Home অনূদিত কবিতা কফি আউনোর > কবিতাগুচ্ছ >> জিললুর রহমান অনূদিত

কফি আউনোর > কবিতাগুচ্ছ >> জিললুর রহমান অনূদিত

প্রকাশঃ January 18, 2018

কফি আউনোর > কবিতাগুচ্ছ >> জিললুর রহমান অনূদিত
0
0

কফি আউনোর > কবিতাগুচ্ছ >> জিললুর রহমান অনূদিত

 
কফি আউনোর জন্মেছিলেন ১৯৩৫ সালে ঘানায়, সাগরের অদূরবর্তী হোয়েটা নামক ছোট্ট একটা খামারি গ্রামে। তিনি ছিলেন এক দর্জির ছেলে, আর তার মা ছিলেন গোষ্ঠীপ্রধানের মেয়ে। তিনি শিক্ষালাভ করেছেন ঘানা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে আরও পড়াশুনা করেন লণ্ডন ও নিউইয়র্কে। নানারকম কাজের মধ্যে তিনি ঘানার তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক ছিলেন, স্টোনি ব্রুকে নিউইয়র্কের প্রাদেশিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকও ছিলেন; এবং পরে হয়েছিলেন ব্রাজিলের ঘানার রাষ্ট্রদূত। ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি একবছরের জন্য কারারুদ্ধ হন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে। তখন তিনি লেখেন তার উশার দুর্গে বন্দিদশা সম্পর্কিত কবিতা। এছাড়া তিনি সমালোচনা, উপন্যাস, নাটক এবং চলচ্চিত্রের পাণ্ডুলিপি লিখেছেন । আউনোরের কবিতা ছিল আসলে মৌখিক কাব্যকে এক উচ্চতর সাহিত্য মর্যাদায় উন্নীত করার গভীর প্রয়াস। আফ্রিকার স্বর ও কবিতার লোকছন্দের কাছাকাছি কবিতাচর্চায় যুক্ত ছিলেন তিনি। আউনোর বলেন, “লিখিত শব্দগুলো এমনভাবে আসে যেন তাদের কোন পূর্বসুরী নেই। তাই যেমন বলা হয়, আমার কবিতাগুলো শব্দ এবং আমাদের বোধলব্ধ শব্দের জাদুকরী দ্বিমাত্রিকতার মধ্যে রহস্যময় সম্পর্কগুলোর সংযোগ ঘটাতে মৌখিক কবিতার পুনরুচ্চারণ করে। আমি আমার পেছনে থাকা শক্তির মাধ্যমে কাজ করি, যে শক্তি পুরুষানুক্রমিক এবং প্রথাসিদ্ধ সত্তা, যা আমার সকল সাহিত্য প্রচেষ্টাকে নির্দেশ প্রদান করে ও দৃঢ়সংকল্প করে। সাধারণভাবে, আমার কাজ সূচিত হয় আমাদের সকল আদিম স্বজ্ঞাগুলোর জগৎ থেকে। এ কারণেই আমি বসে থাকি প্রাচীন কবিদের পদপ্রান্তে যাদের মাধ্যম ছিল স্বর আর যাদের সভাস্থল ছিলো গ্রামের চত্বর আর বাজার প্রাঙ্গন।”

কফি আউনোর >> কবিতাগুচ্ছ

 
তোরণ প্রান্তে

 
আমি জানিনা কোন সে দেবতা আমাকে পাঠালো
নদীতে পড়ে যাওয়া আর আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্যে –
আমি তা পারিনি।
আমি তোরণের ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলি
সে কোন যুদ্ধের প্রয়োজনে;
কোন সে যুদ্ধ?
তোরণের অধিবাসীরা আমাদের জবাব দেয়:
আমরা সে যুদ্ধকে আসতে দেবো।
যাদের আমরা অনুসরণ করেছি আসার জন্যে –
আমাদের মাতৃপিতৃগণের সে পুত্রসকল
আমাদেরকে মাথার উপরে ধারণ করে;
গর্জনকারী বজ্রকে কিছুই রক্ষা করে না –
কে জানে কখন শয়তানী ব্যাপারগুলো ঘটবে।
তোরণ খুলে দাও!
আমাকে পাঠিয়েছেন আকপাব্লি হরসু*

তোরণ খোলো, আমার মায়ের সন্তানদের
এবং আমাকে ঢুকতে দাও।
আমাদের বজ্রধ্বনি সূচিত হয়ে ক্ষিপ্তবৎ ছুটে যায়
আর আমরা ঘুমিয়ে থাকি মরুভূমিতে
পা না চালিয়ে।
আমরা ঘুমাবো মরুতে –
আমাদের হাতে বন্দুক, আমরা আগুন ঝরাতে পারি না;
দেশলাই আমাদের হাতে, আমরা ছুঁড়তে পারি না;
একজন মানুষের মৃত্যু তেমন দূরে তো নয়।
আমি এটা পান করবো; এ আমার দেবতার দান
আমি এই ক্যালাবাশ পান করবো
কারণ এতো আমার জন্য ঈশ্বরের উপহার।
কুমারেরা কখনোই বেশি দূরে যায় না**
কেননা ঢোলবাদক বাচ্চারা রান্না করবে আর তোমাদের খেতে দেবে।

আমার মেয়ের কারণে আমার জন্যে কেঁদো না,
মৃত্যু তাকে নিয়ে গেছে –
সে ছিলো আমার হৃদয়ের অনন্য উপহার।
মেষদেব তো থাকতে আসেনি;
তিনটি দিবস – আর সেদিন বিগত।
মুরব্বী ও দলপ্রধানেরা, কাদের তোমরা বিশ্বাস করবে?
একটা সাপ আমার কন্যাকে কামড়েছে এবং
কাকে আমি বিশ্বাস করবো?
শান্তভাবে হেঁটে চলে যাও; আমাকে একটি উপহার দাও
আমি যা ঈশ্বরকে নৈবেদ্য দেব
এবং তিনি খুশি হবেন।

উপড়ে নাও চুপড়ি-আলুগুলো – যা তুমি রোপন করেছ –
সকলইতো ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে
আমাকে পাঠিয়েছে এক শয়তান-দেবতা
যার জন্য আমি সব কিছু করেছি –
আমি ধারণ করি নবাগত সেই গায়কের জাদু,
আমার কোন বৈঠা নেই, আমার আকাঙ্ক্ষা শুধু –
আমার নৌকাখানি নদীতে ঠেলে দেবো।

*আকপাবলি হরসু : এক বিখ্যাত অ্যাংলো যোদ্ধা যার খ্যাতি জগৎজুড়ে এবং এখনও তার নামে গান গাওয়া হয়।

**কুমারেরা কখনোই বেশি দূরে যায় নাঃ কুমার অবশ্যই বেশিদূর ভ্রমণ করবে না যাতে সে ক্ষুধায় কষ্ট না পায়। কুমারদের নিয়ে অনেক রকম মস্করা আছে। একজন খ্যাতিমান, অপর জনঃ যখন তুমি একজন কুমারকে চিৎকার করে উঠতে শোন, তার সাহায্যে দ্রুত এগিয়ে যেও না। কারণ এটা হয় তার ভুট্টার আটার থলে অথবা তার রুটিতে আগুন ধরেছে।

 
এই পৃথিবী, আমার ভাই

 

ভোরের ফাটা-শব্দ, জানি
আমাদের বাতাস বিদীর্ণ করে
আমাদের মন্দিরে ডিগবাজি খেয়ে বিচূর্ণ–
বিশ্বময় তুলে ধরছে আশার ক্যাথেড্রাল,
সেসব বেদীতে উৎসর্গিত জীবনের প্রয়োজনে,
পরিশোধনের জন্যে, যা অনেক আগে ঘটে গেছে।
বায়ু তরঙ্গের ভেতরে আমরা বহন করি
আমাদের কুটিরে-গড়া নাড়িভুড়ি; আর আমরা প্রার্থনা করি;
নির্জন পথের ধারে পরিত্যক্ত সুতীক্ষ্ন চিৎকার
বন্দুকধারীর বুটজুতা যখন পা চালায়।
আমি তুলে ধরি সুগন্ধী হিসপ লতার পাত্র আর কান্না
তৃষ্ণার্তের ঠোঁট স্পর্শ করার জন্যে,
ঘৃণা ও মৃত্যুর নিযুত চূড়ায় আসমান হাহাকার করে;
আমরা প্রার্থনা করি
একটি আকাঙ্ক্ষা যদি ঝলসে ওঠে
আমার জাতির নিয়তি চকচক করা
সেই উদ্ধারকারী ঝকঝকে তলোয়ার।
এক সময় সমবেত বাদকদল আমার সুরটি বাজায়
এনিমোন ও নিমের ঔষধির পাত্র যেন
আমার জাতির পঁচা ঘায়ের উপরে ঢেলে দেয়,
চিরতরে ধুয়ে দেয় আমার শুষে নেয়া উজ্জ্বলতা–
যেমন আমরা সন্ধান করি আমাদের নতুন শস্যের গোলা।
আমরা যে অলৌকিক ঘটনার জন্যে প্রত্যাশা করেছি,
সে পরম উদ্ধার যার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা–
প্রার্থনায় যার কথা বলেছি অনেকবার
উৎসর্গ করেছি বহু বলীদান।

পা পুড়ে যাবার ঋতুগুলোতে
অফলন আর দুর্যোগময় বিবাহের দিনে
সে তলোয়ারের চকচকে ধারগুলো পুড়ে যায়,
পুনরুত্থানের ছুরির অবিকল প্রতিরূপ।
ধ্বনিগুলো ঘুরছিল আমাদের নির্জন আকাশে
নিমের ঝাড়ের মধ্যে নর্তকীরা জামা জড়ো করে
প্রসারিত নতুন পেলব বাহু ঢেকে দেয় উৎসর্গকৃত গাভী-
নিজেরাই নতুন ঢোলকে পরিণত।
দূরের আকাশে ছন্দোবদ্ধ সেসব পদশব্দের
হাহাকার বাদনের ধ্বনি শোনা যায়,
তাদের নীচেই যেন মূর্ত সহিংসতা।
দুইধারে লজ্জাবতী লতায় সাজানো পথ ধরে
বিচ্ছিন্ন আর হাতকড়ি পরানোদের টেনে নেওয়া হয়েছে
আমাদের সকলের উল্লাসধ্বনির দিকে।
বিজয়ীদের পদপ্রান্ত আকীর্ণ করেছি পুষ্পে আর
আমরা প্রার্থনা করি পাপস্খলনের।

খোঁড়া মেষদেবকে উৎসর্গ করতে নিয়ে যাও –
আর খাড়া করো চূড়ান্ত টোটেম
যোনি-গহবরে প্রবিষ্ট করার জন্যে
বিসর্জনের প্রতীক্ষা করো।
নির্জন সে পথ ধরে
আমাদের আতঙ্কিত আত্মাকে যুদ্ধের ভেতরে নিয়ে যাই
যুদ্ধের খেসারত দিতে– আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেমন দিয়েছে–
আর তাদের বিজয়গুলো হারতে, যেমন হেরেছে তারা,
আর ফসলের গান গাইতে গাইতে দৌড়ে বাড়ি ফিরতে,
আমরা প্রার্থনা করি।

মুসাফিরেরা বিজয়ীদের সাথে মিলিত হয়
আমার পা আচ্ছাদিত করে খোলা পতাকায়।
যেমন আমার কলঙ্কিত আকাশের পথে
চাঁদ তার একাকী ঘোড়ায় চড়ে।
আর আমি প্রার্থনা করি;
সন্ধ্যায় আমি বসে পড়ি,
আমার হৃদয়তন্তুতে দাগ দিতে দিতে গুনে যাই–
হৃৎকম্পনগুলো টুকে রাখি।
এবং প্রার্থনা করি তার কাছে, যে আমাকে প্রশ্বাস দেয়
আমাকে ধুইয়ে দেয়।

জ্বলজ্বলে তরঙ্গরাশির উপরে
উড়ে যাওয়া কাক
আমাদের বাতাসের স্তরগুলো পৃথক করে
একটা শাশ্বত শুরুর ভেতর দিয়ে লাফাতে লাফাতে
দূরে বয়ে নিয়ে যাই আমাদের নাড়িভুড়ি
আমার নির্জন পৃথিবীর ভারকেন্দ্রের উপর।
এটা কি ঘৃণার কার্নিভাল
আমার উৎসব
আর আমার আশার কবচ?

সে বেরিয়ে আসবে কবরের ভেতর থেকে
তার জামা চারপাশে ছড়ানো ছিটানো;
কৃমিরা তখনো তাদের কাজ শুরু করবে না।
তার চেহারা থেকে অজস্র সূর্যের রশ্মি-
তার পদক্ষেপ বিজয়ীর রূপ নেবে,
তার কপালে জ্বলজ্বল করবে হাজার তারকারাশি
সে হাঁটু গেঁড়ে বসবে দৈব-উত্থানের পরে
এবং মারা যাবে এই একই পৃথিবীতে।

আর আমি প্রার্থনা করি
আমার পাহাড়গুলো আরও সুউচ্চ হবে
আর যে আমাকে ধুইয়ে দেয়
প্রশ্বাস দেয়
মারা যাবে।
তাদেরকে বিশালতার ভেতর দিয়ে নিয়ে গেলে
তারা হাঁটে আর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পড়ে যায়
এবং ফের উঠে দাঁড়ায়। তারা হেঁটেছে
ঘাসভূমির ভেতর দিয়ে ঢিপির প্রান্তের দিকে
আর হাঁটু গেঁড়ে বসেছে নীরব প্রার্থনায়;
তারা আবার উঠে ঢিপির দিকে যায়
ভীড়ের দিকে প্রসারিত করে বাহু
বিসদৃশ অচেনা অঙ্গভঙ্গিতে
উলুধ্বনি আর উল্লাস তাদের অভিবাদন জানায়
যখন তারা হেসেছিলো এবং আলোড়িত হলো
যেন বড় নৌকা বয়ে যাচ্ছে
সুদীর্ঘ লম্বা যাত্রায়।
এক আকস্মিক নীরবতা নেমে এলো
যখন জনারণ্য ধাক্কা দিলো আর চিৎকার করলো
গুলি ছোঁড়ার এক উজ্জ্বল তীক্ষ্ন ভোরে।

তারা তাদের ঢিপির ভেতর দিয়ে নিয়ে গেল
অন্ধের প্রতারণার একটি খেলায়
তারা খুঁড়িয়ে চলে বালির বস্তায় হেলে পড়ার জন্যে
তাদের পিঠ মহাসাগরের দিকে
যা তাদের দূরে বয়ে নিয়ে যাবে।
বন্দুকের কচকচে সশব্দ প্রতিবেদন
এবং পড়ে যাওয়া;
একটি চিৎকার তাদের অভিবাদন জানালো
অন্ধকারের ভেতরে নিক্ষেপ করে।

এবং আমার পর্বতমালা বারংবার গড়াতে থাকে
পৃথিবীর শেষ প্রান্তের দিকে।

 
প্রথম চক্র
১.
দুঃখের সাদামাটা সমাপ্তি এখানে
দুটো কাক লড়ে যাচ্ছে নতুন বর্ষ যাপন উৎসবের
উচ্ছিষ্টের উপরে। আমার খুপরি থেকে, আমি দেখি এক ঠাণ্ডা
শক্ত পৃথিবী।

২.
অতএব এটা সেই ফোঁড়া যা
জাতিকে দুঃখ দেয়–
জেল, অত্যাচার, রক্ত
এবং ক্ষুধা।
একদিন এটা বিস্ফোরিত হবে;
অবশ্যই বিস্ফোরিত হবে।

৩.
যখন জেনেছি তোমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে-
আমরা দুশ্চিন্তা করেছি, আমাদের অধিকাংশই ভেবেছি,
তুমি কোথায় থাকতে পারো
কোন সে দুঃস্বপ্নে তুমি তারকাসদৃশ?
সে রাতে আমি গোঙ্গাতে শুনেছি
মনে মনে ভাবছিলাম কার সন্তান এখন
হারিয়ে যেতে পারে নিপীড়নের ভূগর্ভ-ঘরে।
তারপর তুমি আবির্ভূত হলে, লম্বা, এবং রক্তাক্ত চোখ।

এই সে প্রথমবার
আমি চোখের জলে ভেসেছি।

৪.
লম্বা রাত্রি – আমি সবচেয়ে বেশি ভয় করি
মদ্যশালার পেছন থেকে আসা কণ্ঠস্বরগুলো –
প্রভাতের প্রথম আলো
প্রহরীর পদচ্ছাপের আগেই আমাকে জাগিয়ে তোলে,
ইচ্ছে শুধু লাফাই আর প্রসারিত হই
আর হাই তুলি এমনটি আঁচ করতে করতে
আরেকটি কালো দিনের প্রত্যাবর্তন
কেবল আবিস্কার করতে –
আমি অপারগ।
তাদের মাঝে বেষ্টিত থেকে
শহরে গাড়িতে চড়ে যখন ঘুরি,
তাদের বন্দুকগুলো আমার পাঁজরে খুঁচিয়ে চলেছে
আমি কখনও জানিনি আমার লোকেরা
তেমন বিষণ্ণ চেহারা করেছে, অতো বেদনার্ত
ছিলো তারা, নববর্ষের সন্ধ্যায়
এতো বেশি বিষণ্ণ।

 
তাদের জানা চাই

 

কণ্ঠস্বরেরা, সারিবদ্ধ রাতগুলো
যেখানে পাখিদের দীর্ঘ মৃত্যু ঘটেছে;
দরজার লৌহদণ্ডে।
এখানে কেমন স্বপ্ন সম্ভব?
জন ভরে গেছে বসন্তের বুটিদাগে
বসে আছে পথের ধারের দোকানে
ক্লান্ত।

তিন সপ্তাহে একবার ঘুরতে বেরুনো
পতাকা, নিশান বস্ত্রাদি
চিহ্নগুলো পক্ষপাত শূন্যতার ঘোষণা দেয়।
নগরের উপরের নীরবতা
আমরা আমাদের পথে বাতাস করি নিদ্রাচরদের দিয়ে
আমার রক্ষকেরা ফূর্তিতে আলাপরত
ক্ষমতা আর রাজনীতি নিয়ে এবং সরকারের জন্য
ক্ষমতা, জাতীয় ভাষা
বিচার এবং সাময়িক উপশম বিষয়ে।
অবশেষে তারা আমাকে দুটুকরা শাদা রুটি
আর একটি ডিম দিলো
যা আমি আমার স্ত্রীর সামনে ভাঙ্গলাম।
এটা আজ থেকে ঠিক একমাস আগে…

 
অতএব পৃথিবী বদলে যায়

 

তারা কোথায়?
আলেসি’র মায়ের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে
বাচ্চাগুলো কেঁদেছে আর কেঁদেছে
“আমার জন্যে তাকে ডাকো, দয়া করে তাকে ডাকো আমার জন্যে”

যেদিন মরুবৃক্ষে ফুল ফোটে
বাতাসের পাখিদের জন্য খাওয়া-দাওয়া পরবের দিন,
পৃথিবীর অধীশ্বর জামার ভেতরে ঢেকে রাখেন
ভাল পাখি আর মন্দ পাখিদের;
তিনি তাদের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ –
প্রতিজ্ঞা- তৃষ্ণা তাদের হত্যা করবে না,
অতএব পৃথিবী বদলে যাচ্ছে।
খরার পরে বৃষ্টি নামে
চুপড়ি-আলুর উৎসব আসে সেলাই দিনের পরে।
মন খারাপ করো না,
আমাদের অস্ত্র রয়েছে, বর্মও, তবে
যখন বারুদশালা ধ্বসে পড়ে
মা যুদ্ধ বাধাতে পারে না।
কিছু নদীতে তুমি সাঁতার কাটতে পারো না
আবার কিছু খরস্রোতা নদীতে হাঁটুজলও পাবে না।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close