Home গদ্যসমগ্র উপন্যাস আকিমুন রহমান / বিকেলের নদীস্রোতে অশ্রুবিন্দুটি ভেসে এসেছিলো ৪

আকিমুন রহমান / বিকেলের নদীস্রোতে অশ্রুবিন্দুটি ভেসে এসেছিলো ৪

প্রকাশঃ December 8, 2016

আকিমুন রহমান / বিকেলের নদীস্রোতে অশ্রুবিন্দুটি ভেসে এসেছিলো ৪
0
0

উপন্যাস / পর্ব ৪

বাবার মতো দাদাও গেলো।কোন নিরুদ্দেশে গেলো-আমাদের জানা থাকলো না। দুজনের কোনোজনই, যাবার আগে সে কথা জানায়ে গেলো না।

কেনো জানালো না?

তার কারণ কি এই যে, মা কিংবা আমি সেটা জানার অধিকার রাখি না?এই্‌ই কি কারণ? এর মীমাংসা আমাকে কে করে দেয়!

আবার দেখো,এই যে দুজন গেলো,এই যে তারা সংসার ছেড়ে গেলো-তার মানেটা কি দাঁড়ায়?মানে তো এইই দাঁড়ায়,এই সংসার এই গৃহ তাদের আপন ছিলো না। ছিলো এক অ-আপন জায়গা।ছিলো কেবল তাদের সাধনার পথের বাধা ।একে ত্যাগ না করে তাই তাদের উপায় কি?

আরাধ্যকে-পরমকে পাবার জন্য এই তুচ্ছ সংসার তো ত্যাগ করতেই হয়!

তারা ভাগ্যবান।অতি পুণ্যবানও।

সেই কারণেই তারা দুজনেই এই সত্যকে অন্তরে অন্তরে,ঠিকই উপলব্ধি করতে পারে।মায়া ও বাসনাকে ছাড়তে পারে।এমনটা জগতে খুব বেশীজন পেরেছে কি?খুব কমজনই পেরেছে! যারা পেরেছে,তারা কোনো সামান্য মানুষ নয়।খুব উচ্চ স্তরের সাধক।এই বংশের জোর ভাগ্য,এমন একের পর এক সাধকসন্তান জন্ম নিয়েছে এইখানে।

সকলে ধন্য ধন্য করতে থাকে দিবা-রাত্রি।সেই ধাই ধাই ধন্য-রবের নিচে দাদা ও বাবার জন্য আমার কান্নারা ঢাকা পড়ে যেতে থাকে।আর,একা একা ,কাঁচুমাচু নতমুখে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে থাকি আমি,নিজের ছায়ার ভেতরে।

তবে যতোই লুকাই,যতোই ছায়া হয়ে যেতে থাকি না কেনো-একটা কথার তাড়া থেকে একদণ্ডের জন্যও রেহাই পাই না।ক্ষণে ক্ষণে একটা কথা জানার ইচ্ছা কেবল আমাকে দগ্ধাতে থাকে।খুব পোড়াতে থাকে।

জানতে ইচ্ছা হতে থাকে,যাবার আগে দাদাও কি বাবার মতোই, তাকেও, খুঁজতে নিষেধ দিয়ে গেছে?মাকে কি বলে গেছে এই কথা?বাবার মতোই কি দাদাও বলে গেছে যে,ওকে যেনো মৃত বলে ধরে নেয়া হয়?

প্রশ্নটা আমার সঙ্গে সকলটা সময় নড়তে-চড়তে থাকে,চুপে চুপে পায়ে পায়ে ঘুরতে থাকে।কাকে জিজ্ঞেস করি আমি?কেউ কি এখন কিছুমাত্র হুঁশে আছে,এই সংসারে?

কেউ কোনোরকম হুঁশে নেই।

ক্রমে দিন যেতে যেতে জানা যায়, তার খোঁজ করার বিষয়ে কোনোরকম নিষেধ-আশেধ দিয়ে যায় নি দাদা। কোনো কিছু করতেও বলে নি,কোনো কিছু না-করতেও বলে নি।

কোনো কথাই বলেনি সে।শুধু মৌনমুখে প্রণাম করেছে মাকে।শুধু আশীর্বাদ করতে ভোলেনি তার ছোটো বোনকে। তার যে বাস্তুভিটে –এই যে আমাদের বাড়ি- তাকেও প্রণাম দিয়ে,বিদায় নিতে ভোলেনি ছেলে !

এই যে যাবার আগে, পুত্র, কোনোরকম বারণ-নিবারণের বেড়ী দিয়ে বেঁধে যায় নি সংসারকে-এই যে তাকে তল্লা্শ করতে বারণ করে যায় নি,সেটা বড়ো ভালো লক্ষণ!

এর অর্থ এই দাঁড়ায়,সময়ে ঘরে ফিরে আসার বাঞ্ছা রাখে পুত্র। সে ফিরে আসার সাধ রাখে মায়ের কোলে।নইলে ঠিকই বারণ দিয়ে যেতো!

তাহলে তো আশা আছে!একদিন ফিরে আসার আশা আছে তার!পিতার মতো চির-নিরুদ্দেশের পণ নিয়ে বিবাগী হয়নি ছেলে।

সেই কারণে, এখন আশায় বুক বাঁধতে হবে সকলকে।এই সংসার গোছায়ে রাখতে হবে জননীকেই। যতো দুঃখই থাক প্রাণে,তারে প্রাণের ভেতরেই চাপা দিয়ে,চোখের পানি মুছতে মুছতে,মাকেই এখন, পুত্রের জন্য সয়-সংসারের সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে হবে।

গৃহকর্মীরা মায়ের পাশে দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে এতোসব রকমে স্তোক দিতে থাকে মাকে।

দিনের পর দিন মা স্তব্ধ বসে বসে সেসব কথা শোনে। শুনতেই থাকে।কিনতু স্বাভাবিক ক্রিয়া-কর্মে ফিরে আসার কোনো লক্ষণ তার মধ্যে দেখা যায় না।

গৃহকর্মীদের এইজন সেইজন- মাকে ঘিরে- জটলা করে যেতে থাকে প্রতি দিন।পুরো দিন ভরে।আমিও তখন ওদের কাছাকাছিই থাকি।থাকি একটু দূরে,একা।

একটু ফারাকে,নিরালায় দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে আমিও ওইসকল কথা শুনতে থাকি,খুব শুনে যাই।আমাকে ওরা নজর করে না, মা তো নজরে আনেই না! তাতে আমার সমস্যা হয় না।বরং আমি যে,চুপেচাপে ওদের আশপাশেই থাকতে পারি-তাতেই আমার বেশ শান্তি লাগতে থাকে।

দাদা চলে যাবার মুহূর্ত থেকেই একটা কঠিন থরথর অবস্থা শুরু হয়েছে আমার ভেতরে! শুরু হয়েছে আমার আশপাশে।ঠিক ভয়-ডরের থরথর অবস্থা নয় এটা। অন্যরকম,অচেনারকম একটা ব্যাপার।এমন বিষয় এই সংসারে আগে কোনোদিন ঘটেছে বলে জানা যায় না।

সেইদিন শিথিল পায়ে দাদা তো চলে গেলো।

আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম, মাথা-সমান উঁচু সূর্যমুখী গাছ ও ফুলেরা ধীরে ওকে আড়াল করে দিলো।একদম ঢেকে নিলো ওকে, অল্পে অল্পে।

চোখের সামনে তখন কেবল সুমসাম সূর্যমুখীর ঢেউ,হলুদ-খয়েরা রঙের ঠাণ্ডা ঢেউ।আশপাশ-আকাশ ও বাতাস নিথর-নীরব!কোথাও একটা টুনটুনি পাখির টুন টুন শিষটুক পর্যন্ত নেই।

এমন সময়ে,হঠাৎ কিছুর মধ্যে কিছু না, আমার কানের কাছে সপসপিয়ে ওঠে ফিসফিস আওয়াজ।

আমি শুনি কী-কারা যেনো ফিসফিস করে আমাকে কিছু বলছে!আচমকাই খুব জোরালো এক ফিসফিসানির ঝটকা আমার কানে আর মাথার ভেতরে এসে লাগে।

ফ্যাস ফ্যাস ফ্যাস ফুস-ফিস! আওয়াজ কানে আসতে থাকে।খুব কানে আসতে থাকে।এবং বোঝা যেতে থাকে,কারা যেনো আমাকে কিছু শোনানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।খুব বেচইন হয়ে উঠেছে।

এ কেমন ফিসফিসানি!কারা, কি শোনাতে চায় চাচ্ছে আমাকে?ফিস ফিস ফিস –ফিস ফিস!আমার অন্তরটা কিছু না বুঝেই ঢল্লাত করে ওঠে ভয়ে।

কে কি বলতে চায় আমাকে? কি বলতে চায়?কে?

তার কোনো একটা কথাও তো বোঝা যায় না।কেবল কানে আসছে- ফিসফিস ফিস।এই  সেই আওয়াজকে শোনাচ্ছে-নরম ও কাতর একরকম  মিনতির মতো।এই শোনাচ্ছে যেনো ক্রুদ্ধ এক ধামকির মতো!

কারা কি বলছে?আমি স্পষ্টকরে শোনার জন্য মন ঢেলে দেই।

তখন খেয়াল হয় যে,ওমা!আমার পাশে তো কেউ নেই! কানে কানে আমাকে কিছু বলে,এমন কেউ তো আশেপাশে মোটেও নেই!তাহলে ফিসফিস আসে কোত্থেকে!

আমি হতভম্ব হয়ে যাই।তারপর বেদিশা-মনে সেই ফিসফাসের কারণ খুঁজতে খুঁজতে যেই গৃহকর্মীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াই,অমনি দেখি যে, আর শোনা যাচ্ছে না কোনো ফিস-ফাস!একদম বন্ধ সেই আওয়াজ।

তারপর আবার যেই একা হই,আবার সেই অনুনয় ও রাগ-জড়ানো ফিসফিসানি শুনতে পেতে থাকি।

শুনতে পেতে থাকি-অনেকগুলো কণ্ঠ-নারী ও পুরুষ কণ্ঠ! খুব নিচুস্বরে কীসব বলছে আমাকে।খুব খুব নিচু-স্বরে ফিসফিস করে কীজানি বলছে আমাকে!

কি বলে?

হঠাৎ আমার এমন ভয় লাগতে থাকে যে,দাদার জন্য কষ্ট-কান্নার বিষয়টা একদম নাই হয়ে যায়।কেবল ফিসফিসানির ভয়ে আমার প্রাণ ঝটপটাতে থাকে।আমার কেবল ভয় হতে থাকে।

বাবা গেছে,দাদা গেলো-এখন কেবল আমরা দুইজন-মা আর আমি-এই তার মেয়ে।একা একলা-এই আমরা শুধু দুই জন!

আর কেউ নেই।কোনো আত্মীয় নেই,একটা কোনো কুটুমও না!

গৃহকর্মীরা ছাড়া আমাদের বিষয়-আশয় নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ায়ে শোক-তাপ করার –একটা কোনো জন নেই।কার কাছে বলবো এই ফিসফিসানির বৃত্তান্তটা?

আমাদের গৃহকর্মীরা এখন বড়ো ব্যতিব্যস্ত আছে মাকে নিয়ে। নানারকমে বুঝ ও প্রবোধ দেয়ার চেষ্টাটা চালাচ্ছে বলেই না,আমি ভারমুক্ত আছি।নয়তো আমি কী বলে বুঝ দিতাম মাকে!কোনকথা বলে।আমার কথা শুনে কী তার দুঃখ ও জ্বালা কমতো?আমি জানি না।

বরং এইই ভালো হয়েছে।গৃহকর্মীরা সকলে প্রবীণজন। বিবেচনা করে বুঝের কথা বলার খুব সামর্থ্য আছে তাদের।ওই তো মা!ক্রমে ধীরে,দাদা যাওয়ার এই চল্লিশ দিন পরে, নিজেকে তুলে আনছে শোকের শয্যা থেকে।হায় হায় বিলাপ থেকে।

আমি গৃহকর্মীদের ভিড় থেকে একটু তফাতে দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে নিজেকে ফিসফাস থেকে বাঁচাতে থাকি, একটু একটু করে মায়ের আবার সংসারে ফিরে আসাটা দেখতে থাকি।

গ্রহকর্মীদের মধ্যে প্রবীণা যেইজন,সে সকলের চেয়ে ধীরা ও বুঝদার। একদিন সে মায়ের কক্ষের এককোণে একাকী আমাকে দাঁড়াযে থাকতে দেখে,মাকে বলে;এই তো মায়ের কোলের জন এখনও মায়ের পাশেই আছে! এর ভালাই-অভালাই দেখার দায় তো এখনও রয়ে গেছে মায়ের!এই কন্যাই এখন থেকে হয়ে থাকুক মায়ের পরানের নিধি,দেহের জিয়নকাঠি।

আমার দিকে এই এতোদিনে বুঝি চোখ পড়ে আমার মায়ের।এতোদিনে বুঝি নজরে আসে যে,মাথায় অনেক বেড়ে উঠেছি আমি।আমার বয়স অনেক হয়ে গেছে।চোদ্দ বছর বয়স!

আমার দিকে চোখ-পড়া মাত্র মা খুব গুঁঙিয়ে ওঠে।তারপর কান্না শুরু হয় তার,আর আহাজারি!

না না না!এই বোঝার ভার আমি নিতে পারবো না।আর নিতে পারবো না!

দাদা যায় জৈ্যষ্ঠ মাসে।ক্রমে আষাঢ় গিয়ে শ্রাবণ মাস আসে।

আকাশে মেঘের জোর আনাগোনা সেদিন- একেবারে ভোর থেকে।আমি আমাদের বারান্দার সিঁড়িতে বসা।এই তো সেই সিঁড়ি-যা পেরিয়ে দাদা চলে গেলো।বাবাও তো এইখান দিয়েই গেছে।আমি শুধু বারান্দায় দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে চেয়ে থেকেছি এ সিঁড়ির দিকে।

কোনোদিন একে বেয়ে এই যে সামনে ছড়ানো উঠান-সেখানেও নামার ইচ্ছা হয় নি  আমার!সিঁড়িতে বসার ইচ্ছা তো দূর! কোনোদিন এই ইচ্ছাও তো জাগে নি যে,যাই তো এই সিঁড়ি বেয়ে নেমে!যাই তো উঠানে।হাঁটি তো একটু!কোনোদিন এমন ইচ্ছা আসে নি আমার ভেতরে।

আজ দেখো এই মেঘঅন্ধকার-ঢাকা দিনে মন কেমন নড়ে উঠলো!সিঁড়িতে বসার জন্য উতলা উতলা লাগতে থাকলো।

একা হলে ফিসফিসানি শুরু হবার কতো না ভয় আমার!সে সবের কথাও মনে আনতে ইচ্ছা হলো না সেদিন।

মনে হতে থাকলো,থাকুক না ফিসফিসানি!ওর ইচ্ছা হলে আসুক আমার একদম সামনে।যদি বলার কিছু থাকে তো বলুক মুখোমুখি দাঁড়ায়ে!

অনেক দিন হয়ে গেলো না বিষয়টার? ফিসফিস করা ছাড়া আর তো কিছু ঘটে না!আমিও তো ভয় কেবল পেয়েই যাচ্ছি,পেয়েই যাচ্ছি। আর তো কিছুই ঘটছে না!

এইসব কথা মাথায় নিয়েই সেইদিন,ভোরের মেঘের নিচে এসে বসি।সাদা পাথরের দীঘল সিঁড়ির এক মাথায় বসে থাকি একা।মেঘের কালোর নিচে,সাদা পাথরের সিঁড়ির ওপরে আলগোছে বসা আমাকে দেখে-আমারই মনে হতে থাকে যে,এ-আমি মোটেও এ-বাড়ির মেয়ে নই।আমি শুকনো এক ঝরা পাতা।বেভুলা ঝরা পাতা।একটা জোর বাতাসের ধাক্কায় মুড়মুড়িয়ে গুঁড়ো হয়ে যাবার জন্য-এই যে পড়ে আছি এইখানে।এইই আমি।

সেই ঝরা-পাতাটা তার কানের কাছে একটু পরপর গুসগুস-ফিসফিস শুনতে থাকে। শুনতে শুনতে দেখতে পেতে থাকে- গম্ভীর, ভারী ভারী কালোমেঘদের শ্লথ চলা-চলতি।

থেমে নেই তো কোনোমেঘ!থেমে তো নেই কোনোজন!একটুও না থামলে-এ বাড়ির এইখানে-এই আঙ্গিনায়-ঝরে পড়ার ফুরসতটা কখন পাবে ওরা!ঝরবে না নাকি আজ?ঝরো না? অনেক অনেক করে ঝরো।নাকি যাচ্ছো বাবা ও দাদার দেশে?

ঝরবে ওদের কাছে গিয়ে।থাকবে ওদের সাথে? মেঘদের এইমতে ডাকতে ডাকতে শেষে আমার চোখেরাই ঝরতে থাকে –টপর টপর টপ!

তেমন সময়ে আমাদের প্রবীণা গৃহকর্মীটি এসে বলে,জলদি আসো।

জলদি কোথায় যাবো?

যেতে হবে মাযের ঘরে।

সেখানে মাটিতে আঁচল-পেতে উত্তর-শিথানে শোওয়া আছে মা।তিনি যেতে প্রস্তুত। ইচ্ছামৃত্যু নেয়ার সামর্থ্য আছে তার।সেটি নেয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মা।

বাকি আছে শুধু আমার সঙ্গে কিছু বাক্য-বিনিময়।সেইকথা শেষ হলে তিনি যাত্রা শুরু করবেন।

ভয়ে কি আমার প্রাণ কেঁপে ওঠার কথা ছিলো?আমার কি হাউহাউ কান্না ও মিনতিতে লায়লুট হযে যাওয়া উচিত ছিলো?তবে সেইসব করার কথা আমার মাথায আসে না কেনো?আমি কি পাষণ্ড সন্তান,আমার মাযের?

আমার কেবল চোখ অন্ধকার হয়ে আসতে থাকে।দাঁতে দাঁত চেপে আসতে থাকে।নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য আমার দেহ ছিঁড়ে-মুচড়ে যেতে থাকে।আমি কোনোখানে দম নেওয়ার বাতাসের কোনো সন্ধান পাই না।

তারমধ্যেও কেমন করে থির দেহে আমি মাযের শিথানের পাশে বসি।স্থির কানে তার সকল কথা মন দিয়ে শুনে যেতে থাকি।কেমন করে পারি?কেমন করে?

শুনতে শুনতে আমি কখন কালো মন্থর ও ভারী এক মেঘ হযে যাই-কেউ তা ধরতে পারে না।আমি ধরতেও পারি না।

তারপর মনে হতে থাকে যে,সেই ঘন-মেঘ ঘুমিয়ে যাচ্ছে।ধীর উড়ালে থাকতে থাকতেই ঘুমিযে  যাচ্ছে।

এমন ঘুম- দীর্ঘ  দীর্ঘ ঘুম-কোনো মেঘ কোনো মনুষ্য কোনো শুকনো পাতা –কোনোদিন পায় নি।

[চলবে…]

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close