Home কবিতা আসমা অধরা / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ ও কবিকথন

আসমা অধরা / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ ও কবিকথন

প্রকাশঃ January 27, 2017

আসমা অধরা / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ ও কবিকথন
0
1

[সম্পাদকীয় নোট : ২০১৭ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে আসমা অধরার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘হাওয়াকল’। এখানে সেই কাব্যগ্রন্থের ১৫টি কবিতা প্রকাশিত হল। সেই সঙ্গে বইটির ভাববস্তু এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তীরন্দাজের কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন কবি।]

‘হাওয়াকল’ কাব্যগ্রন্থের একগুচ্ছ কবিতা

অথবা বৃশ্চিককলা

জ্বলে ওঠার জন্য নিভে যেতেই হবে,
এমনতরো নিয়মেরা হাতছানির প্রচ্ছন্নতায় ডেকে যায়
ভুলে গিয়ে আশেপাশে কোন পেট্রলের উৎস নেই, যা
সামান্য স্ফুলিঙ্গও টেনে আনে যুগপৎ নিষ্ঠায়।

ধর্ষণ থেকে ধিক্কারে,
শিৎকার থেকে চিৎকারে,
ধ্বান্ত থেকে ধ্বংসে যে অপমোহ কুণ্ডলী
বিচ্যুত করে কক্ষপথ, সেখানেই মুত্র বর্ষিত হোক
মানবতার।

অথচ,
কিছু মোহনীয় সর্বনাশও থাকে কুমীরের খাঁজকাটা
আবরণে,
র‍্যাটল স্নেকের লেজের ডগায় বাজতে থাকা ঝুমঝুমিতে।
নক্ষত্রের দিকে তুলে ধরা তীর্যক আঙুল জানে-
৯০ ডিগ্রি কোণের ব্যাপকতায়
কেবল মাত্র একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুও কাঁপিয়ে দিতে
পারে পার্থিব অস্তিত্ব; আততায়ীর।

তাই রূঢ়তায় চলে যায়,
চলে যেতেই হয় সংবিধান সংশোধনের অতিশষ্যে!
জ্বলে ওঠার নামান্তরের ভিন্নতায়

 

ফিরে এসো উড়ান

মৌসুমি হাওয়া নাও উড়িয়ে ঝরাপাতা
নিজেকে প্রাচীন বটগাছ ভাবতেই
শেকড়ের ভারে প্রোথিত হয়ে যাওয়া
খুঁটে খুঁটে যাও হাওয়া, পরিযায়ী পক্ষীর ঠোঁট
বৃক্ষের কোনো রক্ত নেই, নেই চিৎকার
নেই উল্লাস, নেই নেই পায়চারীর অভিলাষ
তারপর, তেপান্তরের মাঠ উড়ে গেলে
স্বপ্নের পিঠে গজাবে ইন্দ্রধনুর ডানা
কুচো পর ঝরে যাবে, যাও উড়ে
ঘুরে ঘুরে অন্য কোন বাদাড়ে, মৌসুম এখন
অপরূপা টিপ নির্জন আগুনে যাবে পুড়ে।

বিষণ্ণ জোছনা, পর ঝরে যাওয়া ডানা নিয়ে
উড়ে যাও মেঘের মতন, নিয়ে কেমন করা মন
পান করো মদির তরল ঘুমঘোর কোনো-
তবু যদি অনিদ্রা হয়ে যায়, ব্যাথাতুর চুম্বনের ভার ফেলে দিয়ে
ফিরে এসো এইখানে, যেথায় শেকড়ের ভার লয়ে
ঝুঁকে গেছে অগ্নিমুখো সেতার, মাটিতে গাঁথা নিশ্চিন্ত ঘর যার
তার ডানা নেই, নেই উড়ান উড়াল, তবুও বটবৃক্ষ
বাজিয়েই চলেছে ধীরলয়ে এক নহলি সেতার।
কুহক প্রপাত ঘোর

স্বর্ণমৃগ, দেখেছো কি নিরালা জানলার পাশে রাঁধাচূড়োর যত রঙ ঝরে যায় পত্রবৎ, যেন সোনারোদেও মধ্যযাম! আলোয়ান জড়িয়ে ধেয়ে আসে কালকেতু, আসে ফসফরাসের রাত; যেনবা ঝনঝনিয়ে গড়িয়ে গেল কয়েনসমগ্রে জমে থাকা একরোখা ঐকতান।

কেবল যামিনী জানে বুঝি গোপন জটিল যতন, কিন্নরে বাজে রোদনের মতো কেটে যাওয়া সুর। তখনই রক্তিম আঁখি, রক্তাভ পোখরাজ পাখা মেলে উড়ে যায় মৌনবিতান। সেখানে লিখাছিল যত চিৎকার, মৌন গজল, সানাইয়ের সুর; মোৎজার্ট, বিথোফেন, সিম্ফোনি ও অন্ধ গায়কের গেয়ে ওঠা আধখানা গান।

তবু লুন্ঠন শেষে ঈশ্বরঘরে এসে নিশ্চিন্ত ঘুমোয় কুখ্যাত ডাকাত; শিথান পৈথানে জ্বলে থাকা চোরাচোখ, পিঙ্গলে মেখে আড়াআড়ি দুই হাত ঘুমোয় ঘোর অঘোর মৃতের ন্যায়, তীব্র শ্লেষে হেসে ওঠে বন্দী, পাশ ফিরে শোয় অপঘাত; সেই দেশে কারা ও রক্ষকের পক্ষাঘাতেই পদপাত।

আহা মৃগ, ছুটছো মায়া হরিণীর পিছু?  ওই দ্যাখো, দ্যাখো চেয়ে ওই ভেঙে ভেঙে ঝরে পড়ে শিউলির ঘ্রাণ। কামিনীও মেলে ধরে মুদে আসা চোখ, কেতকীরে কয় কানে কানে, ক্যামোফ্ল্যাজে হারিয়ে গেল ইটিটকারীর জাতকূলমান।
ডানা ও বিষাদ

বলাকা, ও বলাকা! তোমার ডানায় আশ্রয় দিয়েছো কাকে? তার গা ভরা কেবলসোঁদা মাটির গন্ধ। সে গন্ধ মনে করিয়ে দেয় আমার আলোকজ্জ্বল ছেলেবেলার যত অন্ধকার ও বিবিধ ভয়ার্ত কোন। একদিন মারের ভয়ে পালাতে গিয়ে পড়ে যাওয়া গড়ের ভেতরকার পুঁতিগন্ধময় লাল তুলোর রাশি, ক্লেদাক্ত অধ্যায়।

তোমার ডানার নীচে কেন এক সকাল নেই, কুঁচো পর্ ফুরর করে উড়ে যায়, খসে পড়ে পড়ন্তবেলার রোদের মতো। ওই তো দুলছে আর ঝরে পড়ছে। ঝরে পড়া পালকের এতো গরিমা থাকতে নেই, তুমিতো এগিয়ে যাচ্ছো সেই জঠরের দিকেই। যার সোঁদা গন্ধে পালিত হয় আশ্রয়।
তোমার সাথে তমশার কেমন সন্ধি বলো, পারো তো তার সন্ধান দিও খানিক। বহুকালব্যাপী সন্ধি বা তৎসদৃশ কিছুর কোন হদিশ জানা নেই। ক্ষ্যাপা ঘরগুলোর ভেতর কেবল এক-একটা আস্ত গড়ের মাঠ পোরা থাকে, এতো খেলো সব!

যে ডালে বাসা বেধেছো, সে মহীরুহ ভেঙ্গে পড়ছে লতিয়ে ওঠা পরাশ্রয়ীর ভারে, সে লতায় যত সরলগরল ফুল। অপর্যাপ্ত জীবনের কত আর কথকতা বলো!

আবারো ঝেঁপে আসছে প্রলয় আর সেই আপন, চেনা, ডানার নীচে লুকোনো সোঁদা গন্ধেরা।

একদিন এই উৎস খুঁজতে গেলে চোখ পড়বে কোন পোড়া টানেলের চাপা পড়ে থাকা বন্ধ মুখের দিকে, অথবা বিলুপ্ত সভ্যতা খুঁড়েও দেখা যায়। মা থেকে পৃথক হবার সেই নাড়ীর গাঁট, অথবা পরিত্যক্ত কোন খনির ঘুরে ঘুরে নেমে যাওয়া সিঁড়ি ধরে পাতালের দিকে, গ্রীক পুরানের মীথ হয়ে যাওয়া হাইড্রার এপিডার্মিস চিরে…

তবুও বলাকা! ডানার নীচে সোঁদা গন্ধ বয়ে বেড়াও!

 

ঈশপের ক্যানভাস

কাঁধে বয়ে নিয়ে যাওয়া মমিরূপ প্রতিমা
নামিয়ে রাখলেই জোয়াল খসে পড়ে
ঘুমন্ত মুখের পাশে ক্রমেই খোলসের কারুকাজ
কব্জি থেকে বাহুল্য সময় সংক্ষেপ,
ছিন্ন ভিন্ন রাত্রি জানে উদরে ব্যথার মতন
পাক খায় আলো ও মুছে যাওয়া রাত্রিচিহ্ন।

নৈঃশব্দ্য যেমন মহিষের হাসি এঁকেছিল
তেমনি খোদাই করে রাখি বিবিধ শিঙ ও দাঁত
নখর শীর্ষে আটকে থাকা কালচে মৃৎকোষ
অথচ অবিরত অবিরল বদলে যায় কাঁচফ্রেম
প্রকাশের দুইধার জুড়ে শানিত না বলা যন্ত্রণা।

ঘুম ও শরীরের মাঝখানে এসে দাঁড়াও যে তুমি
সে কি ঈশ্বর; নাকি নৃত্যরত সময়ের অবয়ব
ত্রিশূলের মত ত্রাহি ডেকে ছুটে আসে, আসে ঐ
ব্যথার সহোদরা পাখী গো! দেখো বদলে গেছে
রাজমহিষীর রক্তবর্ণ আখি, তরল নুনসমগ্রে।

পূর্নিমালোকিত চাঁদ জ্বলে যায় গ্যাসোলিন এর মতন
এই শরব্য শর্বরী জানে, ফুসফুস জ্বলার পর
জমে গেছে কিছু খুচরো কয়েন। ঘোর ন্যায় ঘুম
খুব জানে, পাশ ফিরলেই ভেতরে বাজে ঝননঝন
কাব্যের মতন, খুচরো হৃদয়ের টঙ্কার;
নতুন গান, অচেনা ভাষা তার।

রোদাকাশের জলসিঁড়ি

বলে এসো গাছেদের কানেকানে, মানুষেরাও নাকি ত্যাগ করতে জানে। আমি দেখি- খুব জলবসন্ত; কেবল নিমপাতার একলা সেদ্ধ গায়ে আগুন। ঐ আগুনের সামান্য আঁচ লেগেই চোখে জলএলো, সে প্রসঙ্গেই বলি, রিমলেস চশমাটাও কবেই হারিয়ে গ্যাছে আঁধারে।

প্রকৃত অন্ধকার কি জানা হয়না কখনোই; ঘুমাবৃতা তরুণীর তবুও সেই আবরণের বাইরে থেকে আলো এসেই তুলে নেয় মশারির খুঁট। যে বিছানার পা’গুলোতে ঘুণের খুব কেলেঙ্কারি হয়, কেমন ভাঙা পাটাতন নৌকোর মতোই করেই কঁকিয়ে ওঠে।

তবুও আজকাল কোষা নৌকোগুলো খুব হেভী কোটেড নেইলপলিশের মত জাঁকালো রং-এর প্রলেপ গায়ে নিয়ে চুপ করে বসে থাকে। এদিকে পোষ না মানা বর্ষা কবেই চলে গ্যাছে ছাতাসুদ্ধ।

ছাতার জলটুকু ছিটকে পড়তেই দেখি পুরনো কাপড়ের মতো ছিঁড়ে টসকে গেল মাটি। অথচ এখানে ভরপুর বালি ছিল ক’দিন আগেও, পানি পড়লেই নেই হয়ে যেত নিমেষেই অথচ ঝড়ো রোদবাতাসে ঐটুকুন বালিও চোখে সেঁধিয়ে যাবার প্রচণ্ড ক্ষমতা লুকিয়ে রাখে তার বুকে, জানাই ছিলো না।

দু’হাতে চোখ কচলে কচলে ভীষণ মন খারাপ হয় লালরঙের; অথচ ওটা মেঘ না মোম তাই জানা হয়না। অমন মেঘগুলো নিশ্চই বৃষ্টি হয় না আর মোমগুলো গলে না কখনোই, তবুও একই আকাশে নবোঢ়া চাঁদ ওঠে প্রতিদিন।

আর এখানে নিরলস গাছেদের ফাঁক-ফোকর শুদ্ধ আমি ক্লান্তিহীন দৌড়ে বেড়াই, একটু উঁকি দেবো বলে আকাশের দরগায়।

 

অহং নিষাদ

পলেস্তারা যখন ঝুরঝুরে হয়ে পড়ে তাকে আর কিছুতেই ঋদ্ধির দলভুক্ত করা যায় না। সর্বতোমুখী উন্নতি যখন হৃদয়ে স্থাপন করে নিজ লালিত্য; তখন কবির পদ্মাসনেই প্রস্ফুটিত হয় ভেতরের ঔদার্য।

যে বাঁশীওয়ালা তার সুরে নিবেদিত হয়, বন্ধ চোখের কোল বেয়ে এক এক ফুৎকারে গলে পড়ে বিদীর্ণ অন্তরাত্মা। সে জলে কোন গরিমা থাকেনা, যেমন নেই তার সুরযন্ত্রে।

লঙ্ঘনের মমার্থ কি বোঝেন যিনি নিষিদ্ধ অন্তঃপুর বা ভাটার সমুদ্রে সীমা অতিক্রমে উদ্যোগী। এক দীঘল সূর্য আঁকতে গিয়ে দেখি সেখানে গাছের ছায়ার ফাঁক গলে হরিদ্রাভ আলোয় ছেয়ে গ্যাছে উঠোন।

এক কবি আর এক বাঁশীর অহংকার থাকতে নেই, বলে যায় এমনি সমস্ত পূর্ণ চন্দ্ররতিকাল।

 

খুলি ফুল, ভুলের অবয়ব

কোল ও কপোলে যে জলছাপ, তাকে লুকিয়ে রাখে মুঠো করে রাখা করতল। তারপর মনটাকে ছেলেবেলার কাগুজে নৌকোর মতন করে বানিয়ে দেই ফিঙের লেজ, এই সমস্ত তীব্রদুপুরের সোনারঙ অথচ আলোর মরিচীকা থেকে কেড়ে নিই সমস্ত ভুল। চেপে রাখা এ্যাশ কালারের শূন্যতাগুলোকে ছড়িয়ে দিতেই আদিগন্ত জুড়ে নীল হয়ে ওঠা আকাশ উঁকি দেয় বুকের ঘুলুঘুলিপথে।

জন্ম ও জন্মাতরের সখা হে!
জানো কি কেয়া পাতার নৌকোতে
ভাসিয়ে দেয়া মৃত নক্ষত্রের রঙ কেমন হয়?

ওইযে সরু গলিপথ ঠেলেঠুলে যে সন্ধ্যেটা এগিয়ে আসছে, তার ভাঁজগুলো জানে- দ্রাঘিমায় জোনাকিদের ওড়াউড়ি বন্ধ হয়ে গেলেই কোকিলেরা মরে যায়, জ্যোতিষ্কপুঞ্জ মুখ ঢেকে ফেলে কালো মসলিনে আর ক্ষয়িষ্ণু ক্ষতস্থানে ফুটতে থাকে ক্ষরণের পঙ্কজ। দিকচক্রবাল, হেসে ওঠো; হেসে ওঠো!

নিয়তির রাশিফল জুড়ে নিঃসঙ্গতা প্রিয় ক্যান্সার হেসে ওঠে, এই সমস্ত তীব্র রোদ ও দুপুরবেলা জানে, লেবুফুলের সুঘ্রাণ জুড়ে হালকা বেগুনী রঙ কি প্রচণ্ড টানে অস্তিত্ব। তবুও ভায়োলেট মানেই দাগ ও দহন; তখন লজ্জাবনত হয়ে ব্রীড়াবতী ফোটনেরা মুখ লুকোয় কৃষ্ণচূড়োর লালে।

এসো নিক্কণ
এসো মেঘদূত
এসো স্নানধ্বনি
এসো ঘন হয়ে মোহন জল মূদ্রা

 

মুদ্রা শতায়ু

পলিওলিথিক সুর্যের গায়ে ভর দিয়ে গা সেঁকে নিতে যাওয়া কাক পুড়ে যায়। তার ভেতর পৃথিবীর সুন্দরতম সুরের আবাস ছিলো বলে পোড়া শরীর থেকে নন্দন সুবাস ছড়ায়। নিরহং হাতকড়া পড়ে থাকে ইচ্ছেরা, শৃংঙ্খল নয় সেও। পার্থিব চর্মচক্ষু যদি মগ্ন হয় নগ্নতায় তবে ক্রুসিফাইড হবার জন্য স্বেচ্ছা নির্বাসন জরুরী।

ভিন্ন ভিন্ন নেপথ্য উস্কানিতে অন্ধ হয়ে গেলে নেশা বুঁদ হয়, দুলে দুলে হাসে ধুতুরার ফুল। সে তার শ্বাসে তরল বিষ টেনে নিতেই প্রাণ হারায় কোন একজন প্রেয়সী; পায়ের তলায় কাজলমাখা ক্রুশ এঁকে রাখি, সে ক্ষত ঠুকরে সেলাই করে কাঠঠোকরা ঠোট। ওগো পাখাল বান্ধব, এতোটুকুও এনেস্থিসিয়া নেই তোমার? মেরে ফেলার আগে না হয় খানিক তাই ঢেলে দাও উন্নাসিক খুনি, যন্ত্রণ কম হোক।

পোড়াই ক্লিষ্ট জীবাশ্ম হৃৎচুল্লীর পেটে, সেখানে ঝরনা নেই। প্রবল কোন বাতাস এসে উড়িয়ে নিয়ে যাক এ সমস্ত লোধ্ররেণু। শবগাড়ি জানে এক ভিন্ন পথ যেখানে ঝুলেছিল আধক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের মতো নো ভ্যাকেন্সির প্ল্যাকার্ড

 

পৌনঃপুনিক কবিতাবলয়

তীব্র তীক্ষ্ণ নক্ষত্রেরা জোত্‍স্না ছড়ায় না,
সে কেবল চাঁদই পারে; অপলক চেয়ে থাকা

সন্ধ্যাতারা নিজেই শেষরাতে ধ্রুব হয়,
আর ভেসে যায় টয়েনবি সার্কুলার রোড,
এই যে পৌনঃপুনিক সময়, বড় বেশী শ্বাসরোধক!

নিরুত্তাপে বয়ে চলে যাওয়া রাতের ফুটপাথে
নিরুত্তর নির্বাক অমুদ্রিত কবিতারা আমার;
এ গলি সে গলিতে গলা বাড়িয়ে খোঁজে তিমিরের কবিতাবলয়!
হেঁকে চলে নর্দমার পাশ ঘেষে নিশুত রাত,
আর নিশ্চুপ জোত্‍স্না মাথার নীচে
হাত পেতে ঘুমোয় খোলা রাস্তায়!
ওভার ব্রীজের রেলিংয়ে!

শেষ রাত কেমন কালো হাত বাড়ায় চাঁদের গায়
কেড়ে নেয় মধ্যবিত্ত আলোর ফোয়ারা
আর সেপারেশন হয় নিরুত্তর নক্ষত্রের সাথে।

জীবন বাবুর নক্ষত্রেরা মরে যেতে জানতো
জীবন বাবুর নক্ষত্রেরা মরে যেতে জানতো

আমার ধ্রুবতারাকে আমি ঘুম পাড়িয়ে দেই
কোনো এক প্রারম্ভিক আলোর সূচনায়
তবুও চাঁদ আর ধ্রুবতারার প্রেমটুকু থাক
রয়ে যাক কিছু অন্তত আলো-
সমুদ্র ক্ষয়ে যাওয়া বিহবল অন্ধকারে!

 

ফাউন্টেন ও শ্যামাপাখী

উদগ্রীব হও যদি, এসো কিছু স্খলনের গল্প বলি। ব্যাপ্তরূপ ও বাঁধা-ধরা নিয়মের বাইরের কথা।
বেঁচে থেকে থেকে কত সহস্রবার মরে গেছি- কখনো লজ্জায়, ঘৃণায় অথবা অসহায়ত্বে। কিন্তু সেই সমস্ত মৃত্যুর পর একবারের জন্যেও আবার ফের বেঁচে ওঠা হয়নি।

এসব স্খলিত দ্বিবাচ্যে শ্যামাপাখির রূহ নেমে আসে দ্বিতীয় আসমানে। অস্থির হুল্লোড়ে পেছন ফিরে তাকায় লওহে মাহফুজের দিকে অগ্রসরমান নওআত্মা। অথচ ঐসব দুর্গম স্থানে সদ্যমৃত রেশমকীটদের স্থান নেই।

এই বন্দনায় তোমার উৎসুক মন ক্যামোফ্লেজের শিকার।
সেই গাঢ় স্খলন জানে নদী, যার নিম্নদেশে গড়াগড়ি খেয়ে বেড়ায় পাপাত্মার দীর্ঘপোষ্য মথ।

হে স্খলন;
তোর পা কালো
তোর পুড়ে যাওয়া ফোস্কা পড়া চামড়া
তোর গালের কষ বেয়ে নেমে যায় অজস্র কেউটে সাপ!

তবুও এ নাম শুনলেই আহ্বলাদিত মখলুকাত সামান্য ফোকর গলে জুলজুল চেয়ে থাকে। তাদের বাম পাঁজরের নিচ বরাবর উল্লাস উল্লাস করে ওঠে মৃত ফাউন্টেন।
যে পৃথিবী উপেক্ষিত
(left out in the cold
)

আহা রাত্রি! টু অল দোজ নাইটস, হুইচ হ্যাজ ফেইসড ক্রুশিয়ালি এণ্ড ভেরী পার্কি! ‘প্রহর ও কাল’ ভেদে প্রকারান্তরে ঝলসে যায়, বায়ুমূর্তি শিবের রুদ্র মূর্তরূপ দেখে সবিস্ময়ে- সে সমস্ত চক্ষু দেখেনি, ‘দিব্য ও দিবা’ রশ্মিরা কেমন করে বেমালুম বেভুল দশায় পিছলে যায়, দিবাকরের ছোঁয়ায় বা মন্দ্র আলোয় উদ্ভাস, অবিরল ধারায় ঝরে যাওয়া বর্ণীল কোনো ইটারনাল রেইনবো, নিরহং বোধে বয়ে যাওয়া কোনো সুর যাদুকর আরোপিত আনফরচুনেট কার্সড প্রপাতের মতন, মহাগ্রীবায়।
অনুভূতির পিঠে বধীর আশ্চর্যের
ন্যায়, দিনের কণ্ঠজুড়ে তিন লহর
সীতা হার পরায় সূর্য; চমকে চমকে
ওঠে প্রভাত- দ্বিপ্রহর- আর সান্ধ্য সিঁথির রকমফেরী আলোর সিঁদুর।

পিন ও পতনের পৃথিবীতে যে চিরস্থায়ী গ্রীন সিগন্যাল জ্বলে উঠেছিল; সে কী সহস্রাব্দে, নাকি আলোকবর্ষ পূর্বেকার কোনো মিল্কীওয়েতে? নতুবা ধরিত্রী নিজেই জানেনা কবেকার সে অন্ধ স্ট্রিপলিং থর্ণ – বিঁধেছিল হিসেব না জানা নিজেরই অকাটমূর্খ পায়, কবেকার কোন ঘোর কৃষ্ণ রাতে নিশ্ছিদ্র অমাবস্যায়!

পালকী পালকী দিনে,
দোদুল দোদুল স্ফটিক আলো- প্রিজম
পাহাড় পার হয়, জড়ায় অষ্টেপৃষ্ঠে
চাদর চাদর গোধূলির ছায়াদিগন্ত
আদর আদর ওমে, ধ্যানে!

তারপরে নববর্ণ পরিচয়ের মতো লাজুক নবোঢ়া আলো আসে, ধীরস্থির মন্থর পায়ে পায়ে! আর উল্লাস উল্লাস করে ভর, নিশাচর আঁধার ভেঙে যায় যতো একচুয়াল টাইটলি ক্লোজড এণ্ড স্টইক ক্রিমসন সাইন, ইনডীড! পার হয়ে গ্রীষ্মনিবাস আরো  কিছুদূরে, ভূলুন্ঠিত সকরুণ এক সকাল জানে; পারস্পরিক বৈরীতায় জমে গ্যাছে সেই অস্থির চঞ্চল শীতপাখী! ফ্রোজেন শরীর আছে পড়ে নিখবর শংকুল ডেডলাইন এরিয়ায়-

তাই, টু দ্য অনার্ড এণ্ড কাইণ্ড লেটারবক্স,
সকরুণ অনুগ্রহ
প্রার্থীতায়, বায়বীয় এক দরখাস্তে
টিপসই ভরে যায়! সারি সারি বিষ
পিঁপড়ের ঝাঁক- শাণিত দন্ত ও নখরে
বিনম্রচিত্ত উচ্ছসিত ভীড় জমায়

একঘেঁয়ে মৃত্যু দেখে দেখে ক্লান্ত ইটিটকারীর জঙ্গলে সদ্য ঋতুমতী টুঁইয়ের বাসায় চোখ বোজে নিউলি ম্যারেড বার্ডকাপল; তীক্ষ্ণ শীষ কেটে ওঠে সুতীব্র ফিঙেকন্ঠ, মেখে রাখে সমস্ত চঞ্চলতাদের অস্থির লেজের ডগায়। তবু কি নেই নেই নেই বলে গোঙানো দুপুরগুলোয়, বুক হুহু করে ওঠা ডাক শুনে ছুটে যেতে গিয়ে- অজস্রবার পঁচা শামুকে পা কেটেও ডাহুক দেখা হয়নি বলে যে দু’চোখ ছিল চির- অতৃপ্ত; সে নয়ন যুগল নির্নিমেষ দেখেছিল বাঁশ বাগানের গা ঘেঁষা সর্ষে ক্ষেতের আইল- মেখে থাকা জমাট রক্তপাত। ওহ, আইজ, পুওর শেইকেন ট্রিম্বলিং আইজ!

ভিজিবলি দ্যাট ওয়জ আ রিচুয়াল
অফ অপোন্যান্সি এণ্ড স্লওটর
সেই নির্মম শিকার ও তৎপরবর্তী
নিরীহ নির্বিঘ্ন যাপনপণে, জীবনময়
ছোট্ট সে শৈল্পিক বিহগ, তার শিল্পিত
সংসর্গ; ভ্রু সন্ধিতে রেখে গ্যাছে কি
কোনো বিজন গহন শ্লেষ, গোপন বিস্ময় !

 

প্রণয় তন্তুবায়

ওই যে মুহূর্তে চেপে ধরলাম সাইকেলের ব্রেক, হুড়মুড়িয়ে পড়ে গেলাম লজ্জাবতী ঝোপের ওপর। আর যাবতীয় লজ্জা ভুলে তখন কেবল কাঁটাই বিঁধতে ব্যাস্ত সে। আচ্ছা সাইকেলের কথা থাক, সুতোর কথা বলি- হাতখানেক লম্বা, কিসের হতে পারে-
ঘুড়ি কাটা সুতো,
নাকি সেলাই মেশিন!
ইজের নাকি শার্ট,
চুড়িদার নাকি এমব্রয়ডারি
নতুন সুতো না পুরনো সুতো,
দাঁতে কাটা না কাঁচিতে কাটা!

ভাবতে ভাবতে এই সামান্য সুতোই রয়ে গেল হাতে, বেশীটুকু যেখানে- সেটা মাধ্যমের কাহিনী।

শাড়ীর নয়, জামার নয়, বোতাম খোলা প্যাচের নয়; সোজাসাপ্টা এক নমনীয় নীল উপাখ্যান।

সুতোটুকু নিয়ে উঠি, পরমাশ্চর্যের মতো সে যে গন্ধটুকু বয়ে বেড়াচ্ছে, তারসাথে মনে পড়ে যায় কেবলমাত্র প্রেমের কথা। সেই যখন চিঠি চালাচালি সময়ে টুপকরে এক ফোঁটা সুবাস ঢেলে দিতো প্রাচীন প্রেমিকা। অথবা নিঝুম হয়ে থাকবার পরের ক্ষনেই বাতাসের সাথে ভেসে আসা রতি খানেক ইভনিং।

মুঠোর ভেতর দুরন্ত উল্লাসের মতো সুতো নিয়ে ঘুরি- যেমনি দূরাগত ট্রেনের হুইসেল শুনলে রক্তের মধ্যে ঝনঝন টের পেতাম, পায়ের তালু থেকে বুকের দিকে রওনা হতো শ’পাঁচেক দুরন্ত খরগোশ। সুতো, সুতো- ফিজিক্সের মতানুযায়ী হাতের মুঠোতে কিছুটা যায়গা দখল করে আছে, কেমিস্ট্রির মতন নিউরনে বুদবুদ তুলছে, মনের ভেতরের ঘুটঘুটে অন্ধকারে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জোনাকির আলোর কনভয় সাজিয়ে আর্য জনপদের দিকে।

আহ সুতো!
আটঘাট বেঁধে স্থাপন করে দিচ্ছে
দৃশ্য থেকে অদৃশ্য;
বাস্তব থেকে কল্পনা;
বিরহ থেকে প্রেম।
মকবুল ফিদা হুসেনের মতো,
রঙ করছে চটুল চিন্তা;
অলিভের পাতা জুড়ে জুলিয়েটের ঐতিহাসিক প্রণতি,
দৃশ্যমান সুখ- অদৃশ্য ক্ষত,
লকলকে জলপ্রপাতীয় আগুন,
কেবল একবার প্রিয়মুখ
দেখার আকাঙ্ক্ষায় মরে যাবার সাধ;

সব, সব ঐ এক
নামগোত্রহীন সুতোর কৃচ্ছতা।

 

নমস্য হ্রেষা

কতোদিন প্রণয় লিখি না, অথচ প্রেম লিখে যাচ্ছি অহরহ,
মুখ ও মুখোশের
জল ও রোদ্দুরের
জন ও যৌনাঙ্গের

লিখি না কোলাহল অথচ চিত্কারের বয়ান চলে প্রতিদিন,
সাধু এবং সন্ন্যাসীর
দালাল এবং দয়িতার
চাপাতি এবং মানবতার

নির্মোহ বাতাসে মিশে গেছে, কেবল লোভের ছড়াছড়ি
দেখে যাই,
কাব্য ও চরিত্রাদির
চেইন ও হুকের
নাম এবং স্বমেহনের

তবু আকাশে চাঁদ উঠে ডুবেও যায়, কিছু আবোল তাবোলদের
কবিতা নাম হয়, কিছু কবিতা পদপৃষ্ঠ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। কিছু
তরুণ আনন্দ নিয়ে এসে ফিরে যায় বিষাদ বুকে, কিছু
উদ্দেশ্যহীন তরুণী হঠাত্ চাঁদ হাতে পায় সাথে স্তুতিবাক্য। আর
প্রতিভারা চোখ বন্ধ করে উর্ধ্বগামী হয়।

এসো বন্ধু,
মুছে দেই চন্দ্রালোক
ছিঁড়ে ফেলি নমস্য হ্রেষা, ধী- নৃ আর অবিস্মরনীয় বার্গাদি
গা ভাসাই এই পাঁক আর পঙ্কিল জোয়ারে।

 

মঙ্গলা মধ্যলোক ও নীল কাঁচপোকা

মায়া হরিণের পিছল পেট বেয়ে রাত নেমে যায় কিনা জানা নেই ঠিকঠাক, তাই আমার শিরোনামহীন সকল কবিতার নামে জারি হোক জামিনবিহীন শ্রমবাস।

এখানে বৈদ্য নিকেতনের বাতাসে মেখে থাকা পুষ্পঘ্রাণে অসুখের সুখ থমকায়, ভেসে যায়। এক জীবনের পিঠে ভর করে অন্যজীবন অজান্তেই দাঁড়িয়ে যায়- দিবানিশায়।

সৌন্দর্য নিখুঁত হয় না বলেই অনিবার্য দাঁড়কাক প্লুতস্বরে গায়নি কখনো, আর পাখনা বিহীন কেকা তীব্র বাদল প্রেমাসক্তে পুচ্ছে লুকিয়ে রাখে যাদুকরী ঝলক।

অশরীরী উপত্যকায় শরীরী খোঁজ যদিও অনর্থক; তথাপি কড়ই ফুলের তীব্র মাদক সুবাস যদি ছেয়ে যায় মস্তিষ্কের নিউরনে, কাঁচপোকার ঘন নীল দেহ আর কোন গুরুত্বই বহন করেনা।

মৃগণাভ কস্তুরির মতন অস্পর্শী প্রথম মঙ্গলালোক উপকূল ছুঁয়ে গেলে, মানবীয় দেহঘড়ি বিকশিত হয় অগ্নি অলকানন্দায়।
কবিকথন

 

প্রশ্ন ১ : কতদিন ধরে কবিতা লিখছেন আপনি?

উত্তরঃ নিয়মিত ভাবে বলতে গেলে প্রায় দশ বছর।

প্রশ্ন ২ : এটা কি আপনার প্রথম বই? প্রথম বই না হলে এর আগের বইগুলির নাম বলুন। এবারের বইটার নাম কি?

উত্তরঃ এটা আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। প্রথম বইটির নাম ছিল, ‘একদিন ঠিক হেঁটে যাবো’। এবারের বইটির নাম, ‘হাওয়াকল’।

প্রশ্ন ৩ : আপনি তো এই সময়ের একজন কবি। অনেকেই এখন ভালো লিখছেন। আপনার কবিতা/লেখালেখি তাদের তুলনায় কোন অর্থে আলাদা বলে আপনি মনে করেন – একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?

উত্তর : আমার কবিতা আলাদা কিনা তা বিচার করবেন পাঠক এবং সমালোচকগণ। যেহেতু স্বতন্ত্রতা-বোধ প্রতি কবিরই এক অন্তর্জাত বৈশিষ্ট্য ।

প্রশ্ন ৪ : আপনার নতুন বইয়ের কবিতা/গদ্যের বিষয়আশয় সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তর : জীবন বোধ, দর্শন, জীবনের সাথে পারিপার্শ্বিক সামাজিক অবস্থা ও তার বিষয় আশয়ের যে তুমুল বিরোধ অথবা সাযুজ্যতা  তথা রাজনীতি, ভালোবাসা, সম্পর্ক, বেঁচে থাকা সবই আমার কবিতার বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রাখতে চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন ৫ : অনেকেই বলছেন, এখন প্রায় সবাই একই ধরনের কবিতা লিখছেন। এ সম্পর্কে আপনার কী ধারণা – একটু বলুন।

উত্তর : উত্তর আধুনিক কবিতার শরীর প্রায় একই হওয়ায় কবিতা গুলো এক মনে হয় । চর্চা সবাই করছেন, সমসাময়িক হবার কারণেই হয়তো কবিতার আঙ্গিকে পরিবর্তন বা ভিন্নতা কম। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে কিন্তু প্রতিজন কবিরই কিছু স্বতন্ত্রতা নজর কাড়ে। মহীরুহ আর দেখা যাবে না, ঘাসের মতো জড়াজড়ি করে থাকা কবিতা এক মনে হলেও আলাদা এবং স্বতন্ত্র। আর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের ধারণাকে অস্বীকার করার মনোভঙ্গিটা অধুনান্তিক প্রবণতা সেটাও একটা কারণ।

 

গ্রন্থতথ্য

হাওয়াকল / আসমা অধরা / ভিন্নচোখ

প্রচ্ছদ : নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

মূল্য : নির্ধারিত হয়নি।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

  1. ব্যাস্ত, বেশী, ক্ষনেই, কৃচ্ছতা _—- একটি মাত্র কবিতা থেকে নিয়েছি। বানানগুলো শুধরে নিলে ভালো হয়। একটিই কবিতা পড়লাম। প্রচ্ছন্ন, প্রতীকী হলেও জৈব স্বাদ অস্বীকার করা যায় না। আমার ভালো লেগেছে।
    সিম্বলগুলোও যথার্থ বসানো দরকার। ড্যাশের কাজ হাইফেন দিয়ে সারলে ভালো দেখায় না। কোনো কোনো শব্দে স্পেস পড়েনি।

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close