Home অনুবাদ গুন্টার গ্রাস > কবিতাগুচ্ছ >> অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত / হায়াৎ মামুদ / মাসুদুজ্জামান / শেহাবউদ্দীন আহমেদ অনূদিত

গুন্টার গ্রাস > কবিতাগুচ্ছ >> অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত / হায়াৎ মামুদ / মাসুদুজ্জামান / শেহাবউদ্দীন আহমেদ অনূদিত

প্রকাশঃ May 19, 2018

গুন্টার গ্রাস > কবিতাগুচ্ছ >> অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত / হায়াৎ মামুদ / মাসুদুজ্জামান / শেহাবউদ্দীন আহমেদ অনূদিত
0
0

গুন্টার গ্রাস > কবিতাগুচ্ছ >> অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত / হায়াৎ মামুদ / মাসুদুজ্জামান / শেহাবউদ্দীন আহমেদ অনূদিত

 

 

[সম্পাদকীয় নোট : গতকাল ১৮ মে বেলাল চৌধুরীর একটা গদ্য লেখা দিয়ে শুরু হয়েছিল এই আয়োজনটি। আজ প্রকাশ করা হচ্ছে গ্রাসের কবিতার অনুবাদ। কবিতাগুলি অনুবাদ করেছেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, হায়াৎ মামুদ, মাসুদুজ্জামান ও শেহাবুদ্দীন আহমেদ। বলা প্রয়োজন, গুন্টার গ্রাসের সামগ্রিক পরিচয় পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই হচ্ছে এই আয়োজনের লক্ষ্য। পাঠকরা যাত গ্রাস সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পেতে পারেন, সেজন্য তাঁর উপর একটি প্রবন্ধ গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ প্রকাশ করা হবে আরও একটি প্রবন্ধ। প্রবন্ধটি লিখেছেন গৌতম গুহ রায়। আগামীকাল প্রকাশ করা হবে গুন্টার গ্রাসের শেষ সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন মাইনুল ইসলাম মানিক। আর একত্রে একদিনে পাঠকদের এতগুলি লেখা পড়তে অসুবিধা হবে বলে বিবেচনা করে আমরা কিছুটা বিরতি দিয়ে, অর্থাৎ তিনদিনে একে-একে প্রকাশ করছি। আয়োজনটি কেমন লাগলো আমাদেরকে জানাবার অনুরোধ থাকলো।]

 

 

অনূদিত কবিতাগুচ্ছ
অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত অনূদিত চারটি কবিতা >>
শর্ট সার্কিট

সমস্ত ঘরে, এমনকী রান্নাঘরেও, আলো জ্বেলে দিলাম্
পড়োশিরা বলাবলি করতে থাকল : উৎসবের বাড়ি।
আমি শুধু, পুড়ে-যাওয়া ফিউজের তারের গন্ধ শোঁকা পর্য়ন্ত
আমার দেয়ালির ভিতর ছিলাম সম্পূর্ণ একা।

অবক্ষয়

তরতাজা ডিমে অ্যাসপিরিন থাকলেও
মোরগদের মাথা-টাথা ধরে,
আর তা সত্ত্বেও তো ওরা সঙ্গমে যায়;
দ্যাখোনি, খুদে কুঁকড়োগুলো বসন্তকালে ডিম থেকে পিছলে বেরিয়ে আসে!

ছােটোদের গান

কে এখানে হাসে, সত্যি কি হাসে ?
হাসি নিজেকেই হাসে উল্লাসে।
যে এখানে হাসে, সন্দেহ হয়।
হাসবার হেতু আছে নিশ্চয়।
কে এখানে কাদে, সত্যি কি কাদে?
তাকে আর পারবে না হে কঁাদাতে,
যে এখানে কাদে, সে নিজেও জানে
কান্নার হেতু রয়েছে এখানে।
কে এখানে বলে, বলে, চুপ করে?
যে নীরব তাকে পরােয়ানা ধরে,
যে এখানে বলে, এখন সে চুপ,
আছে নিশ্চয়ই তার হেতু খুব।
কে এখানে খেলে, বালু নিয়ে খেলে?
যে খেলে দেওয়ালে তাকে দেয় ঠেলে
খেলার সময় ভুল করে হাত
খেলেছে এবং পুড়েছে হঠাৎ।
কে এখানে মরে, মরেছে তা হলে?
যে মরেছে, দল বদলাল বলে।
যে এখানে মরে, সরল ধরনে
মরে গেল কিনা অতি অকারণে।
রবিবাসরীয় মিতভাষণ
নীৎশের কথা মানলে ঈশ্বর মৃত,
তা সত্ত্বেও বহুমুখী অস্ত্র হিসেবে
এখনও লাগসই
বিকিকিনির পসরা,
যেহেতু কোনো কপিরাইটের দ্বারা সংরক্ষিত নন।

 

হায়াৎ মামুদ অনূদিত দুটি কবিতা >>

 

 

মুখ খুলতেই হবে

 

যিনিই চাইবেন :
টুথপেস্টের আড়ালে ওৎপেতে-থাকা
পােকা-খাওয়া দাতটাকে
এবার তাে মুক্তি দিতে হয়,
ফেলে না দিলেই আর নয়,—
তখন কী করা! মুখ তাে তাকে খুলতেই হবে।
এখন তা হলে, আসুন,
আমরা এবারে মুখ খুলি
আপিসে যাই, সােনাবাধানাে
খারাপ দাঁতগুলাে—লাশ থেকে
যা ভেঙে নিয়েছিলাম—
জমা দিয়ে দিই।
পেটমােটা সাঁইবাবাদের
গদি ছিনতাইয়ের
কি মুখে থুথু ছুঁড়বার আগে। —
ততক্ষণে এদিকে আমরাও ক্রমে
নুদিমােটা সঁইবাবা হয়ে যাচ্ছি —
তােমার কিছু তাে করবার নেই
এক মুখ খােলা ছাড়া;
যথাসময়ে যেমন
মুখ খুলবে আমাদের সন্ততিরাও,
ফেলে দেবে
থুথুর সাথে ছুঁড়ে ফেলবে
ক্ষয়ে-যাওয়া, সােনার্বাধানাে,
লক্কড় দাত ভুড়িদার সাঁইবাবাদের।

ফোল্ডিং চেয়ার

এইসব পরিবর্তন কী দুঃখের।
দরজা থেকে নেমপ্লেট খুলে নিতে হয়,
বাধাকপি-ভর্তি সপ্যান হাতে তুলে নিয়ে
গরম করতে হয় ফের, অন্য জায়গাতে ঠিক।
এ আবার কেমনতরাে আসবাব
যা কেবলি ঘােষণা করে প্রস্থান, চলে-যাওয়া?
ফোল্ডিং চেয়ার হাতে নিয়ে
লােকে দেশান্তরী হয়।
ঘরে ফেরার মন-পােড়ানি আর বিবমিষায় ভরা জাহাজ
পেটেন্ট-নেওয়া কিম্ভুতমার্কা আসন বয়ে নিয়ে যায
আরও বয়ে নেয় তাদের
পেটেন্টবিহীন মালিক যত্রতত্র।
এখন মহাসাগরের এদিকে ওদিকে
দু’ দিকেই তাে ফোল্ডিং চেয়ার :
এইসব পরিবর্তন কী দুঃখের।

মাসুদুজ্জামান অনূদিত চারটি কবিতা >>

প্রেমের স্বাদ

তোমার আপেল – আমার আপেল।
এসো, একসঙ্গে আমরা কামড় দিই :
দেখ, সারা জীবন ধরে আলাদাভাবেই কামড় দিয়ে যাচ্ছি।
আমরা এখন আপেলের পাশে আপেল রেখেছি
কামড়ের পর কামড় দিয়ে চলেছি।

প্রথম জাতক

আমার ছেলেদের জন্যে এরপর আমি ডাল রাঁধবো।
ওরা জানুক, তাদের বাবা রান্নাবান্নায় পটু।
সঙ্গে সঙ্গে তারা ভাগবাঁটোয়ার কাজে
ব্যস্ত হয়ে পড়বে;
আর সে হবে এসাউ
যে তার বাবা আর বাবার রান্নাবান্না ভালোবাসে।

ঝগড়া

চারটা পাখি ঝগড়া করছিল।
গাছটায় যখন একটা পাতাও রইলো না
ভেনাস এলো, পেন্সিলের ছদ্মবেশে,
নিপুণ হস্তাক্ষরে
স্বাক্ষরিত হলো হেমন্ত,
আর তখনই পরিবর্তনটা অনিবার্য হয়ে উঠলো।

পথের সঙ্গী

এক বস্তা বাদাম আর
নতুন বাঁধানো দাঁতসহ
আমাকে তোমরা গোর দিও।
যখনই শোনা যাবে মড়মড়
কুরমুর শব্দ,
যেখানে আমি শুয়ে থাকবো
বোঝাই যাবে এই তো সেই লোকটা
এখনও আছে।

শেহাবউদ্দিন আহমেদ অনূদিত একটি কবিতা >>

ইস্টারসঙ্গীত

আবার এসেছে ফিরে ইস্টারসঙ্গীত,
সবুজ ঘাসের বুকে অসংখ্য কুসুম
সম্পূর্ণ নিষ্পপ তারা।

এসেছে রক্তিম মেষ, নিষ্কলুষ অথচ ধাত
ছােট ফল সবগুলাে করে নেবে গ্রাস।

আবার এসেছে দেখাে রক্তিম কশাই-
নির্দোষ, নির্দ্বেষ, হত্যা করে মেষ, আর
ঢেকে দেয় সব নতুন নতুন সাজে।

আবার এসেছে দেখাে ঘােড়সওয়ার
কারাে সঙ্গে করেনি আলাপ, অথবা করেনি গুলি
খায়নি সে ভেড়ার মাংসের রােস্ট।
আবার এসেছে দেখো শীতের সকাল,
ঢেকে দেয় সব—ঘাস, দোষ মেষ আর।
কশাই এবং ঘােড়সওয়ার,
এছাড়া সঙ্গীতকে ছিল সফেদ বলাে?

 

হায়াৎ মামুদ >> কবি পরিচিতি

 

১৯৯৯ সালে যখন ঔপন্যাসিক-কবি-নাট্যকার-প্রাবন্ধিক-চিত্রী-বক্তা ও সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী গুন্টার গ্রাসকে নােবেল পুরস্কার দেওয়া হল তখন পৃথিবী জুড়ে প্রগতিবাদী মানুষ উলসিত হয়েছিল। সুইডিশ নােবেল কমিটিতে অনেক বছর ধরেই তার নাম উঠছিল আর গ্রাস-প্রেমিকেরা হতাশ হচ্ছিলেন। কিন্তু পুরস্কার মিলে যাওয়ার পরে দেখা গেল খােদ জার্মানিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক পূর্বে টোমাস মান ও হাইনরিশ ব্যোল যখন পেয়েছিলেন তখনও নাকি অনুরূপ কাণ্ড ঘটেছিল। জার্মান চিন্তাজগতের এই টানাপোড়েন নতুন নয়, জার্মানির মাটিতে যে-ভাবধারা হিটলারের মতাে মানুষের জন্ম দেয়, তার সঙ্গে এ-ব্যাপার সম্পর্কিত।

গুন্টার গ্রাসের জন্ম পােল্যাণ্ডের গদানস্ক শহরে, তখন বলা হতো ডানৎসিগ, ১৯২৭-এর ১৬ অক্টোবর তারিখে। বাবা হ্বিহেলম্ ও মা হেলেন ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাসী মানুষ ছিলেন, পারিবারিক ঐতিহ্য ছিল মিশ্র সংস্কৃতির। গ্রাস লিখেছেন : “ডানৎসিগের বহু পরিবারের মতাে [আমাদের পরিবারে] ছিল বর্ণাঢ্যতার সংমিশ্রণ : আমার পিতার দিকে ছিল জর্মন রক্ত আর আমার মায়ের পরিবার মূলে ছিল কাসুরিয়ান, আর কাসুরিয়ারা হল বহু প্রাচীন এক স্লাভ উপজাতি।” ডান্‌ৎসিগ শহর ছ/সাত শ’ বছর ধরেই প্রধানতই জর্মনভাষীদের বলে গণ্য হয়েছে, যদিও স্লাভরাও সংখ্যায় নগণ্য ছিল না। কষ্টের সংসার ছিল স্বামী-স্ত্রী, ছেলে গুন্টার আর মেয়ে হ্বাল্ট্রাউড। এসব কথা আত্মজৈবনিক নানা প্রসঙ্গে গুন্টার পরে লিখেছেন। একটা কাগজের কোম্পানিতে সেলসম্যানের চাকরি করতেন বাবা, হীনস্বাস্থ্য ছিলেন, চাকরিটা চলে গেল একদিন হঠাৎ করে। একটা মনােহারী দোকান খুললেন মা। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই বসতেন দোকানে, কোনােরকমে গ্রাসাচ্ছাদন চলল। ছেলেকে ইশকুলে ভর্তি করিয়ে দিলেও পড়াশােনা এগােয় নি; খারাপ ব্যবহারের জন্য দু’বার বের করে দেওয়া হয়েছিল গুন্টারকে। মনে রাখা দরকার, নাৎসিরা ক্ষমতায় এসে গেছে যখন তার বয়স পাঁচ বৎসর। গবেষকদের ব্যাখ্যা : গরিবগুর্বো ঘরের ছেলের এই বেয়াড়াপনা তখনকার সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার স্মারক যেমন, তেমনই চরিত্রকাঠামােয় দ্রোহ মনােভাবও প্রমাণ করে। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের গড়পড়তা ধাঁচ অনুযায়ী তারা হিটলারের সমর্থক ছিলেন। হ্বিল্‌হেল্ম গ্রাস্ ১৯৩৬-এ পার্টির সভ্য হয়েছিলেন, যুদ্ধ শেষ হলে তরুণবয়সী পুত্রকে কৈফিয়ত দিয়েছিলেন যে তিনি ও তার মতাে ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন তারা এক ঐতিহাসিক কালপর্বের ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন আর সেজন্যে তাতে তাদের অংশগ্রহণ তাে। খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এসবের ফলে এই পরিবারটির ক্ষতি ছাড়া কোনাে লাভ হয়। নি। যে-ছেলেটির জন্য সারা বিশ্ব এ পরিবারকে জানবে তার ওপর জীবনব্যাপী ছায়া পড়েছিল এই সময়কালের। বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ হওয়ার আগেই যুদ্ধ লেগে গিয়েছিল। কিশাের ছেলেটিকে প্যারামিলিটারি ট্রেনিং নিতে হল, পরে খােদ যুদ্ধে অংশ নিতে ১৯৪৪-৪৫ সালের শীতে নাম লেখাতে হল। জার্মানির আত্মসমর্পণের সময়ে যুদ্ধে আহত গুন্টার হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ভালাে হয়ে উঠলে যুদ্ধবন্দী হিসেবে বাভারিয়ায় এক মার্কিন সেনাছাউনিতে তাকে নেওয়া হয়েছিল আরাে শত শত সৈনিকের সঙ্গে। নাৎসি বাহিনীর তাণ্ডব প্রথম উপলব্ধি করেন ডাশাউ কন্সেনট্রেশন ক্যাম্পে গ্যাস চেম্বার আর নরখাদক চুল্লি চাক্ষুষ করে। তাও প্রথমে বিশ্বাস হয় নি, মনে হয়েছিল মিত্রশক্তির প্রােপাগাণ্ডা। পরে নুরেমূবের্গ ট্রায়াল শুরু হলে সব বুঝতে পারলেন। তার অন্তর্জীবনের মােড় ঘুরে গেল। গভীর বিষাদে পরে বলছেন যে, তিনি বেড়ে উঠেছিলেন একপাশে হােলি গােস্ট আর একপাশে হিটলারের প্রতিকৃতির মধ্যিখানে। কেউ বাঁচায়নি তাদের। ১৯৪৬-এর ডিসেম্বরে বাবা-মা-বােনের কাছে ফিরে আসতে পেরেছিলেন। সােভিয়েত বাহিনীর হাতে ডান্ৎসিগের পতন হলে বিজয়ী সেনানীর হাতে বিজেতা নাগরিকদের যে-দশা হয় ঐ শহরবাসীর জীবন তা থেকে ভিন্ন ছিল না। তেরাে বছরের কিশােরী মেয়েকে অপাপবিদ্ধ বাঁচিয়ে রাখার জন্য মা-কে কত বার কত সৈনিকের মনােরঞ্জন করতে রয়েছে তা গুন্টার রেখে-ঢেকে বলেন নি, ‘রুশ সেনাদের দ্বারা ধর্ষিতা’ কথা ক’টি কী কষ্টেই-না লিখে রেখেছেন।

তিনি হতে চেয়েছিলেন ভাস্কর কিংবা গ্রাফিক আর্টিস্ট। লেখক হওয়ার কথা কখনও ভাবেন নি। বলেছেন, “১৯৫৬-তে যখন আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ বের হল তখনও এমন সম্ভাবনা মনেই আসে নি যে গদ্যলিখিয়ে হিসেবে আমার কোনাে নামধাম হতে পারে। আর আমার প্রজন্মের সকলের মতাে—যাদের ন্যাশনাল সােশ্যালিজমের ঐ সময়ের ভিতর দিয়ে যেতে হয়েছে, ইতিবাচক বা নেতিবাচক যে-ভাবেই হােক তার দ্বারা তৈরি হয়ে উঠেছে— রাজনীতি ব্যাপারে আমার সােচ্চার আগ্রহ আছে। তবে, আমি কিন্তু কখনােই ভাবি নি যে লেখক হিসেবে, ঔপন্যাসিক হিসেবে আমি বিখ্যাত হব।” এই স্বীকারােক্তির কারণ। রয়েছে। পড়াশােনা তাে শেষ হয় নি। যুদ্ধের পরে, তখন বিশ বছর বয়েস, বাচ্চা ছেলেপিলের সঙ্গে ইশকুলের বেঞ্চিতে বসে ক্লাস করা তাে আর সম্ভব নয়। রাজমিস্ত্রির কাজ শিখতে লেগে গেলেন ১৯৪৭ সালে। পরে অবশ্য অনেক বৎসর ধরে, ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত, তিনি চিত্রাঙ্কনবিদ্যা ও ভাস্কর্য শিখলেন ডুসেলডর্ফ ও বার্লিনে। প্রথম প্রদর্শনী হল ১৯৫৫ সালে, আর একই বছরে বার্লিন শহরে গ্রুপ্‌পে-8৭ গােষ্ঠীর সামনে কবিতা পাঠ করলেন। এর পরে আর থামেন নি। কাব্য, উপন্যাস, ছােটগল্প, নাটক, রাজনৈতিক বক্তৃতা, আত্মজৈবনিক রচনা—একের পর এক লিখে গেছেন। ১৯৫৬-র পর তার আরও কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, একাধিক। তাঁর কবিতার স্বাদ অন্য রকম।

এই আয়োজনে পূর্ববর্তী আরেকটি লেখা পড়ার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন :

বেলাল চৌধুরী > গুন্টার গ্রাসের তিক্ত-মধুর নোবেল প্রাপ্তি >> প্রবন্ধ

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close