Home কবিতা কাজী নাসির মামুন > গুচ্ছকবিতা
0

কাজী নাসির মামুন > গুচ্ছকবিতা

প্রকাশঃ September 10, 2017

কাজী নাসির মামুন > গুচ্ছকবিতা
0
0

কাজী নাসির মামুন > গুচ্ছকবিতা

পরম্পরা

এখানে মরণ অস্থির গায়ে দনকলসের পাতা

বাকল খুলেছে মহাকাল ঋষি, ভেষজের নীল ছাতা।

মাটির ডেরায় ডিমের আদল, ঘুমাও পয়ম গুরু

তোমাকে ফোটাই দাদাজান পাখি, এখানে তাবৎ শুরু..

 

১.

যতটুকু ফেরা যায় সবটুকু রোদের গরিমা

কপালে মেখেছি।  আজ শ্রমের অধিক

আলস্য মোড়ানো হাঁটা। চর্চিত পুঁথির পাতা

গলার মাদুলি।

পেছনে

শতক শতক

কৃতির পদাঙ্ক ছুঁয়ে যতদূর হিমানী পাহাড়,

ততদূরে যায় না শেকড়।

তবু ছায়া, পয়মন্ত স্বাদ

গতায়ু হিজল থেকে কতদূর

গজে গজে মাপি।

কতটা খণ্ডিত আছি? বধির শ্রবণে?

 

গল্পগুলো উপড়ে তুলেছি,

ওজন বাড়াবো।

হে বিমোহন ভার,

রক্ত কি রোধের পাখি? লোকান্তর মাঠে অন্ধ চোখ?

পথ ভুলে গেছি।

অকুণ্ঠ সমাধিরেখা মনের বাতিক।

আজ পরিমাপ।

লক্ষ যোজন মাটির

কসম।

 

লবণ প্রার্থনার দিনলিপি

বাগান সংগুপ্ত রেখে

তুমি কেন পাথর ভালোবাসো?

দেয়ালে শ্যাওলা জমে

কাঠামো গুঁড়িয়ে দিলে ধুলো জমে

প্রত্ম-প্রবেশিকায়

অতীত মোহিত করে তুমি কেন

পিছনে হাঁটো?

 

তালগাছ নীরবে বাড়ে। ঝড়েও লুটিয়ে পড়ে না।

তোমাকে পাহাড় দিলাম। মৌনতায় উঠে আসো।

 

পুলক ছড়িয়ে দিলে

সঙ্গে কিছু বিষাদের দায় থেকে যায়

ঢেউয়ে ঢেউয়ে জীবন মিলিয়ে দেখো

সমুদ্র কখনো লিখবে না লবণ প্রার্থনার দিনলিপি।

বিষাদ তাড়িত হলে তুমি কেন আকাক্সক্ষা মাড়াও?

অপূরণের দাবানলে

মানুষ কেবলি ছাই হতে চায়, সোনা নয় ।

হৃদয়ে আকাশ গুঁজে রাখো

মেঘে মেঘে স্বপ্ন খুঁজে পাবে।

 

মুত্যুকে প্রেমের জন্য উপাত্ত ভেবো না।

তোমাকে শোনাবো লুপ্ত পাথরের গান।

 

বসন্তে মায়ের কথায় ফুলঝুরি

তেলসুরভির পথে পথে একদিন

শর্ষের হলুদ বাড়ি দেখা গিয়েছিল।

চোখের ধন্দেতে মনে হলো

ফুলে ফুলে রাত নেমেছে পথের

দাওয়ায়।

ধুলোর বারান্দা ছুঁয়ে সলতে জ্বেলেছে কেউ

শেকড়ের।

মায়ের হাতের মধ্যে সেই হ্যারিকেন।

কপাল ঠেকিয়ে দিলে আলো জ্বললো;

দেখা গেল তাল তরু তমালের সারি।

তেমন দেখি না আর সংঘবদ্ধ মানুষের ভিড়;

স্বপ্নমঙ্গলের কাছে এলে

নদী শুধু ভাগ হয়ে যায়।

মা বলতেন,

যে কিনা ভাসতে জানে তার দ্বিধা নেই।

তার আগে পলাতক হো। আঁচল

ছিঁড়ে যা।

রোদের গোরস্থানে ছায়ার সমান

আমাকে মোহনায় পাবি।

তখন দেখবি,

বাউল পাতার দেশে পাখিরা সৈনিক,

শিমুলের দুর্গে বসে কুচকাওয়াজে মেতে আছে,

বসন্তে আগুনখেলায়।

জোড়ায় জোড়ায় ওরা ফিরে যাবে,

পক্ষে লুকিয়ে নেবে

ফাগুনের মার্চপাস্ট।

 

কুকুরীর জন্য সংবেদনা

আঘাতে আঘাতে মানুষ দস্যু হয়ে যায়।

চিতই পিঠার মতো জালি জালি কলিজায়

রক্ত ফিনকি দিয়ে ওঠে তার।

বুকের গহিনে অদৃশ্য চুলোয় স্বপ্নরে পুড়ে দেয়

যে স্বৈর দহন,

তারই বিধ্বস্ত পাড়ে পড়ে থাকে একাকী

জ¦লন্ত অঙ্গার মানুষ।

 

অতঃপর আবুল কালাম

আরেক উদ্বাহু স্বপ্নের কোলে ঘুমোতে চায়।

ঔরসের রক্তের মতো যে ছিল আপন,

জান্তব পুরুষের টানে ছেড়ে গেছে বহুদিন।

খান খান হৃদয়ের পাতে অশোধিত ঋণ কিছু রেখে গেছে সে।

ঐন্দ্রজালিক সময়কে যে মানে বান্ধব

উতরোল কান্নায় কে ফেরাবে তারে?

তবুও তো মনিবের আড়ালে গেলে নিরীহ পশু

কর্কশ চিৎকারে মমতার স্বকীয় চি‎হ্ন রাখে;

প্রেমের গলিত লালার ওপর অমির সৌরভ রেখে

মানুষ মানুষকে ছেড়ে যায় দ্বর্থ্যহীন।

তবুও আশা থাকে-

বেদনার বিমূর্ত কফিনে লা-ওয়ারিশ কুকুরীর মতো

নির্বেদের আঙিনায় যদি সে ফেরে।

 

আবুল কালাম!

মানুষের কলিজা নিয়ে ধাপ্পা খেলে যে নিষ্ঠুর,

অন্তহীন অঙ্কের অকূলপাথার নিয়ে

উদ্ধত যৌবনে তারও পড়ন্ত বিকেল নামে।

প্রেমের বিনয়ী জল হাতে পরিপূর্ণ মাটির বাসনÑ

অপেক্ষা করে সে।

প্রাণের কুকুরী, আহা, আপন মানুষ

যদি ফিরে আসে…

 

লখিন্দরের গান

দশ.

 

কোথায় বেহুলা বধূ?

তোমাকে মীনাক্ষী বলি তীর্থমৃতযোগে

যূথিকা মালায়।

কত আর লগ্নি টানি জলে ভেসে ভেসে?

একি প্রেম? নাকি রোজ মাহেন্দ্র পতন?

শুল্কের বৈকুণ্ঠ জপি

যা লিখার চিন্ময় লিখুক কেরামন-কাতেবিন।

 

থিবিসের কালো রোদে মহান্ত নায়ক

এসেছি নন্দন স্বামী বঙ্গীয় তৃষ্ণায়

গৃহে ফিরে গৃহহীন। স্মরণ কলঙ্কে

ভোগ দেয়।  মহারথী নেই।

ফিরিঙ্গি-রহিত এই ধুলোর আকরে শুধু ঠনঠনে দিন।

আকণ্ঠ সবুজ গিলে রেখেছে রাক্ষস আর পাথুরে বৃষ্টির

হেমলক। নদী কি পথিক ছিল? নদী?

শ্যাওলা…

রঙ…

নোঙর…

ধোঁয়ায় সঙ্কীর্ণ-আয়ু নিরালা আকাশ

টুপির কায়িক ছায়া বাবার মাথায়।

ওগো রাম, সীতায় রাবণ-ক্ষুধা; বাঁচার অসত্যে

নির্বাসনে লাভ নেই।

দাদার লাঠিতে ঘুণ; মায়ের কাঁকনে চাঁদ

ছাই হয়ে নামে।

কার কালিমা লিখেছ কেরামান-কাতেবিন

স্কন্ধের শিলায়?

গুহার বাতাসে ইডিপাস বিদ্ধ-শাপে

কোন পথে চামর দোলায়?

কার পাপে আদিম যিশুর মতো শূলবিদ্ধ মাটি?

ও পাখি,  ও বৃক্ষ,

ও আমার লাটিম ঘুরানো মাঠ,

আমি কি জেগে উঠবো ঘাসে

দিঘির পানিতে জিন? ভূধরে নিতম্ব রেখে

দেখাবো সাহস?

 

ক্রন্দসী বেহুলা ঘুমে,

সোনার রেকাবে তার এসেছি নোলক।

মাছে-ভাতে স্বপ্নমোড়া গুপ্ত পুলসেরাত;

আমাকে দাঁড়াতে হবে।

কেরামান-কাতেবিন, দ্রাবিড় কিতাবে লিখ প্রত্ম-ইতিহাস।

অ-হল্য জীবনচরে এইখানে দাঁড়ালাম ধৃষ্ট লাঠিয়াল:

আমার দখল নেবে কে আছে এমন?

[লখিন্দরের গান কাব্যগ্রন্থ থেকে]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close