Home গদ্যসমগ্র উপন্যাস আকিমুন রহমান > বিকেলের নদীস্রোতে অশ্রুবিন্দুটি ভেসে এসেছিলো >> উপন্যাস [পর্ব ১৭]

আকিমুন রহমান > বিকেলের নদীস্রোতে অশ্রুবিন্দুটি ভেসে এসেছিলো >> উপন্যাস [পর্ব ১৭]

প্রকাশঃ August 24, 2017

আকিমুন রহমান > বিকেলের নদীস্রোতে অশ্রুবিন্দুটি ভেসে এসেছিলো >> উপন্যাস [পর্ব ১৭]
0
0

পর্ব্ ১৭

বিকেলের নদীতে ধীর স্রোত আছে।

সেই শিথিল স্রোত নিয়ে জলেরা এগোয় এগোয় এগোয়! এগুতে এগুতে তারা সঙ্গে করে নিয়ে আসতে থাকে, সেই তাকে! যার আসার আশায় আমি  এই তো কতোদিন – বসে আছি এই ভাঙা ঘাটে!

ওই তো আসছে সে!ওই দেখা যায়! ওই যে!

কী করবো আমি এখন! কী করতে হয় এমন কালে!

যার আসার আশায় থাকতে হয়,তাকে যখন আসতে দেখা যায়;তখন কি করতে হয়? আমি এখন কী করবো!

আমি কি এমন সময়েও এমন থিররকমে বসেই থাকবো? এই যে এতোদিন ধরে যেমন বসেছিলাম,তেমন বসে থাকাই কি ঠিক কাজ এখন?

অমন বসে থাকাই কি বিধিসম্মত?

নাকি আমি ঝাঁপিয়ে পড়বো জলে? তারপর তুমুল সাঁতার দিতে দিতে এগিয়ে যেতে থাকবো তার দিকে?নাকি পাড় ধরে ছুটতে থাকবো,তার দিকে?

এসবের কোনটি করা যর্থার্থ, এমন কালে?

কী! কোনটা?

আমি জানি না জানি না!

পোড়াবৃক্ষ্ আমাকে অপেক্ষা করার বিধি শিক্ষা দিয়েছে শুধু; সে তো অভ্যর্থনার রীতিপ্রকরণ কিচ্ছু বলেনি! কিছুই তো শিক্ষা দেয়নি!

আমি তবে কী করবো!

এই তো মন্থর স্রোত অতি বিমনা মুখে আমাকে পেরিয়ে পেরিয়ে চলে যাচ্ছে দূরে, উত্তরে।

তুমি কি জানোরে স্রোত; এমনকালে, কোন আচার কোন কর্ম যর্থার্থ  হবে? জানো নাকি, এই সময়ে কী আমার করণীয়? কেমনে কী করতে হবে এখন! জানো?

জানো যদি, বলো! বলোরে তুমি জলধারা!

জলস্রোত কোনো উত্ত্ র করে না। বয়ে যায় বয়ে যায়!

সেই বয়ে যাওয়া দেখতে দেখতে হঠাৎ আমার শরীরটায় বেদম তড়পানো শুরু হয়! কেমন যেনো একরকম উৎকণ্ঠায় কাঁটা দিয়ে দিয়ে ওঠা শুরু করে।

হঠাৎ করেই কিছুর মধ্যে কিছু না, আমার ভয় হতে থাকে বড়ো!

অনেকখানি লজ্জা হতে থাকে! অস্থিরও লাগতে থাকে! ইচ্ছে হতে থাকে উঠে ছুট লাগাই।খুব জোর ছুট দেই।পালিয়ে যাই আমি এইখান থেকে, একছুটে!

এক ছুটে চলে যাই মরা কড়ুইয়ের কাছে। তারপর তার গুঁড়িটা জাবড়ে ধরে মুখ গুঁজে পড়ে থাকি একা একা! লাগবে না আমার কোনো নিদানের সন্ধান পাওয়া!

এমন ডরভয়লাজ নিয়ে এমন করে বসে থাকতে পারবো না আমি!

যে আসছে, তার সাথে চিন-পরিচয়ের ঝঞ্ঝাট সামলানোর বিধিব্যাকরণ তো কিছুই শিক্ষা করা হয়নি আমার! কেবল তো শুধু বসে থাকতে শিখেছি। শুধু চেয়ে থাকার ধরণটা জেনেছি!আর তো কিছুই জানি নি!

আপ্যায়নের বিধিরীতি কিচ্ছু শিক্ষা না করে, কোন প্রাণে আমি এসে এমন অপেক্ষা শুরু করেছি! কেমন করে এমন স্পর্ধা হয়েছে আমার!

ওহ! আমার মূঢ় অন্ত্ র,চলো চলো-পালাই এইখান থেকে!

কিছুমাত্র্ প্র্ য়োজন নেই,অগ্র্ সর হতে থাকা অতিথির মুখোমুখি হবার! তাতে বরং লজ্জা বাড়বে! যাকে আপ্যায়নের রীতিকৌশল কিছুই শেখার ফুরসত হয়নি আমার,তার মুখোমুখি হতে চাই কোন মুখে? মুখোমুখি হয়ে নিজের অবিধিসম্ম্ত আচরণ দিয়ে শুধু বিড়ম্বিত করা হবে নিজেকে।

শুধু লজ্জা পাবো। আর কিছু নয়।

না না! নিজেকে অমন হেনস্থা করার কোনো দরকার নেই! তারচেয়ে পালাই বরং!পালাই!

আমার দিকে এগোতে থাকা আগন্তুকের মুখোমুখি হবার কথা মনে আসতে থাকে আমার; আর কুণ্ঠা ও লাজে এইমতে আমার দেহ বিকম্পিত হতে থাকে।

সেই ভয় সেই লাজ মুহূর্তে আমার শরীর ছাড়িয়ে ঢুকে যেতে থাকে আমার অন্ত্ রে।তারপর নানারকমে ধাক্কা দিতে থাকে তারা আমার অন্ত্ রকে!এই জায়গা ত্যাগ করার জন্য্  জোর ঠেলা ঠেলতে থাকে।

কিন্তু ওইসব ঠেলা-ধাক্কায় বিশেষ কোনো সুফল ফলে না।স্থানত্যাগের জন্য্ আমার অন্ত্ রে কোনো সাড়াই জাগে না। সে নিশ্চ্ ল বসে থাকে। ত্রাস ও সংকোচের ঝাপটাগুলো পেতে থাকে অন্ত্ র; কিন্তু পালিয়ে যাবার কোনো শক্তিই যেনো সে পায় না!

আপ্যায়নের নিয়মবিধি জানা নেই বলে তার কোনোরকম ভয় বা কুণ্ঠা হয় না যেনো।সে বসে থাকে নিশ্চ্ ল, নিঃশ্চুপ।আর চেয়ে থাকতে থাকে,ওই তো দূর দক্ষিণের দিকে!

যে ভেসে আসছে,সে কে? সেটা কি?

আমি বুঝতে পারি না। আমি মোটের ওপর চিনতেও পারি না।

কিন্তু দেখতে পেতে থাকি আসছে সে। আমার দিকে আসছে!

বিকেলের নদীস্রোত দূরগামী। কিন্তু পুরো উদাসীন, ধীর, ঢিলেঢালা।

অথচ যে ভেসে আসছে আমার দিকে, বা এই আমার ঘাটের দিকে; সে দেখো ধীরগামী নয়!দূর থেকে দেখেও যেনো স্প্ ষ্ট্ বোঝা যায়, সে আসছে তরতরিয়ে!খুব তরতরিয়ে।

তার দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে আমার মনে হতে থাকে, যেনো সে ভেসে নেই!ভেসে নেই। আছে সে একরকম উড়ালে। তেজভরা উড়াল দিয়েই যেনো সে আসছে আমার দিকে!

কে আসো তুমি? কে?

কে তুমি আসো এমত অধীর ছুটে,আমার দিকে? আমি কি তোমারে চিনি?

কে আসো তুমি অচিনজনা?আমার অভিশাপের দিন ফুরাবার নিদান নিয়েই তো আসো তুমি? নাকি গো?

কে আসো?

মনে মনে কতো কতোবার এসকল কথা জিজ্ঞেস করতে থাকে আমার অন্ত্ র। কিন্তু কোনো উত্ত্ র আসে না।

যে আসছে, সে যেমন মৌন থাকে; তেমনই নিঃশব্দ্ হয়ে থাকে আকাশ ও বাতাস ও ভাঙাঘাট ও নদীজল।তারা সকলে কথাহীন চোখে শুধু চেয়ে থাকে আমার দিকে।

‘যাকে বয়ে আনছো,তাকে একটু ধীরে আনো আমার ঘাটে; ও নদীস্রোত! আমাকে একটুখানি সময় দিয়ো-যেনো এই অন্ত্ র ও বাহিরকে আমি সুস্থির করে নিতে পারি!’ আমি স্রোতকে কাকুতি করি!

কিন্তু পরিষ্কার বুঝতে পারি, স্রোত আমার কথাকে গ্রাহ্য্ করছে না।

বরং আমার মিনতি শুনে সে যেনো আরো জোরে ছুটিয়ে আনতে থাকে আগন্তুককে! তারপর যেনো চোখের পলকটা ফেলারও আগে, নদীস্রোত আগন্তুককে এনে ভিঁড়িয়ে ফেলে আমার ঘাটে!

ওহ! জলস্রোত! এটা তোমার কেমন স্ব্ভাব!নিজে তো ধীরে বয়ে যাচ্ছো!তাহলে তুমি ওই অচেনাজনকে এমন হুড়দাড় করে কেমনে আনো আমার ঘাটে?কেনো আনো?

আমাকে সুস্থির হবার একটু সুযোগ তো দেবে!

আমার বিস্ফারিত চোখদের সরল, সহজ হবার ফুরসত তো দেবে তুমি, জলস্রোত? দিলে না তো! না! একটুও দিলে না তো!

আহ! তারপর কী করে দেখো জল!

যার আসার কথা ছিলো, সেই তাকে,ঝপাত করে ঘাটে ভিঁড়িয়ে দিয়ে ছুটতে শুরু করে উত্ত্ রের দিকে!

‘থামো! থামো!’ আমি অভ্যাগতকে না দেখার ভান করে বেতালা গলায় ডাকতে থাকি জলস্রোতকে। ডাকতে থাকি আকাশকে, হাওয়াকে; ‘এমনে এমনে চলে যেতে আছে নাকি!এই যে কে এলো, তার সঙ্গে আমার চিনপরিচয়টা করিয়ে দিয়ে  যাও তো তুমি!নয়তো অন্ত্ ত বলে দিয়ে যাও, কোন কথা দিয়ে শুরুটা করবো আমি!বলে দিয়ে যাও, স্রোত! নয়তো হে আকাশ, তুমি বলে দাও! ও হাওয়া, জানাও জানাও আমাকে বিধান!শুরু করার বিধিটুকু শুধু বলো!দয়া করো!’

আমি ডাকতে থাকি। কতো রকমে ডাকতে থাকি। কিন্তু তারা কোনোজনই আমার ডাকের কোনো উত্ত্ র করে না।

আমার চোখ নুয়ে থাকে মাটির দিকে,তবুও আমি ঠিক দেখতে পাই যে,অচিন আগন্তুক অপলক চোখে চেয়ে আছে আমার দিকে।

এখন তবে আমি কেমনে কী বলি এই অতিথিকে! কীভাবে কী বলি!

এই তো আমার সারাটা মুখে কোত্থেকে জানি কেমন একটা ভাপ এসে ঝাপটা দিচ্ছে! এই তো আমি আমার চোখে খুব তপ্ত্ কিছু একটার জোর স্প্ র্শ্ পাচ্ছি! এরই নাম তো লজ্জা!

আমার এখন লজ্জা লাগছে কেনো!

এই তো আমি কেমন একটা আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি! ধুপ দ্রুম ধুপ দ্রুম ধুপ দ্রুম! আমি-আমি- ঠিক ধরতে পারছি ওটি কিসের শব্দ্! ‌ওই জটিল আওয়াজ তুলছে আমার অন্ত্ র!  আমার কুণ্ঠা লাগছে বড়ো! আমার ভয় লাগছে!আমার নিজেকে খুব লণ্ড্ভণ্ড্ লাগছে!

আমার এখন ভয় লাগছে কেনো? কেনো এমন কুণ্ঠা ধুকপুক আমার শরীর এখন?

আমারই তো তার সাথে আগে কথা বলা উচিত! তাই না?

কিন্তু আমার মুখে কেনো কোনো কথা ফুটতে চাচ্ছে না! কেনো!

কথারা, কথারা, ফোটো তোমরা আমার ওষ্ঠ্ ও অধরে!

ধ্বনি, ধ্বনি; বাজো তোমরা বাতাসে বাতাসে! বাজো!

বলো – বলো তাকে,আমি তার আসার আশায় কেমন ছিলাম!

বলো -বলো তাকে, আশায় আশায় এই আমি বেঁচে আছি! নাকি আমি বেঁচে নেই! শুধু পথ চাওয়াটুকু বেঁচে আছে!বলো- বলো তাকে।

তার আগে তাকে বলো-সে যেনো তার চিনপরিচয়খানা আমাকে পরিষ্কার করে জানানি দেয়।আমি যে তাকে বুঝে উঠতে পারছি না! আমি চিনতে পারছি না তো- সে কে!

আশ্চ্ র্য্! আমার ওষ্ঠ্ ও অধরকে এতোসব কথা যে বলতে বললাম; তারা কী কিছুই শুনতে পেলো না! শুনতে পেলে কি এমন স্ত্ ব্ধ্ হয়ে থাকতে পারে?এমন নিঃসাড় পড়ে থাকতে পারে?

আমার ওষ্ঠ্ ও অধর নিথর ও বাক্য্ শূ্ ন্য্ হয়ে পড়ে থাকে।

বাক্য্ হারা হয়ে থাকে পুরোটা চরাচর। আশ্চ্ র্য্! কোনো একটা মিহি স্রোতশব্দ্ পর্য্ ন্ত্ নেই নদীর জলে।

এমন করে করেই কি এই বিকেলটাকে ফুরিয়ে ফেলতে হবে? এমন নিশ্চুপ চেয়ে থেকে থেকেই অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যেতে হবে? যে এলো, তাকে জানানো হবে না অন্ত্ রের ক্র্ ন্দ্ ন? যে এলো, পাওয়া হবে না তার চিনপরিচয়?

‘জল-উড়ালের পঙ্খী! হে পঙ্খী! তুমি কে?’ অকস্মাৎ কী হয় আমি বুঝতে পারি না, আমার চোখেরা কথা বলে ওঠে।

“ও কন্যা! আমারে তুমি পঙ্খী বলো কোন ভুলে?” আগন্তুকের গলাকে থির শোনায়। কিন্তু বড়ো উষ্ণ্ যেনো লাগে!

‘তুমি তবে কে হে অতিথিজন? পুষ্প্ যে নও, সে কথা স্প্ ষ্ট্। পুষ্প্ হলে, সুগন্ধে এই বিকেলের আকাশ কি আমোদিত হতো না?’ আমি বলি!

“তুমি যদি পুষ্প্ বলে মানো, তবে আমি পুষ্প্ ! তোমার জন্য্ পুষ্প্ আমি কন্যা!দূর লুপ্ত্দিনের সুগন্ধি  শুষ্ক্ ফুল!” সে বলে।

আমি বাতাসে কেমন মদির একপ্র্কার গন্ধ্ পাই।পুষ্প্ গন্ধ্!

‘না না!এমত রহস্যের প্র্ য়োজন নেই!বলো,বলো তুমি কে!’ হাওয়ায় উড়তে থাকা পুষ্প্ গন্ধকে নিজের শরীরের দিকে টেনে নিতে নিতে আমি বলি; ‘তুমি যে মনুষ্য্ নও, সে আমি বুঝেছি! মনুষ্য্ হলে তুমি দেখতে আমারই মতন হতে! আমারই মতন দ্বিধাজরজর হতে দেখা যেতো তোমার চোখ,তোমার শরীর!’

“তুমি অভ্রান্ত্ কন্যা। সঠিকই জেনেছো! আমি মনুষ্য্ নই!” সে বলে, “তবে আমার পুরোটা বোঝাই করে এনেছি মনুষ্য্-অন্ত্ রের বাসনা আর তার জীবন-বেদনা!সে সবের সাথে বয়ে এনেছি মহাকালের একটা টুকরোকে!তোমার জন্য্।”

‘কে তুমি?’আমি জিজ্ঞেস করি।

“আমি যে লোকালয় থেকে এসেছি, সেখানে আমাকে যে নামে ডাকে: সেই নাম তোমার কাছে বড়ো অদ্ভুত শোনাবে!” সে উত্ত্ র করে।

‘বলো তুমি!’ আমি বলি, ‘এতো অমীমাংসার ভার আমি আর বইতে পারছি না!’

“এই যে আমি-এই দেখো-আমি এক ছই-তোলা নাও!আমি বয়ে যাই এক কাল থেকে আরেক কালে। এক ধারা থেকে আরেক ধারায়!”

‘তারপর?’ আমি জিজ্ঞেস করি।

“তোমার জন্য্ এসেছি আমি। এসেছি তোমার নিদানের খোঁজ নিয়ে।সেই নিদানেরে পাবে তুমি, তোমার পূর্ব্ জীবন কথায়!আমি তোমার পূর্ব্ জীবনকথা নিয়ে এসেছি! আমার পুরোটা বোঝাই করে এনেছি, সেইসব কথা!”

‘তোমার যে ভেতর-ওই যে ছইঘেরা ঠাঁই-ওই জায়গা তো শূন্য্, ফাঁকা! হু হু হাওয়া ওই তো যাওয়া-আসা করে!ওই দেখা যায়! তাহলে কেমন করে বলো যে, এসেছো তুমি পুরোটা বোঝাই হয়ে?তুমি তো বোঝাই নও!’

“আমি পুরোটা বোঝাই!তুমি মন প্র্ স্তু্ত করো, পুরোটা প্র্স্তু ত করো,তখন দেখবে ছইযের ভেতরে কেমন থরে থরে জেগে উঠছে পূর্ব্ জনমের শব্দ্ দৃশ্য্ গন্ধ্ স্বাদ ও স্প্ র্শ্।দেখবে কেমন আস্তে দেখা দিচ্ছে অন্য্ এক সূর্যোদয়!তোমার জন্য্! তোমাকে নিতে হবে সেইসব কিছু!আমি দিতে এসেছি।দিতেই এসেছি!”

‘ওইসবে আমার কোন দরকার!’আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিই; ‘সেইসবে আমার কোনো দরকার নেই।ভুল নিদান নিয়ে তুমি ভুল মানুষের কাছে এসেছো,নাও! ছই-অলা নাও, তুমি ভুল পথে এসে গেছো!’

“আমি তোমার কাছে এসেছি কন্যা!তোমার জন্য্ এসেছি!”

‘আমি কী করবো তোমাকে নিয়ে?আমার তোমাকে কোন প্র্ য়োজন? কোনো প্র্ য়োজন নেই!’

“আছে!” সে উত্ত্ র করে।

‘কী করবো আমি এখন!’আমার দিশা হারা গলা অথই অস্থিরতায় তলিয়ে যেতে থাকে।

“আমাকে নাও!” সে বলে।

তার কণ্ঠে নদীস্রোতের চ্ছ্ ল্লাৎ চ্ছল ধ্ব্ নি বেজে যেতে থাকে। আমাকে ঘিরে থাকা বাতাসে শীতলরকম পুষ্প্ গন্ধ্ ভেসে যেতে থাকে।“ আমাকে নাও তুমি!” নদীস্রোতের চ্ছল্লাৎ চ্ছল আমার শরীরে এসে মৃদু ঝাপটা দিতে থাকে।ঠাণ্ডা জলের পরশ দিতে থাকে।

আমি বুঝতে পারি এইবার আমাকে বাড়িয়ে দিতে হবে আমার দুই বাহু!

আমাকে গ্র্ হণ করতে হবে।এই অভ্যাগতকে গ্র্ হণ করতে হবে!

“আমাকে নাও তুমি!” সে আমাকে ডাকে।

আমি সেকথার কোনো উত্ত্ র করতে পারি না। স্ত্ ব্ধ্ চেয়ে থাকি।

তারপর অকস্মাৎ আমার কী যে হয়, আমি বুঝতে পারি না। আমি দেখতে পাই, আমার দুই বাহু জেগে উঠছে!

হঠাৎ বেপথু বিদ্যুতের মতো জেগে ওঠে আমার দুই বাহু! তারপর ডাকে, “এসো!”

[চলবে]

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close