্য অপেক্ষা করেছে। যে-রাতে ও জন্মালো, সেটা ছিলো জাহানারা বেগমের জীবনের সবচেয়ে সুখের রাত। পরদিন সকালে, যখন সূর্য উঠেছে, উষ্ণ হয়ে উঠেছে ঘরটা, তিনি ছোট্ট আফতাবের গায়ে জড়ানো কাপড়টা খুললেন। ওর ছোট্ট শরীরটা দেখলেন তিনি– চোখ, নাক, মাথা, ঘাড়, বগল, হাত-পায়ের আঙুল- পরম তৃপ্তিতে, প্রশান্ত ধীরতায়। এরকম একটা মুহূর্তেই তিনি ছেলের পুরুষাঙ্গে নীচে আবিষ্কার করলেন নারী-শরীরের অংশ- ছোট্ট, অপরিণত, কিন্তু নিঃসন্দেহে যোনি। এও কী হয় যে একজন মা তার নিজের সন্তানকে ভয় পায়? জাহানারা বেগম ভয় পেয়েছিলেন। প্রথমে তার মনে হলো কেউ তার হৃৎপিণ্ড চেপে ধরেছে, তার হাড়গুলো গুঁড়ো করে দিচ্ছে। পরক্ষণেই তার মনে হলো, আরেকবার যাচাই করে দেখা দরকার যদি তার কোন ভুল হয়ে থাকে। যখন তার পেটের ভিতরটা গুলিয়ে উঠলো, আর পা বেয়ে অশুচির এক পাতলা ধারা গড়িয়ে পড়লো, তখন তৃতীয় যে ভাবনা তার মাথায় এলো তা হলো নিজের সৃষ্টি থেকেই পালিয়ে যাওয়া। চতুর্থ ভাবনা, নিজেকে আর বাচ্চাটাকে শেষ করে দেওয়া। চেনা জগৎ আর অন্য যে জগতের খবর তার অজানা, এই দুয়ের মধ্যে যখন এক ফাটল অনুভব করলো, তখন পঞ্চম প্রতিক্রিয়ায় ওর মনে হলো, সন্তানকে তুলে নিয়ে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে থাকবেন। সেই সময়, সেই পাতালস্পর্শী গহ্বরের অন্ধকারে ঘুরপাক খেতে খেতে সবকিছুই যেন তার বোধগম্যতার বাইরে চলে গেল। এতদিন তার মনে হতো সবকিছু সম্পর্কে তার নিশ্চিত ধারণা আছে- ছোট থেকে বড়, সবকিছু সম্পর্কে তিনি জানেন। যে একটিমাত্র ভাষা তিনি জানেন, সেই উর্দুতে কেবল প্রাণীদের নয়, সবকিছুরই- কার্পেট, কাপড়, বই, কলম, বাদ্যযন্ত্র- সবারই লৈঙ্গিক পরিচয় রয়েছে। সবকিছুই পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ, পুরুষ বা নারী। সবকিছুই, কেবল তার সন্তান ছাড়া। তিনি জানেন, তার সন্তানের মানুষের কাছে একটা শব্দ রয়েছে- হিজরা। আসলে দুটো শব্দ- হিজরা আর কিন্নর। কিন্তু দুটো শব্দ দিয়ে ভাষা তৈরি হয় না।

ভাষার বাইরেও কী বেঁচে থাকা যায়? স্বভাবতই এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনা শব্দে কিংবা বোধগম্য এক বাক্যে। প্রশ্নটাই উত্তর হয়ে তার কাছে ফিরে আসে এক শব্দহীন, আদিম আর্তনাদ হয়ে।

…   …   …

তার ষষ্ঠ প্রতিক্রিয়া ছিল নিজেকে পরিষ্কার করে নেওয়া আর সেই মুহূর্তে কাউকে কিছু না জানানোর সিদ্ধান্ত। এমনকি তার স্বামীকেও না। আফতাবের পাশে শুয়ে বিশ্রাম নেওয়া ছিলো তার সপ্তম প্রতিক্রিয়া। যেমনটা বিশ্রাম নিয়েছিল খ্রিস্ট-ঈশ্বর, স্বর্গ-মর্ত্য সৃষ্টির পরে। কেবল সেক্ষেত্রে তিনি বিশ্রাম নিয়েছিলেন নিজের সৃষ্টির অর্থ অনুধাবন করে, আর জাহানারা বেগম বিশ্রাম নিচ্ছেন, চেনা জগতের সব অর্থ গুলিয়ে ফেলার পর।

মোটের উপর এতো আর সত্যিকারের স্ত্রীযোনী নয়, নিজেকেই নিজে বললেন তিনি। এর রাস্তাটা তো খোলা না (তিনি খুঁটিয়ে দেখলেন), কেবল একটা লেজুড়, শিশুতোষ। হয়তো এটা বন্ধ হয়ে যাবে, বা সেরে যাবে, বা কোনভাবে মিলিয়ে যাবে এটা। ওর চেনা যত মাজার আছে- সবগুলোতে ধরনা দেবেন আর পরম করুণাময়ের কাছে ফরিয়াদ জানাবেন। তিনি শুনবেন। তিনি নিশ্চয়ই শুনবেন। আর হয়তো তিনি শুনেছিলেন, এমনভাবে শুনেছিলেন যার পুরো অর্থ জাহানারা ঠিক বুঝতে পারেননি।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

  1. “The God of small things” পড়ায় নিজেকে বেশ সৌভাগ্যবান মনে করছি। এখনও ‘ভেলুথা’র মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। উপন্যাসটি যে অরুন্ধতী’র প্রথম উপন্যাস, তা জানতাম। কিন্তু সেটিই যে এত দিন তাঁর একমাত্র উপন্যাস ছিল, তা জানতাম না। তীরন্দাজের বদৌলতে আজ জানলাম। আর এটা জেনে আরও ভালো লাগছে যে, তাঁর অনবদ্য দ্বিতীয় উপন্যাসটিও প্রিয় ওয়েবম্যাগে পড়তে পারছি! “The ministry of utmost happiness (পরমসুখ মন্ত্রণালয়)-এর প্রতিটি পর্ব পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম স্যার। তীরন্দাজের জন্য অশেষ শুভ কামনা ও ভালবাসা।

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close