Home কবিতা কবিতা কোরাস > সমকালীন ছয় কবির কবিতা

কবিতা কোরাস > সমকালীন ছয় কবির কবিতা

প্রকাশঃ May 16, 2017

কবিতা কোরাস > সমকালীন ছয় কবির কবিতা
0
4

অনিন্দিতা ভৌমিক

ইল্যুশান

 আমার ঘুমের গোড়া হালকা বাদামি

বালিশ থেকে বেরিয়ে আসে ঠাণ্ডা মাথায়

আমি নিজের রিগর মরটিসের কথা ভাবি

একজন উন্মাদের স্মৃতির ভেতর

ফসকে যাওয়া কাঁচের গ্লাসের কথা ভাবি

 

আমার ঘুমের গোড়া হালকা বাদামি

আমি মুছে দিচ্ছি গীর্জার গায়ে আটকে থাকা

রঙিন মাছের চোখ

যেখানে শব্দ শোনা যায়

ঠিক মতো না-লাগা দরজার কোনায়

রেখে দেওয়া যায় প্লেটের দাগ

 

কাঁচের টুকরো হাতে কেউ দেখছে আমাকে

শক্ত স্নায়ু ভেদ করে

বালিশ এগিয়ে দিচ্ছে বাদামি গোড়ায়

 

আমি তার ছায়া ভুলে যাচ্ছি

ফাঁকা গ্লাসের মতো তার শরীর ভুলে যাচ্ছি

 

জব্বার আল নাঈম

ফুল ও অন্যান্য উপকথা

বানের বৃষ্টিতে ছিপ ফেলে বসে আছে যে কালপুরুষ

নিরন্তর খোঁজ করে শিকার ও সঙ্গমের

দরজায় অচেনা সুন্দরীফুল

 

আমি যাকে পূজা দিতে চাই যৌনশ্বরী ভেবে

তখনই পৃথিবীতে ঘোষিত হল,

ওই ফুল ছাড়া পৃথিবীতে

আর কোন সুন্দর ও সুগন্ধি ফুল নেই

নেই বন্দনা; নেই কীর্তন অথবা ভোজন।

 

সুদৃশ্য যোনিফুলের ভাস্কর্য দেখে

মানুষ আবিষ্কার করতে শেখে

টগর, বেলী, যুই এবং হাস্নাহেনাসহ অন্যান্য আরও ফুল।

 

ফারহানা রহমান

কবিতার ছায়া

তোমার এ নিদ্রা ঘোরে

অঝরে ঝরেছে নুন

আতঙ্কিত ধর্ষিতার মতো

ব্যথাতুর কামনার পর

কলুষিত বুনো আলিঙ্গনে

অসুস্থ আদিম ক্ষুধার মতোই

সর্ব অঙ্গে যার রক্ত ঝরে

হে অচেনা! হে অসুর!

আরও আরও আরোগ্য দাও হে

জ্বালাও আলোর অট্টহাসি

জাগাও বিক্ষোভ

ক্ষুধার্ত ঐ মহাপ্লাবনে

মৃত্যু জরা শোকে

সুখের অসুখে

তোমার ইস্পাত কঠিন মুখোশ

নিলামে উঠবে জানি।

তবে মুক্ত করো দ্বৈতসত্ত্বা আর বাণী

অনন্ত জিজ্ঞাসার ফাঁদ

আরও আরও দাও

গ্লাডিওলাসের মায়া

সবুজ শীতল আলো

কবিতার ছায়া।

 

মাজুল হাসান

শরীর

অতঃপর শরীরই সবচাইতে মৌলিক বাদ্যযন্ত্র

ওর সম্মোহনে আসে যায় রেণুপুষ্প, বাতাস, লতানো বিদ্যুৎ

আমাদের গহ্বরে বিনিময় হয় লালা ও সুর

 

মৃত্যুও আদতে এক শব্দতের সঙ্গীত-

ঘাড়ে লক্ষীপেঁচা নিয়ে বলেছিলেন মহান জীবনানন্দ

 

মরে গেলে আমার কবরে ১টা মাউথঅর্গান রেখে এসো

সাথে নৈঃশব্দ্য বিষয়ক সবশেষ অভিসন্দর্ভ

 

মুজিব ইরম

পাঠ্যবই

অনেক লিখেছি আমি অপাঠ্য পুস্তক

এবার লিখিবো কিছু পাঠ্যবই

যদি দয়া হয় পাঠ করো

তুলে রাখো উন্নি গরম বুকে

তোমার নামের গুণে

তোমার দয়ায়

জানি আমি

এ পুস্তক অপাঠ্য রবে না আর

একদিন

পাতাগুলো ভরে যাবে গুণে, আগর চন্দনে।

 

সুধীর দত্ত

আয়নার পাথরে

তর্ক অবিশ্বাসীদের জন্য। এই আমার কাম কর্ম সুখ

হে আমার অসীম রহমতের মালিক

প্রদক্ষিণ শেষে রাখি আয়ু, যাঞ্ছা করি

সে বাঁচুক এবং বাঁচাক

তোমার স্বগত ভেদ, পারস্পরিক

ভালোবাসা, যে আঙ্গিকে কথা বলে পাখি ও মানুষ।

এই দেশ বহুত্ববাদীর।

পুত্র পৌত্র কেউ না কেউ তো ঋণ শোধ করবে

এবং নিদাঘ শেষে

অস্তাচলে গমন-উদ্যোগী দিনমণি;

যাই, এবং প্রাক্কালে

খুলে দেখি আয়ুলেখ- কী কী লিখে গেছি!

কত বা বয়স

ঘোর-লাগা দু’চোখ, সূর্য

কুম্ভ রাশিতে;

সব কিছু পৃথক- তৃণ গাছগাছালি পাখি

এমন কী জন্তু জাতি যাযাবরগণ

মাস বর্ষ দিন ক্ষণ

সামনে আদিনাপুর, তারও বহু পিছে

বড়কুহ্ পাহাড়, দেখি মুখ

আয়নার পাথরে, সেই কবে

কাশনগর- আপেল খরমুজের ক্ষেত আর নদী সাইহুন

লবঙ্গবাগিচা ছুঁয়ে বেঁকে যাচ্ছে

বালক বয়স, লাগাতর-

লাগাতর অশ্বপৃষ্ঠে

রণরক্ত জিজীবিষা ছাড়া

আর যা যা- কমলালেবু আখ ও আমলক

কী সুস্বাদু

গরম মৌসম। চলি

এ-ই পথ, একমাত্র পথ,

আকাশের সাত মঞ্জিল খুলে

কানে কানে বলে গিয়েছিল

মৃত্যু নয়-

ধর্মের বিকল্প শুধু ধর্ম হতে পারে।

 

তর্ক অবিশ্বাসীদের জন্য। তবু

আমি খাল ছাড়িয়েছি, জেহাদ ও বিজয়

তাঁর উদ্দেশে

লিখেছি গজল ও মসনভী…

এবং পেয়েছি যা যা- শস্য নারী ভেড়া ও জনপদ

উৎসর্গ করেছি তাঁকে, যেরকম

পাখি তার গান

সূর্য়ের প্রণাম, আমি পশ্চিমাস্য বসে আছি

জানু পেতে, বুধেরাও শুনেছি নির্বোধ।

বুঝিনি পাপের দিকে কতখানি নুয়ে গেছে,

আমাদের যে-নসিবগুলি!

 

 

 

 

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(4)

  1. “অতঃপর শরীরই সবচাইতে মৌলিক বাদ্যযন্ত্র”–মাজুল হাসান (শরীর)। অসাধারণ সিরিজ–“কবিতা কোরাস”। প্রতি সপ্তাহে এই কোরাস পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম… অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা তীরন্দাজের জন্য!

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close