Home কবিতা কুশল ইশতিয়াক / ১০টি নতুন কবিতা এবং মাসুদুজ্জামানের পাঠ-প্রতিক্রিয়া
6

কুশল ইশতিয়াক / ১০টি নতুন কবিতা এবং মাসুদুজ্জামানের পাঠ-প্রতিক্রিয়া

প্রকাশঃ December 1, 2016

কুশল ইশতিয়াক / ১০টি নতুন কবিতা এবং মাসুদুজ্জামানের পাঠ-প্রতিক্রিয়া
0
6

কবিতাগুচ্ছ / কবির কথা / পাঠ-প্রতিক্রিয়া

 

কবিতাগুচ্ছ

 

যৌন ফ্যান্টাসি

মুততে যেখানে যাই, তার পাশে জানালা। জানালা দিয়ে হেনাদের বাড়ি দেখা যায়। প্রতিদিন দুয়ারে বসে হেনা মাছ কুটে। এটা দেখলেই আমি মুততে ভুলে যাই।

সার্কেল

প্রতিদিন সকালে একটা নতুন জীবন শুরু করি। কিন্তু ঘড়ি যতো এগোয়, আমার জীবন ততো পুরনো হতে থাকে। দুপুর পর্যন্ত এসে আমার মনে হয়, দুপুরটা আজকের নয়, গতকালের। নাওয়া খাওয়া শেষে আমার এই সন্দেহ আরো প্রকট হতে থাকে। তখন আমি ঘুমিয়ে পড়ি অন্য এক জীবনে জেগে উঠবার লোভে। কিন্তু জেগে দেখি প্রতিটি অসহনীয় সন্ধ্যার মতোই আমার চারপাশ অন্ধকার। আমার খুব কাঁদতে ইচ্ছা হয় কিন্তু কান্নার মতো যথেষ্ট অশ্রু আমি কোথাও খুঁজে পাই না। আমি তখন ভাবতে থাকি, আমার অশ্রু আমি কোথায় হারিয়ে ফেলেছি। আমার তখন গতরাতের কথা মনে হয়। রাত বাড়তে থাকে, আর আমার জীবন ছেড়ে পালানোর উদ্দেশ্য ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে। প্রতিরাতে তাই আমি একবার নিজেকে মেরে ফেলি। প্রতি ভোরে আবার নতুন জীবন ফিরে পাই। কিন্তু যে জীবনে ফিরে আসি, সে জীবন আমার জীবন নয়।

নিজের পরিচয় হারিয়ে যাওয়ার পর
মূলত নিঃসঙ্গ থাকার পুরোটাই আয়নার সাথে সম্পর্কিত। বিবিধ প্রতিবিম্বের মাঝে আমাদের চলাফেরা শব্দহীন; আয়নায় ফুটে ওঠে সমুদ্র ও মেঘ। দীর্ঘকায় হতে শুরু করে ছায়া; কখন যে একটি বিষণ্ণ বকুল জন্মায় বুকে, আর কখন পালক হারায় পাখি—এ আমি আলাদা করতে পারি না।

ঠিক যেমনটা চাই— যেমন একজোড়া নগ্ন শাদা বাহু, একটা হানাবাড়ি অথবা ক্রুশবিদ্ধ ভঙ্গীমায় সমর্পিত স্তন— এর কোনোটাই তুমি নও। তুমি তার চেয়েও বেশি কিছু। আমি কোনো আকার দিতে পারি না যার।

তুমি শূন্যতার মতো। অথবা শূন্যতাই তোমার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী— এমনটা মনে হয়। কখনও বা শান্ত হয়ে আসে পুকুরের ঢেউ। চোখ বুজলে টের পাই জলের ধারে তোমার অস্তিত্ব। স্বচ্ছ ঘাটলায় নেমে দাঁড়িয়ে থাকো নতজানু।  মাথার ওপর দিয়ে  উড়ে যায় পাখ-পাখালি। আমিও দাঁড়িয়ে থাকি আশেপাশে, কোথাও। এভাবে আমরা নিজেদের মধ্যে চুপচাপ ঈশ্বর খুঁজি।

লোভ

আশ্চর্য চুপ আছি—
একটি বৃক্ষ পালনের লোভে

পাছে কেউ নিয়ে যায়- তারে ভেবে
অশ্লীল নিঃশব্দে আছি; আশ্চর্য এক
লোভে—

মনে মনে একটি বৃক্ষ ভাবি, তার নাম রাখি হরিণ…

পরিব্রাজক

সহস্র বছর অন্ধকারে থাকার পর, ভোর দেখে মনে হলো জ্বলে গেছে তার রঙ। মোরগের ডাক যেন মিনারের গায়ে ক্ষয়ে যাওয়া নদী। পাতার মর্মর শুনি— অন্তরীক্ষের বুকে প্রাচীন বৃক্ষ যেমন, হা রাখাল— চেয়ে দেখো শূন্য প্রান্তর পড়ে আছে কতোটা একা! শুকতারা দেখে ভেবে নিচ্ছি, ওইদিকে তাহলে অনন্তের বাড়ি…

সূর্যের ভেতর বাড়ি

কাঁচের মতো ভেঙে যাচ্ছে বাতাস। বাতাসকে মনে হলো কোনো পলাতক পাখি। বাতাসে খোলা চুল উড়ছে, আর একটি মানুষ, ছায়া হয়ে গেলো দ্রুত। সূর্যের ভেতর আনমনে প্রবেশ করি। সূর্যের ভেতরে এক হলুদ আত্মা— ঢুকে পড়বার পথেই ছাই হয়ে গেলো দেহ!

সম্বিৎ ফিরে পেয়ে দেখি আবারো উড়ছে চুল, বনের আয়না। পায়ের দিকে তাকাতে অদৃশ্য হয়ে গেছে ভূমি। একই আকাশ আমি কীভাবে, কয়টি অক্ষরে পড়ে নিলাম? চোখ তুলে তাকানোই এক অবারিত ডানা; সূর্যের ভেতর ক্রমশ প্রবেশ করি, প্রবেশ করি। এইবার প্রবেশের পথে অদল বদল হয়ে যায় ছাইমাখা স্মৃতি—নাক বেয়ে মস্তিষ্কে উঠে পড়ে মাংসপোড়া গন্ধ, আর রক্তপোড়া গন্ধে থাকে মদের বিপুলতা। যে পথে জন্ম, সে পথেই আবার ফিরে যাবো। ঘ্রাণ পাই আমি, ঘ্রাণ পেয়ে তাই ঝুঁকে যাচ্ছি অনলের জঙ্ঘায়।

খোলা চুল উড়ছে, আর একটা মানুষ হয়ে যাচ্ছে গাছ। নতুন করে শুরু করি প্রত্যাবর্তন। সূর্যের দিকে যে চোখে তাকানো যায়, সে চোখে দুঃসাহস থাকে কোনো পৌরাণিক পাখির। খুব কাছে, কোথাও বেজে চলেছে জলঢাক। ঢুকে পড়ি, ঢুকে পড়ি আবারো। গাছের পাতায় বইছে ঝড়। মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে দেহ, আয়নার সম্মুখে। সূর্যের ভেতর এখন দাঁড়িয়ে আছি, আহা সূর্যের ভেতর আমার আপন ঘরবাড়ি সাজানো!

ট্রাভেল টু দ্য নর্থ

দেয়ালের লুপ্তপ্রায় ছায়ার দিকে তাকিয়ে থাকি, প্লাগ ইন করে অন্য এক জগতে ঢুকে পড়বার আগে। মাথার ভেতর থেকে উড়ে গেল একটি বাদুড়, তার প্রতিধ্বনি পাওয়া গেল পাহাড়ের দিকে— এমন অনেক দৃশ্যই স্বপ্নে দেখেছি। এইসব রাতে পৃথিবীকে আমার একটি বড়সড় কারাগার মনে হয়। দেখো, নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে পূর্ণিমা। আর সমুদ্র দিকের পথটি যেন এক বিশাল অজগর—আড়মোড়া ভেঙে এগিয়ে যেতেই শেষ হয়ে যায় সবুজ একুরিয়াম।

কবি

কবি ভাবলেই আমার একপাল দাঁতাল শুয়োরের কথা মনে হয়।

অস্তাচল

জল হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছে সমুদ্রের দিকে। তাকে ক্লান্ত মনে হলো। ক্লান্ত মনে হল তাকেও, যে কখনো সমুদ্রে আসেনি।

পশ্চিমে হেলে পড়া সূর্য। তার দিকে বিন্দুর মতো গেছে একা মাস্তুলের জাহাজ। জাহাজ আর জলপাইভর্তি পিপে। আমার মন পিছে পিছে। একটু পর সূর্যটা ডুবে যাবে জলে, মাস্তুলও ডুবে যাবে দ্রুত। প্রতিদিন এমন হয়। জাহাজের ঠাঁই হয় জলের গভীরে। সূর্য ফিরে যায়, যেভাবে যায় ব্যাকুল চোখ— ফিরে আসে না।

আরও দিঘল হলো বেলা। নারকেল ছায়ায় অন্ধকার নামছে ধীরে। সমুদ্রতীরে অগনিত মানুষের স্নান, জলে পা ভিজিয়ে আমিও অপেক্ষা করছি নিজের দিকে ফিরবার।

কেমনে কাটে বেলা

কেমনে কাটে বেলা, কেউ জানে না

নিদ ভাঙিলে ধুলার প্রান্তর
উঠানে লু হাওয়া; পিঁড়ায় বসি,
কাঁপিছে ছোট পাতা—

আলো আবছা; মা করিছে সেলাই
সন্ধ্যা-নদী, ধূপেরও গন্ধে
বিবাগী মন, খবর রাখিলো না।

উঠান গাঢ়; আকাশ ফোটা তারা।
পুকুর জলে ছায়া; নীড়ে ফিরিছে
পাখি—বিষাদ ঠেলি একলা থাকি

শূন্য বেলা। কেউই আসিলো না।

 

কুশল ইশতিয়াকের কথা / ‘কেমন কবিতা লিখতে চাই’

জীবন-অজীবনের পার্থক্য গড়তে পারি না। সুতরাং যা দেখি, চোখের ভিতরের চোখ দিয়ে, অথবা মাথার ভেতরে যা ঘটে, তা ধাওয়া করি। এই অপ্রকাশ্য পথ যেতে যেতে আমার যা পড়ে থাকে, তাই কবিতা। আমি বিশ্বাস করি, কবিতা একটি ব্যাধি। একটি সুন্দর ব্যাধি, যার কোনো আরোগ্য নেই। কবিতা লিখতে চাই, তাই লিখি—ব্যাপারটা এমন নয়। কবিতা না লিখে হয়তো থাকা সম্ভব হয় না।

 

কুশল ইশতিয়াক-এর কবিতার পাঠ-প্রতিক্রিয়া / মাসুদুজ্জামান  

হে মানুষ, কেমন আছ তুমি? মানুষের জীবন কোনো অর্থময়তা তৈরি করে কি? এইরকম জিজ্ঞাসা নয়, জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে ভালোবাসেন কুশল ইশতিয়াক। খুঁজতে ভালোবাসেন কবিতায়। আমাদের মানবিক বেঁচে থাকার নানা প্রান্তকে ছুঁয়ে যাবার চেষ্টা দেখি ওর কবিতায়। আগে যে কুশলের কবিতা পড়েছি তা নয়। কিন্তু ওর দু-একটা কবিতা এখানে-ওখানে পড়ার পর মনে হলো, কুশলের বলবার ভঙ্গিটা বেশ সহজ সরল কিন্তু মর্মস্পর্শী। তখনই তীরন্দাজের জন্য কবিতা চাইলাম। কুশলের কবিতার সঙ্গে এভাবেই আমার পরিচয়। ততদিনে কুশলের প্রথম কবিতার বই ‘উইপোকার স্বপ্নের ভেতর’ পড়ে ফেললাম। সেই মৃদু স্বর, বলা কথাকে অন্তরঙ্গ করে বলবার ভঙ্গিটা বেশ ভালো লেগে গেল। কিন্তু দৃশ্যগোচরতাকেই কী কুশল প্রতিপাদ্য করেন কবিতায়? অর্থাৎ চারপাশের জড়-অজড় বস্তুপুঞ্জকেই কী কুশল কবিতার বিষয় করে তোলেন? এসবের ভেতর দিয়েই কী তিনি আভাসিত করে দেন তার বলবার কথাকে? ব্যাপারটা কিন্তু এতটা সরল বা একরৈখিক নয়। কুশল সহজভাবে একটা অনুষঙ্গ নিয়ে কবিতা শুরু করেন ঠিকই, কিন্তু ধীরে ধীরে তার ভেতরে প্রতিভাস ঘটে যায় দার্শনিক কোনো-না-কোনো বোধের। কুশলের কবিতার এটাই প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে মনে হয়েছে আমার। অথচ সেই দার্শনিক ভাবার্পণ ঘটে চারপাশের পরিচিত দৃশ্য বা অনুষঙ্গের সংস্পর্শেই।

এখানে যে দশটি কবিতা প্রকাশিত হলো, সেই কবিতাগুচ্ছের প্রথম কবিতাটাতেই দেখছি, কীভাবে কোনো একটা মেয়েকে দেখার মুহূর্তে জাগতিকতাকে ছাড়িয়ে ফ্যান্টাসির মধ্যে ঢুকে পড়ছে কবিতার চরিত্রটি। ফ্যান্টাসিটা যেহেতু যৌন, ফলে মুত্রত্যাগের মুহূর্তটাকেই বেছে নিয়েছেন কুশল। কবিতাটা শব্দের এবং শব্দের নেপথ্যে থাকা ফ্যান্টাসিরই দার্শনিক-মনস্তাত্ত্বিক প্রতিভাস। ফ্রয়েডীয় লিবিডোর দিকেও ঝুকে পড়েছে এই তিন বাক্যের কবিতাটি। পরের কবিতাটিতে স্পষ্ট করেই জীবনকে মোটাদাগে দেখানোর একটা চেষ্টা আছে। প্রতিরাতে কবি-কথক নিজেকে মেরে ফেলে আবার ভোর হলে জীবন ফিরে পায়। আসলে জীবন তো এরকমই – মৃত্যু আর জন্ম। লক্ষণীয়, কুশল কিন্তু জন্ম-মৃত্যুকে বিপরীত দিক থেকে দেখছেন। তিনি জন্ম থেকে মৃত্যু নয়, মৃত্যু থেকে জীবনের দিকে যেতে চান। কিন্তু সেই জীবনও মানুষের জীবন নয়। প্রখর দার্শনিকতা। নীৎশে থেকে দেরিদা – কত জনের ভাবনা যে কুশলকে তাড়িত করে, কবিতাটা পড়ে সেটা বোঝা গেল।

জাক লাঁকার মিরর স্টেজের ভাবানুষঙ্গে গড়ে উঠেছে পরের কবিতা – ‘নিজের পরিচয় হারিয়ে যাওয়ার পর’। লাকাঁনীয় ভাবনার মতো আয়না দেখতে দেখতে একটা শিশুর যেভাবে আত্মতা বা সেলফউড তৈরি হয়, কুশলের কবিকথকও সেইভাবে নিজের সত্তাটাকে গড়ে নিচ্ছে। এখানেও সাইকিক একটা আমির সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু কোন আমি? এই আমি নিরাকার, শূন্য। যখন সবই শূন্য তখন তো ঈশ্বরকে খুঁজবেই মানুষ, ভীতি থেকে ধর্মাশ্রিত হবার এটাই তো ঘটনা। কিন্তু কবিতাটি চমৎকারভাবে নির্মাণ করেছেন কুশল।

পরের ‘লোভ’ কবিতাটি কিছুটা পরাবাস্তবময়। তবে বাস্তব কোনো বস্তুর ডিসটর্শন নয়, ভাবনায় বৃক্ষ হরিণ হয়ে গেছে এই কবিতায়। এটা একটা ইকো-কবিতা। পরিমিত, মাত্র একটা ছবিতে প্রকৃতির প্রতি ঝুঁকে পড়ার লোভ কবির কেন, যে-কারুরই হতে পারে। পরের কবিতায় মানুষকে পরিব্রাজকের ভূমিকায় দেখলেন কুশল। এই দেখাটা নতুন নয়, কিন্তু বলবার ভঙ্গিটা নতুন, অভিনব। কাঁচের মতো ভেঙে পড়ছে বাতাস – শব্দদৃশ্যময় পঙক্তি। তারপরই পরাবাস্তবতার ছোঁয়া – বাতাস হয়ে উঠলো পলাতক পাখি। মানুষের দেহ ছাই হয়ে গেল। আবার যখন মানুষের অনুষঙ্গ ফিরে এলো তখন মানুষ হয়ে গেল গাছ। এই রূপরূপান্তর পর্বটি শেষ হলে কবিকথক অনুভব করেন, “সূর্যের ভেতর এখন দাঁড়িয়ে আছি, আহা সূর্যের ভেতর আমার আপন ঘরবাড়ি সাজানো!” প্রকৃতি আর চেনা বস্তুপুঞ্জের চমৎকার বিনির্মাণ আছে এই কবিতায় আর সেটা ঘটেছে পরিপক্ক কবিত্ববোধে ও সৃজনীশক্তিতে।

ছায়া কী কুশলের খুব প্রিয়? তা না হলে কেন পরের কবিতায় তা ফিরে আসবে? পৃথিবী কারাগার – কার লেখায় যেন বার বার ফিরে এসেছিল এই ভাবনাটি, জ্যাঁ জেনে নাকি ফুকো? ফুকো তো বটেই। ‘ট্রাভেল টু দ্য নর্থ’ কবিতাতে এরই সহজ ভাবচ্ছবি পাচ্ছি। অজগরের পরেই সমাপ্তি ঘটছে যে সবুজ একুরিয়ামের, সেটা তো উষ্ণ হয়ে যাওয়া পৃথিবীরই কথা। আর কবির কী দাঁতাল শুয়োর? হয়তো – কেন এমন মনে হলো ওর – কবিরাই তার উত্তর দিতে পারবেন ভালো।

‘অস্তাচল’ কবিতার অস্তাচলের ছবিটা প্রথমেই তৈরি করা হয়েছে আলঙ্কারিক ভাষায় যাকে বলে ‘পারসনিফিকেশন’ দিয়ে। জল তাই হামাগুড়ি দিয়ে সমুদ্রের দিকে এগোয়। মানুষ কিন্তু সমুদ্রের জলে পা ডুবিয়ে নিজের দিকে ফিরবার চেষ্টা করে। সমুদ্র, সূর্য কুশলের বেশ প্রিয় কিছু অনুষঙ্গ। পরের কবিতাটার স্বর অনেক মৃদু ও ভেতরগামী। একা একা বেলা হয়ে যাবার বিষয়টি চমৎকার সাধু ও চলিত ভাষার আবহে ফুটিয়ে তুলেছেন কুশল।

সবমিলিয়ে কুশল যেমন বলেন, তার কবিতা তেমনই : “জীবন-অজীবনের পার্থক্য গড়তে পারি না। সুতরাং যা দেখি, চোখের ভিতরের চোখ দিয়ে, অথবা মাথার ভেতরে যা ঘটে, তা ধাওয়া করি। এই অপ্রকাশ্য পথ যেতে যেতে আমার যা পড়ে থাকে, তাই কবিতা।” কুশল এভাবেই আমাদের ভালো থাকা মন্দ থাকার জবাব বুঝি খুঁজে চলেছেন। একটিমাত্র কবিতার বই দিয়ে কবির ভবিষ্যতের পথটা চেনা যায় না – কতদূর যাবেন তিনি। কিন্তু ইশারাটা পাওয়া যায়। এই দশটি কবিতা সেই মসৃণ বা অমসৃণ পথেরই ইশারা দিচ্ছে। কুশলের জন্য ভালোবাসা থাকলো আমাদের।

[এই বিশ্লেষণ কুশলের কবিতার গভীর বিশ্লেষণ নয়, ১০টি কবিতার পাঠ-প্রতিক্রিয়া]

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(6)

  1. যেদিন থেকে নিজের ভাললাগা খুঁজতে শুরু করেছি সেদিন থেকে কবিতার পেছনে ছুটছি। সে কতকাল আজ মনে করতে পারিনা। বাংলার কবিদের কবিতাগুলো আমাকে ভীষণ টানে। কুশল ইশতিয়াক লেখা সবে পড়তে শুরু করেছি। আমি হয়তো একটু সেকেলে ভাবনায় জড়িয়ে আছি, তাই কিছু কিছু শব্দ কবিতায় অর্থ এনে দিলেও মাধুর্য কমিয়ে দিয়েছে বলে অনুভূত হল। নিঃসন্দেহে কবি ভাল লিখছেন। নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছেন। জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তাকে আরও পরিপূর্ণতা এনে দেবে। শুভ কামনা।

  2. বাহ্। চমৎকার আয়োজন। কুশলকে অভিনন্দন। ভালো লাগলো মাসুদ ভাইয়ের আলাপও। অনুজদের নিয়ে অগ্রজদের এমন আলাপ, খুবই অনুপ্রেরণাময়।

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close