Home গদ্যসমগ্র উপন্যাস আকিমুন রহমান / বিকেলের নদীস্রোতে অশ্রুবিন্দুটি ভেসে এসেছিলো / পর্ব ৩

আকিমুন রহমান / বিকেলের নদীস্রোতে অশ্রুবিন্দুটি ভেসে এসেছিলো / পর্ব ৩

প্রকাশঃ November 19, 2016

আকিমুন রহমান / বিকেলের নদীস্রোতে অশ্রুবিন্দুটি ভেসে এসেছিলো / পর্ব ৩
0
1

উপন্যাস / পর্ব

এইভাবে যেতে থাকে দিন। দিনের পরে দিন।

দিনের পর দিন দাদার জপের ধরণ একই থাকে। সকালের পাতে একই রকমে পাকা-ফলার গোছানো হতে থাকে, ওর জন্য। সেই না-ছোঁয়া পাত একপ্রহর বেলায় সরিয়েও নেয়া হতে থাকে একইরকম আফসোসভরা হাতে।

দাদার দুপুরের আহার গ্রহণের কালও সেই একই থাকে। সেই বিকেলের দিকে ঢলে-পড়া বেলায় জলসিক্ত শরীরে সেই কোনোরকম অন্নগ্রহণ – একই রকম চলতে থাকে।

দিনের পর দিন।

মা ধরে নেয়, সংসার এরপর থেকে এভাবেই যেতে থাকবে। দাদা জপমগ্ন থেকে থেকে এভাবেই পার করবে সমস্তটা আয়ু। সংসারের সমস্ত তদারকির ভার এভাবেই থাকবে মায়ের ওপর। নিস্তারহীন সুখশূন্য দায়ভার! বয়ে যাওয়া, নিরুদ্ধার বয়ে যাওয়া।

হয়তো এ্‌ইই তার নির্বন্ধ। হয়তো এইই বিধিলিপি! এই বংশের ভাগ্যে এইই আছে এখন। মা ললাট-লিখন মেনে নেয়ার জন্য মন তৈরি করে নেয়, ক্রমে ক্রমে।

কপালে মন্দ – কিছু যাই লেখা থাক, তা নিয়ে মায়ের যাতনা নেই। তার কোল তো ভরা আছে! পুত্র তো আছে তার হাতেরই নাগালে। হোক সে পুত্র জপমগ্ন; কিন্তু ঘরে তো আছে! মাযের কোলের কাছটিতে আছে, সংসারের চক্ষের সামনে আছে। ওতেই চলবে। ওতেই প্রাণ জুড়িয়ে থাকবে চিরকাল।

মায়ের প্রাণের এইসব কথা চুপেচাপে ওড়াউড়ি করে তার প্রাণেরই ভেতরে। মুখে সেইকথা কাকে বলবে মা! কে আছে দুঃখ শোনার বান্ধব!

বলার মতো তো কোনো নিকটজন নেই তার – এই জগত-সংসারে! থাকার মধ্যে আছে সেই এক পুত্র। তার কাছে কি তাকে নিয়ে জেগে ওঠা – এইসব তেতো কথা বলা যায়?

গৃহকর্মীরা এসকল কিছু শোনার কোনো হক রাখে না। তাই মায়ের মনের কথা মনের ভেতরেই উড়ে-নড়ে, কেঁদে; তারপর থিতু হয়ে যায়।

তাহলে, এই যে আমি আছি, মায়ের কন্যা! আমি এই যে বেড়ে উঠছি দিনে দিনে! আমি দিনে দিনে – এই যে শিখে নিচ্ছি – সংসারের বিধি-ব্যাকরণ! সেই আমাকে তো মা তার যাতনার ভাগ দিতে পারে! আমার কোঁচড়ে দিয়ে দিতে পারে তো – তার যাতনাগুলো! দেয় না কেনো?

দেয় না কেনো! এই প্রশ্নের কোনো মীমাংসা পাই না আমি।

তবে ক্রমে, দিনে দিনে, নিজে নিজেই বুঝে উঠতে পারি – কেন আমাকে তার ব্যথা ও বেদনার অংশ দেয় না মা! কেন আমাকে দেয়ার কথা – তার খেয়ালে আসে না!

আমাকে কেমন করে দেবে? আমি পায়ে পায়ে থাকলে কী – আমার কথা তার মনেও পড়ে না। আমি আছি – সেটা চোখে পড়ে, কিন্তু আমিও যে তার কেউ – তা আর তার মনে নেই। যেন আমি এক ছায়া এইখানে। অন্য কিছু নই। আমাকে তাই মনে পড়ে না কারো। খেয়ালে আসে না কারো। আমি ছাড়া তাই আমাকে কারো স্মরণে আসে না।

তখন কেবল মনে হতে থাকে – কবে আমাকে মনে পড়বে মায়ের! কখন তার খেয়ালে আসবে যে, আমিও আছি এইখানে! কবে আমাকে মনে করার সময় হবে দাদার!

দিন যায়।

সকলে একসময় ধরে নেয়, এইরকম বাঁকা-ঝোকা হয়েই, দাদার এমন বিবাগী হয়ে বাস করাকরি নিয়েই – বাকি দিনগুলো যাবে – এই সংসারের।

তো, আফসোসের তো কিছু নেই। সকল সংসার একই ধরনে কি বাঁচে? একই রকমের সুখ ও শান্তিতে কি থাকে? থাকে ভিন্ন ভিন্ন রকমে। আমাদেরটাও তার ব্যতিক্রম হবে কেমনে! হোক উঁচু বংশ। বিধির বিধান খণ্ডায় কে!

এইসব স্তোক দিয়ে আস্তে আস্তে সকলে নিজেদের চোখ ঢেকে নেয় এবং রোজকার জীবনে থিতু হয়ে পড়ে। সেই কারণেই কিনা কারো নজরেই পড়ে না যে, শুকনো-ছিমছাম দাদাটা দিনে দিনে কীরকম গহন-গম্ভীর, থইথই জলভরা জোয়ান হয়ে উঠছে।

প্রতিদিন, একটু একটু করে যেনো ভরে উঠছে ওর শরীর। শরীর যতো ভরে উঠছে, ততো অস্থির হয়ে উঠছে তার চোখ। ততো জেদী হয়ে উঠছে চোখের দৃষ্টি। অথচ মুখে কোনো বাদ-প্রতিবাদ নেই। বিশেষ কোনো কথা নেই। কোনো জিজ্ঞাসা নেই।

বিশ বছর বয়স হলে লোকে এমন হয়ে যায়? দাদা – এই তো কদিন হয় – বিশ বছরে পা দিয়েছে।

বিশ-বছরী শরীরের দাদাকে নিয়ে আমার অশান্তি হতে থাকে।

কেন জানি মনে হতে থাকে – এই বড়ো শরীরটা আমাদের সকলকে মস্ত একটা থাবড়া দেবে। খুব জোর একটা ঝটকা দিয়ে আমাদের আছড়ে ফেলবে মাটিতে। আমরা আর উঠে বসতে পারবো না।

কেন এমন কু-গায় আমার মন! কেন এমন মন্দ চিন্তা আসে আমার ভেতরে! আমি দুষ্টমতি কেউ একজন? আমার স্বভাব কি তবে সুস্বভাব হবে না? নিজেকে নিয়ে ভাবনায় ছটফট করি। এই তো আমার চোদ্দ বছর বয়স। আমার ভালোমন্দের দিকে কে তাকায়? কে বলে দেয়, আমার স্বভাব ভালো, না মন্দ!

কেউ তা বলার নেই।

এদিকে, দাদার এই যে বদল – সেটা কী কেবল একলা আমিই দেখি? মা দেখে না? অন্যরাও দেখে না? নাকি দেখে?

কিন্তু কারো ভাব-ভঙ্গীতে কোনকিছুই, মোটেও, বোঝা যায় না।

অদ্ভুত তো!

সেদিন জৈষ্ঠ্ মাসের দিন। সকাল থেকে আকাশ ভরে কী রোদ কী রোদ! সে রোদের দিকে সেদিন আমাদের বাড়ি দ্বিধা ও কুণ্ঠাভরা চোখ নিয়ে তাকিয়ে ছিলো ।

একবার ভাবছিল সে খুশী হয়ে উঠবে! কিন্তু সে কোন প্রাণে, খুশী হয়ে উঠবে এমন খর, তেজী রোদকে দেখে! এই বাড়ির একমাত্র পুত্রটি ছাদে, ধ্যানে বসে আছে না? তার তো বিষম কষ্ট হবে – এই তেজী রোদের ঝাপটায়।

আবার, তার মনে আসছিল এই কথা যে – এমন জেল্লাভরা দাপুটে দিন দেখে – খুশী না হয়ে পারে নাকি কেউ? আপনা থেকেই তো খুশীর ঝাপটা এসে লাগতে থাকে মনে! বাড়ি তবে কি করে? অখুশী থাকবে, নাকি খুশী হয়ে উঠবে।

আমাদের বাড়িটা যখন তার নিজের ধরনে, এই মতে, দোনোমোনো বোধ করে চলছিল – তখন বাড়ির লোকেরা হঠাৎ, বিষম চমকে, একেবারে স্তব্ধ বাক্যহারা হতে বাধ্য হয়েছিল।

ঘটনা হয় কী – কিছুর মধ্যে কিছু না – বাড়ির সকলে দেখে, দাদা কঠিন তাড়া-ভরা পায়ে ঢুকছে আহার কক্ষে।

এই সকালে, পুত্র আহারকক্ষে! সে না প্রাতঃরাশ বর্জন করেছে সেই কতকাল আগে! সে না লোক-সঙ্গ ত্যাগ করেছে সেই কবে! আজ তার কী হলো!

এমন সহজ দেখাচ্ছে কেন তার আচরণ! এমন আটপৌরে গলায় হেসে উঠছে সে কেন! এটা কি সত্যি? নাকি ভুল দেখা?

বিস্ময়ে গৃহকর্মীরা বাক্যহারা ও চলৎশক্তিশূন্য হয়ে ওঠে। মা-কে খবর দেবার কথাও কারো মনে আসে না।

প্রাতঃরাশের পাতে দাদা বসে না বলে আজ কতদিন হয় – মা সকাল করে এখানে আসে না। আমি আজ কতদিন হয় একা-একা প্রাতঃরাশে। একা-একা সকাল ভরে এই ঘরে।

কতোদিন পরে – দুই ভাইবোনে মুখোমুখি বসা!

আহ্! কতদিন পরে! দাদা! তুই কতদিন পরে!

এইকথা আমার চোখেরা বারেবার বলতে থাকে, বারেবার।

দাদা দেখো কেমন হাসিমুখে আসনে বসছে, সুখী হাতে টেনে নিচ্ছে নিজের থালা। ওই তো ওর সেই পাকা ফলারের থালা!

‘তোর তবে ভেজা ফলার, চলছেই?’ আমাকে জিজ্ঞেস করে দাদা।

আজ তবে এতোদিনে মনে পড়লো তোর!সব কথা মনে এলো তবে?

মনে পড়লো তবে,জগতে প্রাতঃরাশের একটা ব্যাপার আছে?

একটা একা বোন, সুগন্ধের ধাক্কায় থরথর হতে হতে বসে থাকে একা!

এক একা বোন – থালার সামনে বসে – একা একা রোজ, মনে মনে অপেক্ষা করে। কেউ জানে না যে, সে অপেক্ষা করে – তার ভাইয়ের। সে তার নিজের ভেজা চিড়ে নাড়তে নাড়তে নাড়তে – আসলে কান পেতে থাকে ভাইয়ের পায়ের আওয়াজ পাওয়ার জন্য। আর, ডাকতে থাকে। দাদা-আয়, দাদা! আয় রে!

দাদা, তুই এতদিনে বুঝি শুনতে পেলি সেই ডাক? এতো দেরী হলো তোর শুনতে! এতো দেরী হয় কেমন করে?

আমার চোখেরা কত কত বার এইসকল কথা বলতে থাকে, বলে যেতে থাকে; কিন্তু দাদা কোনো উত্তর করে না।

দাদা, তুই আমার কথা শুনতে পাস না?

দাদা অথির হাতে লুচি ছেঁড়ে, মুখে দেয়। একটু চিবোয়। তারপর অকস্মাৎ যেন আহলাদে গুঙিয়ে ওঠে!

আহ্! কী মধুর তুমি! কেন এতো মায়া ও বাসনা জাগানিয়া তুমি, খাদ্য! ও সংসার! এত কেন মায়া তোমার! এ মায়ায় ফল কী! নিষ্ফল! নিষ্ফল!

এই তো আমার এখন চোদ্দ বছর বয়স। এখন বহুকিছু ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারি। বহু গন্ধ ঠিকঠাক চিনে নিতে পারি।

তাহলে খাবার মুখে নিয়ে দাদার এই অস্ফুট আহ্লাদ চিৎকারের বিষয়টা কেন বুঝে উঠতে পারছি না?

‘নে, আমার কাছ থেকে একটু খা তো এখন!’ দাদা মোহনভোগ-জড়ানো একটুকরা লুচি আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়।

ওমা রে! ও কেমন করে জেনে গেছে – ওর জন্য দেয়া খাবারের গন্ধ পেতে পেতে – আমি ওই খাবার পাতে নেয়ার জন্য কেমন তড়পেছি – কত কত দিন!

কেমন করে টের পেয়ে গেছে সেটা – দাদা? আমার কুণ্ঠা-বিহ্বল হাত মোহনভোগ-মোড়ানো লুচির টুকরোটাকে দাদার কাছ থেকে নিতে নিতে দেখে, দাদা একটু উঠে দাঁড়ায়ে আমার পাত থেকে তুলে নিচ্ছে এতটুকু ভেজা চিড়ে, একটু গুড়।

এটা আবার কেনো! ভেজা ফলার – ওর এখন মুখে তোলার কোন দরকার!

‘শোন! আজ থেকে, এই যে খাদ্য-গ্রহণের যতো বিধি-বিধান আছে – এই বংশে – আমি সব সরিয়ে দিলাম! তোর জন্য সরিয়ে দিলাম।’ দাদা বলে। ‘তুই নিজের ইচ্ছেমতন বিধি বানাস!’

আমি জানি তো সেটা। একই পাতে বসে – দুরকমের খাবার মুখে তোলা মানে তো এইই।

ওর দিক থেকে আজ তবে কিনা – এইভাবে – এই বাড়ির খাদ্যগ্রহণ বিধি এইভাবে ভঙ্গ হলো!

এখন আমার ইচ্ছে হলেই পাকা ফলার। ইচ্ছে হলে ভেজা। বা ইচ্ছে হলে দুটোই।

এটা কেমন হলো! আমার ভয় করতে থাকে।

দাদা! দাদা! কেন এই ভাঙচুরে যাচ্ছিস! কোন কারণে! হঠাৎ করে, কেন?

কেন তুই এমন আচমকা এসে আজ – মনে করছিস আমার ইচ্ছে-অনিচ্ছে! কেন হঠাৎ আমাকে মনে পড়লো তোর? কেন এতো ভাবাভাবি – আমাকে নিয়ে! আমার তো সবটাই ছল বলে মনে হচ্ছে দাদা! পোড়ামন কিনা! সুখের দিনে সুখ পেলেও সন্দেহ করতে ছাড়ে না!

তারপর আবার মনে আসতে থাকে অন্য কথা।

দাদা! আমার জন্য এত ভাবনা মনে আনছিস, কই এটা তো বুঝলি না যে, তোর জন্য বেড়ে রাখা পাকা ফলারের গন্ধ পেতে পেতে, ওটি মুখে তোলার জন্য লুব্ধ হতে হতে, কখন জানি আমার ভেতর থেকে উধাও হয়ে গেছে ওই খাবার মুখে – তোলার বাসনা। এখন আর তোকে আমার খাবার নিয়ে উতলা হতে হবে না রে! দাদা!

আমার চোখেরা আবার কথা বলতে থাকে।

না না! দাদার দিকে তাকায়, সেই শক্তি ওদের তখন কোথায়! ওরা একা একা কথা বলতে থাকে। আমার পাতের ভেজা চিড়েদের ওপরে লেপ্টে পড়ে থেকে থেকেই ভেজা-ভেজা রকমে কথা বলে যেতে থাকে ওরা, দাদার সঙ্গে।

কিন্তু দাদা সেই কথার কোনো একটা উত্তর করে না তো। শুনতে পেয়েছে – এমন একটা ভঙ্গী পর্যন্ত করে না তো! অথচ আমি স্পষ্ট ধরতে পারি, ও আমাকে শুনতে পাচ্ছে। সব কথা শুনতে পাচ্ছে।

‘আজ দুপুরে নিমপাতা ভাজা আর নলিতা শাক চাই আমি! খুব কড়া ভাজা চাই!’ দাদা মৃদু হেঁকে ওঠে। আমাদের গৃহ তার মনিবের কণ্ঠ শুনতে পেয়ে ঝনঝনাতে থাকে। থেমে থেমে ঝনঝনাতে থাকে।

একেই কি সুখী হওয়া বলে? আমি বিষয়টা বুঝে ওঠার চেষ্টা চালাতে চালাতে আমাদের বাড়ির মধ্যাহ্ণ ভোজনের সময়টিকে পার হতে দেখি।

আহ্! কতদিন পরে! কত দিন পরে এই ঘর – এমন দুপুরকে পেলো! পেল শেষে এমন কলমলানো মধ্যাহ্ণ!

দাদা! কেন তুই এমন থাকিসনি এতদিন! কেন এতো কষ্ট দিলি সকলকে!

দাদা মধ্যাহ্নের আহার শেষ করে ওর ঘরে ঢোকে। এমনই তো বিধি এ-বাড়ির! আহার শেষে ক্ষণিক বিশ্রাম। তারপর আবার কর্ম। ও তো সকল বিধিই মনে রেখেছে। মানছেও তো! তাহলে আমার জন্য খাদ্যগ্রহণ বিধি ভাঙলো যে! সেটা কেন?

সেই প্রশ্নের মীমাংসা পাবার আগেই দেখি, দাদা বেরিয়ে আসছে ওর ঘর থেকে! এইমাত্র না গেল ওর ঘরে! তাহলে এক্ষণই বেরিয়ে এল যে! বিশ্রাম তো কিছুই হলো না ওর!

ও কেনো এমন ধীর হাতে প্রণাম করছে মাকে? এমন শুভকামনা থইথই হাত কেন রাখছে আমার মাথায়! এই দুপুরে, হঠাৎ্, আমাকে আর্শীবাদ করার কোন দরকার পড়লো?

ওই দেখো – দাদা – অবিকল বাবারই মতন কঠিনরকম ধীর পায়ে পেরিয়ে যাচ্ছে আমাদের উঠান! পেছন থেকে দেখতে ওকে ঠিক বাবার মতো দেখাচ্ছে। তবে সেই দিন বাবার ওপর এমন তপ্ত রোদ ঝলকে-ঠলকে পড়েনি। বাবাকে ঘিরে নিয়েছিল অন্ধকার।

আজ দেখো, দাদাকে ঢেকে দিচ্ছে জৈষ্ঠ মাসের রোদ।

সেই রোদ ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, ঝাঁপিয়ে পড়ছে; তারপর পিছলে নেমে যাচ্ছে ওর শরীর থেকে।

সেই কোন আগে, যেতে যেতে বাবা, একটুও পিছু ফেরেনি। একটুও না।

দাদা – ওই তো পিছু ফিরলো! তারপর একটু ঝুঁকে প্রণাম করলো আমাদের ভিটেটাকে। তারপর ঘুরে, এগুতে থাকলো কোন এক নিরুদ্দেশের দিকে।

আমার প্রাণ দাদার জন্য হায় হায় করবে কখন! আমার চোখ যে তখন দেখাতে থাকে এক আশ্চর্য বৃত্তান্ত।

ওই দেখো দাদা হেঁটে যায়! পেরোয় উঠান। ওই যে রোদ ঢলকে পড়ছে – ওর শরীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে। ওই দেখো – আরো কী অপরূপ বৃত্তান্ত ওই দেখা যায়! দাদা হেঁটে যাচ্ছে।আর, প্রতিটা কদম ফেলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের উঠান – আঙ্গিনায় মাথা উঁচোচ্ছে ফুল। ঝলমল সূর্যমুখী। সূর্যমুখী সূর্যমুখী! ওই যে – ফুলে ফুলে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে আমাদের আঙিনা।

[চলবে…]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

  1. দাদার প্রতিটি কদম ফেলবার সাথে সাথে আঙ্গিনায় মাথা উঁচোচ্ছে এক একটি সূর্যমুখী।অসম্ভব ভাল লাগছিল এই অংশটুকু পড়তে।

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close