Home গদ্যসমগ্র প্রবন্ধ কামরুল ইসলাম / হেনরি জেমস : দুঃসাধ্যের স্থপতি

কামরুল ইসলাম / হেনরি জেমস : দুঃসাধ্যের স্থপতি

প্রকাশঃ December 31, 2016

কামরুল ইসলাম / হেনরি জেমস : দুঃসাধ্যের স্থপতি
0
0

কামরুল ইসলাম / হেনরি জেমস : দুঃসাধ্যের স্থপতি

আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক হেনরি জেমস (১৮৪৩-১৯১৬) তাঁর বেশকিছু লেখার মধ্য দিয়ে উনিশ শতকের ফিকশনের জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটান এবং তাঁরই পথ ধরেই পরবর্তীতে ইউরোপ-আমেরিকার ফিকশনে দেখা যায় যুগান্তকারী পরিবর্তন। তাঁকে বলা হয় ÔHarbinger of the stream of consciousness technique’। চেতনাপ্রবাহ বা স্ট্রিম অব কনশাসনেস শব্দবন্ধটি উইলিয়াম জেমস সর্বপ্রথম জাগ্রত মানবমনের অখণ্‌ড অনুভূতি, চিন্তন, বিমূর্ত কল্পনা এবং বোধগম্যতার প্রবাহ বোঝাতে ব্যবহার করেন তাঁর  প্রিন্সিপলস অব সাইকোলজি (১৮৯০) গ্রন্থে। তারপর থেকেই আধুনিক ফিকশনে এর ব্যবহার শুরু। উইলিয়াম ছিলেন তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। কোনো কোনো সমালোচক স্ট্রিম অব কনশাসনেস-এর পরিবর্তে একই অর্থে ইনটেরিয়র মনোলগ শব্দবন্ধটিও ব্যবহার করে থাকেন। এই চেতনাপ্রবাহরীতিটি ফিকশনে মৌল টেকনিক হিসেবে বিকশিত হয় বিশশতকের দ্বিতীয় দশক থেকে এবং জয়েসের আগে স্যামুয়েল রিচার্ডসন, হেনরি জেমস এবং ফরাসি লেখক এডওয়ার্ড ডুজার্ডিন প্রমুখের লেখায় এই বর্ণনারীতির নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে আমেরিকান ঔপন্যাসিক হেনরি জেমসই এই টেকনিকের সফল প্রারম্ভিক রূপায়ন ঘটিয়ে যান এবং পরে যা জয়েস-উলফ-ফকনারে একটি সার্থক টেকনিক হিসেবে পূর্ণতা পায় এবং বিস্তার লাভ করে নানাভাবে। ডরোথি রিচার্ডসন তাঁর পিলগ্রিমেজ-এ (১২ খণ্ডে সমাপ্ত, ১৯১৫-৩৮ পর্যন্ত লেখা), উইলিয়াম ফকনার তার দ্য সাউন্ড অ্যান্ড দ্য ফিউরিতে (১৯২৯) এই টেকনিক ব্যবহার অভিনব সাফল্য দেখিয়েছেন। ভার্জিনিয়া উলফ  টু দ্য লাইট হাউসসহ তাঁর বেশকিছু উপন্যাসে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। জেমস জয়েস ইউলিসিস-এ এই টেকনিকের সর্বাধিক সফল প্রয়োগ ঘটান।

হেনরি জেমস ১৮৪৩ সালের ১৫ এপ্রিল নিউইয়র্কের ওয়াসিংটন স্কয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হেনরি জেমস সিনিয়র উনিশ শতকের মধ্যভাগে আমেরিকার একজন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তরুণ বয়সেই জেমস জেনেভা, লন্ডন, প্যারিসহ ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় পণ্ডিত শিক্ষকদের কাছে নানা বিষযে অধ্যায়ন করেছেন। জেমসের ছিল  এসব জায়গার ভাষার ওপরে দখল আনার এবং ইউরোপকে মনস্তাত্বিকভাবে চেনার অভিপ্রায়। পরিবারের ইউরোপের নানা দেশ ভ্রমণের সুবাদে জেমস যেভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নানা বিষয়ে জানার সুযোগ পান, সেরকম সুযোগ আমেরিকার খুব কম লোকের ভাগ্যেই জুটেছে। জেমস ছিলেন খুব লাজুক স্বভাবের মানুষ এবং পরিশ্রমী পাঠক। অল্প বয়সেই তিনি হথর্ন এবং বালজাক গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন। ১৮৬০ সালে তাঁর পরিবার নিউপোর্টে পৌঁছালে তিনি চিত্রশিল্পী জন লা ফার্গের সাথে পরিচিত হন এবং তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। লা ফার্গ তাঁকে ফরাসি সাহিত্যের নানাদিকের সাথে  পরিচয় করিযে দেন এবং সেইসময়ে তিনি বালজাকের লেখার সাথেও পরিচিত হন। পরে তিনি বলেছেনও যে বালজাকের লেখা যেভাবে তাঁকে প্রভাবিত করেছে তা আর কারো লেখা করেনি।

উনিশ বছর বয়সে তিনি হার্ভার্ড আইন স্কুলে একবছর পড়াশুনা করেন এবং এসময়ে তার মনে হয়েছিল আইন নয় তাঁর আনন্দটা বরং সাহিত্যের দিকে।

২১ বছর বয়সে নিউইয়র্কের কন্টিনেন্টাল মান্থলি-তে বেনামে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম ছোটগল্প আ ট্র্যাজিডি অব ইররস। এর পরে একদশক ধরে তাঁর নানাবিধ নিরীক্ষাধর্মী গল্প, সাহিত্য সমালোচনা ও নানাবিষয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ নেশন ও আটলান্টিক মান্থলিতে প্রকাশিত হতে থাকে। এ-সময়ে আটলান্টিক মান্থলির সম্পাদক উইলিয়াম ডিন হাওয়েলসের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব হয় এবং এই দুই বন্ধুর মাধ্যমেই আমেরিকান রিয়ালিজম যুগের সূত্রপাত ঘটে। পঁচিশ বছর বয়সেই জেমস আমেরিকার একজন শক্তিশালী দক্ষ ছোটগল্পকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। গল্পলিখিয়ে হিসেবে এতসব সাফল্যের পরেও তিনি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে ধীরগতি নীতি অবলম্বন করেছিলেন। ইউরোপ ভ্রমণের পর ১৮৭১ সালে তিনি তাঁর প্রথম উপন্যাস ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ড লিখেন। ১৮৭৫ থেকে ১৮৭৬ পর্যন্ত তিনি প্যারিতে কাটান এবং সেখানে রাশিয়ান ঔপন্যাসিক ইভান তুর্গেনেভের সাথে পরিচিত হন। উল্লেখ্য, সেইসময়ে ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে জার নিকোলাসের শাসনকালে রাশিয়ার অনেক লেখকই ইউরোপে পাড়ি জমান জীবনের ভয়ে। জেমস আগে থেকেই তুর্গেনেভের ভক্ত ছিলেন। প্যারির এই সময়টাতে তিনি এমিলি জোলা, আলফনজ দদেত, মোঁপাসাসহ অনেক লেখকের সাথে পরিচিত হন। এইসব লেখকের লেখার সংস্পর্শে এসে জেমস গল্পের ভেতরে চরিত্রের প্রাধান্য নিয়ে তার বিশ্বাসের জায়গাটিতে ভরসা খুঁজে পান। ওই সময়ে সমালোচকেরা অবশ্য বলে যাচ্ছিলÑ জেমস মনোজগৎ নিয়ে যতটা ভাবিত, জীবনের স্বাভাবিক ক্রিয়াকর্ম নিয়ে ততটাই পিছিয়ে। তিনি তাঁর নিজের মতো করে তাঁর নিজস্ব শিল্পের জগৎ গড়ার অনুধ্যানে সারাজীবন ব্যাপৃত ছিলেন। তাঁর প্যারি-বাসের সময়টায় তিনি ব্যক্তিগত এবং পেশাগতÑ উভয় দিক থেকেই লাভবান হয়েছিলেন। আমরা জানি যে, পরে তিনি ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং বিয়ে, ঘর-সংসার বাদ দিয়ে শুধু  লেখালেখিতেই নিজেকে নিবেদিত রাখেন। ব্যক্তিজীবনে জেমস খুবই বন্ধুবৎসল ও সামাজিক মানুষ ছিলেন। তিনি ইতালিতেও বেশ কয়েকবার গিয়েছেন এবং ইতালির শিল্পসাহিত্য নিয়ে তার আগ্রহ দেখা গেছে।

জেমস ছিলেন বহুপ্রজ লেখক। প্রায় ৫১ বছর ধরে তিনি লেখালেখি করেছেন। লিখেছেন ২০টি উপন্যাস, ১১২টি ছোটগল্প, ১২টি নাটক এবং অসংখ্য সাহিত্য-সমালোচনামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ। ১৮৭৮ সালে ডেইজি মিলার প্রকাশিত হলে আটলান্টিকের উভয় পারেই তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এই উপন্যাসে এমন একজন নারী মুল-চরিত্র হিসেবে এসেছে যে সমাজের প্রতিষ্ঠিত কোনো মূল্যবোধ কিংবা আইন-কানুনের ধার ধারে না।  এই উপন্যাস লেখার পরে জেমস একজন আন্তর্জাতিক লিটারেরি ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর নিজের জায়গাটাকে পাকাপোক্ত করে ফেলেন। সেসময়ে তিনি প্রধান ভিক্টোরিয়ান লেখকÑ আলফ্রেড টেনিসন, উইলিয়াম গ্লাডস্টোন এবং রবার্ট ব্রাউনিংসহ অন্য লেখকদের দলে যোগ দেন। ১৮৮১ সালে জেমস তাঁর লেখক-জীবনের প্রথম অধ্যায়েই খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস দ্য পোর্টেট অব আ লেডি লিখে । এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস । এই উপন্যাসে আমরা দেখি ইউরোপীয় এবং আমেরিকানদের বৈপরীত্য, ওল্ড ওয়ার্ল্ড ও নিউ ওয়ার্ল্ড-এর দ্বন্দ্ব। উপন্যাসটির নায়িকা একজন তরুণী। নাম ইসাবেল আর্চার, যিনি ভাগ্যাহত, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে  উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত।

১৮৮৪ সালে তিনি আরেকবার প্যারি ভ্রমণ করেন এবং প্যারিতে সেইসময়ের রিয়ালিস্ট এবং ন্যাচারালিস্ট লেখকদের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। এইসব ফরাসি লেখকের প্রভাব রয়েছে তাঁর লেখায়।

পরবর্তীকালে তাঁর লেখা কিছুটা অন্যদিকে মোড় নেয়।  তাঁর লেখায় তাঁকে একজন সমাজ-সংস্কারক হিসেবে দেখা যায় যেখানে অনেক বৈপ্লবিক ধ্যান-ধারণার সন্নিবেশ ঘটে। দ্য বোস্টোনিয়ানস (১৮৮৬) উপন্যাসে সামাজিক আন্দোলনের নানা বিষয় প্রতিফলিত হযেছে। দ্য প্রিন্সেস ক্যাজামাসিমা-তে(১৮৮৬) আমরা দেখি সামাজিক অরাজকতা এবং সন্ত্রাসের ছবি।

এর পর জেমস ফিকশন থেকে নাটকের জগতে ঢুকে পড়েন, কিন্তু নাটক লিখে খুব বেশি সফলতা দেখাতে পারেননি। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৫ পর্যন্ত তিনি নাটকের ওপর কাজ করেছেন। লিখে ফেলেন বেশ  কয়েকটি নাটক, কিন্তু গাই ডমভিল (১৮৯৫) মঞ্চসফল নাটক হিসেবে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আবারো উপন্যাসের জগতে ফিরে আসেন। তবে তাঁর নাটক-চর্চার সময়টা যে ব্যর্থ হয়েছে তা কিছুতেই বলা যাবে না এই কারণে যে, তিনি নাটকের অভিজ্ঞতাকে ফিকশনে কাজে লাগিয়েছিলেন সুচারুভাবে। তাঁর গল্প-উপন্যাসে তাই দেখা গেল নতুনত্ব। বলার ভঙ্গি গেল বদলে। দ্য স্পয়েলস অব পয়োনটন (১৮৯৭), হোয়াট মেইসি নিউ (১৮৯৭), টার্ন অব দ্য স্ক্রু (১৮৯৮) এবং দ্য অকওয়ার্ড এজ (১৮৯৯) ইত্যাদি লেখায় তিনি তাঁর অর্জিত নতুন পদ্ধতিতে (বিকল্প ছবি এবং নাটকের দৃশ্যের সমন্বয়) পাঠককে এমন এক জায়গায় নিয়ে যান যেখানে পাঠক কিছু তথ্য পেয়ে যায় সরাসরি চরিত্রগুলোকে দেখে। এ এক জটিল প্রক্রিয়া যেখানে চেতনার এক বিশেষ স্তরে পৌঁছে লেখক তাঁর কাজটি করে ফেলছেন অভিনব কৌশলে।

বিশশতকের প্রারম্ভে জেমস তাঁর ফিকশন রচনার নিজস্ব টেকনিককে সুসংহত করে ফেলেন। তার আগের দশকটি মোটামুটি তিনি নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই অতিবাহিত করেছেন। তাঁর পরের তিনটি উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তাঁর লেখক-জীবনের শেষ অধ্যাযটি শেষ হয়। তাঁর এই পর্যায়ের উপন্যাসগুলোয় আমরা চরিত্রের সংখ্যা খুব কম দেখি এবং এসব উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে তিনি নানা কর্ণার থেকে দেখেছেন। বিভিন্ন উল্লেখ-উদ্ধৃতিসহ নানামাত্রিক প্রতীকী চিত্রকল্প নির্মাণের মধ্য দিয়ে এই উপন্যাগুলোতে এসেছে তাঁর আরো পরিণত শিল্পসত্তার স্ফূরণ। ১৯০৩ সালে লেখা  দ্য অ্যামব্যাসাডর তাঁর মতে তাঁর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম। দ্য উইংস অব দ্য ডাব (১৯০২) উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল দ্য অ্যামব্যাসাডর-এর পরে কিন্তু প্রকাশিত হযেছিল আগে। এই উপন্যাসে আমরা দেখি একজন হতভাগ্য নারী কীভাবে তাঁর সারল্যের কারণে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তার উত্তরাধিকার সূত্রে যা পাবার কথা ছিল তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্য গোল্ডেন বাওল (১৯০৪) জেমসের শেষ উপন্যাস। এই উপন্যাসে দেখা যায় অভিজাত সমাজের অবৈধ যৌনাচার।

একটানা কুড়ি বছর ইংল্যান্ডে বসবাসের পর তিনি আমেরিকা ভ্রমণে আসেন এবং  আমেরিকাকে একটি বৃহৎ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পলিটিকাল শক্তি হিসেবে দেখে  তিনি বিমর্ষ হয়েছিলেন। এইসময়ে আমেরিকার মানুষের যান্ত্রিক জীবনবোধ ও অত্যাধিক  নগরায়নে তিনি খুশি হতে পারেননি। আমেরিকা থেকে ফেরার পর তিনি ভ্রমণকাহিনি লিখতে শুরু করেন এবং তিনটি গ্রন্থে সেগুলো সংকলিত হয়। গ্রন্থ তিনটি হলোÑ আ লিটল ট্যুর ইন ফ্রেন্স (১৮৮৫), ইংলিশ আওয়ার্স (১৯০৫) এবং দ্য অ্যামেরিকান সিন (১৯০৭)।

একজন বোদ্ধা সাহিত্য সমালোচক হিসেবে তিনি লেখক সম্বন্ধে বলতে গিযে বলেছেন যে লেখককে অবশ্যই বুঝতে হবে তার লেখায় কতখানি তিনি সচেতনভাবে এবং কতটুকু তিনি অসচেতনভাবে নিজেকে সমর্পিত করেছেন। জেমসের মতেÑ a text must first and foremost be realistic and contain a representation of life that is recognisable to its readers. তিনি বালজাক থেকে শুরু করে তার সমযের অনেক লেখককে নিয়েই লিখেছেন।

তাঁর সমস্ত লেখা ২৪ খণ্ডে প্রকাশিত হয় এবং ১৯০৬ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত তিনি তাঁর আগের লেখাগুলো ঘঁসামাজা করেন। তিন খণ্ডে প্রকাশিত আত্মজীবনী আ স্মল বয় আ্যান্ড আদার্স (১৯১৩), নোটস অব আ সন অ্যান্ড আ ব্রাদার (১৯১৪) এবং দ্য মিডল ইয়ার্স (১৯১৭)। ১০১৫ সালে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান এবং ১৯১৬ সালে  তাঁকে দেওয়া হয় অর্ডার অব মেরিট । বেশ কয়েকবার নোবেল পুরস্কারের শর্টলিস্টে নাম এসেছিল তাঁর। ১৯১৬ সালের ২৮ ফেব্রয়ারি দীর্ঘ অসুস্থতার পর হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়। জেমসের জীবদ্দশায় তাঁর খুব বেশি পাঠক ছিল না। ১৯৪০-৫০ এর দশকে বলতে গেলে তাঁর পুনরুজ্জীবন ঘটে এবং বিশশতকের শেষের দিকে  পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ  ফিকশন রাইটার হিসেবে তিনি বৃহত্তর পাঠক সমাজে পরিচিতি পান, তাঁর শিল্পীসত্তার ব্যাপকতা নিয়ে লেখালেখি হয় এবং চেতনাপ্রবাহ টেকনিকের অগ্রদূত হিসেবে তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তিনিই প্রথম তাঁর আখ্যানে সচেতনভাবে এই টেকনিকের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। তাঁর  লেখা অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তিনি প্রকৃতপক্ষেই দুঃসাধ্যের স্থপতি, তাঁর লেখায় এমন সব অভিনব লিখন কৌশলের খোঁজ পাওয়া যায় যা এক জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিযে প্রবাহিত এবং তা অন্য কারো লেখায় সেভাবে পাওয়া অসম্ভবই বটে। এবছর সারা পৃথিবীতে এই কালজয়ী লেখকের মৃত্যুশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। আজকের এই লেখার মধ্য দিয়ে আমরাও এই অমর কথাশিল্পীকে জানাই মৃত্যুশতবার্ষিকীর বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close