Home কবিতা আহমেদ স্বপন মাহমুদ > বুলেট ও জ্যোৎস্নার গল্প >> দীর্ঘকবিতা

আহমেদ স্বপন মাহমুদ > বুলেট ও জ্যোৎস্নার গল্প >> দীর্ঘকবিতা

প্রকাশঃ July 24, 2018

আহমেদ স্বপন মাহমুদ > বুলেট ও জ্যোৎস্নার গল্প >> দীর্ঘকবিতা
0
0

আহমেদ স্বপন মাহমুদ > বুলেট ও জ্যোৎস্নার গল্প >> দীর্ঘকবিতা

 

বুলেট ও জ্যোৎস্নার গল্প

 
১.
এ এক প্রকাশ্য বাসনা
যদি মরে যাই–
পুষ্পবৃষ্টি হয়ে পুনরুত্থানে
জেগে ওঠে, যদি

তোমাদের বুলেট ও জোৎস্নার গল্প বলি–
পূর্বপুরুষের ত্যাগের মহিমা–

নদী বেয়ে যত রক্ত বয়েছিল
মায়ার চোখে জ্বলেছিল হিম
হারানোর বেদনায়

তখনো কী তোমরা স্বীকার করবে না
আদি পুরুষ ও প্রকৃতির দানের কথা!

 
২.
যদি হতে পারো
প্রাণ ও প্রকৃতির প্রণয় হয়ে
উদার সন্ধ্যা বেয়ে চলে এসো।

রাত্রির গায়ে শুয়ে
সুপ্রাচীন ইতিহাসে ঘুরে এসে
পুনরায় দেখব সাত আসমানে
রূপ ও অরূপ

কী করে নিরাকার হয়ে
আমাদের অন্তরে গেঁথে আছে
প্রণয় বাসনা–

বাসনাহীনায়।

 
৩.
কুমড়াফুলের সৌন্দর্য্য আলাদা রকমের।

হলুদ কুমড়াফুল
তারা গুণে গুণে
ছড়িয়ে আছে মাঠে।

মাঠ, এক দীর্ঘতম দমের আবাস।

যার যত লম্বা শ্বাস
কেবল সেজন পারে
সরোবরে দিতে ডুব

প্রাণ ও প্রকৃতির এমন মাজেজা!

 
৪.
দাঁড়াবার কোনো জায়গা না থাকলে
সেখানেই দাঁড়িয়ে যেতে হয়।
বুকের চওড়ার সমান কিছু নাই আর
জমিনে।
আসমান, সে-ও শূন্যতার হাহাকার নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে।

দাঁড়াবার কৌশলই
জানাবে শেকল ভাঙার গান
কিভাবে গেয়ে জাগাতে হয়
শরীর ও প্রণোদনা।

দাঁড়াতে জানলেই কেবল দৌড়ানো যায়
পায়ের কসরত এতটুকু শুধু।

বাকী সব স্বপ্ন, অথবা সমাধি।
না হয়, মানুষ কেবল
হাতপা বিশিষ্ট সচতুর পতঙ্গ সমান।

 

 

৫.
সেচ জানি না
হুতোমপেঁচা না যায় ধরা
না তোমার মন
না আকার

সকল ধন যা আছে নির্ভার
নির্জনে
নির্জ্ঞানে পেতে তারে
সামান্যে যেতে হয়
অগোচর।

ধরতে পারি না
সরা জ্ঞান করে
অজ্ঞানে খেয়েছি ধরা

জ্যান্তে মরা
হয়ে চরণ পরে
লুটায়ে নিজেরে

মোকামে যেতে হয়।

 
৬.

কৃপা করো
সুনিপুণ ধাম
প্রণয়ে এসে
ভালোবেসে

অধরা

দাও ধরা নির্জনে
অ-জ্ঞানে

না মজে অসারে
সার করো, সত্য ধরে
পার করো
পরস্পরে

পরমে।

 
৭.
সেসব সুন্দরতার দিন
মলিন বিবসনা আজ
জমে আছে স্তুপাকারে
অবহেলায়–

নির্মমতার কোনো স্থানকালপাত্র নেই।
বন্দুকের নিশানা যেকোনো সময়
বদলাতে পারে দিক

দিগ্বিদিক যারা ওড়াচ্ছে অবলীলায়
হিংসা ও ঘৃণার গরিমা
তারাও বিলীন হবে পলে

কেবল ভালোবাসা জারি হলে
সৌন্দর্য্য জেগে ওঠে
স্বপ্ন ও সমুদ্রের গান গায়।

তখন সকল কালি ও কালিমা
নীলিমায় বিলীন হয়ে
দেখাবে আলোর মুখ।
প্রেম ও সৌন্দর্য্য কখনো থাকে না গোপন।

 

 

৮.
মরণেরও নিজস্ব ক্লান্তি আছে।

প্রণয়সিদ্ধ চন্দ্রমল্লিকা জানে
লাশে লাশে ছড়িয়ে পড়ার আনন্দ।

যে তরুণী শুয়েছিল
বিবস্ত্র জমিনে
ঘাসের ওপর মৃত

সে-ও আজ লানৎ দেয়
জীবিতের মুখে।

খুন হওয়া মানুষ তোমাদের মুখে
থুথু ছিটাতে ছিটাতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

লাশের মরণ হয় না কোনো।

 

 

৯.

জনম ফিরে পাবে না আর
দুনিয়ার বাসনায়
অন্ধ।

চিরকুটে লেখার নিয়তি হারিয়ে যাওয়া।
যেমন সন্ধ্যা হারায় রাত্রির সুরভা মেখে
রাত্রি ভোরে।

তুমিও হারাবে সায়রে
সাকার। নিরাকার
রূপে হবে তোমরও উদয়
সমুদয় পাপপূণ্য সদয় হয়ে

জাগাবে তোমায়

তুমি অক্ষম প্রাণের আকুতিমাত্র

বেভুল মত্ত ক্ষমতার রোশনাই
ফুরিয়ে যাবে
তখন ঘুমাবে রাত্রি ও দিন

সমীচীন মনে।

পাবে না জান কোনোদিন জীবনে।

 
১০.
নরম তুলতুলে পশমের একটা গুলি
আমার বুক ভেদ করে চলে যাবার পর
বুক থেকে রক্ত ঝরছিল।

তার চেয়ে বেশি অনুরক্ত ছিল প্রাণ
সাধে ও সাধনায়

দুনিয়ার রীতি এই
মরিবার কোনো কারণ লাগে না।

ইশ্বরেরা যেকোনো অজুহাতে
বন্দুক হাতে দাঁড়াতে পারেন সামনে

আসমান জমিন লম্বা ক্ষমতার
প্রমান লাগে না আর

কেবলি বুকে রক্ত ঝরে
কেবলি জাতীয় অন্ধকার
ক্রসফায়ার।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close