Home অনূদিত কবিতা কার্ল মার্কস > কবিতাগুচ্ছ >> দ্বিশত জন্মবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি >>> ভূমিকা ও ভাষান্তর : মাসুদুজ্জামান

কার্ল মার্কস > কবিতাগুচ্ছ >> দ্বিশত জন্মবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি >>> ভূমিকা ও ভাষান্তর : মাসুদুজ্জামান

প্রকাশঃ May 5, 2018

কার্ল মার্কস > কবিতাগুচ্ছ >> দ্বিশত জন্মবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি >>> ভূমিকা ও ভাষান্তর : মাসুদুজ্জামান
0
0

কার্ল মার্কস > কবিতাগুচ্ছ >> দ্বিশত জন্মবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি >>> ভূমিকা ও ভাষান্তর : মাসুদুজ্জামান 

 

ভূমিকা

সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা কার্ল মার্কস। তাঁর ভাবনা পুরোপুরিই রাজনৈতিক। উৎপাদন পদ্ধতিকে তিনি সাধারণ শ্রমিক-কৃষকের নিয়ন্ত্রণে এনে মানবমুক্তির কথা বলেছিলেন। সৃষ্টিশীলতাকে চিহ্নিত করেছিলেন উপরি-কাঠামো বলে। শিল্পসাহিত্যকে তাই তিনি কখনো অগ্রাহ্য করেননি। বালজাক ছিলেন তাঁর প্রিয় লেখক। এখানে মার্কসের যেকটি কবিতা সংকলিত হলো, তা থেকে পাঠক বুঝতে পারবেন, কল্পনার ঐশ্বর্য়ে তাঁর কবিতা কতটা গভীর, অন্তর্ভেদী, এমনকি রোমান্টিকও। সেই সঙ্গে মেদুর রোমান্টিকতাকে ভেঙে দিয়ে বাস্তববাদকেও প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। তবে কবিতা যে তিনি সত্যি ভালো লিখতেন, তাঁর কবিতার চিত্রকল্প, শব্দব্যবহার লক্ষ্ করলেই সেটা বোঝা যাবে। আজ কার্ল মার্কসের জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী উপলকক্ষ্যে এই মহান মানুষটির স্মরণে কিছু কবিতা অনুবাদ করে তীরন্দাজের পাঠকদের কাছে নিবেদন করা হলো।

জেনির জন্যে


শব্দ…মিথ্যে, শূন্য ছায়া, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়,
সব দিক থেকেই ঘনিয়ে উঠছে জীবন!
তোমার মাঝেই মৃত্যু ও অবসাদ, আমাকে উঠে দাঁড়াতেই হবে
আমার সত্তা সেকি অসীম আর অনন্ত?
এই পৃথিবীর ঈর্ষাকাতর যত ঈশ্বর, তন্ন তন্ন করে দেখেছি তাদের
মানবিক আগুনই জ্বলজ্বলে আর অফুরান;
অনন্ত কাল ধরে ক্ষয়ে যাওয়া পৃথিবী
দ্যুতিময় সোনালি উজ্জ্বলতা আর শব্দ নিয়ে
প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে।
যদি বাসনারা আর তীব্র হয়, বর্ণচ্ছটায় ঝলমলে, দৃঢ়,
আত্মার বিধুর বিচ্ছুরণে
তোমার পৃথিবী ঠিকই খুলে যাবে,
সরে যাবে তোমার মৃত্যুভয়, তোমাকে নমিত করবে,
জেভিয়ার-নাচ হয়ে উঠবে উদ্দাম।
তোমাকে ছাড়িয়ে জন্ম নেবে আরেক পৃথিবী।

জেনি! খুনসুটি করে হয়তো জানতে চাইতে পার
কেন আমার গান “জেনির উদ্দেশেই” গাই আমি
যখন তোমার সঙ্গে একা থাকি
আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়,
যখন আমার গান নিঃসঙ্গ বিষাদে ভরা,
তখন তুমি আমার হৃদয়কেই উদ্দীপ্ত করো,
যখন তোমার নামের প্রতিটি অক্ষর আমি উচ্চারণ করি,
যখন তুমি গানের স্বরলিপিকে করে তোলো সুরেলা,
তোমার নামটি আমার খুব প্রিয় বলে
ঈশ্বরীর কাছ থেকে নিঃশ্বাস বায়ু ও নিক্কন ভেসে আসে না,
তোমার নামের বর্ণচ্ছটা কত কী যে বলে আমাকে,
তোমার নামটি কতটা গভীর, সুরেলা, ধ্বনিময়,
সুদূরে কম্পমান আত্মার মতো
সোনালি সংগতির মতো
অবাক করা যাদুময় দূরত্ব থেকে বেজে ওঠে।


দেখো! হাজারটা ধ্বনি দিয়ে আমি তোমাকে ভরিয়ে তুলতে পারি,
প্রতিটি পংক্তিতে আমি শুধু লিখতে পারি- “জেনি”,
তারপরও তারা আমাদের এই ভাবনার জগতটাকে লুকিয়ে রাখতে পারে,
অনন্তকে তবু খুঁজি আমি, খুঁজি বদলে না-যাওয়া ইচ্ছাশক্তিকে,
কবিতারা কী সুমধুর, ছড়িয়ে দিচ্ছে বিধুরতা,
সবটুকু উজ্জ্বলতা আর ইথারের রঙ,
উদ্বেগে ভরা দুঃখ বেদনা আর ঐশ্বরিক আনন্দ,
সবটা জীবন ও প্রজ্ঞা আমারই।
ঊর্ধলোকের তারাপুঞ্জের মধ্যে আমি তাদের পাঠ করি,
জেফায়ার থেকে তারা আমার কাছেই ফিরে আসে,
ফিরে আসে বন্য ঢেউয়ের বজ্রবিদ্যুৎ থেকে,
সত্যি বলছি, নীরব হয়ে যাবার আগে
আগামী শতকে আমি দেখবো বলে
সবকিছু লিখে রেখে যেতে পারি।

কবিতা

সৃষ্টিশীল শিখার স্রষ্টারা সবকিছু ভরিয়ে তোলে
স্রোতের মতো ছুটে আসে তোমার বুক থেকে,
ঊর্ধলোকে লিপ্ত হয় দ্বন্দ্বে
আর আমার বুকেই আবার তাদের ঠাঁই মেলে।
তরল-রক্তের মতো ঊর্ধ্বলোকে জ্বলে উঠলে তুমি,
ভালোবাসার ডানার সঙ্গে জড়িয়ে
আগুনকে তুমি কুসুমিত বর্ম করে তুললে।
আমি দেখলাম ঔজ্জ্বল্য আর শুনলাম ধ্বনি,
দূরে সরে গেল স্বর্গলোক,
উত্থিত হলো একবার
পরক্ষণেই আবার গেল ডুবে,
ডুবে যেতে যেতে উঁচুতে উঠে গেল।
অবশেষে যখন আমার ভেতরটা পূর্ণ হলো,
বিষাদ আর আনন্দ তৈরি করলো সুর
কিভাবে যে আমি তাতে জড়িয়ে গেলাম।
পাখির বাচ্চারা গড়ে তুললো নরমসরম এক পৃথিবী
উত্থান ঘটলো আত্মার, কথারা বন্দি হলো,
অগ্নিস্পর্শে তোমার ভালোবাসা
আমার ভেতরে ঘনিয়ে তুললো চিত্রকল্প।
ভালোবাসাময় শরীর আর আত্মা
আরেকবার পেল পরম মুক্তি,
সেই স্রষ্টার বুকেই জ্বলে উঠলো আমার শিখা।

 
পেস্ট্রি রাধুনিকে নিয়ে কৌতুক
যতটা পারো পেস্ট্রি বানানোর জন্যে ময়দা খামির করো,
তুমি কখনই পেস্ট্রি বানানোর কাজটাজ ছাড়া
বেশি কিছু তো হতে পারবে না।
আর, যাই বলো না কেন, যারাই বলুক,
যেভাবে চলো,
তুমি কি গ্যেটেকে কখনো ছাড়িয়ে যেতে পারবে?
আমরা যদি তাঁর প্রতিভা ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে বলি
তখন তো বলতেই হবে, সে তোমার এই কাজকম্ম
সম্পর্কে কিছু কি জানতো?

কয়েকটি কবিতা


অন্তরে দুর্বহ ভার
অন্তর্দৃষ্টি স্বচ্ছ হলো
অস্পষ্ট আমার বাসনা
সবশেষে মূর্ত হলো তোমাতে।

জীবনের বন্ধুর কণ্টকিত পথে
হাতের মুঠিতে যা আনতে পারিনি
তাই এলো অযাচিত আমার কাছে
তোমার মদির দৃষ্টিতে।


মনের উদ্দামতার মতো শক্তিকে
ব্রহ্মাণ্ডের মতো যা অনন্ত
তাকে কী করে ফুটিয়ে তুলবে শব্দে,
ধোঁয়ার মতো বঙ্কিমরেখায় ভেসে-চলা এই শব্দ?


হৃদয় যা কঠিন শক্তি দিয়ে আঁকড়ে ধরে
ধীরে সুস্থে তার মুখোমুখি হতে পারবো না কখনো,
অস্থির অনিঃশেষ যাত্রায়
এগুতে হবে দ্বন্দ্বের পথরেখা ধরে।

যা-কিছু অনবদ্য, যা কিছু সুন্দর
আমার জীবনে টেনে আনবো
রহস্য ভেদ করবো বিজ্ঞানের
শিল্প ও সংগীতের রসে হবো মুখর।


সাধ্য-সীমার পরোয়া না করে চলো,
সংঘাত এড়িয়ে নয়
ইচ্ছাশক্তি-বর্জিত স্থবিরের মতো
কখনোই বেঁচে থাকা নয়।

যন্ত্রণা আর খাটুনির জোয়ালে
শান্তভাবে কাঁধ দেবো? ধিক!
যা হবার হোক, আমাদের আছে
আশা-আকাঙ্ক্ষা-কর্ম ও প্রয়াস।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close