Home কবিতা আবিদ আজাদ > গুচ্ছকবিতা >> মৃত্যুবার্ষিকী

আবিদ আজাদ > গুচ্ছকবিতা >> মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশঃ March 23, 2018

আবিদ আজাদ > গুচ্ছকবিতা >> মৃত্যুবার্ষিকী
0
0

আবিদ আজাদ > গুচ্ছকবিতা >> মৃত্যুবার্ষিকী

 

[সম্পাদকীয় নোট : গত ২২ মার্চ ছিল সত্তরের অন্যতম প্রধান কবি আবিদ আজাদের (১৯৫২-২০০৫) ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর স্মৃতিকে স্মরণ করে একানে প্রকাশিত হলো আবিদ আজাদের কয়েকটি কবিতা।]

 

কবিতার দিকে

 

– কোন দিকে যাবে, বাঁয়ে?
– না।

– কোন দিকে যাবে, ডানে?
– না।
– কোন দিকে যাবে, উত্তরে-দক্ষিণে পূর্বে না পশ্চিমে?
– আমি কবিতার দিকে যাব, সব পথই গেছে কবিতার দিকে।
চুমু

চুমুর টিলায় দাঁড়িয়েছিলাম
মনে আছে, মনে?
দুলল আকাশ দুলল পাতাল
পায়ের নিচের পৃথিবী মাতাল
মনে আছে, মনে
কেবল আমরা টলিনি দুইজনে।
গোধূলির হত্যাকাণ্ডে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সংলাপ

দে শালাকে গুনে-গুনে লাগিয়ে দে ক’খানা অদ্ভুত-
প্রথমে পাছায় দু’টো জোর পদাঘাত
তারপর শার্টের কলার ধরে দুই গালে বাছাই থাপ্পড়
দে শালাকে লাগিয়ে যে ক’খানা নির্মম অপরূপ

আবোল-তাবোল ঘুষি, কিলচড়, যা খুশি নিখুঁত
বেদম দুর্বোধ্য মার, শালা জাতপাখি
ঘুঘুর বাবার বাবা, যে কোনো মোহন
ফাঁদ দেখলেই ঢুকে যাবে তস্যঘুঘুদের মতো নির্বিকার
অবিরাম বজ্জাত সে, মজ্জায়-মজ্জায় উদাসীন।

দেখিস বাঞ্চোৎ যেন মরণকে রাজকুমারীর
মতো ফুসলিয়ে নিয়ে চম্পট না দেয়
চরম পরম পেলে আরও বেশি একরোখা গোঁয়ারের মতো
যাবে সে মৃত্যুর দিকে যেন মৃত্যু বাল্যসঙ্গী তার-

সেই কবে কোন বাল্যে সুন্দরের পায়ের পাতায়
একটা রক্তের ফোঁটা দেখেছিল রাংচিতাবনে
খুচরো পয়সার মতো সেই রাঙা ঝলমলানি ভাঙিয়ে-ভাঙিয়ে খাবে
আরও যতদিন বাঁচে চোখ বুঁজে বেঁচে চলে যাবে।

দে শালাকে পাই-পাই করে গুণে খরচ করে দে!
আমাদের মতো জীবনের ভিতরে উপুর হয়ে পড়ে-পড়ে
বাস্তবের রংবাজি আর গোয়ামারা খেতে-খেতে
আমাদের মতো শুধু-শুধু বেঁচে থেকে দেখে যাক
গোধূলির রাঙা-মৃত্যু, দেখে যাক উজ্জ্বল যন্ত্রণা…।
মেঘেদের কামসূত্র

মেয়েরাও যৌনকর্ম করে
গোধূলিবেলায় যখন ওদের শরীরে প্রচুর অবসর
যখন নির্মল থাকে মন
তখনই কেবল মিলিত হয় ওরা আকাশ-শৃঙ্গারে

একটি মেঘের কোমর জড়িয়ে ধরে এসে আরেকটি মেঘ
চুমু খায় স্তনান্তের নীলে, আলিঙ্গন ব্যবহার করে- শুদ্ধললাটিকা
তারপর মিশে যায় অনাবৃত সুন্দর আসনে।

মেঘেদের এই চুমুকরোজ্জ্বল অলস পদ্ধতি
মানুষের জন্যে হতে পারে সর্বোত্তম কামকলা
লিপ্ত থাকা দুটি মেঘ মনে হলো যেরকম গভীর অযৌন।

 

শৈশবস্মৃতি

শুকনো জলপটির মতো পাতা ঝরে-ঝরে ভিজে আছে :
চোখের ওপরে নামে আঙুলের শীতল ঝালর-
কুয়াশার ভিতরে হলুদ রোগ, কুৎসিত গাছ
একটি কাকের সাথে কথা বলা- কাক কি দোভাষী?

জ্বরতপ্ত সারা বাড়ি, মনমরা ঘুমের জঙ্গল-
উঠানে কি বৃষ্টি এল? সাইকেলের চেইন ঘোরে, শুনি-

আঙুলের ঝালর গিয়েছে সরে। দুপুর কি পড়ে
এল ডালিমের ডালে? ফুলের চমক ভাসে লাল-

পাখিটি সূর্য়াস্তটাকে ঠুকরে রক্তাক্ত করে দিয়ে
পাশে বসে আছে। অবসাদ থেকে নিংড়ে আমাকে কি
নিয়ে যাবে মাঠে? দুর্বল উঠানে নেমে দাঁড়ালেই
মনে হতো আকাশ দোদুল্যমান- পিঁপড়ের পাহাড় :

জ্বরের ঘোরের মাঝে টের পাই হারিকেন জ্বলে,
পায়ের গোড়ালি চেপে ধরে রাখে রুগ্নতার হাত-
তৃণাতুর দৃষ্টি মেলে কাকে দেখি স্থির, অপলক?
জলপটি ছুঁড়ে দিলে আমার কাকটি উড়ে যেত ডানার অদ্ভুত দূরাভাসে।
গতানুগতিক

যে বাড়িটার খোঁপার নীচে ছুরিকাঘাতে
একটি মেয়ে খুন হলো কাল মধ্যরাতে
সেই বাড়িটার চোখেমুখে হাত বা কাঁধের
কোথাও কোনো চিহ্নও নেই আর্তনাদের।
সেই বাড়িটার গলায় ভোর, বুকের কাছে
তাকিয়ে দেখি পাতাবাহার তেমনি আছে
নির্জন তার কোমরে সেই আগের মতোই
ছায়াছন্ন লেপ্টে আছে পাতার অথৈ-
ভিতরে কে টেলিফোনে বলছে কী-কী
বন্ধ গ্যারেজ, বৃষ্টিতে খুব ভিজছে দেখি
সারা দুপুর অলিভ রঙের একটি গাড়ি।
মাঠের পাড়ের আটপৌরে সেই বিজন বাড়ি
গ্রীবায় তার একটি নখের আঁচড়ও নেই।
আজকে দেখে মনেই হয় না গতরাতেই
একটি মেয়ে খুন হয়েছে এই বাড়িতেই।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close