Home সাক্ষাৎকার “আসক্তিহীন জীবন উচিৎ না, আসক্তি থাকা দরকার…” > ‘চিহ্ন’ পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হাসান আজিজুল হক [সর্বশেষ পর্ব]

“আসক্তিহীন জীবন উচিৎ না, আসক্তি থাকা দরকার…” > ‘চিহ্ন’ পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হাসান আজিজুল হক [সর্বশেষ পর্ব]

প্রকাশঃ April 26, 2017

“আসক্তিহীন জীবন উচিৎ না, আসক্তি থাকা দরকার…” > ‘চিহ্ন’ পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হাসান আজিজুল হক [সর্বশেষ পর্ব]
0
0

শেষ পর্ব

“আমি লেখক হচ্ছি কি সেটাতো বড় কথা নয়, আমি খাঁটি কিনা- সেইটাই হলো আসল কথা। নিজের খাঁটিত্বটা বজায় রাখতে চাইছি। কোনো কিছু গোপন না করে নিজের খাঁটিত্বটা বজায় রাখতে চাইছি, যতদূর পারা যায়। যদি কোনো জায়গায়, সাধারণ জায়গা থেকে যে পদস্খলন, যে-সমস্ত মানুষের, পরিচিত, কথা হয় অনেকে্েগ- সেও আমার মনে হয় যে আমি কখনো সেটা গোপন করবো না আরকি! নাথিং টু হাইড…নাথিং টু হাইড…। আর অপরের কথা ভালো লাগুক আর মন্দ লাগুক আমি ভেসে যাচ্ছি না কোনোরকমে।”

চিহ্ন : এইটা স্যার আমার আর একটা জিনিস যেটা মনে হচ্ছে যে, আপনিতো আগে বলেছেন আমাকে- সেটা হল, শকুন কিভাবে লেখা হলো আমি জানি না। লেখা হয়ে গেছে, শকুন লেখার জন্য কোনো প্রস্তুতি ছিলো না, কিংবা শকুন লেখার জন্য আমি দশটা গল্প পড়ে শকুন লিখতে বসেছি তা নয়, তাহলে ব্যাপার দাঁড়াচ্ছে যে, শকুন থেকে শুরু করে চলছে যেটা, সত্তর-আশি-নব্বই এই দীর্ঘ সময় ধরে এবং এখনো যা চলছে সেখানে আমরা কিন্তু দেখছি যে কোনো জায়গায় কিন্তু আপনার মানে হাসান আজিজুল হক যে ‘সিরিয়াস’ গদ্যকার, আমরা যারা, মানে একাডেমিক মানুষরা বলি, আপনি হয়তো স্যার একটু তাচ্ছিল্য মনে করবেন যে গদ্যের আবার ‘সিরিয়াস’ আর ‘নন-সিরিয়াস’ কি আছে? আমি যেটা লিখি সেটাইতো লেখা। এটাতে আবার একধরনের ‘বিশেষণ’ যুক্ত করা কিংবা এটার অর্থ কি? এটা সে-টা। এটা হতেই পারে কিন্তু এই যে ‘সিরিয়াস’ গদ্যকার কিংবা হাসান আজিজুল হকের গল্প নিয়ে কাজ করা যায়; ভেরিয়েশন উদ্ধার করা বা সমাজটাকে দেখা দরকার, সমাজের মধ্যে বিভিন্ন প্রান্তগুলো চেনা দরকার। সমাজের ভেতরে দ্বন্দ্বটাকে, দ্বন্দ্বের যে উত্তাপ সেটাকে অনুভব করা দরকার সেটা পড়ে কিংবা উপলব্ধি করে সেই জায়গায় পাঠকের যাওয়ার ব্যাপার, এই জিনিসগুলো আমরা যখন ভাবছি, দেখছি কিংবা হাসান আজিজুল হকের গল্পের ‘ইমপোর্টেন্সি’- যেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত একজন গল্পকার; যেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সৈয়দ শামসুল হকও একজন গল্পকার। যেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে শাহেদ আলী ওই সিক্সটিজ-এর দিকে, তারপরে আরও অন্যান্য বিভিন্ন সময়ে যারা লিখেছেন, সত্তর এ লিখছেন- সেখানে কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, গল্প পড়ে জ্ঞানচর্চা করার জন্য হাসান আজিজুল হককে দরকার, গল্প পড়ে পাঠোদ্ধার করাটা দরকার সেটা মানুষ হওয়ার জন্য, জীবনকে বোঝার জন্য। এই জিনিসগুলো যখন ঘটছে, এই জিনিসগুলা যখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার স্তরে কাজ করছে, হচ্ছে, সেখানে আমার মনে হয় যে আপনার ভাষাটাই প্রধানত দায়ী। আপনার ভাষাটাই এসব কিছুর চিন্তা করাচ্ছে এবং ভাষাটাই প্রধান। এবং এটা শুধু গল্পের ভাষাতেই নয়, যখন অপ্রকাশের ভার পড়ছি সেখানে গদ্যটা কিংবা প্রবন্ধের যে চেইনটা সেটা কিন্তু একধরনের যুক্তির সুতোয় বাঁধা। একটার যুক্তিতে আরেকটা চলছে। তো সেখানে কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি যে, চিন্তার স্বচ্ছতার বিষয়টা আছে এবং যেটা আপনি বলতে চাচ্ছেন- সেটা একধরনের যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। গদ্যকার হাসান আজিজুল হক- এটা আমার কাছে মনে হয় যে, ‘ডিউ টু ইন ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ’…

হা. আ. হ. : তা তো বটেই…

চিহ্ন : যেটা দাঁড়াচ্ছে গল্পকারের একটা ‘আ্যারেঞ্জমেন্ট’ থাকতে হবে এবং সেটা ভাষারই কারুকাজ…

হা. আ. হ. : তুমি ঠিক-ই বলেছো। ঐ যে তোমরা যেটা বলো, ‘টেক্সট ইজ দিয়ার’, আর তো কিছু থাকবেনা তাইনা? টেক্সটাই থাকবে। এবং তা যতরকম করে পড়বে তত রকমের টেক্সট এটা, এটা যে একটা সাংঘাতিক কথা, পাঠককে তৈরি করে নেবে। আমি তো চলে যাবো, মুক্ত হাসান আজিজুল হক তো এখানে থাকবে না। থাকবে তো তার টেক্সট। কাজে নিজেই আমাকে ঠিক করে নিতে হবে আমার পথ কি? পন্থা কি? নান ক্যান হেল্প মি রিয়েলি, কেউ আমাকে হেল্প করতে পারবে না, পারলোনা তো। কেউ পারলো না যে আপনি এভাবে, হল না আর কি- সুতরাং আমি কাউকে কোনোরকম পরামর্শ দেই না যে- এইভাবে লেখেন। আমি বলি যে ধরে রাখুন আপনি একটা জঙ্গলাকীর্ণ একটা জায়গার মধ্যে ঢুকছেন আর কি, রাস্তা নাই, আপনাকে একটু জঙ্গলটা পার হতে হবে। দেখেন কীভাবে পার হতে পারেন। পাতা কেটে, ডাল কেটে, ঘাস কেটে-

চিহ্ন : কিন্তু স্যার ঐ যে এখন মানিক পড়তে গেলে কিন্তু এ রকম মনে হচ্ছে, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পড়তে গেলে স্যার এরকম লাগছে না কিন্তু। ঠিক আমি যখন আবুজাফর শামসুদ্দীন পড়ছি আর ভালো লাগছে না। পদ্মা মেঘনা যমুনা, ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান কই… বেশি দূর…

হা. আ. হ. : বেশিক্ষণ পড়ে আর ভালো লাগছে না…।

চিহ্ন : আর ভালো লাগছে না। স্যার এখন পড়ার জন্য, পড়ানোর জন্য সেটা অন্য কথা। তৃষ্ণা নিবারণের কথা হচ্ছে। তারপরে আমি যদি একটু এগিয়ে আশির দশকে এটা-সেটা, নাসরীন জাহান তারপরে শাহীন আক্তার কিংবা আকিমুন রহমান কিছু করছে- দেখা যাচ্ছে যে হ্যাঁ কিছু তো একটা-দুইটা-তিনটা গেলো তারপরে নেই আর ফুরিয়ে যাচ্ছে…

হা. আ. হ. : আর তো নাম-ই শোনা যাচ্ছে না।

চিহ্ন : তাহলে এই যে ব্যাপারটা, আবার তাহলে ফিরি, পিছনেই ফিরতে হবে আবার মানিকের যে উপন্যাসগুলোকে গুরুত্ব আমরা স্যার কম দেই, যেমন চিহ্ন, হলুদ নদী সবুজ বন- তার সাঁইত্রিশটা উপন্যাস মানে কি, সাঁইত্রিশটার মধ্যে আমরা সাধারণত তিনটা নাড়াচাড়া করি।

হা. আ. হ. : হ্যাঁ।

চিহ্ন : আর বাকিগুলোর কোনো খবর নাই। তা আমরা হয়তো বাংলার মাস্টার বলে পড়তে হয় প্রয়োজনে কিছু, কিন্তু সেটাতেও- একটা ছেড়ে ওঠা যায় না, পড়তে শুরু করলে…। শহরতলী ভালোই লাগে পড়তে। তাহলে স্যার এখানে আমার যেটা মনে হচ্ছে যে, ভাষা বলি, অভিজ্ঞতা বলি, বড় হওয়া বলি, যৌবন বলি, তারুণ্য বলি, জীবনবাদী বলি, জঙ্গমতা বলি; এগুলো তো একেকটা করে আমরা খুঁজে বের করি, একেকটা ‘প্রটোটাইপ’তুল্য কিন্তু আসলে কি আমাদের যে কথাশিল্পী যেটা আমরা বলছি মানে শিল্পীর যেটা কাজ কুঁদেকুঁদে কিছু বানানো- একটা অবয়ব দেয়া, তার কি একেবারে শূন্যতা চলছে? শূন্যতাই যদি চলে তাহলে তো…

হা. আ. হ. : কথা ঠিকই বলেছো (আস্তে)। খুব শূন্য সময় একদম, খুব শূন্য সময় (আস্তে)। মানে এরকম ঐশ্বর্যহীন, মানসিক ঐশ্বর্যহীন, প্রতিভা ঐশ্বর্যহীন, এসব কিছু আর খুব-ই আকাল, এবং এটা ঠিকই। আর মানুষের মধ্যে নানান জিনিস ঢুকেছে তো এখন; স্বল্পে তুষ্টি, অন্যান্য জিনিসের প্রতি মনোযোগ বেশি, আর বিশেষ করে কি…

চিহ্ন : কিন্তু স্যার একটা যেটা বিষয় সেটা হল যে, এস. এম. সুলতানের তো কোনো আকাঙক্ষা ছিলো না।

হা. আ. হ. : না, আকাঙ্ক্ষা ছিলো না।

চিহ্ন : তো যদি আমি এস. এম. সুলতান হতে চাই, আমার আকাঙ্ক্ষা থাকবে কেনো?

হা. আ. হ. : তা তো বটেই। আকাঙ্ক্ষা ছিলো না। এস. এম. সুলতান অসম্ভব অন্যরকম মানুষ। ওঁর মতো মানুষ আমি আর দেখিনি। ওরকম নিরাসক্ত মানুষ আমি দেখিনি। কোথা থেকে জন্মেছে বাংলাদেশে! বাংলাদেশে এরকম মানুষ হতে পারে, অদ্ভুত!

চিহ্ন : তা আমাদের এই জিনিসটা আমরা কেনো…, আমাদেরতো এখন তো কোনো ম্যাটারের অভাব নেই।

হা. আ. হ. : নাহ্, কোনো অভাব নাই।

চিহ্ন : ম্যাটারের অভাব নাই। এস. এম. সুলতানের ঢাকা শহরে প্রায়শই প্রদর্শনী হচ্ছে। অথচ এস. এম. সুলতান যখন ছবি আঁকতেন তখন ওই প্রদর্শনী তো ছিলো না।

হা. আ. হ. : (সম্মতি জানিয়ে) না… কোথায়?

চিহ্ন : কোথায়? এখনতো আমাদের প্রচুর ম্যাটার। একটা মানুষের বড় হওয়ার দৃষ্টান্ত আমরা দেখছি। তার যে নিরাসক্তি প্রবণতা আমরা জানছি। কিন্তু আমরা তো সেটা কাজে লাগাতে পারছি না। কিংবা আমাদের মধ্যে তো সেই প্রবণতাটা নাই।

হা. আ. হ. : কারণ খোঁজ তোমরা, দেখো, প্রযুক্তি দেখো, এখনকার ইনটারেস্টগুলো শিফট করে কিসে কিসে- সেটা দেখো। আদার মিডিয়াগুলি দেখো। তার ফলে কী একদম মানুষ শেষ পর্যন্ত কিসে পরিণত হবে? যেমন কে বলে, অনেকেই তো বলে, তোমার এই যে আলবেয়ার কামু বলতেন, ভবিষ্যতে মানুষ কি? কিছুই না, থাকবে আর বংশবৃদ্ধি করবে, খবরের কাগজ পড়বে আর বংশবৃদ্ধি করবে। মানুষের আর কোনো ভবিষ্যৎ দেখি না। এটা র‌্যাবেলের মধ্যে দিয়ে, কামুর মধ্যে দিয়ে… তো তাকাই না, আমি তো কাফকার দিকেও তাকাই না। তাকিয়ে তো দেখতে হবে যে, জীবনের কতো বিষ আছে? জীবনের কতো…আছে, কতো বিষ আছে, কতো অভিজ্ঞতা আছে, একটা মানুষ একদিন সকালবেলা উঠে দেখলো যে সে নিজে একটা পোকাতে পরিণত হয়েছে, একটা গুবড়ে পোকাতে পরিণত হয়েছে। কিভাবে সে ইন্ডিকেট করছে? কিভাবে ইন্ডিকেট করছে তাকে? মানুষ নিজের অস্তিত্বের জালে নিজে এমন করে জড়িয়ে পড়ছে আর সেখান থেকে বের হতে পারছে না, বের হতে পারা যাবে না, তাই না? অথচ আমরা দেখছি খানিকটা এটাও ঠিক আমরা কিন্তু আস্তে আস্তে এক অর্থে মিনিংলেসটা যদি কেউ কনফেস হয়ে যায় তাহলে সে কিন্তু একটা সম্পূর্ণরকম নিরাসক্ত, পৃথিবীতে নিরাসক্ত, জীবনে নিরাসক্ত, কোনো কিছুতেই তার আসক্তি থাকবে না আরকি। আমার মনে হয় যে, আসক্তিহীন জীবন উচিৎ না, আসক্তি থাকা দরকার। এখন আমি খুব পড়ছি, এই লোকটাকে পড়ছি, হেমিংওয়েকে পড়ছি, হেমিংওয়ে দি ম্যান দি রাইটার দি লিজেন্ড (বইটি দেখিয়ে) এখানে এঁরা হেমিংওয়েকে ছেড়ে কথা বলেন নি, ছেড়ে কথা বলেন নি (পুনরায়)। দুর্বলতা কোন জায়গায়, কিসের দুর্বলতা, কোথায় রিপেটেটিভ, সেই সঙ্গে সঙ্গে কি প্রচণ্ড শক্তি তাঁর লেখার। এতো সিম্পল লেখা, বহু লোক প্রভাবিত হয়েছে যে বাপরে বাপ এইরকম করে লিখবো, কিন্তু ঐ সারল্য আর কেউ পারলো না। এগুলো সব গ্রেট রাইটারের লক্ষণ। এজন্য হেমিংওয়ে থেকে যাবে চিরকাল কিন্তু আমাদের এখানেও সেরকম, আমি সেদিন রবীন্দ্রনাথ পড়ছিলাম, কিসের আধুনিক! রবীন্দ্রনাথ কি কম আধুনিক নাকি? কোথায়, এই সঞ্চয়িতার শেষের কবিতাগুলো পড়ে দেখো তুমি, তাহলে তুমি বুঝতে পারবে। কত টেক্সট, কোথায় গেছেন… তিনি! এখনকার রবীন্দ্রনাথ। কাজে ওটা কিন্তু কাল-উপযোগী কথাটা আমি একটু অস্বীকার করি। মানুষ কালে কালে বদলায়, ভালো কথা- কিন্তু কিছু থেকে যায়। সৃজনে তারপরে কল্পনায়- এই জিনিসগুলো বুঝলে, এই জিনিসগুলোর হার-বৃদ্ধি হতে পারে। এখানে মানুষের- মানুষের যে-যার কোনো সম্পর্ক নাই। তার মানে তুমি বলতে পারো যে, পিরামিডের পাথরগুলো কোনোরকম জয়েনিং কোনোকিছু না-দিয়েও এরকম করে তৈরি, কি করে পিরামিড তৈরি করা হলো? পিরামিড তৈরি করাটা রহস্য। কোনো সিমেন্ট নাই, কিছু নাই, কোনোকিছু দেয়া নাই। অথচ একচুল ফাঁক নাই। প্রত্যেক-ই প্রত্যেকের ভারসাম্য রক্ষা করেছে। ভারসাম্যের উপরে পিরামিড কিন্তু। কি করে এই জিনিসটা তাদের মাথায় ছিলো…! কাজেই এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে নতুন নতুন সৃষ্টি করার ক্ষমতা আমাদের জন্মাচ্ছে, এটা মনে করার কোনো কারণ নাই, মনে করতে হবে যে এটা আছে- সেটার ব্যবহার- এখন সেইটার ব্যবহারও কমতে কমতে প্রায় জিরো। মস্তিষ্কের ব্যবহারই করলো না। আমার ওই যে ছেলেগুলা, কত হল রে? দশ টাকা, পনেরো টাকা, বিশ টাকা, একশ টাকা, পাঁচশ টাকা; বলার সঙ্গে সঙ্গে ওইটা (ক্যালকুলেটর) ধরছে, বলে দিলো আর কী, নির্ভুল বলে দিলো আর কী! কি দরকার আমার? আমাদের যে অঙ্ক শেখানো হতো, বলোতো কিরকম করে? একটা গুণ শেখাতে গেলে চারটা অঙ্ক এদিকে- তলায় হয়তো তিনটা দিয়ে গুণ! এইরকম করে যাবে- এইরকম করে, একটা উঠে যাবে একটা বাদ পড়বে, কি সাংঘাতিক জিনিসটা ছিলো! এখন কোনোটার দরকার নাই। শুধু নখ টিপলেই হবে। এখন এগুলো কি জানি আমার মনে হয়…

চিহ্ন : এখান থেকে আর একটা কথা স্যার মনে পড়ছে সেটা হলো, ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র ভর্তি হচ্ছে। নিজের নাম লিখতেও ভুল করছে। বাপের নাম লিখতে ভুল করছে। তার কারণ এদের গড়ে ওঠাটা ‘মাল্টিপল চয়েজ’র মধ্য দিয়ে। লিখতে পারে না, আম-জাম-কলা কোনটা ঠিক? ক-খ-গ-ঘ কোনটা ঠিক? টিক দিয়ে দাও বা গোল চিহ্ন দিয়ে। বানান দরকার নেই, ক্রিয়েটিভিটি দরকার নেই, বিস্ময়কর ব্যাপার একটা ওএমআর শিটে নিচে বলা আছে, তুমি যে কোনো একটি বাক্য লেখো। লিখতে পারছে না।

হা. আ. হ. : তবে হবে কী? লেখক হয়ে, কবি হয়ে, সাহিত্যিক হয়ে, পেইন্টার হয়ে কি করবে?

চিহ্ন : একটা বড় অংশের কথা আমরা বলছি, এটা হয়তো সরলীকরণ হয়ে যাবে- কিছুতো ব্যতিক্রম হয়- সেটা অন্য কথা, কিন্তু আমাদের মেক্সিমাম এটা চোখে পড়ছে। একটা ভর্তি পরীক্ষায় আমরা যখন দেখতে পাচ্ছি যে, দেড়লাখ ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে, সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রায় অনেকেরই এই দশা। তাহলে এটা অসম্ভব রকমের একটা দুশ্চিন্তার কারণ হলো না? স্যার, আমি আজকে যেটার জন্য মূলত সেটা হল আপনার ভাষাটা। মানে যেটা আমি উপলব্ধি করেছি…

হা. আ. হ. : তোমার সাথে কিছু কথা হলো। আর কিছু কথা হচ্ছে যে, আমি যেটা নিয়ে খুব ভাবি, এইজন্য আমি আসলে অনেক লেখা লিখেছি। তাতে তোমার সাথে যেগুলো শেয়ার করলাম তার কিছু কিছু লেখা হয়েছে, দেখে নিও। এবং সে বইটাও তুমি দেখে নিও, যে বইটা রবীন্দ্রনাথ ও বাংলা ভাষা প্রসঙ্গে…

চিহ্ন : আপনি আমাকে দিয়েছিলেন।

হা. আ. হ. : কাজেই ভাষা নিয়ে আমি খুব চিন্তা করি। এবং আমি মনে করি, এগুলো দার্শনিকেরা নানান রকম কথা বলছে বটে, আমিও মনে করি ভাষা কিন্তু অস্তিত্ব। ল্যাঙ্গুয়েজ ইজ এক্সজিসটেন্স, নো ল্যাঙ্গুয়েজ- ইউ নো লঙ্গার এক্সিস্ট। তাই না? পৃথিবীতে কোনো জিনিস নাই যেটাতে ভাষা নাই। যদি তুমি নামকরণ করতে না পারো, সাহিত্যেও তো নামকরণ করতে হবে। সমুদ্র, সমুদ্র… বললে কি সেটা তো বুঝতে হবে, তোমাকে একটা ইয়ে করে বুঝতে হবে। বোবা কি তোমাকে বোঝাতে পারবে সমুদ্র? মুখে বলে, একদম বোবা যে, বোবা-কালা একি সঙ্গে যে, পারবেনা তো। তো সেখানে তার ভাষাটা দরকার, যেভাবেই হোক। বোবাকেও ভাষা শেখানো যায়, আজ-কালতো পারা যায়, তাই না? আর আমরা অন্ধকেও লেখা শেখাচ্ছি। সেসব বেরিয়েছে মোটামুটিভাবে আরকি। এ থেকে বোঝা যায় যে, ভাষা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নাই। ভাষাই মানব অস্তিত্ব। একথা তো আমি স্লোগানের মতো প্রচার করি প্রায়, বলি আরকি মানুষকে।

চিহ্ন : ভাষাতো আর আপনি স্যার হিসেব করে প্রয়োগ করেন নি। কিন্তু…

হা. আ. হ. : এসে যায়।

চিহ্ন : এসে যায় এবং ভাষাটাই পাঠককে ধরে রাখে। ভাষাটাই গল্প বানায়, ভাষাটাই পাঠক সৃষ্টি করে, ভাষাটাই পুনঃপাঠ সৃষ্টি করে, ভাষাটাই লেখকে বাঁচিয়ে রাখে। এখানে ভাষা নিয়ে স্যার অনেক থিওরি যেমন ‘সাংগঠনিক ভাষাতত্ত্ব’ কিংবা সাংগঠনিক যে থিওরি কিংবা আমরা রোলা বার্থ এর কথা বলছি কিংবা আই.এ. রিচার্ডস-এর কথা বলছি, বিভিন্ন ‘ক্রিটিসিজম’-এর কথা বলছি, সাহিত্যে যা কিছু আসছে সবকিছু কিন্তু ভাষাভিত্তিক। এবং ভাষাভিত্তিক যে ‘ক্রিটিসিজম’ সেটাই কিন্তু আসলে মেরিটের জায়গা বলে মনে হয়। ‘মা মেয়ের সংসারে’র ভাষা, এইটা কোন ভাষা? এটার স্ট্রাকচার কি? এটার ইনার-আউটার রিয়েলিটি কীভাবে কন্ট্যাক্ট করছে? কীভাবে এটার মধ্য দিয়ে মার্ক্সসিজমটা ডেভেলপ করছে? কি করে এটার মধ্য দিয়ে সমাজকে দেখছি? কি করে এটার মধ্য দিয়ে ফ্রেইরির তত্ত্বটা আসছে? কি করে এটার মধ্য দিয়ে ডি-কন্সট্রাকশন থিওরিটা দাঁড়াচ্ছে? ন্যাচারালি এই জিনিসগুলা কিন্তু ভাষারই কাজ। সেটা হয়তো আপনারা ক্রিয়েটিভ মানুষরা ওইভাবে বুঝবেন না- কিন্তু এটা একটা মেথডলজি। আপনার ভাষার মধ্যে এই সমস্ত বিচিত্র বিষয় বলবার, কাজ করার, কথা বলার একটা সুযোগ আছে এবং সেই সুযোগটা- নিশ্চয়ই, হতেই হবে। হতেই হবে আমি এইটা একটু জোর দিয়ে বলছি এই কারণে যে, আমার যে পাঠ-অভিজ্ঞতা, আপনার গল্প-উপন্যাসের পাঠের যে অভিজ্ঞতা এবং সেখানে যে সভরিন বা সার্বভৌম একটা ক্ষেত্র যেটা তা কিন্তু উদ্ধার করতেই হবে, কেউ না কেউ সেটা করবে। এটা একটা বিষয়। এভাবে আপনার লেখারও মূল্যায়ন এখনও হয়নি। যা হোক, আমাদের কথা প্রায় শেষের দিকে, এখন যেটা বিষয় সেটা হল যে, আপনার লেখালেখি-অনুবাদ এবং অনুবাদ পড়তে গিয়েও আমি আসলে আনন্দ পাই। ভাষার যে আকর্ষণ, আকর্ষণটাই তো প্রধান- এখনো হঠাৎ করে ওয়ালীউল্লাহ্ রচনাবলি থেকে হয়তো লালসালুর দুই-তিনটা জায়গা অথবা চাঁদের অমাবস্যার দুই-তিনটা জায়গা পড়তে ইচ্ছা করে। ইচ্ছাটা কিন্তু স্যার আসলে একদম ভিতর থেকে। কেনো ইচ্ছা করবে? সেটা ভাষার কারণে। আমি আসলে যে প্রশ্নটার দিকে যেতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে, সচেতনভাবেই করুন, অবচেতনভাবেই করুন, আপনি একজন কথাশিল্পী, শিল্পী। এই শিল্পিত্ব সবার থাকে না। সবাই এটা পায় না। এটা বিদ্যালয়ের ভালো ছাত্র হলেও পাওয়া যায় না। এটা পাণ্ডিত্য অর্জন করেও পাওয়া যায় না। শিল্পী জোর করেও হওয়া যায় না। জোর করে কেউ এস. এম. সুলতান হতে পারবে না। জোর করে কেউ কামরুল হাসান হতে পারবে না- হাসান আজিজুল হক হতে পারবে না। আপনি শিল্পী এটা নিশ্চিত, সেই জায়গা থেকে আপনার পুরস্কারও অনেক। আজকেই দেখছি একদল পুরস্কার দিতে এসেছে। তারা পড়ুক না-পড়ুক, শিল্পীর যে একটা সামাজিক মর্যাদা কথায়-কথায়, বলায়-বলায় এবং আমি এর আগেও একদিন স্যার বলেছিলাম যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রাম হচ্ছে, হয়তো কেউ এককলম না পড়েও হাসান আজিজুল হক নিয়ে বলছে কেননা সে শিল্পী, কেননা সে জনসমাজে স্বীকৃত শিল্পী, সামাজিকভাবে স্বীকৃত শিল্পী। এই জিনিসগুলা জাস্ট স্যার আমি একটু বিলো জায়গা থেকে বলছি, এই ব্যাপারগুলো স্যার আপনার কেমন লাগে? এটা আসলে আমি একটু আপনার বয়স-টয়স সবকিছু মিলে, আপনিও রক্ত-মাংসের মানুষতো- আসলে জিনিসগুলা কেমন লাগে? সব বাদ, ভাষা কিভাবে হচ্ছে? ভাষা কিভাবে দাঁড়াচ্ছে? আপনার জীবন কেমন? যৌবন কেমন? বা লেখাপড়া শিক্ষা-দীক্ষা, সংস্কৃতি, পাণ্ডিত্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে আপনি একজন শিল্পী, সামাজিকভাবে স্বীকৃত শিল্পী। সেখানে আপনার প্রচুর মান-উপঢৌকন অনেক। কেউ জেনে দেয়, কেউ না জেনে দেয়, কেউ শুনে শুনে দেয়। কেউ এমনি এমনি বলে, সবাই জানে- উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাশিল্পী। আপনি শহরে গিয়েও শুনছেন, আপনি রাজশাহী শহরে শুনছেন, আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেও দেখছেন কিংবা ঢাকা শহরে গেলে তো অন্যরকম ব্যাপার, মাতোয়ারা অবস্থা। তো এই যে ক্যাচি ব্যাপার- এই জিনিসটা… নতুন প্রজন্মের কাছে আপনার কোনো…

হা. আ. হ. : আমি কোনোভাবেই যেনো এইসব কারণে ভিন্ন রকম আসক্তি, তারপরে ভিন্ন রকম জায়গায় আগ্রহ, এগুলো যেনো আমার তৈরি না হয়। আমি বলবো না যে আমার খুব খারাপ লাগে, খারাপ লাগে সে শব্দটা আমি বলবো না। কিন্তু এই খারাপ লাগাটা আমাকে মাতাল করবে না, আমাকে সেই অর্থে স্থানচ্যুত করবে না। ঠিক আছে, তাহলে  যা খুশি লিখলেই তো ছাপবে, না- সেটা আমি কিছুতেই যে করবো না, আমি এলাউ করবো না নিজেকে এটা এখন পর্যন্ত… এবং লোকেরা যখন আমার প্রশংসা করে, ভালো বলে, তখন আমার ভালো লাগে, এটা কার না ভালো লাগে বলো? কিন্তু আমি যদি অ্যাবাভ অল সত্যিকারের একজন খাঁটি মানুষ হই, সেটাই তো যথেষ্ট আর কিছুতো লাগে না। আমি লেখক হচ্ছি কি সেটাতো বড় কথা নয়, আমি খাঁটি কিনা- সেইটাই হলো আসল কথা। নিজের খাঁটিত্বটা বজায় রাখতে চাইছি। কোনোকিছু গোপন না করে নিজের খাঁটিত্বটা বজায় রাখতে চাইছি, যতদূর পারা যায়। যদি কোনো জায়গায়, সাধারণ জায়গা থেকে যে পদস্খলন, যে সমস্ত মানুষের, পরিচিত কথা হয় অনেকে- সেও আমার মনে হয় যে আমি কখনো সেটা গোপন করবো না আরকি! নাথিং টু হাইড…নাথিং টু হাইড…। আর অপরের কথা ভালো লাগুক আর মন্দ লাগুক আমি ভেসে যাচ্ছি না কোনোরকমে।

চিহ্ন : এখন স্যার রবীন্দ্রনাথের মতো লেখকের- মানে তার জীবনে কিছু নানারকম সমালোচনা ছিলো। এবং রবীন্দ্রনাথও কিন্তু জীবন সম্পর্কে, লেখালেখি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য তিনি জীবনকালেও অনেক শুনেছেন।

হা. আ. হ. : অনেক শুনেছেন, তাঁর গান সম্পর্কে, তাঁর…

চিহ্ন : শুনেছেন। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আপনি যেটা স্যার- আপনি প্রচুর রবীন্দ্রনাথ পড়েছেন, সে চর্চা আপনার আছে। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা, কষ্টকে-দুঃখকে দেখা, প্রতিপক্ষকে দেখা, তাকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা এসব নিয়ে অনেক কিছু তিনি দেখেছেন- শুনেছেন, শেষ জীবন পর্যন্ত সেটা তাঁর ছিলো। সেরকম কিছু…

হা. আ. হ. : (কিছুক্ষণ ভেবে) নাহ্, কোনো কষ্ট আমাকে ঐভাবে দিয়েছে, ডাহা একটা মিথ্যা কথা বলে, আমাকে যদি কেউ বলে, ওভাররেট করে, তাতে হয়তো আমি বাধা দেবো না; খুশি হবো, কিন্তু নিজে নিজে বুঝবো যে একটু ওভাররেটিং হয়ে গেলো আমার সাথে। আর কেউ যদি আন্ডারওয়েট করে, তাহলে আমি ঝাঁপিয়ে গিয়ে তার উপর পড়বো না, সেটা করবো না কক্ষনোই, সেরকম ঠিক করেছি। আন্ডারওয়েট করলেই বা কি আর না করলেই বা কি। তাহলে তো কাজ করা যাবে না। দুটোর যে কোনোটাতেই তুমি যদি বেশি ঝুলে পড়ো আরকি তাহলে তুমি কাজ করতে পারবেনা তো। নিজের করণীয় কাজ করতে পারবে না। তখন মনে হবে যে, কি কি পছন্দ করছে? ও এই এই জিনিসগুলা। দেখি তাহলে তো এরকম করে কিছু করা যায় কিনা, এইটা করতে পারা যাবে না। আমি ঠিক করেছি আমি এইটা করবো না। শেষ জীবন পর্যন্ত আমি এইটা…

চিহ্ন : স্যার, আর একটা বিষয় সেটা হচ্ছে- আপনি রাজশাহীতেই থাকছেন, মানে রাজশাহীতে আমাদের যারা আছেন সব আপনাকে কিন্তু ভালোবাসে, এটা সত্য। আপনি আমাদের একটা আমব্রেলা। একটা প্লাটফর্ম। আপনি কিন্তু সেটা চালিয়েও যাচ্ছেন, দীর্ঘদিন ধরে। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, সেই এইট্টি-এইট, এইট্টি-নাইনে তখনও আমরা দেখেছি- আপনি ‘স্বনন’ এর অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, সেমিনারে যাচ্ছেন, সিম্পোজিয়ামে যাচ্ছেন, আলোচনা হচ্ছে, আড্ডা হচ্ছে, ক্লাবের প্রোগ্রামে আপনি যাচ্ছেন, শিল্প-সমিতির অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন তারপরে দলীয় যে সমস্ত হয়তো ছাত্রমৈত্রী বা এদের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বড় অনুষ্ঠান হচ্ছে সেখানে যাচ্ছেন। কিংবা রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তী, র‌্যানড্যাম চলছে সব জায়গায়, গিয়েছেন, চলছে। এটার মূল কারণ আপনি রাজশাহীর মানুষ- এবং লেখক, আমাদের গর্বও এক অর্থে। কিন্তু যখন ঢাকায় আপনি যান,  সেখানে এর চাইতে কয়েকগুণ বেশি আপনার সমাদর ও আদর আছে। আমরা ঢাকায় গেলেও সেটা বুঝতে পারি। কিন্তু রাজশাহীর প্রেম আর ঢাকার প্রেম একরকম না। কেমন আসলে লাগে? এইটা কি উপভোগ্য? এটা আসলে খুব ডেলিকেট একটা প্রশ্ন হয়ে গেলো…

হা. আ. হ. : উপভোগ্য কিন্তু নয়, বুঝলে? ক্লামজিই বটে। ক্লামজি বটে (পুনরায়)। যতদুর পারি সেটা যাতে না হয় সেই চেষ্টাই করি আমি। যেমন ধরো, ঢাকায় গেলাম- স্যার আপনাকে নিয়ে আসি? না ভাই, আমি যেতে পারবো না, তুমি চলে এসো। মাসুদা ভাট্টির মতো মহিলা সে বলছে, ‘তাহলে কি করবো?’ তুমি যদি আমার একটা ইন্টারভিউ নিতেই চাও তাহলে বাসায় আসো, চলে এলো সে বাসায়। মাসুদাও মোটামুটি ভালো… বললাম তোমার নাম ‘ভাট্টি’ কেনো? তারপর বললো যে, ‘তার কারণ হচ্ছে যে আমি রাজশাহীতে যখন ছিলাম তখন একটা পাঞ্জাবিকে বিয়ে করেছিলাম।’ তাহলে সে কোথায়? তার সাথে এখন তো আর আমি থাকি না, ঐ ভাট্টি রয়ে গেছে। এইরকম, নানান জন আসে। তবে ঢাকায় যাওয়া মোটামুটি কমিয়ে দিয়েছি। এইসব জিনিস যে খুব এনজয় করবো না তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঠিক আছে। তোমাদের ধন্যবাদ। আবার এসো।

[সমাপ্ত]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close