Home কবিতা আহমেদ স্বপন মাহমুদ / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ > শ্রীমতি প্রজাপতি রায়

আহমেদ স্বপন মাহমুদ / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ > শ্রীমতি প্রজাপতি রায়

প্রকাশঃ February 28, 2017

আহমেদ স্বপন মাহমুদ / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ > শ্রীমতি প্রজাপতি রায়
0
0

শ্রীমতি প্রজাপতি রায়

 

জীবন সুন্দর। আসেন, জীবন উদযাপন করি।

আনন্দ করি।

তোমার সাথে দেখা। তুমি ঝলসানো সুন্দর।

ব্রজেশ্বরী তুমি। মায়া ও প্রেমিকা।

আকারে এসেছ। অন্তরে। মন হরে।

 

মনোহর বৃক্ষ তুমি। গহন বেদনা।

কায়াসঙ্গী তুমি। সাধনা। রূপ ও পরম।

 

রূপমাত্র বিভীষিকা।

আগুন।

 

আমি আগুনে ঝাঁপ দিলাম।

 

প্রেম এমন এক ধরনের দশা যার ভাবে মানুষ তার

সত্তার সন্ধান করতে পরে।

 

তোমার প্রেম মধুর। আমি মধুরস খাই।

বিষের সমান মধুরস।

 

তোমাকে ভাবি। ভাবতে থাকি মনে ও গোপনে।

তুমি জানো। আড়াল করো। আড়াল বেদনা।

 

বেদনা ভালোবেসে রাধা ও কৃষ্ণ মিশেছিল

বাতাসে, শ্বাসে, পরস্পরে। প্রেমে।

 

তুমি রাই অযথাই আছ অভিমানে লুকায়ে বিপিনে।

 

 

প্রেমিক হচ্ছেন একজন চাষী। চাষী মানে প্রকৃতি

ও ইন্দ্রিয়ের সমন্বিত রূপ।

 

তুমি নরম ক্ষীরের মতো মায়াময়।

মধুর।

দূরবর্তী থাকো।

 

তোমাকে চাই।

কিছু পাই নাই, না প্রেম ও সুরভা

না গন্ধ ও বিলাস।

 

তোমার অভিলাষ বহুদূরে রেখে

মায়া ও মুগ্ধতা মেখে

যে বাঁশি বাজে

যে সুর হারায়

 

অজানায়-

 

আমি তার দিকে চেয়ে কাটাই প্রহর

বিস্ময়ে, তুমি জড়িয়ে থাকো প্রজাপতি রায়।

 

অতলের ভাব ধরতে পারেন চাষী। ইন্দ্রিয়ের ভাব

ও বুদ্ধির ভাব একক যখন হয়, তখন একজন

চাষী প্রেমিক হয়ে ওঠেন।

মায়া লাগে তোমার জন্য।

তুমি উদয়ে থাকো।

তুমি ভালো।

 

মায়া নায়রির নাওয়ের তক্তার তলের মতন

ভিজে থাকে জলে।

 

মায়া অনলে সবসময় জ্বলে ছাই হয়।

 

ছাই উড়ে যায় প্রজাপতি রায়

হাওয়ার দীর্ঘশ্বাসে সে মিলায়

ঝরাপাতা হয়ে কোত্থেকে কই যায়!

 

কেউ জানে না দূরের ট্রেনের কলিজা

কতটুকু জ্বলে জ্বলে চোখের নিমেষে

অশেষে হারায়

 

তোমার মিতা ট্রেন আর তুমি প্রজাপতি রায়।

 

চাষী প্রকৃতির মতন। আনন্দ বেদনার

মতন। হীরকবেদনাবিন্দু, প্রেম

যেমন।

 

তোমাকে ভালো লাগে

 

তুমি দেখতে সুন্দর

প্রজাপতি

 

হরেক রঙের পাখনায়

উড়ে উড়ে কই যাও

 

বনে পাহাড়ে সায়রে

শরীরে ও মনে উড়তে থাকো

তুমি কি চাও

 

ক্ষীণ আয়ু যার- বাঁচো সাত দিন

বড়োজোর তিনশ পয়ষট্টি বার

রাধার অঙ্গ হতে জন্ম হলো সপ্তবার

সাতপাকে ঘুরে ঘুরে আসে

 

অনেক অনেক রং মেখে

তুমি নাচো, ওড়ো

 

উড়াও যে হাওয়া শীতে, উত্তাপে

মনেরে নাচাও

 

তারারাও হাসে

 

তোমাকে ভালো লাগে

ভালোবাসা নিমপাতার মতো অসহায়

 

তুমি সুন্দরবন, হরে প্রজাপতি রায়।

 

প্রেম বোবা-কালা, তাকে কিছু বলতে যেও না।

সে শুনবে না কিছু। তাকে নীরব থাকতে দাও।

 

প্রজাপতির জন্য নিশ্চয়ই তোমাদের মন খারাপ হয়।

এত সুন্দর রঙিন পাখা তার

দ্রুত মরে যায়।

 

আমি তারে রং মেখে ছড়িয়ে দেই দূরের হাওয়ায়

সে উড়ে যায়

দৃশ্য থেকে অদৃশ্যে হারিয়ে গিয়ে

 

কোথাও না-যাই

কিছু নাই

 

তাকে তুলে আনি পুনরায়

তুমি প্রজাপতি

উড়ে যাও বিষম খেয়ে রায়

গহন মায়ায়

 

তুমি বেঁচে থাকো, চিরসুন্দর প্রজাপতি রায়।

 

প্রেম হচ্ছে চিদানন্দ। পরমানন্দ।

আসেন পরমে মিশে যাই প্রেমে।

 

তুমি সন্ধিপদ প্রজাপতি।

 

তিন জোড়া পা, যৌগিক চোখ

আর দুটো এন্টেনা নিয়ে উড়ে বেড়াও

 

তিন ভাগে বিভক্ত দেহভারে।

 

এই ভার ত্রিতাপে জ্বলে

জন্ম-জরা-মৃত্যু নিয়ে মানুষ নিরলে

 

রাঙা রাঙা মেঘের ওড়াউড়ির সাথে

নাই হয়ে যায়

 

তোমার উজ্জ্বল পাখায়

রিপুসিক্ত মনে মধুরেণু পান করে

নিষেক ঘটায়ে সময় বয়ে যায়

 

ওই দূরে প্রজাপতি পত্রমোচী বনে ওড়ে

উপরে নিচে রঙিন ডানা ঝাপটায়।

 

প্রেম এমন এক অভিযাত্রা ফিরে

এসে দেখবে তুমি সেখানে নেই।

 

শ্রী শ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ

‘যদিদং হৃদয়ং তব, তদিদং হৃদয়ং মম’।

 

প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে।

তোমার কাঁধে এসে বসছে।

হাতে বসছে।

 

তুমি তাড়াচ্ছ না।

তুমি দেখছ রঙিন পাখা

তুমি দেখছ তার ওড়াউড়ি

 

বাঞ্ছাকল্পতরু তার পাখনায়

তুমি ভালোবাসছ রং ও বাসনা।

 

ঘুরে ঘুরে প্রজাপতি কই যায়

কোন দূরে সে পায়

নিজেরে আপনায়

 

আপনায় মধুর রস, প্রেমময়

নাওয়ের তক্তার তলার মতন

অনেক জলের মায়ায় জড়ায়

 

তুমি উড়ে উড়ে কই যাও

কোন বৃক্ষের মালায়

 

শ্রীমতি প্রজাপতি রায়।

 

 

 

 

সম্পর্ক হচ্ছে একটা মজার ব্যাপার।

আপন সম্পর্ক নিয়ে মানুষ উদাসীন।

আমি আগুন হতে জন্ম নিয়েছি।

আগুন মানে আকাক্সক্ষা।

আকাক্সক্ষা বেদনার সমান।

 

তোমাকে বাসনা করি।

বাসনা আগুনের সমান।

ঊর্ধ্বগামী।

 

অপরূপ জলের মতন

নিমগ্ন, আমি সমর্পণ করি

টলাটলের মধ্য দিয়ে

তোমার মাঝে হারাই।

 

তুমি আছ, তুমি নাই

জগৎরিপু বৃথাই

জীবাচারে বিনাশ হয়

 

রাই, জগৎময় দূরাশার বাখান

দুধ থেকে যে মাখন তৈরি হয়

তুমি মিশে আছ অন্তরমাঝে, প্রজাপতি রয়।

 

মৌনতা, সে-ও এক গভীর ধ্যানের

ভূগোল যে টলাটলে বাস করে।

মানুষ আজব শহরে লুকায়।

 

তুমি, প্রজাপতি উড়ে যাও কুয়াশায়।

তোমাকে ডাকি। শুনতে পাও না।

 

চোখ বিভ্রান্তিকর।

অন্ধ না হলে সে দেখতে পায় না

আপন সুরত ও মহিমা।

 

হীরকবেদনাবিন্দু তুমি।

প্রেম। জ্যোতির্ময়।

রসিক। প্রেমিকা ও মায়া।

 

ভ্রান্তিময় মতি। আজব রতিশীলা।

জন্ম নেয় প্রত্যহ প্রাণ। নতুন

বেদনা ও রোদন।

 

যে জন পদ্মহেম সরোবরে যায়।

 

তুমি অচিন পাখি

নিরালায় লুকায়ে মুখ কাঁদো, প্রজাপতি রায়।

যে বইয়ের পাণ্ডুলিপি থেকে কবিতাটি নেওয়া হয়েছে : শ্রীমতি প্রজাপতি রায়, পাওয়া যাচ্ছে বইমেলার লিটিল ম্যাগ চত্বরে ‘চিবিমা’র ৩৯ নম্বর স্টলে।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close