Home ছোটগল্প ইশরাত তানিয়া > সম্পূর্ণ কিংবা আধেক মানুষ >> ছোটগল্প

ইশরাত তানিয়া > সম্পূর্ণ কিংবা আধেক মানুষ >> ছোটগল্প

প্রকাশঃ November 6, 2017

ইশরাত তানিয়া > সম্পূর্ণ কিংবা আধেক মানুষ >> ছোটগল্প
0
0

ইশরাত তানিয়া > সম্পূর্ণ কিংবা আধেক মানুষ >> ছোটগল্প

 

[আজ গল্পকার ও কবি ইশরাত তানিয়ার জন্মদিন। তীরন্দাজ ইশরাতের লেখা গল্প পোস্ট করেই তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আগামী দিনগুলি ইশরাতের সৃষ্টিশীলতায় ভরে উঠুক।]
পিঙ্গলকেশী খালি পায়ে বেরিয়ে গেছে। জামার ফিতা খুলে বরফকুচি বিঁধছে গায়ে। তুষারঝড় ঠেলে হাঁটছে বেহুঁশের মতো। পায়ের আঙুলের ডগা নীলচে অবশ। রুটম্যাপ নেই। কাঁধে নেই রুকস্যাক। শাদা আর শাদায় ছেয়ে আছে বিরান পাথার। ওদিকে কিচ্ছু নেই। বাকিটা অন্ধকারের। বিশাল থাবার শ্বেতভালুকের। মরবে। মরবে। অ্যাবসোলুট ভোদকায় চুমুক দেই। চুপচাপ দেখছি সবই। বলছি না কিছুই। আসলে কিছুতেই বলে উঠতে পারিনি। কাউকে তাড়িয়ে দিয়ে কী করে বলা যায়- ওখানে যেয়ো না!
চোখের ভারী দুটো পাতা খুলে গেল। রু চলে যাবার অনেকদিন পর স্বপ্নটা দেখলাম। ভোদকার ব্যাপারটা শুধু যোগ হয়েছে। ছেড়ে যাওয়া স্বপ্নটা চোখ বুজে আবার আনার চেষ্টা করি। আসে না। বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুলের খুব ভেতরে টন টন করে। ঠিক কোথায় বুঝি না। হাত দিয়ে দেখতেও ইচ্ছে করে না। সিগারেট খেতে ইচ্ছে করে না। টয়লেটে যেতে ইচ্ছে করে না। অভ্যাস মতো বালিশের নিচে হাতড়ে সেল ফোন খুঁজি। আজ সাপ্তাহিক ছুটি। সময় না দেখলেও চলত। তবু দেখলাম সাতটা উনিশ। বালিশ উল্টেপাল্টে শুয়েই থাকি।
রুদাবা চৌধুরী শেষ ইমেইল পাঠিয়েছিল তিন বছর আগে। ২৯ ফেব্রুয়ারি। এরপর স্বপ্নটা এসেছে তিনবার। অনেকটা ধারাবাহিক ভাবে। প্রথমবার দেখলাম চুনিরঙা চুলের এক মেয়ে। দরজা ঠেলে ঘরের বাইরে চলে গেল। কে বলে স্বপ্নে মানুষ রঙ দেখে না? দ্বিতীয়বার, ঘর থেকে বেরিয়ে মেয়ে হাঁটছে। হেঁটেই চলছে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য। বরফমোড়া চারদিক ধবধবে। প্রচণ্ড তুষারঝড়ের মধ্যে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে। তৃতীয়বারের স্বপ্নে এসবের সাথে যোগ হলো আমার দর্শক চরিত্র, ভোদকা সহযোগে।
রু, রু… ডাকলেই তামাটে মেয়ে ৪৫ ডিগ্রী ডানে একটু ফিরে তাকাতো। তখনও বোঝা যায়নি, জীবনে ওকে আর পাওয়া যাবে না। রুয়ের সবই অভিনব। লিপইয়ারের দিনটিতেই গায়েব হয়ে গেল। তবু কুয়োর গায়ে লেগে থাকা দড়ির মতোই আমার অনুভবে রু লেগে আছে। কুয়ো শুকিয়ে গেছে। অথচ বুজিয়ে দিতে কেমন মায়া লাগে।
সকালে কিশমিশ দেয়া হোলগ্রেন কর্নফ্লেক্স, লো ফ্যাট দুধ ঢেলে খেত রু। কলা কেটে দিত টুকরো করে। খেত সবজীসেদ্ধ, স্প্রাউটস আর মাছ। এসব নাকি হাড় ভালো রাখার ডায়েট। বাজার থেকে ফিরেই বলতো। জিনিসের কী দাম! অথচ পুরো বাড়ি অ্যান্টিক জিনিস আর ট্রাইবাল মুখোশে সাজিয়েছিল কী অপূর্ব! ইনডোর প্ল্যান্টস ঘর জুড়ে। ফুলগাছের সারি বারান্দায়। অগুনতি বই বুকশেলফ আলো করে হাসছে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে কেমিস্ট্রি পড়াত রুদাবা। বেতন ভালোই। হাতে দুটো ক্রেডিট কার্ডের লিমিট বাড়িয়ে নিয়েছিল। খরচপাতির আর সমস্যা ছিল না।
খোলা জানলা দিয়ে এই সকাল বেলাতেই ধোঁয়ার গন্ধ ভেসে আসে। সুদীর্ঘ একটি নিঃশ্বাস ফুসফুস থেকে বেরিয়ে সেই শুকনো পাতা পোড়ান ধোঁয়ায় মিশে যায়। ঝকঝকে উজ্জ্বল রোদে ঘর ভরা। এতো আলোয় চোখ বুঁজে থাকাও বিরক্তিকর। ফুল স্পীডে ঘুরতে থাকা ফ্যানটা কমিয়ে দিলে আরাম লাগত। হাত বাড়িয়ে কাগজটা নিই। কাল রাতে পড়তে গিয়েও পড়া হয়নি। চোখ বুলাই ডেইলি স্টারের বিজনেস আর স্পোর্টস-এর পাতায়। ধূসর আর লালচে রঙের ওপর কালো কালো অক্ষরে লেখা সব। সেও তো পেছন ফিরে দেখাই, যদি খবরের কাগজটা হয় গতকালের। ভাবছি, আজ পুরনো বইয়ের পাতা উল্টিয়ে, পুরনো মুভী দেখে নিজের সাথে সময় কাটাবো। একেক দিন এমনই ইচ্ছেয় বাঁচা।
বেশ ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। গায়ে রোদ জড়িয়ে হেমন্তের আকাশ শুয়ে আছে মেঘবালিশে। সময় গড়ালে মৃদু ঝাঁঝ ছড়াবে। মুখে পানির ঝাপটা দিতেই শীত শীত আমেজ। আয়নায় তাকিয়ে দেখলাম নিজেকে। চুলে কিছু পাক ধরেছে। আনমনা হয়ে দু দিনের না-কামানো দাঁড়িতে হাত বুলিয়ে দেখলাম। সেখানেও কিছু রূপালী ঝিলিক। ঘোর কাটল মোবাইল ফোন বেজে ওঠার পর।
খাটের ওপর ফোন কাঁপছে সুরে সুরে। স্ক্রীনে সামিউল নামটা দেখেই ভ্রু কুঁচকে গেল। এরিক ম্যুলার আসছে। সাউথইস্ট জোনের হেড। জাতে জার্মান। ফ্লাইট ল্যান্ড করবে দুপুর তিনটায়। মি. ম্যুলারকে রিসিভ করতে এয়ারপোর্টে যেতে হবে। ফ্লাইট দেরী হলেই মুশকিল। অবধারিত বসে থাকতে হবে। ছুটির দিনে অন্য কোনো সহকর্মীকে এয়ারপোর্টে যাবার অনুরোধ করা অন্যায্য। জেলি মাখানো ব্রেডে কামড় দিয়ে ইমেইল চেক করলাম। সেখানেও সামিউলের ইমেইল। কালকের মধ্যে সেলস রিপোর্ট ফাইনাল করতে হবে। পরশু রিপোর্ট প্রেজেন্টেশান ম্যুলারের সৌজন্যে। ফোন ফেলে রাখলাম পাশে। পরশু এখনও দেরি আছে। কেট্লে গড় গড় করছে কফির পানি।
আলোগোছে আলস্যে পুরনো ইমেইল খুলে পড়ি। আমি লিখেছিলাম- রু, তুমি বিশ্বাসী। তুমি কি বোঝো ঈশ্বর এক বোধের নাম? তুমি কি জানো আকাশে অল্প কিছু নক্ষত্র এলে কোথাও আলো জ্বলে থাকে? রাত গভীর হলে অচেনা পথে যে হেঁটে যায়, তুমি তাকে চেনো?
সকালে রু উত্তরে লিখেছিল- কী কী সব অদ্ভুত ভালো কথা ইমেইলে লিখে গেছো রাতে। ছিন্নমূলের নিঃস্ব বাটি পরমান্নে এভাবেই ভরে ওঠে। যতই পড়ছি আকাশ থেকে যেন মিষ্টি রোদ নামছে গুঁড়িগুঁড়ি। মনে হলো হু হু শীতে কে যেন পেছন থেকে অনুভবের চাদর পরিয়ে দিল! পৃথিবীর সব আলো নিভে গেলে যে জেগে থাকে, তাকে আমি চিনি।
আচমকা স্মৃতির ধুলো ওড়ে। সে ধুলো চোখে পড়লে, একটু ভিজে উঠতেই পারে চোখ। তাই হয়তো স্ক্রীন ঝাপসা দেখি। অক্ষরগুলো জলে পড়া ফোঁটা ফোঁটা কালির মতো ধীরে ছড়িয়ে যায়। রু ছিল তালগাছের উঁচু ডালে বসে থাকা একটা বাবুই পাখির মতো। নিচে তাকালে যার মনে হতো, যেন পুকুরে পড়ে গেছে। গাছের ডালে বসেও কী ভীষণ ডুবে যাবার ভয়! এমনই তো ছিল রুদাবা। অথচ কী ডুবটাই না দিল। সরে গেলো হাজার মাইল দূরে।
যৌথতার চার বছর ফুরিয়ে গেল কত দ্রুত। আমার একশ চব্বিশটা ইমেইলের উত্তরে দুটো রিপ্লাই দিয়েছিল। কোনো এক ট্যুরিস্ট স্পট হবে। তেমনটাই মনে হয়েছে ইমেইল পড়ে। সাগরঘেঁষা পাহাড়ের ওপর সেই এক টেম্পল। লিখেছিল, এক সূর্যাস্তের কথা। সন্ধ্যায় আকাশের নিচে প্রার্থনা গীতে, অপার্থিব সুরের বিস্তার শান্ত সাগরে। হাজার হাজার পর্যটক নিশ্চুপ। আচ্ছন্ন হয়ে আছে লালচে সোনালি মৃদু আভায়। লিখেছিল, খুঁজো না। ভুলে যেও।
চার বছর আগের একদিন। আম্মা ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিল- রু কই? কোথায় গেছে সে?
তোমার কী দরকার? জানি না। এই বলে ফোন কেটে দিয়েছিলাম।
কানে হেডফোন গুঁজে খুব নাচত রু। ইচ্ছে মতো। একা ঘরে, একমনে। বারগেন্ডিরঙা চুল তখন উড়ছে ফুলস্পীড ফ্যানের হাওয়ায়। ওর কীর্তিকলাপে আমি থ! আমাকে দেখেই একগাল হাসি। হেডফোন ছুঁড়ে ফেলে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়া। মৃদু সুগন্ধীর মোহনীয়তা। কোনোদিন ইচ্ছে হলো তো গোলাপি টপ খুলে শাড়ি। হয়তো কচি কলাপাতা জমিতে হলুদ পাড়। একদিন আঁচলের প্রান্তে ঝালরের মতো সুতোর গুচ্ছ দেখিয়ে বলেছিল- এগুলো কী জানো?
– না তো!
– পমপম।
– সে তো আমার কাজিনের নাম! অনিকেত মামার ছোট মেয়ে।
– পমকে তুমি ভালোবাসতে?
দূরত্ব উপহার দিয়ে রু চলে গেছে। অথচ একটা চুল পেঁচিয়ে রইল ব্রাশে। খুব পরিষ্কারের বাতিক। কেমন করে চুলটা থেকে গিয়েছিল কে জানে? বারগেন্ডি মসৃণ। শুকনো অব্যবহৃত নেইল পলিশ আর কিছু তেলরঙ। সেগুলোও কোনোদিন টিউব থেকে বেরিয়ে আসেনি। এর আগের ইমেইলে লিখেছিল কোনো এক মিউজিয়ামে পার্ট টাইম চাকরী নিয়েছে। হাতে বানানো সোনা-রূপার আর্টিফ্যাক্টসগুলো খুব টানতো ওকে। আর দেয়ালে ঝোলানো পেইন্টিংস। বিশেষ করে ওকে সঙ্গ দিয়েছিল মনের ‘ওয়াটার লিলি’। তারমানে রু তখন টোকিওতে। কালচারাল ম্যানেজমেন্টের ওপর একটা ডিপ্লোমা করেছিল। সেটাই কাজে লেগেছে।
আজ রু’র জন্মদিন। রু থাকলে এই ছোট ফ্ল্যাটেই পার্টি জমে উঠত। কলিগ আর নতুন-পুরনো বন্ধুরা মাতিয়ে রাখত সন্ধ্যা থেকে রাত। টেবিলে উপচে পড়া গিফটের প্যাকেট। বাচ্চারা এক ঘরে ব্যস্ত কার্টুন চ্যানেল আর কম্পিউটার গেমসে। বন্ধুর বউরা অবিরাম গল্পের ফোয়ারা ছুটিয়ে দিত। আরেক ঘরে চলত ড্রিঙ্ক-মিউজিক-হাসাহাসি। বিশেষ দিনে বারান্দায় মাটি আর পিতলের প্রদীপ জ্বালাত রু কিংবা মোম জ্বালিয়ে দিত। মোমের আগুন প্রিয় রিল্যাক্সিং আর সেন্স্যুয়াল সুগন্ধী তেলের সুবাস ছড়িয়ে দিত চারপাশে।
দিনভর রান্নায় ব্যস্ত রু। নিজ হাতে অতিথিদের রান্না করে খাওয়ানো ওর শখ। অদ্ভুত অদ্ভুত নামের সেসব রকমারী খাবার। ওর সর্ষে বাটা দিয়ে ইলিশ আর লেমন পিপার চিকেন আমার ভালো লাগত। চৌত্রিশে পা দিয়ে রু নিশ্চয়ই এখন আরো আকর্ষনীয়, আরো পরিণত ব্যক্তিত্বময় হয়েছে। অন্তত এ রকম ভাবতেই ভালো লাগে।
বারান্দায় অন্ধকারে অনিন্দ্য সেদিন তীব্র অভিমানী হয়ে উঠেছিল। মোমবাতি মৃদু সুগন্ধ আর আলো ছড়িয়েছে চার কোণে। মায়াবী গলায় সে বলছিল, আমি তোমাকে যা দিতে পারি, রু কি তা পারবে? প্রবল চাপা কষ্টে অনিন্দ্য জড়িয়ে ধরেছিল। যাকে ও ভালোবাসে সে অন্যের, এটা কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ম্লান আলোয় অন্ধকার যেন আরো সুবিপুল। নইলে ওর চোখে হয়তো স্পষ্ট একটা ব্যথাহত ঈর্ষাময় চাহনীর ঝিলিক দেখা যেত। অনিন্দ্য নীরব অভিব্যক্তি দিয়ে আমাকে কিছু বোঝাতে চাইছিল কিংবা বুঝতে। হয়তো একটা দীর্ঘ চুমু, আগের মতোই তীব্র আদর পেতে চেয়েছিল মোহে। অনিন্দ্য সত্য। সত্য অনিন্দ্য আর আমার অন্যরকম ভালোবাসাও। নিজেকে ছাড়িয়ে না নিয়ে শান্তভাবে ওর পিঠে হাত রেখেছিলাম। আমার খোঁজেই বারান্দায় এসেছিল রুদাবা। অফহোয়াইট জামদানী রাতের অন্ধকারে খুব ভালো ফোটে।
রাত দুটো হবে। অতিথিরা ফিরে গেছে। সুনসান হাটভাঙা হয়ে আছে ঘর। খোঁপা থেকে বেলীর মালা খুলে ছুঁড়ে ফেলল রু। তীব্র আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ল। রু’কে বোঝাতে পারিনি, কিছুই হয়নি। আঁচড়ে, খামচে চিরে দিল চামড়া। সপাটে চড় দিয়ে বলেছিলাম- দেয়ার’স দ্যা ডোর। গেট লস্ট। ডাগর চোখে পৃথিবীর সমস্ত বিস্ময় নিয়ে তাকিয়েছিল রু। দুবার হেঁচকি উঠল ওর গলা বেয়ে। খুব স্বাভাবিক ভঙ্গীতে ফ্রিজ খুলে ঢক ঢক করে পানি খেলো। ব্যাগে কিছু কাপড়চোপড় নিয়ে নিস্তব্ধ চলে গেল। তাহলে হয়তো সম্পূর্ণ গড়ে ওঠে না কিছুই। যতটুকু হয়ে ওঠে, অনিবার্য হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। উত্থান-পতন আছে সব কিছুরই। সেটা সম্পর্কই হোক কিংবা সভ্যতা। অনিন্দ্য আর ফিরে আসেনি। ছেড়ে যেতে না-চাইলেও, ছেড়ে যেতে হবে বলেই হয়তো সেই সন্ধ্যায় অমন আঁকড়ে ধরেছিল।
সকাল এগারটা দশ। তেতাল্লিশ ইঞ্চি প্লাজমা টিভিতে খবর চলছে। জাতিসংঘের ধারণা, সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে… তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অধিকার নিশ্চিতে আইন জরুরি… রুদাবার ওপর খুব রাগ হয় আমার। কোথায় খুঁজব রুকে? ইমেইল ধরে ধরে কি আর নাগাল পাওয়া সম্ভব? নির্মাণাধীন ভবনের রিজার্ভ ট্যাংকে পড়ে শিশুর মৃত্যু… রু কোথায় যে হারিয়ে গেলে! কত কথা লিখতে চেয়েছি… মেনি হ্যাপি রিটার্ন্স অফ দ্যা ডে… তুমি কি এখন জাপানের কোথাও আছো? নাকি ইন্দোনেশিয়ায়? নাকি আরো পুবে সরে গেছো? অস্ট্রেলিয়ায়? লিখেছি ব্যাস এটুকুই।
একঘেয়ে গলায় খবর পাঠ চলছে। ভূমিকম্পের পর জাপানে সুনামির আঘাত… কোথায় তুমি, রু? রেডিয়েশান ছড়িয়ে পড়ছে ফুকুশিমার পারমাণবিক চুল্লি থেকে… টিভি অফ করে নৈঃশব্দ্যে ডুবে যাই। রু’কে লেখা হয় না কিছু। অবসাদ ঘিরে ধরে। আসলে কিছুতেই লিখে উঠতে পারি না, যা কিছু লিখতে চাই। তাড়িয়ে দিয়ে ওকে কী করে লেখা যায়- ওখানে যেও না! যৌথতার জীবন অতিক্রম করে সে চলে গেছে। কোথাও যেন আমিও পৌঁছতে চাই প্রাণপন। পারি না। আপাতত এয়ারপোর্টে যেতে হবে। ফ্লাইট অন টাইম দেখাচ্ছে।
দেয়ালে ঝুলছে রুদাবার প্রিয় টিবেটান মুখোশ। যক্ষের ধুলোধূসরিত নিষ্প্রাণ চোখ, নির্লিপ্ত তাকিয়ে দূরে কোথাও…

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close