Home কবিতা কবিতাগুচ্ছ >হাসান রোবায়েত রাসেল রায়হান অরবিন্দ চক্রবর্তী ফারহানা রহমান রোকসানা আফরিন সরোজ মোস্তফা রিমঝিম আহমেদ নাহিদ ধ্রুব
0

কবিতাগুচ্ছ >হাসান রোবায়েত রাসেল রায়হান অরবিন্দ চক্রবর্তী ফারহানা রহমান রোকসানা আফরিন সরোজ মোস্তফা রিমঝিম আহমেদ নাহিদ ধ্রুব

প্রকাশঃ September 20, 2017

কবিতাগুচ্ছ >হাসান রোবায়েত রাসেল রায়হান অরবিন্দ চক্রবর্তী ফারহানা রহমান রোকসানা আফরিন সরোজ মোস্তফা রিমঝিম আহমেদ নাহিদ ধ্রুব
0
0

হাসান রোবায়েত > শরণার্থীর বাড়ি 

তুমি—

কতদিন অহেতুকতার ছলে

মান্য ঐ নীলিমার ভেতর

ভাসাও ডিঙি স্তন—

পানির ছত্রছায়ায় একদা কুটিল হাওয়া

নিয়ে গেলো বাবলার ধ্বনি

অপ্রচল বাড়িটির জানালায়

একটি কাকাতুয়া

জালিম মুগ্ধতা ভুলে

প্রতিটি ওড়ার ভান জড়ো করার ডানায়

পাখির ভেতরে ওড়ে

ঝাঁক ঝাঁক পাখিদের ছাঁচ—

যেন এক খুনীর শূন্যতা নিয়ে

সারা ঘর

হাতড়ে যাচ্ছে খঞ্জর—

 

দালালের ভাষায় বসে দেখি:

লোল ডাইনির চোখে

অজস্র কবিতার বই ফালি ফালি সিন্ট্যাক্স

ভেসে যায় বায়ুস্তরে—

হাওয়া কি

পেরেছিল তুলে নিতে সমস্ত নর্মকথা, খিলান-বক্র হাসি?

 

আমাকে নিয়ে যাও—বালির পর্যটনে

চাপ চাপ শরনার্থীর বাড়ি ফুটে আছে

নীল সৈন্ধব লবণের দাওয়ায়—

এখানে

জান্নাত-ব্যাপী রক্তজাগরুক স্নান

হাওয়ায় উড়ছে মাইন—

বাতাস গর্জে উঠে ফাঁপায় ইথিলিন

খিন্ন আকরিক তেলবাগানের ঝঞ্ঝায়

অপরাহ্ণে ভেসে আসে শিশু

তাদের নিরেট চোখে

জলপাই-বাগানের স্নান—

 

দেখো, লাবণ্য-বাষ্পের ভেতর প্রকাণ্ড ফুসফুস

বিস্তীর্ণ কাঁপছে দেখায়

 

অনেক ভালোবাসাবাসি হলে

চলো, আত্মহত্যার দিকে খুলে দিই হাওয়ার তোরণ—

রাসেল রায়হান > শরণার্থী

তারা

হেঁটে আসে

সাঁতরে আসে

দৌড়ে আসে

হামাগুড়ি দিয়ে আসে

মরে যেতে যেতে আসে

…বাঁচার জন্য

 

আসে ফুল ছেড়ে কাঁটার দিকে

যেহেতু প্রতিটি কাঁটাই নিজেকে ফুল মনে করে

তাই তারা অভিবাদিত হয় দস্যুর ভূমিকায়।

তবু তারা আসে

আসে অনভ্যাগত ঝকঝকে ঘাস ছেড়ে

মরিচার দিকে

অনন্তকাল ধরে

 

তারা আসবে।

হেঁটে
সাঁতরে
দৌড়ে
হামাগুড়ি দিয়ে
আসবে

মরে

যেতে

যেতে
আসবে।

…এক দেশ থেকে আরেক দেশে

অনন্তকাল তারা আসবে…

মরে যাওয়ার জন্য আসবে।

অরবিন্দ চক্রবর্তী > মায়াকোট

রেখা পার হয়ে এলেই ধরা যাক একটা পাখি শরণার্থী

ভাবতে নিচু লাগে, নিজের কোট ডিঙিয়ে এসেছ।

 

বুকে এসেছ যখন এবার তোমার সঙ্গে সাময়িক ভাই ভাই হোক,

ভালোবেসে ডানায় ঢেলে দিই বারুদ

এবার তোমার কোটে যাও। ছুঁয়ে দাও

সেই ডাইনির খোঁপা। জ্বলুক। মুগ্ধ হও।

 

ছাই হয়ে গেলে আনন্দী নাচো। খেলা করো।

মায়াবীজ পুঁতে এসেছ যেখানে

অতঃপর সেখানে ফোটাও সূর্যফুল, আগামীর দৈনিক।

ফারহানা রহমান > মানবতা

মানবতা আজ মুষড়ে পড়ছে

সবি দেখি মুমুর্ষু সংহিতা

হৃদয়হীন দিকে-দিগন্তরে

উড্ডীন ভস্মচূর্ণ, চিতা

 

আনাচে কানাচে সর্বনাশা

হুলুস্থুল মৃত্যুর উৎসব

মানবতা পঙ্কিল কাদায়

কীটদষ্ট অনাশ্রিত শব

 

রাস্তার গার্বেজ ক্যানেলেই

অভিশপ্ত অগ্নি লেলিহান

সমস্ত প্রাচীন ইতিহাসে

মানুষের বোধেরা সপ্রাণ

 

ঘুমিয়েছো, আকাশ বাতাস?

তিমির রাত্রিতে ভুবো চাঁদ

নিবিড় মমতা ভালবাসা

নয় নয় শুধু পরমাদ!

রোকসানা আফরীন > সত্তা

রোহিঙ্গা আমার শিশু

আমিই জননী

কেন তাকে কেড়ে নাও

জননীর বুক থেকে

ধুলোতে লুটাও

কেন হত্যা করো শিশু

কেন করো হত্যা লক্ষপ্রাণ?

কেন এতো তা-ব

কেন এতো মৃত্যু, ভেদাভেদ, এতো অশ্রুজল

 

রোহিঙ্গা আমার বোন, জননী আমার

আমারই আত্মীয় সখা, বন্ধু-স্বজন

তবে এসো, চলো যাই

বুকে টেনে নেই

মুছে দিই আলিঙ্গনে সব অশ্রুরেখা।

সরোজ মোস্তফা > লাল কার্ড

[এক]

রোহিঙ্গাদের দেখে মনে হচ্ছে
হাসরের মাঠ।

ঈশ্বর বিচার করবেন
না-কি,
ভাতের থালায় ইউরোনিয়াম ঢেলে দেবেন,
এটা নির্ধারণ করবেন
ভারত, চীন ও রাশিয়া।

ভাষা হারিয়ে ফেলা ইনসানেরা
পলিথিনে মোড়ানো এ হাশরের মাঠে
ওদের পাঠানো ত্রাণ খেয়ে বেঁচে আছে।

[দুই]

ভাতের থালায় বর্মি আর্মি।

চীনা জাহাজের সাইরেনে
শরীরটাকে ঠাণ্ডা রাখতে
কফিনের ঠাণ্ডা বরফ গিলছি।

ভূমি উচ্ছেদের এজিদকে দেখে
ধান পাতায় কাঁপছি।
মাংস ও জিহবায়
আমার নারীকে
ওরা কুমিরের খাচায় ফেলে দিয়েছে।

একহাতে শিশু
একহাতে পাউরুটি।
জোড়া-তালি দেয়া ঘাড় নিয়া
নাফ নদীর ইনসান হতে চাইছি।

[তিন]

একটুকরা রুটিতে অনেকের মুখ।

নাফের ঐ পাড় থেকে পদ্মাবতীরা আসছে।
আগুন মাখানো দেহে
শাহ পরান দ্বীপের মাটিতে বসেছে।

পাহাড়ের পাদদেশে আলাওল কবির কবর।
তৃতীয় বিশ্বের কবির ভিটায়
পদ্মাবতীরা আসবে।

চীন রাশিয়ার মহাজনেরা চালের দাম বাড়াবে।
চোখের নিবন্ধনকে অস্বীকার করবে বর্মী আর্মি।

রিমঝিম আহমেদ > রোহিঙ্গা

আমার এখন লজ্জা করে

মানুষ নামের পরিচয়ে

তোমার করে?

অক্ষমতার পাহাড় জমে

হাতেপায়ে চোখের পলে

নির্মমতা দীপ্তদাহ

ক্ষমা করো!

 

তোমার নাম কি মুসলমান

যেমন আছে সংখ্যালঘু?

শান্তি তোমার কোথাও কি নেই আজ?

রাষ্ট্র তোমার অকূল সাগর

কে আজ তোমার প্রভু?

গণতন্ত্রের মাথার উপর বাজ

 

শান্তি তোমার হাত ছুঁয়েছে

মাটি ছেড়ে ভাসো জলে

মরণ জয়োল্লাস

লজ্জাব্যথা অপমানে

লাশের ভাঁজে জীবন গুঁজে

গিলে খাচ্ছ জলপাইরঙের ত্রাস

বাঁচো তবু!

বাঁচার জন্যই আকাশ তোমার বাড়ি হল

আর্তনাদের সুরে তুমি গাও কি তোমার

জাতীয় সংগীত?

 

আমি তবু মানুষ আছি মানুষ পরিচয়ে

তুমি কেবল ভাসছ জলে মৃত্যুমুখী মীন

 

মরণ তোমায় ভয় পেয়েছে, তোমার জেদের কাছে

আত্মজারই রক্তগন্ধ- বীভৎসতায় বাঁচে

নদী তোমার মাতৃভূমি, বুকে তীরের আশা

মানুষ তুমি খাসা!

জলই তোমার পৃথিবী হে, জলেতে ঘরবাড়ি

মাতৃভূমির স্বপ্ন ভোলো, মাটির সাথে আড়ি

 

হায়রে শান্তি! লেখা রইল কাগজেকলমে

তারও বেশি পেতে পার ‘নোবেল’ নামের খামে

 

জীবন এখন জলেভাসা পদ্ম টলোমলো

“রোহিঙ্গা তুই মরতে পারিস গুটিয়ে চালচুলো!

 

রোহিঙ্গা তুই মর! রোহিঙ্গা তুই মানুষ কবে হলি!

অভিযোগের আঙুল নামা, বুটের তলায় পিষ্ট হয়ে

নাহিদ ধ্রুব > রিফিউজি

নেকবান্দা খোয়াবে আসিয়া বলিতেছে —

তাদের শরীর থিকা খসিয়া পড়া কাফন

হাওয়ায় খুব উড়তেছে, কাগজে লাশের

ছবি মননদৈন্যে প্রবিষ্ট — মানুষ জানিয়াছে

যে জান দিয়াছে সে পৃথিবীপৃষ্ঠে গৌণ —

তার মৃত্যু মর্মে আনিয়াছে ফতোয়াবাজ;

মানুষ নজরানায় ভুলিতেছে জৈবিকপাপ

তার কবরে উঠিছে কাঁটাতার, অপরপিঠ

বদ্ধ — ভূমি যেন বেহেশতী এক টুকরো।

 

নেকবান্দা খোয়াবে আসিয়া বলিতেছে —

এমন এক নো ম্যান্স ল্যান্ডের কথা, যেইখানে

বুবিট্র্যাপ পুঁতিয়া রাখা কবর চিতায়;

পারাপারে ইদানীং নিজেদের বড্ড রিফিউজি

মনে হয়; যেন এক অন্ধ ভিখিরির —

পা হারায়ে পৃথিবীতে দাঁড়াবার জায়গা নাই।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close