Home কবিতা এই সময়ের ১০ কবির একগুচ্ছ নতুন কবিতা > এমরান কবির / কামরুল ইসলাম / জিনাত জাহান খান / রাজর্ষি মজুমদার / রাজিয়া সুলতানা / দেবাঞ্জন দাস / দেবার্চনা সরকার / সিপাহী রেজা / স্বরলিপি / শুভ আঢ্য

এই সময়ের ১০ কবির একগুচ্ছ নতুন কবিতা > এমরান কবির / কামরুল ইসলাম / জিনাত জাহান খান / রাজর্ষি মজুমদার / রাজিয়া সুলতানা / দেবাঞ্জন দাস / দেবার্চনা সরকার / সিপাহী রেজা / স্বরলিপি / শুভ আঢ্য

প্রকাশঃ July 10, 2017

এই সময়ের ১০ কবির একগুচ্ছ নতুন কবিতা > এমরান কবির / কামরুল ইসলাম / জিনাত জাহান খান / রাজর্ষি মজুমদার / রাজিয়া সুলতানা / দেবাঞ্জন দাস / দেবার্চনা সরকার / সিপাহী রেজা / স্বরলিপি / শুভ আঢ্য
0
0

এমরান কবির

কুয়াশালিপি

কুয়াশা ছড়িয়ে যায় ছাপিয়ে দুকুল
সেই শোকে ঝরে পড়ে ব্যথিত বকুল
ব্যথিত বকুল কাঁদে বঞ্চিত বাগানে
বালিকার বুকে বুকে তাহার লগনে

হিমগুলো তুলে রাখি সরিসার ফুল
ফুল থেকে শুষে নেব কামনার কুল
কুল থেকে যাব চলে যাযাবর খালে
খালের ভেতর থেকে বাসনার ডালে

উড়ে যাই দূরে যাই সকল মধুর
ছুঁয়ে যাই সবকিছু সকল বধুর
দিয়ে যাই সব শীত সুকরুণ মাপে
বধুর বুকের মাঝে মোহনীয় তাপে

এতসব কলরব যাবে সব ভেসে
বালিকার তাপ যদি ছড়ায় বাতাসে
বাতাসে বাতাসে হায় উষ্ণ অভিসার
কবে তুমি দেবে বলো বসন্ত বাহার!

 

কামরুল ইসলাম

কবেকার পুরনো বিলাপ

নিশাত, বড় নির্জন তোর হাত

ঘেমে যাওয়া গাছের গল্পে তুইও আছিস

বুঝেছিস ইঁদুরের উৎপাত,

          বেড়ে গেছে বেশ।

রোদ ও গানের কিনারে গলে পড়ছে

নতজানু মোম, মরে গেছে টিয়ে-ভোর

বেহালার মন

বাঁশপাতা মাছের যৌবন, তীরে তীরে;

এখানেই থেমে যায় পথ

কবেকার পুরনো বিলাপ, রঙিন বসত।

খা খা গ্রীষ্মের রাতে বর্ষা এঁকে বুকে

নেমে এসো নিশাত নিদ্রাহীন পালকের টানে…

 

জিনাত জাহান খান

কাকতাড়ুয়া

আমাকে ঘিরে ধরেছে যে ঘর, তার পাশে বারান্দা; আমি বেড়িয়ে যেতে চেয়েছি এইসব প্রচলিত থেকে যাওয়া থেকে; কারণ আমার আলাদা ভ্রমণের ফ্যাকাসে শীতকাল কনকন করে কেঁপে এলোমেলো করে স্বচ্ছতার ধরন! ভ্রমণ, পাশে শুয়ে থাকো; ঘনিষ্ঠ জড়াজড়ি করে তুফান আনি জলে। তোমাকে যে তাড়াতে চায় তাকেই ভালোবাসো, কাক। তাহলেই ফসল বাঁচানোর একঘেয়ে  প্রতিরোধ থেকে বেঁচে যাবে কৃষক ।

জীবন, দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি তোমার খোলস হয়ে! আমাদের কোন ব্যথা নেই একথা আমি বসন্তকে বলে রেখেছি।

 

রাজর্ষি মজুমদার

বসন্তমঙ্গলের দিনে

“সুন্দর হৃদি রঞ্জন তুমি নন্দন ফুলহার …”

 

তোমায় রঙ নিয়ে দেখেছি,

দেখেছি দু এক কুর্চি গানে।

 

তা ছাড়াতো এই দোল শুধু –

                নিশ্বাসপ্রবণতা।

 

আমাদের হাঁটাগুলি আলেখ্য হয়ে ওঠে

বিন্যাস উড়তে থাকে আবিরের।

 

এ আসলে ছায়ার জন্য থাকা চোখ,

দূর দেখছে

দুপুর দেখছে

 

ক্রমশ সবুজ হয়ে উঠছ তুমি গাছের।

 

রাজিয়া সুলতানা

বিন্দুবৃত্তে

শেকড়ে কেটেছে সবুজ উদ্ভিন্ন বাতাসের ছুরি

বীজের ফসল নষ্ট হয়েছে ভর মৌসুমে –

এখনো আকাশ নুয়ে সমুদ্রের জলে

রাত্রি রাত্রি খেলা হলে অবসান-

শিশির খেলে পত্রপল্লবে।

প্রস্ফুটন কি তীক্ষ্ণ আঁচড়,  নাভিমূলে?

নক্ষত্র যেমন ছিটকে পড়ে কখনো

নিজস্ব স্খলনে?

সূত্র ছত্রে গেঁথে দৃষ্টি পরমায়ু

চলমান স্বচ্ছ দ্রুততায়

নিঃশেষে শ্রুতি পেয়ে গেলে

নিউরনে যেটুকু রয়ে যায়- সেটুকুই জয়…

 

দেবাঞ্জন দাস

নরম বাঘের গল্প

এক বারান্দা দৌড়

শব্দ হতে বসেছে গ্রাসে গ্রাসে

স্বপ্নের ভাত হবে

তথাপি সতর্ক পাহারা

এবার ডাকাতির কথা

বলব উনুনের মাংসেরা কেমন করে গান হল

পৈতে খোলার দিন এসেছে

আজ সব মাংসই বাজছে, কাঁপছে মৃদু

দিনের শেষটাকে সূর্যাস্তই কোরো প্রভু

একটু চাঁদ ছুঁইয়ে দিয়ো

যদি জীবনের কথা বল, আঙুল থেকে রঙ মাখতে মাখতে

ভাতগুলো পৃথিবীর রূপকথা হয়েছে…

জমির আলপথ বেয়ে নামি

চোখকে মৃদু ধমকাই— ওরে তোর বয়স বাড়ছে

বিজনকে আঁখিপল্লব দিলি

আর বাচ্চাদের শিস লেগে নরম হল বাঘের গল্পরা …

 

দেবার্চনা সরকার

ঈশ্বরের বাগানে

[বাবু-কে]

কবিতা লিখিনা আমি আর,

মৃত সেই ফুলগুলি চারপাশে ছড়িয়ে রেখেছি,

তোর ওই অন্ধকার,

তোর ওই আলোর কথা ভাবি

 

আর এক পৃথিবী থেকে ট্রেন আসে রাতের স্টেশনে

আমরা যে যার ঘুমে গাঢ় হয়ে থাকি

 

একটি একটি করে তারা ফোটে ঈশ্বরের বাগানে ।

 

সিপাহী রেজা

তিনটি কবিতা

১)

সেট ক
একটা অন্ধ লোককে বোঝাতে হবে মেঘ দেখতে কেমন অথবা শেখাতে হবে পানি গড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্য।

সেট খ
একজন অন্ধ লোকের কাছ থেকে বুঝে নিতে হবে কীভাবে শরত আর বর্ষার মেঘ আলাদা করা যায় অথবা শিখে নিতে হবে ক্রমশ এগিয়ে আসা পানির ঘ্রাণ।

পূর্নমান ৫০, সময় ত্রিশ মিনিট, ০৩ মে ২০১৭

২)

ঘাপটি মেরে পড়ে থাকা অন্ধকার গলির ভেতর থেকে দৌঁড়ে বেরিয়ে আসা এক রিভলভার আর তার নলের ভেতর জমাট অন্ধকার ঠাসা বুলেটের ভয়–যে আমার দিকে তাক করে ধরে ছিল সে যুবকের চোখেমুখে তেমন কোন তাড়া ছিল না কিন্তু আমার ছিল, তাই সব বের করে দিতে গিয়ে জানলাম তার আর কিছু নয়, চাই আমার পায়ের তলার মাটি।

সর্বস্ব, ২৩ মার্চ ২০১৭

৩)

সিজোফ্রেনিয়া শব্দটা গ্রিক শব্দমূল Skhizein অর্থাৎ to Split বা বিভক্ত করা এবং phrenos মানে mind বা মন থেকে ট্রেনটা ভাবছে সে একটা পাখি, মনের জোরে কল্পনায় অর্ধেক সে উড়তে গিয়ে বাকি অর্ধেক আমি পথ হারায়ে ফেলছি, তার মধ্যে ঈরশ্বদী জংশনের বৃষ্টি–ডানা ছাড়া উড়তে গিয়া ক্যান তুই আমার গায়ের উপর পড়লি?

সিজোফ্রেনিয়ায় বাজে হুইসেল, ২০ এপ্রিল ২০১৭

 

স্বরলিপি

প্রত্মতাত্ত্বিক ফাল্গুন

কারো হাত ছুঁয়ে আসা ফুল ছুঁয়ে দেখিনি

একটা হাস্নাহেনা লুকিয়ে নিয়ে বেড়াই

ঘুমন্ত সাপের ভিড় ঠেলে চলতে থাকি

সাপ জেগে উঠলে ঘুমিয়ে যাই;

 

আমরা একসঙ্গে পৃথিবীর দুয়ার খুলি না।

 

দক্ষিণের জানালায় হেলান দিয়ে দেখেছি

জীবন-মরণ কাছাকাছি এলে-

মানুষ হয় শঙ্খচিল।

 

পড়ে থাকে প্রেম আর সুরভী

ফুলগুলো তার জাদুঘর।

 

শুভ আঢ্য

হান্ড্রেড পাইপারস

একশোটা সুরে সে ডাকে
আমি সা         ড়া দিই
আমার রে হারিয়ে গিয়েছে জলের তলায়
অর্থাৎ আমি সেই অন্ধকারেই আছি, সে-ও মুখ নীচে আর পা
ওপরে করে মা-র পর ধা বসাচ্ছে, স্যাণ্ডেলের গোড়ায়…
আমাদের সুরের খোঁজ কোনো পোস্টম্যান জানে না

 

তাদের পোস্টমর্টেম করা হয়, যা কিছু নি আমরা… আর
ডাকে সা            ড়া দিই সেগুলো পর্দাবিহীন
অথচ আমাদের কর্ণপটহ জুড়ে কুনোব্যাঙের ডাক
আর বৃষ্টির ডাক শুনতে শুনতে আমরা একে অপরের
একশোটা ডাকে সা        ড়া দিই

 

একশো লক্ষ ঝিঁ ঝিঁ ডেকে ওঠে মাথার ভেতর
কারণ আমরা সেই অন্ধকার রেকাবিতেই থাকি
জলের তলায়, আমাদের আহরিত শব্দ অন্যের কানে
পৌঁছালে আমরা পোস্টমর্টেম থেকে চেন খুলে জেগে উঠি

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close