Home গদ্যসমগ্র প্রবন্ধ আর্নেস্ট রাইস > রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর >> ভূমিকা ও ভাষান্তর : হায়াৎ মামুদ >>> শ্রদ্ধাঞ্জলি

আর্নেস্ট রাইস > রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর >> ভূমিকা ও ভাষান্তর : হায়াৎ মামুদ >>> শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশঃ August 6, 2018

আর্নেস্ট রাইস > রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  >>  ভূমিকা ও ভাষান্তর : হায়াৎ মামুদ >>> শ্রদ্ধাঞ্জলি
0
0

আর্নেস্ট রাইস > রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  >>  ভূমিকা ও ভাষান্তর : হায়াৎ মামুদ >>> শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

 

ভূমিকা

 

আর্নেস্ট রাইস (Ernest Rhys) ছিলেন রবীন্দ্রনাথের প্রথম বিদেশি জীবনীকার। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯১২ সালে কবি ডব্লিউ বি ইয়েটসের বাড়িতে গীতাঞ্জলির পাণ্ডুলিপি পাঠের অনুষ্ঠানে। পরে আর্নেস্ট ও গ্রেস- স্বামী-স্ত্রী, পারিবারিক বন্ধু হয়ে যান রবীন্দ্র-পরিবারের; সেই ছবি ধরা আছে রবীন্দ্রনাথের পিতৃস্মৃতি গ্রন্থে। এখানে বলা দরকার যে, কবি ও মানুষ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বিলেতের সাহিত্যিক-শিল্পীদের যে বন্ধুত্বের সূত্রপাত হয়েছিল ইংরেজি গীতাঞ্জলিকে উপলক্ষ করে, তাতে ক্রমশ চিড় ধরে, আমরা জানি; কিন্তু সাহেবের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট ছিল। যে নিবন্ধের অক্ষম তর্জমা এই লেখাটি, সেই মূল `Rabindranath Tagore রচনাটি প্রকাশের অনুপুঙ্খ তথ্য আমার জানা নেই; তবে ইংরেজি গীতাঞ্জলি প্রকাশের পর যে এই লেখা বেরিয়েছিল সেটা বোঝা যাচ্ছে। এমনও হতে পারে যে, নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পরে লেখা হয়েছিল। ইংরেজ পাঠকসমাজে রবীন্দ্রনাথকে বোঝানোর দায় থেকে লেখাটি তৈরি করেছিলেন রাইস। এই লেখাটির গুরুত্ব এখানেই।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর > আর্নেস্ট রাইস >> ভাষান্তর : হায়াৎ মামুদ

 

নিজস্ব ভুবন নির্মাণ, তার সঙ্গে মানানসই যাবতীয় কিছু দিয়ে তা ভরিয়ে তোলা এবং তাঁর আত্মার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ এক সমৃদ্ধ ভাষা-সৃজন- এই হলো একজন কবির পরীক্ষা। গীতাঞ্জলি এদিক-সেদিক করে ভারতীয় সুরকে পরিবেশন করতে গিয়ে এক টোকাতেই যেন বাণী অর্চনার সুপ্রাচীন সিদ্ধি লাভ করে বসল। যেসব গান এতে রয়েছে তাতে ইংরেজ শ্রোতামাত্রেই এর গীতরসের বৈভব এবং দ্বিতীয় ও দুরূহতর এক মাধ্যমের উপর সে সুরের অধিকার দেখে স্তম্ভিত হবেন। একসময় এখানে ছাত্র হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিছুকাল কাটিয়েছিলেন যে-সময়টুকু কোনো লেখকের জন্য সর্বাধিক তাৎপর্যময় বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। সেই সময়েই তিনি আমাদের পাশ্চাত্য ভাষার যা-কিছু শেখা দরকার তা শিখেছিলেন এবং এর চলনও। এখন কেউ যদি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর রচনার মূল বাংলার সঙ্গে তাঁর ইংরেজির তুলনা কতটুকু চলে, তাহলে কোনো ভারতীয় বলতে পারেন যে, ছন্দের চলনের গরমিলে সুরের ক্ষেত্রে যদি ন্যূনতা আসে, কিংবা ভারতীয় সংগীতের তাল-লয়ের বায়ুস্পন্দিত গতিতে যদি মন্থরতা ও গাম্ভীর্য দেখা দেয়, তবু তাদের অন্তর্গত বাণীসত্য অসাধারণভাবে টিকে থাকে। সংগীতের বিশেষ ভাবগাম্ভীর্য হলো, আমরা বলতে পারি একদিকে বাতাস আরেক দিকে জল; কিন্তু কোনো সন্দেহ নেই যে মিস্টার টেগোর ইংরেজির ভেতর থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যমটিই বেছে নেন স্বাধীন ছন্দহীন তাল-লয়ের জন্য আর তাকেই এমন শক্তি ও লাবণ্য এবং সুরবৈচিত্র্যে ব্যবহার করেছেন। গীতাঞ্জলির ষড়বিংশতিতম গানের (বাংলা গীতাঞ্জলিতে 61 সংখ্যক) কথা ভাবুন একবার :

He came and sat by my side, but I woke not. What accursed sleep it was, O miserable me!
He came when the night was still; he had his harp in his hands, and my dreams became resonant with its melodies.
Alas, why are my nights all thus lost? Ah, why do I ever miss his sight whose breath touches my sleep?

কবির কণ্ঠে তাঁর গান মূল বাণীতে ও মূল সুরে শোনবার সৌভাগ্য যাঁদের হয়েছে, তাঁরা সহজেই ইংরেজিতেও সেই বাধাবন্ধহীন সঙ্গীত উপলব্ধি করে থাকেন। কিন্তু তারও তেমন প্রয়োজন নেই। বর্তমান আকৃতিতেও এ গান স্বমহিম, এবং এর সহগামী আমি অন্য সব রচনাও। এগুলো তো ভাষান্তর নয় রূপান্তর।

 

 

Geetanjali, অন্য কথায় যা Song Offerings, হলো চরিত্রমূলে এক পূর্বদেশীয় মরমীর ও এক ঈশ্বরপ্রেমে উন্মত্ত কবির সংগীতগ্রন্থ। প্রায় প্রতিটি পৃষ্ঠায় দিব্যোন্মাদের উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে আছে যা দিব্যজ্ঞানের মুহূর্তের জন্য সর্বদা অপেক্ষা করে থাকে। ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ সংখ্যক (বাংলায় এগুলো যথাক্রমে নৈবেদ্য’র ৮১, গীতমাল্যর ২৯, নৈবেদ্যর ২৬ ও গীতাঞ্জলির ৩৬ সংখ্যক রচনা।) গানে আমরা পাই দিন ও রাত, মাটি ও আকাশের প্রতীক; সব কটিতে আস্বাদিত উল্লাস ও অনাস্বাদিত আসন্ন অপরূপের দ্বৈত অনুভবের শিহরণ লিপ্ত হয় আছে। ৬৯ সংখ্যক রচনাটি শুনুন, এ তো দিব্যোন্মাদের বিজয়ী প্রেমের গান :

The same stream of life that runs through my veins, night and day runs through the world and dances it rhythmic measures. It is the same life that shoots in joy through the dust of the earth in numberless blades of grass and breaks into tumultuous webs of leaves and flowers.
It is the same life that is rocked in the ocean-cradle of birth and death, in ebb and in flow.
I fell my limbs are made glorious by the touch of this world of life. And my pride is from the life-throb of ages dancing in my blood this moment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close