Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ ইউলিসিস > দীর্ঘকবিতা >> ফারহানা রহমান

ইউলিসিস > দীর্ঘকবিতা >> ফারহানা রহমান

প্রকাশঃ June 25, 2017

ইউলিসিস > দীর্ঘকবিতা >> ফারহানা রহমান
0
0

ইউলিসিস

যে ভুল ডেরায় তুমি জমিয়ে রাখছো

তোমার জলের পাতায় আঁকা আটপৌরে স্বপ্ন,

মজ্জায় মজ্জায় হামাগুড়ি দেয় যে

বিলাসী ড্যাফোডিল! অকস্মাৎ আলোড়নে

আলোকিত হয় শুঁড়িখানায় মত্ত নির্মল উৎসব

সারিসারি মটরশুঁটির বনে মৌমাছির কুহেলি চাক

কোন নীল হ্রদের আলিঙ্গনে, কোন আবেগের মাহেন্দ্রক্ষণে

নীড় বেঁধে তোমার জুড়াবে হৃদয়

কবে কোন মধ্যরাতে তোমার সঙ্গীতের দেহলিতে ছড়াবে আলোকবর্তিকা

পবিত্র আগুনের কণায় কণায় করছো শিল্পিত খোদাই

এমনকি দীর্ঘ কবিতার মতো

যতপণ্য তুমি সওদা করো এ বিমূর্ত জীবনে

শিল্পের ক্রিটিসিজমের নামে

শেষরাতের গভীর আদরে

স্ফটিক উইলো আর জলের পপলারে ভেসে আছো ভাবছো

তবু কি কখনও জেনেছো কোন হাইওয়ের সেই শেষ মাথায়

তোমার চূড়ান্ত গন্তব্যের অজানা আহ্বান থাকে…

হয়তো এসেছিলো চোখের কোটর থেকে ইশারার চোরাডাক

তোমার স্পর্শের তীব্রতায় লেখা ছিল যে ভিসুভিয়াস

চূড়ান্ত কামনার খাঁজে খাঁজে উদ্ভ্রান্ত লিবিডো

নাচের মুদ্রার মতো আশনাই

ও নিষ্ঠুর ডুবুরী

লোভ ও বিলাসের মতো জড়াজড়ি করে

ইন্দ্রিয় সুখের নামে পড়ে আছে তোমার মৃতদেহ

তোমার কঙ্কালের হাড়ে হাড়ে জমেছে বিড়ালের আয়েশ

হামাগুড়ি দেয় তাতে ব্রাজিলীয় চিতাবাঘ

তখনো তোমার মন বিষণ্ণতার বৃক্ষচর

কোথাও যখন ফেরা হয়না তোমার

ঈশ্বরের মতো হারমিসের ডানায়

তোলপাড় ওঠাও বুনো ঝড়ে

তখনো তুমি ধ্যানে মগ্ন রাতভর

সেই না ফেরা জলজ নাশপাতির বনে

জ্বরোতপ্ত তপস্যায়

হে স্যাফিয়ার দর্পণের ঘোড়সাওয়ার

ইউলিসিস!

 

রেণু থেকে রেণুতে ছড়াও যখন তুমি চৈত্রের উত্তাপ

সেলুলয়েডে মোড়ানো বিস্তীর্ণ সে ক্যানভাসে

উন্মোচিত হয়েছিলো তোমার সব মিথ্যে অনুভূতির ঘোরে

ট্রয় নগরীর বিধ্বস্ত প্রাচীরের শরীরে

কুমারীর কটিদেশে ঝুলে থাকে যে শিহরণ ও বিস্ময়

অবসন্ন প্রেমিকের ছায়ার মিছিলে লুকিয়ে থাকে যে পরাজিত মুখ

হে বধির হৃদয়। রিপুর ঊর্ণাজালে বন্দি হয়ে আছে তোমার উন্মাদ মস্তিষ্ক

গভীর আবেগ অবলুপ্ত হয়েছে সায়াহ্নের শেষে

শিকড়ের নিদারুণ কাঁটাছেঁড়ায় মৌনতা ভেঙে দেয়

যখন সাঁওতালী নাচ, সুষুপ্তি ছড়ানো আঁতুড়ঘরে

পণ্যের হাটে বিকোয় তোমার নিঃস্ব জীবন

সুখস্পর্শের ছোঁয়া লেগেছিল যে আত্মখননের পথে

সেখানেই আড়াল হয় তোমার জ্ঞান, ভাঁড়ামি আর দর্শন।

এই শূন্য ফাঁপা গহ্বরে কলঙ্ক মাখে ইনসোমনিয়া অথবা কলেরার

দিনগুলোতে যে ভালোবাসা খেলা করে

ব্ল্যাকপার্ল তাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেছে জীবন্মৃতদের দেশে।

আর যে শ্রাবণদহন দোলা দেয় দেবদারু বনে

তার কসম। ওই নিভে যাওয়া চোখের আগুন

আবছায়া অট্টহাসি। শৃঙ্খল দুয়ারের

অথচ কি ভীষণ উত্তাপে ঝলমল করে ওঠে গলিত লাভা

পুড়ে পুড়ে ছাই হয় বিষণ্ণ এস্রাজ

ঘোরলাগা ছায়ার দীর্ঘশ্বাসে

কে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল বোলো

হে ইউলিসিস!

হে সংসার? হে সমাজ?

কোন ব্যাথাতুর অতীত ইতিহাস

গোপন বিষয়ের ভারে ঢাকা পড়ে থাকে

এই যে এতো বিদেহী মায়া, তীব্র অঙ্গীকার

কোন সংখ্যাহীন দীর্ঘতায় এভাবেই বাড়ে?

বোলো হে জাদুকর!

হে ইউলিসিস,

কোন মর্মর পাথরের বুকে রেখে এসেছো আমার প্রাণ ভোমরা

কোন পুরাতন শতচ্ছিন্ন দিবানিশি

কোন সন্ধিক্ষণে করুণ সিম্ফনি

নিদ্রায় বিলীন হয় ব্যর্থ সিঞ্জনে

বোলো হে ঘোড়সাওয়ারি,

হে ইউলিসিস!

এই বিমূর্ত সকালের গায়ে

ঢেউ তোলে যে রঙধনুর স্বপ্ন ক্যানভাসের গ্রীবায়

গমরঙা মায়াবী সংঘাত ভেসে থাকে নাভিপদ্মে

সূর্যকণার মতো মানবজন্ম বিশুদ্ধ হয়

হৃদয় নিংড়ানোর মতো ফোঁটা ফোঁটা অহংকারের

আকুলমায়া ডাহুকডাকা অনাদি ভোরে

বিষণ্ণ আলোকণার উৎসমুখে তুমি দেখেছো

কতো জলজ কন্যারা যেখানে নিরুদ্দেশ হয়

মহাশূন্যের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে

নীল চৈতালি বাতাসে মুখ লুকায় বারবার

কুয়াশামানবীর মতো। আমিও তখন

নদীর অলস নীরবতায় ভেসে থাকি

ওই তীব্র অনলের দাবদাহে। পতঙ্গের মতো ঘন

অবিনাশী নিভু নিভু পিদিমের গায়ে।

যতবার পালাতে চেয়েছি সময়ের বালিয়াড়ি ছেড়ে

শুধু দেখি আগুনের হল্কা ওঠে পাথরের পাঁজরে

জসদগাছের বিবর্ণ ছাই থেকে বেণুর তীব্র জ্যোতি পোড়ায় নগর

তবু বিষাক্ত হেমলকেও মুক্তি মেলে না প্রেমিকের ।

প্রেম তো গঙ্গার জল, বিষও সেখানে অমৃত হয়ে ওঠে

প্রেম তো কৃষ্ণেরই বাঁশী আর রাধার কৃষ্ণ

প্রেম সপ্তসুরের ঝংকার, সুরের লহরের  ইথারে  ভাসে।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close