Home পঠন-পাঠন আলতাফ হোসেন / আমার বইমেলা

আলতাফ হোসেন / আমার বইমেলা

প্রকাশঃ February 13, 2017

আলতাফ হোসেন / আমার বইমেলা
0
0

আলতাফ হোসেন / আমার বইমেলা

“আহা, কত বইমেলা এল, কত কত গেল। মনে পড়ে যায় খুব। সেই যে গেলাম একবার ঢাকা বইমেলায়। সঙ্গে শহীদুল জহির। কত কত কথা। আমার প্রতিবেশী ছিলেন তিনি বেইলি রোডের সরকারি ফ্ল্যাটগুলোতে। সেখানেও আড্ডা হত। তখনও তাঁর লেখা সম্পর্কে জানতাম না। একদিন একটি বই দিলেন হাতে : ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’। যেমন আটপৌরে নাম, তেমনই মলিন ও দুস্থ চেহারা বইটির। দিলেন শহীদুল, আর আমিও অবহেলায় সে বইটি রেখে দিলাম টেবিলের এক কোণে। পরে, যখন শহীদুল জহিরকে চিনেছি, জেনেছি, পড়েছি তাঁর বই একে একে মুগ্ধ, সম্মোহিত হয়ে, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।”

11124712_10153759537897506_6666972105873466487_n

বই নিয়ে খুব মুশকিল আমার। বেশ অনেক বই সামনে রাখা, বেশ কিছু বই বুককেসগুলোতে, র‌্যাকে। কোনটা পড়ব, কোন-কোনটা এখন, কোন-কোনটা পরে? পড়া, আগের পড়া বইগুলোর দিকে চোখ পড়লেও উল্টেপাল্টে দেখব বলে হাত বাড়াই। সবটা পড়া হয়েছিল কি? ভুলে যাচ্ছি কেন? এদিকে বইমেলা আসছে, থাকছে, যাচ্ছে। কিছু বই না কিনলেই নয়। ঢাকা বইমেলা থেকে, কলকাতা বইমেলা থেকেও। মন পড়ে থাকছে ওইদিকে। ঢাকা বইমেলার তবু সময় আছে। কলকাতার নেই। তবে বাইরে থেকে, কিছু বইয়ের দোকান থেকে কিছু বই তো পাব।

বইমেলা নিয়ে কথা ওঠালে আমার তো মনে পড়বেই কবি শামসুর রাহমানের কথা। তাঁর লেখাতেই কবি হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি পাওয়া হয় আমার। আমি তো দূরে দূরে আড়ালেই থাকতাম সবসময়। ‘বিচিত্রা’ নামের এক সাপ্তাহিকের ‘বাংলাদেশের কবি ও কবিতা’ সংখ্যায়  বেরিয়েছিল কবিদের ছবি। সেই ছবি থেকেই তিনি আমাকে চিনেছিলেন চাটগাঁর এক বইমেলায়। লিখেছিলেন তাঁর জার্নালে : ‘গ্রন্থমেলায় এক বিকেলে কিছুক্ষণের জন্য দেখলাম তরুণ কবি আলতাফ হোসেনকে। কথাবার্তাও হলো। কিন্তু তারপর কোথায় মিলিয়ে গেলেন, আর খোঁজ পেলাম না। মেলায় হয়তো এমনই হয়।’ ১৯৭২ সালে আমার প্রথম কবিতার বই ‘সজল ভৈরবী’ প্রকাশিত হয়। শামসুর রাহমানের দৈনিক বাংলা অফিসের  টেবিলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল সে বই। তিনি পড়েছিলেন এবং অপরিচিত আলতাফ হোসেনকে নিয়ে লিখেছিলেন : ‘আলতাফ হোসেনের ‘সজল ভৈরবী’ আবার পড়লাম। আবার ভালো লাগল নতুন করে।‘ তাঁর ‘একান্ত ভাবনা’ বইতে তিনি প্রায় ১৯টি পঙ্‌ক্তিতে আলতাফ-প্রসঙ্গ টেনে আমাকে আকাশে উঠিয়ে দিয়েছিলেন।

আহা, কত বইমেলা এল, কত কত গেল। মনে পড়ে যায় খুব। সেই যে গেলাম একবার ঢাকা বইমেলায়। সঙ্গে শহীদুল জহির। কত কত কথা। আমার প্রতিবেশী ছিলেন তিনি বেইলি রোডের সরকারি ফ্ল্যাটগুলোতে। সেখানেও আড্ডা হত। তখনও তাঁর লেখা সম্পর্কে জানতাম না। একদিন একটি বই দিলেন হাতে : ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’। যেমন আটপৌরে নাম, তেমনই মলিন ও দুস্থ চেহারা বইটির। দিলেন শহীদুল, আর আমিও অবহেলায় সে বইটি রেখে দিলাম টেবিলের এক কোণে। পরে, যখন শহীদুল জহিরকে চিনেছি, জেনেছি, পড়েছি তাঁর বই একে একে মুগ্ধ, সম্মোহিত হয়ে, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

‘কাল ভোরে যাচ্ছি ঢাকার বাইরে, আজ লেখার সময় পাওয়া কঠিন’ বলায়  মাসুদুজ্জামান উদার হয়ে জানিয়েছিলেন সাড়ে তিনশো শব্দের শব্দের মধ্যে লেখা হলেই চলবে। সে কারণেই ঝটপট সামান্য কিছু লেখা গেল। সান্ত্বনা এখানে এই যে, এ সুযোগে  শহীদুল জহিরকে নিয়েও সামান্য স্মৃতিচর্যা সম্ভব হল। পরে লেখার অনেক সময় পাব।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close