Home অনুবাদ গাও শিনজিয়ান > ‘কবিতার মতো সিনেমাও সাহিত্য…’ >> সাক্ষাৎকার >>> ভাষান্তর : রাজিয়া সুলতানা

গাও শিনজিয়ান > ‘কবিতার মতো সিনেমাও সাহিত্য…’ >> সাক্ষাৎকার >>> ভাষান্তর : রাজিয়া সুলতানা

প্রকাশঃ October 7, 2018

গাও শিনজিয়ান > ‘কবিতার মতো সিনেমাও সাহিত্য…’ >> সাক্ষাৎকার >>> ভাষান্তর : রাজিয়া সুলতানা
0
0

গাও শিনজিয়ান > ‘কবিতার মতো সিনেমাও সাহিত্য…’ >> সাক্ষাৎকার >>> ভাষান্তর : রাজিয়া সুলতানা

 

“বেইজিং শহর  থেকে আমি পালিয়ে যাই পাহাড় আর ইয়াংসি নদী দেখার জন্য। সেখানে দশ মাস আমি একা একা নিঃসঙ্গ সময় কাটাই। এমনও হয়েছে, দিনের পর দিন কোনো মানুষের সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ হয় নি। মনে আছে, আমার মাথার ওপরে ছিল ঘন বৃক্ষলতা। নিচে আমি। হাঁটছি আর দেখছি আকাশের কোণ থেকে কীভাবে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। মেঘের পর্দা ভেদ করে কীভাবে সূর্যের আলো এসে ঢোকে, বর্ণচ্ছটায় উদ্ভাসিত চারদিক। সেই রশ্মির বিস্তার এতো সূক্ষ্ণ ও নিগূঢ় ছিলো যে তারপর আর কিছু দৃশ্যমান হতো না। সেই আলো একধরনের যৌন-অনুভূতি জাগাতো। আলোর প্রেক্ষাপট রয়েছে; রয়েছে দৃশ্যমানতা ও গভীরতা। আমার শিল্পকর্মগুলি এরকমই।”

[সম্পাদকীয় নোট : গাও শিনজিয়ানকে নিয়ে তীরন্দাজের বিশেষ সংখ্যার এটি হচ্ছে সাক্ষাৎকার-ভিত্তিক দ্বিতীয় লেখা। ইতিপূর্বে আমরা তাঁর রচিত সোল মাউন্টেনের একটা অধ্যায় প্রকাশ করেছিলাম। উল্লেখ্য, প্রথম চীনা লেখক হিসবে গাও শিনজিয়ান ২০০০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। জন্ম ১৯৪০ সালে, চীনের জিয়াংশি প্রদেশে। তিনি বেইজিংয়ে ফরাসি সাহিত্যের ওপর পড়াশোনা করেন এবং ১৯৮৭ সালে প্যারিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। শিনজিয়ান একাধারে নাট্যকার, পরিচালক, সমালোচক ও চিত্রশিল্পী। তাঁর হাতেই সনাতন চীনা সাহিত্য নতুন রূপ পরিগ্রহ করে, যা তাঁর আগে দেখা যায়নি। চলচ্চিত্রের প্রতিও তাঁর আগ্রহ অনিঃশেষ। ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০০৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গাও শিনজিয়ান এবং আরেক বহুমাত্রিক ফরাসি লেখক-শিল্পী ফিওনা জি লরেইনের মধ্যে সাহিত্য, চলচ্চিত্র আর চিত্রশিল্প নিয়ে কথা হয়। এখানে সেই কথোপকথনের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। লক্ষণীয় এই কথোপকথনে একজন লেখকের চলচ্চিত্রের বোধ ও অনুরাগ কতটা গভীর হতে পারে সেটা বোঝা যায়। সমকালের সাহিত্য বা চিত্রকলা যে বহুমাত্রিক, নানান শিল্প-মাধ্যমের মিশ্রণ শিজিয়ানের সাক্ষাৎকারটি পড়লেই সেটা উপলব্দি করা যায়।]

ফিওনা জি লরেইন : গাও, একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, কবি, চলচ্চিত্র নির্মাতা- এসবের মধ্যে কোন মাধ্যমটি আপনাকে বেশি উৎসাহিত করেছে?
গাও শিনজিয়ান : চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি সবসময়ই আমার আগ্রহ ছিল। এমনকি গতশতকের আশির দশকের প্রথম দিকে যখন আমি চীনে ছিলাম তখনও। এরই মধ্যে ১৯৮৪ সালে আমার প্রথম ছোটগল্প ‘হুয়াডু’র চিত্রনাট্য প্রকাশিত হয়। কিন্তু আমি লেখক হিসেবে নিষিদ্ধ হবার কারণে কোনো চিত্রপরিচালক বা অভিনয়-দলের সাহায্য নিয়ে ‘হুয়াডু’কে পর্দায় দেখানোর সুযোগ পাই নি। অথচ ‘হুয়াডু’ই ছিল আমার মাল্টি-ক্যামেরাভিত্তিক চিত্রনাট্য সৃষ্টির প্রথম প্রচেষ্টা। এই নাটকে ছবি, শব্দ আর সঙ্গীতকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করেছি। আমরা যে মুভিগুলো দেখি সেখানে সচরাচর ছবি আর শব্দ এই দুটোর সন্মিলন দেখানো হয়। কিন্তু আমার মুভিতে ছবি, শব্দ আর সঙ্গীত এই তিনটি অনুষঙ্গের প্রত্যেকটিরই একটির সঙ্গে আরেকটির যোগাযোগ ও সমন্বয় ঘটেছে। ভাষার ব্যাপারটা তো আছেই। এখানেই আমি স্বতন্ত্র। এর কয়েক বছর পর ‘বাইং এ ফিশিং রড ফর মাই গ্রান্ডফাদার’- এই ছোটগল্প নিয়ে আমার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল চিত্রনাট্য তৈরি করার। এক জার্মান চিত্রনির্মাতা এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখান। কিন্তু ফিল্ম-প্রজেক্ট হিসেবে এর চিত্রায়ন সম্ভব হয়নি। ফলে, এটা ছোটগল্প হিসেবেই রয়ে গেছে। কয়েক বছর পর এক ফরাসি প্রযোজক আমাকে ছবিটি নির্মাণের জন্য সর্বাত্মক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার কয়েকবার সাক্ষাৎও হয়। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন আমি গতানুগতিক ধারার পাশ্চাত্য-চীনা দ্বন্দ্বের গল্প নিয়ে মুভি বানাই। কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি বলে শেষ পর্যন্ত আর সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এই তৃতীয় ফিল্ম-প্রজেক্টের জন্য যেসব সিরিজ-চিত্র আর টেক্সট তৈরি করেছিলাম, সেগুলো আমার পরের ছোটগল্প ‘ইন অ্যান ইন্সট্যান্ট’ (১৯৯১)-এ অন্তর্ভুক্ত করি। সেইজন্য দেখবেন, এই তিনটি সাহিত্যকর্মের মধ্যে মূলত সিনেমার আদল আছে।

ফিওনা জি লরেইন : আপনি সিলুয়েট বা শ্যাডোকে মুভি বলেছেন। কিন্তু এটি এরকম কোনো শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। আপনি এও বলেছেন এটি কল্পকাহিনি, প্রামাণ্যচিত্র বা জীবনী- এরকম কিছু নয়। তাহলে সিলুয়েট কী বিষয়ের ওপর লেখা?
সিলুয়েট বা শ্যাডো প্রায় দেড়ঘণ্টার একটা মুভি। মুভির শুরুটা এরকম – এক লোক পরিত্যক্ত এক শহরে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। তারপর একা একা হাঁটছে। চারপাশের পরিবেশ তার স্মৃতিকে উস্কে দিচ্ছে। এরকম পরিবেশে সে জীবন, জীবনের শূন্যতা, প্রেম ও মানবতাকে বুঝতে করতে চেষ্টা করছে। পুরোটা মুভি ফরাসি ভাষাতে হলেও শেষের দিকের কিছু দৃশ্য-সংলাপে বিশেষ করেস্নো ইন অগাস্ট নাটকের দৃশ্যে চীনা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রে দ্য ম্যান হু কোশ্চেনস ডেথ-এর কিছু ফুটেজ ও মহড়াও জুড়ে দেয়া হয়েছে।

ফিওনা জি লরিয়েন : সিলুয়েট বা শ্যাডো গল্পে প্রচণ্ড একটা কাব্যিক মোচড় রয়েছে। স্ক্রিপ্টের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে আপনার ওয়ে অব দ্য ওয়ান্ডারিং বার্ড কবিতাটি : “যদি তুমি পাখি হয়ে থাকো/ তবে তুমি পাখিই শুধু আর কিছু নও তো/ বাতাসের প্রথম শব্দে তুমি দূরে উড়ে চলে যাও…।” সমুদ্রের শঙ্খচিল। সেই চিল বারবার আকাশের খিলানে শূন্যমার্গে বহুদূর উড্ডীন। সমস্ত মুভি জুড়ে এই থীম প্রাধান্য পেয়েছে।
বেশ বলেছেন। তখন আমি সবে কবিতাটা লিখে শেষ করেছি। ফরাসি ভাষায় এটাই আমার প্রথম লেখা ফ্রি-ভার্স। তো এর চিত্রায়ন শুরু হলো। আমার কাছে স্বাধীনতার মূল্য অনেক। অবশ্যই যে কারো কাছেই। অল্পবয়স থেকেই আমি অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। সারা জীবন আমি স্বাধীনতা খুঁজেছি, পেতে চেয়েছি। এই মুভির আরেকটা প্রধান থীম হচ্ছে মৃত্যু। মৃত্যুকে ভয় করা, মৃত্যুর সন্মুখীন হওয়া, মৃত্যুর কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া… এইসব! এটা কবিতাই। কবিতার অনুষঙ্গসমৃদ্ধ এটি। এ জন্য আমি এর নাম দিয়েছি ‘সিনেম্যাটিক পোয়েম’। আমার কাছে ফটোগ্রাফি বা কবিতার মতো সিনেমাও সাহিত্য।

ফিওনা জি লরেইন : সেজন্যেই কি চলচ্চিত্র নির্মাণের কাব্যিক দিকটার প্রতি আপনার ঝোঁক বেশি?
একদম! আসলে চলচ্চিত্র তো ইমেজ বা দৃশ্যেরই কারবার। কিন্তু দৃশ্যের নড়াচড়া, গতি, চালনা, বহন এগুলো আবার অন্য জিনিস। মুভি নির্মাণে আমি কথাকে দৃশ্য থেকে, শব্দ থেকে আলাদা করি। কারণ, শব্দ চোখে দেখা বা কানে শোনার বিষয় নয়। বরং এগুলো ধারণাগত ও বিমূর্ত বিষয়। আমি কথা বলতে যা বুঝি তা হচ্ছে ভাষার প্রকাশভঙ্গিটা, বাক্য, টেক্সট। আমি বলি না যে এগুলো সঙ্গীত, সুর বা শব্দ এমনকি নীরবতা। কারণ, সমস্ত চলচ্চিত্রে এই চারটা উপাদান মূল স্ক্রিপ্ট থেকে একটি অন্যটির থেকে স্বাধীন। কিন্তু যখন বলি সিনেমা হচ্ছে সাহিত্য, তখন বোঝাতে চাই না যে সিনেমা নিশ্চিতভাবেই একটা ভাষা। সেটা হতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু চলচ্চিত্র ভাষা নয় বরং বোধকে স্পষ্ট করার একটা উপায়, যার মাধমে ভাষা তার কর্তা আর কর্মকে নির্মাণ করে থাকে। আমি চলচ্চিত্রকে এভাবেই দেখতে পছন্দ করি।

ফিওনা জি লরেইন : সে ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ অপটিক্যাল অথবা সাউন্ড ইমেজের কথা ধরা যাক, যা অ্যাকশনে ধরা যায় না কিন্তু ভাষাবিজ্ঞানের প্রক্রিয়া ও গঠনে নান্দনিকতা যোগ করে আর এভাবেই তা আমাদের কাছে পৃথিবীকে অন্যভাবে তুলে ধরতে বা দেখতে শেখায়।
হ্যাঁ। ঠিক ধরেছেন। এটা সত্যিই দুঃখের বিষয় যে, বর্তমান আধুনিক বিশ্বে আমরা যেসব মুভি দেখছি সেগুলোর বেশিরভাগই এরকম। বিশেষ করে বাণিজ্যিক মুভিগুলোতে পারসেপশন বা মুভমেন্টের চেয়ে অ্যাকশনই বেশি দেখানো হয়। তার মানে এই নয় যে আমি অ্যাকশনধর্মী মুভির নিন্দা করছি। এগুলো যে মন্দ, তাও নয়। দুঃখ হয় এই কারণে যে, ক্যামেরা ব্যবহার করে দেখানোর মতো অনেক কাজ থাকলেও এক্ষেত্রে দর্শকই একটা সমস্যা। কারণ, দর্শক তীব্র আবেগের মুহূর্তে দ্রুত ঘটতে থাকা দৃশ্যগুলোর মধ্যে ডুবে যায় বলে সেগুলো দেখতে পায় না।

ফিওনা জি লরেইন : একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে রঙের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা বেশ জটিল মনে হয়। উনিশ শ’ সত্তর সালের শেষদিকে আপনি যখন প্রথমবারের মতো প্যারি ভ্রমণে গিয়ে সেখানকার যাদুঘরে ভ্যানগঘ আর মনেঁর আঁকা ছবিগুলো দেখতে পান, তখন পর্যন্ত আপনি অয়েল পেইন্টিংয়ে তীব্র রঙ ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু প্যারি থেকে চীনে ফিরে এসে অয়েল পেইন্টিং সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিয়ে কালি দিয়ে ছবি আঁকায় মন দেন। আপনি কালি ব্যবহার করে দেখতে চেয়েছিলেন কীভাবে কালো থেকে সাদা অথবা সাদা থেকে কালোয় রঙের ক্রমবিন্যাস, হালকা কন্ট্রাস্ট, গভীরতা, এসব সূক্ষ্ণ ব্যবধানের মাধ্যমে পার্থক্য সৃষ্টি করে। আপনি এই নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। যার ফলে আপনার আঁকা ছবিগুলো ভিজ্যুয়ালি প্লাস্টিক আর্টের মাত্রা পায়। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আপনি সিলুয়েট বা শ্যাডো মুভিটি তৈরি করেন। রঙের বিন্যাস ও পরিমাণের বিশেষ ব্যবহার দেখিয়েছেন মুভির পুরোটা জুড়ে। এ ব্যাপারে আরও কিছু বলুন।
‘ওডেসী’ ছবিটা আঁকার সময় রঙের এই সূচনা ঘটে আমার চিত্রকর্মে। সেটা ১৯৮৩-৮৪ সালের কথা। বেইজিং শহর  থেকে আমি পালিয়ে যাই পাহাড় আর ইয়াংসি নদী দেখার জন্য। সেখানে দশ মাস আমি একা একা নিঃসঙ্গ সময় কাটাই। এমনও হয়েছে, দিনের পর দিন কোনো মানুষের সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ হয় নি। মনে আছে, আমার মাথার ওপরে ছিল ঘন বৃক্ষলতা। নিচে আমি। হাঁটছি আর দেখছি আকাশের কোণ থেকে কীভাবে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। মেঘের পর্দা ভেদ করে কীভাবে সূর্যের আলো এসে ঢোকে, বর্ণচ্ছটায় উদ্ভাসিত চারদিক। সেই রশ্মির বিস্তার এতো সূক্ষ্ণ ও নিগূঢ় ছিলো যে তারপর আর কিছু দৃশ্যমান হতো না। সেই আলো একধরনের যৌন-অনুভূতি জাগাতো। আলোর প্রেক্ষাপট রয়েছে; রয়েছে দৃশ্যমানতা ও গভীরতা। আমার শিল্পকর্মগুলি এরকমই। কালিতে আঁকলেও রঙ নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। আমাদের স্মৃতি ও স্বপ্নেরও রঙ আছে। সিলুয়েট বা শ্যাডোতে রঙের একটা ব্যাপার আছে, সেটা হচ্ছে এরা সময়-সংবেদী। কারণ, বাস্তব, মনস্তাত্ত্বিক ও কাল্পনিক এই তিনের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় চলচ্চিত্রের বাস্তবতা। এক বাস্তবতা থেকে আরেক বাস্তবতায় রঙও ধীরে ধীরে রূপ বদলায়। সেজন্যে রঙ শুধু নান্দনিক নয়, অর্থপূর্ণও।

ফিওনা জি লরেইন : আপনার অভিনয়-শিল্পীদের কথা বলুন। তাদের সঙ্গে আপনি কীভাবে কাজ করেন?
থিরি বোছ আর ড্যামিয়েন হেমি- এই দু’জন ফরাসি শিল্পী ছাড়াও দ্য ম্যান হু কোশ্চেনস ডেথ মুভির প্রধান চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন তারা সবাই তাইওয়ানের মানুষ। এরা স্নো ইন অগাস্ট নাটকেও অভিনয় করেছেন। অন্য চারজনের মধ্যে ছিলাম আমি, আমার স্ত্রী, এক তরুণী, এক বৃদ্ধা আর একটা ছেলে। এই ক’জন। নাটকের মহড়ায় আগে একসঙ্গে অভিনয় করতাম। আমার নির্দেশনার স্টাইল ইচ্ছে করেই বদলাই নি। রিয়ালিস্টিক, ন্যাচারিলিস্টিক অভিনয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমি মঞ্চে অভিনয় করতাম।

ফিওনা জি লরেইন : সঙ্গীত হিসেবে আপনি বাখের মাস ইন বি মাইনর আর সমসাময়িক জার্মান কম্পোজার আলুইস জিমারম্যানের রিকুয়েম ফর এ ইয়াং পোয়েট ব্যবহার করেছেন। এর ওপর আবার চু ফুয়াকে একটা দৃশ্য কম্পোজ করার জন্য অর্থ দিয়েছেন, যে দৃশ্যে আপনি খালি পায়ে কালো কালির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। পরপর কয়েকটি চোখ বন্ধ করা আপনার আঁকা ছবির জন্য থেমে থেমে মিউজিক বাজানো হয়েছে যেখানে কালির আবেগিক ডিটেইলের প্রকাশ ঘটেছে। এই মিউজিকটি পছন্দ করা নিয়ে কিছু বলবেন?
আমি বিশ্বাস করি, সঙ্গীত আবেগকে বেগবান করে না। ছবির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরিবেশও সৃষ্টি করে না। আগেও যেমন বলেছি, সঙ্গীত স্বাধীন একটা ব্যাপার এবং কোনো কোনো সময় ছবির চেয়েও বড় হয়ে ওঠে। আমার কাছে সর্বকালের সেরা কম্পোজার হচ্ছেন বাখ। ছবি আঁকতে আঁকতেও আমি অনেক সময় তাঁর গান শুনে থাকি। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি ভবনের দৃশ্যে তরুণ এক কবির শৈশবের স্মৃতি ফুটিয়ে তোলার জন্য বাঞ্জি আলুইস জিমারম্যানের রেকুয়েম থেকে কিছু অংশ বেছে নিয়েছি। এটি একটি আধুনিক সিম্ফনি যা বাদ্যযন্ত্র আর মানুষের স্বর নিয়ে গবেষণা করে। আমি যে অংশগুলোকে পছন্দ করেছি সেগুলো হচ্ছে রাজনীতিবিদ আর মৌলবাদী নেতাদের অগ্নিগর্ভ বক্তৃতা। যুগপৎভাবে আরও রয়েছে বিভিন্ন ভাষার দ্রুত উচ্চারিত অস্পষ্ট কথা যা কারও যুদ্ধস্মৃতিতে জেগে ওঠা তীব্র কণ্ঠস্বরের গভীর সংশ্রব। অন্যদিকে চু ফুয়া আমার একজন ভালো বন্ধু। কয়েক বছর আগে সে আমার অপেরা মিউজিক স্নো ইন অগাস্ট কম্পোজ করেছিল। দু’হাজার পাঁচ সালে মার্সেই অপেরা হাউজে যখন সিলুয়েট বা শ্যাডো নাটকটি মঞ্চস্থ হয়, তখন আমি এর খণ্ড-খণ্ড দৃশ্যের চিত্রায়ন করি। চু ফুয়া এক ভিন্ন ধরনের সেট কম্পোজ করেন যেগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে। কঠিন কোনো দৃশ্য, স্মৃতি অথবা অনুভূতির কথা মনে করিয়ে দিত। বিশেষ করে নির্জন গলি বা কবরস্থান, যেখানে সেরকম আবহ বা পরিবেশ তৈরির অনুকূল পরিবেশ পাওয়া যায়। চু ফুয়ার সংগীত ছবির জন্য প্রনোদনা সৃষ্টি করলেও এর নিজস্ব ছন্দোবদ্ধ কাঠামো রয়েছে।

ফিওনা জি লরেইন : সিলুয়েট বা শ্যাডো মুভিতে আপনি মিনিমালিজম এনেছেন তীব্রভাবে, যেখানে মুভিটার বেশিরভাগ অংশ জুড়েই রয়েছে নীরবতা। ক্যামেরা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কিছু প্যান করা শট নিয়েছেন যেখানে কেউ একজন প্রকৃতির বিস্তীর্ণ ভূদৃশ্যে অবস্থান নিয়েছে। যেমন, মুভির শেষে আপনার হাতে একটা ক্যামেরা দেখা যাচ্ছে। প্রবল বাতাস বইছে। পেছনে আছড়ে পড়ছে সমুদ্র-তরঙ্গ। এর মধ্যে আপনি আপনার স্ত্রীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। আকাশের উন্মুক্ত দৃশ্য, পাহাড়, চারণভূমি- এরকম আরও কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে এতে। যদি বলি আপনার মুভিতে আপনার প্রকৃতিপ্রেম গভীর প্রভাব ফেলে?
বেশ তো। আমি মনে করি প্রকৃতির অনুগ্রহে আমি এখনও টিকে আছি, বেঁচে আছি। এই যে সর্বব্যাপী প্রকৃতি, এর তুলনায় মানুষের জীবন ঠুনকো। আমি প্রকৃতিকে শ্রদ্ধা করি। প্রকৃতির সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক গভীর। এর একটা শক্তি আছে যা আমাকে নিরন্তর টানে। আমার উপন্যাস সোল মাউন্টেইন (১৯৯০) আমার বেঁচে থাকার সাক্ষী। আমি পাঁচমাস প্রকৃতির সঙ্গে ছিলাম; শুধু আমি আর প্রকৃতি। সেই পাঁচমাস প্রকৃতি-যাপনই আমাকে বাঁচিয়ে তুলেছিল। ভেতরে ও বাইরে প্রকৃতি ও সভ্যতার মাঝখানে আমি বেঁচে আছি। তবে আমি জানি, সভ্যতার চে’ প্রকৃতির সঙ্গে আমার যোগাযোগটা অনেক সহজ।

ফিওনা জি লরেইন : আপনি সিলুয়েট বা শ্যাডো চলচ্চিত্রটির পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার। অন্যদিকে অ্যালেইন মেলকা আর জীন লুইস ডারমীন- এই দুজন ছবিটির সহপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন আপনার সঙ্গে। শিল্প ও যন্ত্রকৌশলের দিক থেকে এই যৌথপ্রচেষ্টায় আপনাদের তিনজনের মধ্যে যে সমন্বিত উদ্যমটা কাজ করেছে, সে সম্পর্কে কিছু বলবেন?
প্রথমত, মুভি বানানোর পুরো কাজটা ছিল অনেক দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য। অনেক ধৈর্য আর অধ্যবসায় নিয়ে লেগে থাকতে হয়েছে আমাদের। পদ্ধতিগতভাবে আমি বহু বাধার সন্মুখীন হয়েছি। যেরকম লোকেশনের প্রয়োজন ছিল বলে ভেবেছি, সেভাবে পেতে অবিশ্বাস্য রকম সময় লেগে যায়। আমার ভঙ্গস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শরীর ভালো ছিল না মোটেও। ছবিটির বেশিরভাগ মার্সেইতে চিত্রায়িত হলেও প্যারিতেও বেশ কিছু শট নেয়া হয়েছিল। দু’হাজার ছয় সালের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের তাইপেতে স্নো ইন অগাস্ট অপেরাটি মঞ্চায়নের সময় তাইওয়ানি শিল্পীদের মহড়ার ভিডিও রেকর্ড থেকে কিছু কিছু অংশ নেয়া হয়। মুভিটির শুটিং শুরু হয় ২০০৩ সালে। সে সময় মার্সেই নগরী “গাও শিনজিয়াং বর্ষ” উদযাপন করছিল। সেখানে আমার শিল্পকর্মের সিরিজগুলো দেখানো হয়ে। দ্য ম্যান হু কোশ্চেনস ডেথ আর স্নো ইন অগাস্ট এই দুটো অপেরা নিয়ে বেশ বড় ধরনের প্রদর্শনী হয়েছিল। নির্দেশনা, ছবি আঁকা, লেখালেখি ইত্যাদি কাজের মধ্যেই আমি সিলুয়েট বা শ্যাডো মুভিটির কাজ শুরু করি। অন্যান্য প্রজেক্টসহ এই মুভিটির চিত্রায়নেও অর্থের যোগান দেয় মার্সেই। চলচ্চিত্র নির্দেশনা ছাড়াও আমি চিন্তা করে করে স্ক্রিপ্ট লিখতাম। ভিডিও ক্লিপগুলো একত্রে সাজাতে প্রচুর সময় ব্যয় হতো। অ্যালেইন মেনকা, জীন লুইস ডারমীন এরা দুজনেই ভীষণ ভালো টেকনিশিয়ান। ক্যামেরার কাজটা এরা খুব ভালো বোঝেন। বাস্তবে এরা পেশায় ভিডিও ও রেডিও জার্নালিস্ট। নিজেরা স্বাধীনভাবে প্রামাণ্যচিত্র বানায়। আমার মার্সেইয়ের কাজের ওপর ভিত্তি করে ওরা যখন এ বার্ড ইন দ্য সিটি নামে একটা শর্ট ডকুমেন্টারি বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ওদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সেই থেকে ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওরা আমাকে এই মুভিটা বানাতে সাহায্য করে। আমি কিছু কঠিন শর্তসাপেক্ষে কাজটাতে রাজি হই। আমরা তিনজন মুভির জন্য ফুলটাইম কাজ করেছি। অ্যালেইন আর জীন কঠিন পরিশ্রম করেছে। একদিকে ছিল প্রচুর কাজ আর অন্যদিকে লোকের অভাব। এর ওপর শেষমুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের কাঁটা-ছেঁড়া চলেছে। অনেক সংযোজন-বিয়োজন করেছি আমি। পুরো মুভিটাই ন্যারেটিভধর্মী। অন্যদিকে মনস্তত্ব, ইমেজ, ভাষা- এসব তো বিবেচনাতেই ছিল। প্রথম থেকেই আমাকে মনে রাখতে হয়েছে যেন সবকিছুর একটা মিলিত সমন্বিত রূপ ফুটে ওঠে এবং অবশ্যই তা যেন পূর্ণতা পায়। সম্পাদনার প্রক্রিয়াটা ছিল অসম্ভব রকমের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর। মুভিটা যত কম সময়েরই হোক না কেন, এর জন্য অনেক সময়, শ্রম আর অর্থ ব্যয় করেছি আমরা। আমাদের বাজেটে ঘাটতি ছিল বলে ফুলটাইম কাউকে নিয়োগ দিতে পারিনি। একথা সত্য যে বন্ধুদের আন্তরিকতা, সাহায্য-সহযোগিতা, সক্রিয় সমর্থন না পেলে মুভিটা বানানো সম্ভব হত না। মুভির শেষে কলাকুশলীদের লম্বা লিস্ট ছাড়াও অন্যান্য যারা জড়িত তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

ফিওনা জি লরেইন : সাধারণত কোন ধরনের মুভি আপনাকে আকর্ষণ করে? কোনো নির্দিষ্ট ধারার কাজ কি আপনার কাজকে প্রভাবিত করে?
ইংমার বার্গম্যান, সের্গেই মিখাইলোভিচ আইজেনস্টাইন, ফেদেরিকো ফেলিনি, পিয়ের পাওলো, আন্দ্রে তারকোভস্কি – এদের মুভি আমার ভালো লাগে। নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের সাদাকালো ছবিগুলো আমাকে নস্টালজিক করে তোলে। আমার যখন বয়স অল্প, তখন আমি অনেক ফরাসি ‘নিউওয়েভ’ মুভি দেখতাম। ষাট ও সত্তরের দশকের ইতালীয় মুভিগুলো আমার প্রিয়। নির্দিষ্ট কোনো চলচ্চিত্র স্কুলের প্রতি আমার বিশেষ আকর্ষণ নেই। তবে মুভি দেখতে খুব পছন্দ করি এবং বলতে গেলে সবরকমের মুভির ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গিটা উদার, মনখোলা।

ফিওনা জি লরেইন : সিনেমাকে আপনি কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?
সিনেমা হচ্ছে পরিপূর্ণ একটা শিল্প, যাতে সবধরনের শিল্প অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ফিওনা জি লরেইন : সিলুয়েট বা শ্যাডো মুভিটি সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত নয় কেন? এ পর্যন্ত কোথায় রিলিজ হয়েছে এই মুভিটার?
না। কারণ, এখন পর্যন্ত এই মুভির জন্য কোনো কমার্শিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর পাইনি আমরা। দু’হাজার ছয় সালে ক্যান চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানোর আগে জ্যঁ অঁ প্রভেস বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলুয়েট বা শ্যাডো-র প্রিমিয়ার শো হয়েছিল। একই বছরে আন্তর্জাতিক বার্লিন সাহিত্য উৎসবেও এই মুভির অংশগ্রহণ ছিল। গত সেপ্টেম্বরে নটরডেম ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘বিটুইন হোমল্যান্ড অ্যান্ড হার্টল্যান্ড’ শীর্ষক শিল্পসাহিত্যের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। মার্কিন দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য মুভিটির পাশাপাশি আমার আঁকা কিছু ছবির সংগ্রহ সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। একই বছরের নভেম্বরে সিঙ্গাপুর পিকচারহাউজে ‘ইনিশিয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত হলে সেখানেও মুভিটা দেখানো হয় এবং সেটাই ছিল এই মুভির প্রথম এশীয় প্রিমিয়ার শো। ইতালি ও হংকংয়েও মুভিটি সর্বসাধারণের জন্য রিলিজ করা হয়েছে। এই মুভির প্রতি সবসময়ই অনেকের প্রবল উৎসাহ ও মুগ্ধতা দেখা গেছে। দর্শকেরা গবেষণাধর্মী স্বাধীনভাবে তৈরি মুভি দেখতে চায় ঠিকই কিন্তু তথাকথিত আর্ট ফিল্মগুলোর বাজার ব্যবস্থাপনায় ডিস্ট্রিবিউশনের চ্যানেলগুলো থাকে রুদ্ধ। এখন চলচ্চিত্র প্রযুক্তির যে উন্নতি ঘটেছে, তা ছবি বানানোর স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে না। বিশ্বায়নের যুগে নানা ধরনের বিপুল সাংস্কৃতিক চাহিদার কারণে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এর বিপরীতটাই ঘটছে। বিনোদনের জন্যই চলচ্চিত্র – একথা অনস্বীকার্য। কিন্তু আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি- মুভি আমাদেরকে সাংস্কৃতিক একটা কণ্ঠ দেয়। আমাদের জীবন ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটে এতে। মুভি একটা সক্রিয় মাধ্যম, নিষ্ক্রিয় নয়।

ফিওনা জি লরেইন : সিলুয়েট বা শ্যাডো কোন ধরণের দর্শককে টানবে বলে আপনি মনে করেন?
সব ধরনের। আমি বলতে চাই- এই মুভি আমি শুধু তথাকথিত এলিটশ্রেণির জন্য নির্মাণ করিনি। শুধু বাছাইকরা কিছু বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীর জন্যও নয়। আমার এই মুভি সবার জন্য। ‘আর্ট ফিল্ম’ও এই ছবির যথাযথ ক্যাটেগরি নয়। এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে স্বাধীন ও মুক্ত নান্দনিক প্রকাশ হিসেবে সর্বসাধারণের জন্য।

ফিওনা জি লরেইন : আপনার এই মুভিটাকে কি আপনি সিনেমা জগতের একটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী কাজ বলে মনে করেন? আপনার পরিকল্পনার কথা বলুন।
না, সেটা মনে করি না। তবে আশা করি, সিলুয়েট বা শ্যাডো সেই ধরণের প্রথম মুভি যাতে আমি নির্দিষ্ট নান্দনিকতা, শিল্প আর দর্শনকে সমন্বিতভাবে অন্বেষণ করেছি। আগামীতে ইতালীয় শিল্পীদের দ্বারা চলচ্চিত্র তৈরির আগ্রহ রয়েছে। চলচ্চিত্রের সেটে এটাই হবে আমার থিয়েটার শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার প্রথম অভিজ্ঞতা। এই নতুন প্রজেক্টের ব্যাপারে আমি রোমাঞ্চিত। একইসঙ্গে ইতালীয় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার নতুন সম্ভাবনার কথাও ভাবছি।

[ইংরেজি থেকে অনূদিত]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close