Home অনুবাদ চার্লস বুকোস্কি > আর্টক্লাসে গরু >> কবিতাগুচ্ছ >>> মুম রহমান অনূদিত

চার্লস বুকোস্কি > আর্টক্লাসে গরু >> কবিতাগুচ্ছ >>> মুম রহমান অনূদিত

প্রকাশঃ March 19, 2018

চার্লস বুকোস্কি > আর্টক্লাসে গরু >> কবিতাগুচ্ছ >>> মুম রহমান অনূদিত
0
0

চার্লস বুকোস্কি > আর্টক্লাসে গরু >> কবিতাগুচ্ছ >>> মুম রহমান অনূদিত

 

চার্লস বুকোস্কি

হেনরি চার্লস বুকোস্কি (১৯২০-১৯৯৪) জাতিতে জার্মান হলেও, মার্কিন নাগরিক ছিলেন। উপন্যাস, ছোটগল্প লিখলেও আধুনিক আমেরিকান কবি হিসাবেই তিনি সারা বিশ্বে পরিচিত। লস এঞ্জেলেসে বসবাস করা বুকোস্কি’র লেখা একই সঙ্গে যেমন আদৃত, আলোচিত, তেমনি সমালোচিতও। তার লেখা এবং চালচলন- উভয়ই ছিলো ভীষণ বিতর্কের। বহু নারীর সঙ্গে সম্পর্ক, প্রকাশ্যে মদ্ ও ধূমপান, সাহসী রচনা শৈলী, খিস্তি-খেউড়ের ব্যবহার তাকে বরাবর আলোচনায় রেখেছে। ছয়টি উপন্যাস, কয়েকশ গল্প এবং কয়েক হাজার কবিতার জনক বুকোস্কির প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৬০-এর অধিক। লস এঞ্জেলেসের আন্ডারগ্রাউন্ড নিউজপেপার ওপেন সিটিতে তিনি দীর্ঘদিন নোটস অফ আ ডার্টি ওল্ড ম্যান নামে কলাম লিখেছেন। এই সব কলম লেখার কারণে এফবিআই-এর মতো সংস্থা তার উপর নজদারি জারি রেখেছিলো। জনপ্রিয় এই কবি এলোমেলো জীবযাপন করতেন। এক অর্থে তিনি খুবই সাধারণ হয়ে থাকতেন। টাইম পত্রিকা তাকে ‘মার্কিন সাধারণ জীবনের কবি’ বলে উল্লেখ করেছেন। ছোট প্রকাশক আর লিটল ম্যাগাজিনেই তিনি লেখালেখি করতেন। আর অর্থের বিনিময়ে কবিতা পাঠ করতেন।

নীল পাখি

আমার হৃদয়ে একটা নীল পাখি আছে যেটা
বের হয়ে আসতে চায়
কিন্তু ওর জন্য আমি যথেষ্ট কঠিন জিনিস,
আমি বলি, ওইখানেই থাক, আমি কখনোই
কাউকে দেখতে দেবো না
তোকে
মম চিত্তে একখান নীল পক্ষি আছে যে কিনা
বাইরে আসতে চায়
তবে আমি তার নামে হুইস্কি ঢালি এবং পান করি
ধুমপান করি
আর বেশ্যারা আর মদ ঢালিয়েরা
আর মুদির দোকানের কেরানিরা
কখনোই জানে যে
তিনি
ওইখানে আছেন।

ওইখানে আমার হৃদয়ে যে নীল পাখি আছে
সে বের হয়ে আসতে চায়
কিন্তু আমি তার কাছে যথেষ্ট কড়া
আমি বলি,
ঝিম মেরে থাকো, তুমি গ্যাঞ্জাম করতে চাও
আমার সাথে?
তুমি কি গুট্টি পাকিয়ে ফেলতে চাও
কাজগুলোকে?
তুমি আমার বইয়ের বিক্রিতে আঘাত হানতে চাও
ইউরোপে?
আমার হৃদয়ে একটা নীল পাখি আছে যেটা
বের হয়ে আসতে চায়
কিন্তু আমি ভীষণ চতুর, আমি কেবল তাকে বের হতে দেই
রাত্রিতে মাঝেমাঝে
যখন সকলেই ঘুমন্ত।
আমি বলি, আমি জানি তুমি ওইখানে আছে
অতএব হয়ো না
ব্যথিত।
তারপর আমি তাকে ফিরিয়ে দেই
কিন্তু সে একটু গান গায়
ওইখানে, আমি তাকে একেবারে
মরতে দেইনি
এবং আমরা একসাথে ঘুমাই যেন
ওই
আমাদের নিজস্ব
গোপন চুক্তি আছে
এবং এটা বেশ ভালো
একজন পুরুষকে
কাঁদানো, তবে আমি কখনো
কাঁদি না, বলো
তুমি?

 
ওয়াকিং আউট – একটি ভ্যান গগ কবিতা

ভ্যান গগ তার কান কেটে
সেটা দিয়ে ছিলো
এক বেশ্যাকে
যে এটি ছুঁড়ে ফেলেছিলো
ভয়াবহ
ঘৃণায়।
ভ্যান,
বেশ্যারা চায় না
কর্ণ যুগল
তারা চায়
টাকা।
আমি মনে করি সেই কারণেই তুমি ছিলে
দারূণ মহান
চিত্রকর : তুমি
বুঝতে পারোনি
এর বেশি
কিছু।

 
কবিতা

এটা
নিয়ে নেয়
অনেক অনেক
হতাশা
অসন্তুষ্টি
এবং
স্বপ্নভঙ্গ
তো
লিখতে
এক
গুচ্ছ
ভাল
কবিতা।
এটা নয়
সবার
জন্য
হয় লিখতে
না হয়
পড়তে
এটা।

 

 

আমি তোমার বই পছন্দ করি

আগের দিন জুয়ার লাইনে
আমার পেছনের লোকটি জিজ্ঞাস করলো
‘তুমি কি হেনরি
চিনাস্কি?’

‘আ, হ্যাঁ’, আমি বললাম।
‘আমি তোমার বই পছন্দ করি’, সে বলতে
থাকলো।
‘ধন্যবাদ,’ আমি বললাম।

‘কাকে তুমি পছন্দ করো
এই রেসে?’ সে জিজ্ঞেস করলো।
‘আ, হ্যাঁ’, আমি বললাম।

‘আমি পছন্দ করি ৪ নং ঘোড়াকে,’ সে
আমাকে বললো।

আমি আমার বাজী ধরলাম আর ফিরে গেলাম
আমার বসার জায়গায়…

পরের রেসে আমি দাঁড়িয়ে আছি
লাইনে এবং এখানেও সেই লোকটি
আমারই পেছনে
আবার।

কমপক্ষে ৫০টি লাইন আছে
উইন্ডোর কাছে কিন্তু
তার আমাকেই খুঁজে বের করতে হবে
আবার।

‘আমার মনে হয় এই রেস সাহায্য করবে
টসে এগিয়ে থাকাদের,’ সে বলেছিলো আমার
ঠিক ঘাড়ের পেছনে, ‘ট্যাকটাকে মনে হচ্ছে বেশ
ভারী।

‘‘শুনুন’’ আমি বললা, না তাকিয়েই
কোনদিকে, ‘‘এটা মৃত্যুর চুম্বন যেন
ঘোড়া নিয়ে কথা বলা
ট্র্যাকের উপর …’

‘‘এটা আবার কেমন নিয়ম?’’
সে জিজ্ঞেস করলো, ‘‘ঈশ্বর বানায়নি
নিয়ম…’’

আমি ঘুড়ে দাঁড়ালাম এবং তার দিকে তাকালাম :
‘‘হয়তো নয়, কিন্তু আমি
বানাই।’’

পরবর্তী রেসের আগে
আমি লাইনে যাই, ক্ষনিক পেছনে তাকাই
আমি :
সে তো ওখানে ছিলো না:

আরেকটা পাঠক হারালাম।

আমি ২ কিংবা ৩ জন হারাই প্রতি
সপ্তাহে।

বেশ।

তাদেরকে ফিরে যেতে দাও
কাফকার কাছে।

 

 

হ্যাঁ হ্যাঁ

যখন ঈশ্বর ভালবাসা সৃষ্টি করলেন তখন তিনি খুব বেশি সাহায্য করলেন না
যখন ঈশ্বর কুকুর সৃষ্টি করলেন তখন তিনি কুকুরদের সাহায্য করলেন না
যখন ঈশ্বর গাছপালা তৈরি করলেন তা ছিলো গড়পরতার

যখন ঈশ্বর ঘৃণা সৃষ্টি করলেন আমাদের একটা মান ব্যবহার তৈরি হলো
যখন ঈশ্বর আমাকে সৃষ্টি করলেন তিনি আমাকে সৃষ্টি করলেন
যখন ঈশ্বর বানর সৃষ্টি করলেন তিনি তখন ঘুমাচ্ছিলেন
যখন ঈশ্বর জিরাফ সৃষ্টি করলেন তখন তিনি মাতাল ছিলেন
যখন ঈশ্বর নেশা সৃষ্টি করলেন তখন তিনি চড়া ছিলেন
যখন ঈশ্বর আত্মহত্যা সৃষ্টি করলেন তিনি মন্দা ছিলেন

যখন তিনি তোমাকে বিছানায় শায়িত সৃষ্টি করলেন
তিনি জানতেন তিনি কী করছেন
তিনি মাতাল ও চড়া ছিলেন
এবং তিনি পাহাড় এবং সমুদ্র এবং আগুন সৃষ্টি করলেন
একই সময়ে

তিনি কিছু ভুল করলেন
কিন্তু তিনি যখন তোমাকে বিছানায় শায়িত সৃষ্টি করলেন
তিনি তার আশীবার্দপুষ্ট সমগ্র মহাবিশ্বকে পেরিয়ে এলেন।

 

আমার ৪৩তম জন্মদিনের কবিতা

একাকী শেষ হয়ে যাওয়া
একটা কক্ষের কবরে
সিগারেট ছাড়া
কিংবা মদ ছাড়া –
শ্রেফ একটা বিদ্যুতিক বাতি
এবং একটা ভুঁড়িঅলা
ধুসর চুল
এবং আনন্দিত আছে
একটা কক্ষে।

পশ্চাদপসরণ
এই সময়ই আমাকে শেষ করলো।

 
আমাদের কোন টাকা নাই সখি,

তবে আমাদের বৃষ্টি আছে

 

গ্রিনহাউস এফেক্ট বলো কিংবা যা খুশি
আদতে আর বৃষ্টি হয় না
আগে যেমন হতো।

আমার আলাদা করে মনে পড়ে সেইসব বৃষ্টি কথা
মন্দা যুগের।
তখন কোন টাকা ছিলো না তবে ছিলো তো
যথেষ্ট বৃষ্টি।

বৃষ্টি হতো না কেবল রাত্রি
কিংবা দিন ভর
বৃষ্টি হতো টানা সাতদিন আর
সাত রাত জুড়ে
আর লস এঞ্জেলের সেই সব নালাগুলো
তৈরি হয়নি এতোটা ভার সইতে
জলের
আর বৃষ্টি নেমে আসতো গাঢ় আর
নীচ আর
অবিচল
আর তুমি শুনতে সেটা
ছাদ আর ভূমিতে
জলের ধারা নেমে আসতো
ছাদ থেকে
আর সে ছিলো শিলাবৃষ্টি
বিশাল পাথুরে বরফ
বোমের মতো পড়তো
জিনিসগুলোর উপর আছড়ে পড়তো বিস্ফোরিত হতো
এবং বৃষ্টি
স্রেফ কিছুতেই
থামতো না
আর সব ছাদগুলো ফুটো হয়ে যেতো-
ঘটিবাটি,
হাড়ি পাতিল
চারিদিকে বসিয়ে দেয়া হতো;
তারা সজোরে ঝরতো
আর খালি করে দিতে হতো
আবার আর
আবার।

বৃষ্টি এসেছিলো পথের উপরে
কংক্রিট বেয়ে
তৃণভূমি পার হয়ে, ধাপগুলো বেয়ে
আর
ঘরগুলোতে ঢুকে পড়েছিলো।
সেখানে মোছার কাপড় আর বাথরুম টাওয়েল ছিলো,
আর অধিকাংশ সময় বৃষ্টি এসেছিলো
টয়লেটের ভেতর দিয়ে; বুদবুদের মতো, ধূসর, পাগলাটে, ঘুর্ণিময়,
আর সব পুরনো গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে ছিলো
পথে,
সেই গাড়িগুলো যেগুলো স্টার্ট নিতে অসুবিধা হচ্ছিলো
সূর্য করোজ্জোল দিনে,
আর চাকরি বিহীন লোকগুলো দাঁড়িয়ে ছিলো
জানালা দিয়ে বাইরে দেখছিলো
সেই সব পুরনো যন্ত্র মরছে বাই
বাইরে।

চাকরিহীন মানুষ,
এক ব্যর্থ সময়ে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে
ছিলো বন্দী তাদের ঘরেতে সাথে নিয়ে
তাদের
স্ত্রীদের আর পুত্রদের
আর তাদের
পোষা প্রাণীদের।
পোষা প্রাণীরা বাইরে যাওয়া প্রত্যাখান করেছে
এবং বর্জ্য পদার্থ ফেলে গেলে
বিচিত্র সব জায়গায়।

চাকরিহীন লোকগুলো পাগল হয়ে যাচ্ছে
আটকে যাচ্ছে
তাদের একদারর সুন্দরী বৌদের মাঝে।
সেখানে ভয়াবহ তর্কবিতর্ক কেবল
কেননা সম্পত্তি ক্রোটের
নোটিশ ডাকবাক্সে এসে পড়েছে।
বৃষ্টি আর শিলাপাত, বীনের কৌটা,
মাখন ছাড়া পাউরুটি, ভাজা
ডিম, সিদ্ধ ডিম, ডিম
পোচ, পিনাট বাটার
স্যান্ডুউইচ, আর একটা অদৃশ্য
মুরগী
আছে সব পাত্রে।

আমার বাবা, কখনো ভালো মানুষ ছিলেন না
তার সর্বসেরা কালেও না, মাকে মারতেন
যখন বৃষ্টি হতো
আর যেহেতু আমি নিজেকে ছুঁড়ে দিতাম
তাদের মাঝখানে,
পা, হাঁটু, সেই
চিৎকার
যতোক্ষণ না তারা আলাদা হতো।

‘আমি তোমারে মাইরা ফালামু,’ আমি চেচাতাম
তার দিকে। ‘তুমি মার গায়ে আরেকবার হাত দিলে
আমি তোমারে মাইরা ফালামু!’

‘এই খানকির পোলাটারে
সরাও এইখান থাইকা!’

‘না, হেনরি, তুমি থাকো
তোমার মায়ের কাছে!’

ঘরের সকল দ্রব্যাদি যেন অবরুদ্ধ
কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম যে আমাদের
গুলো অনেক বেশি শঙ্কিত থাকতো
অন্যদের চেয়ে বেশি।

আর রাত্রিতে

আর রাত্রিরে
আমরা যখন ঘুমানো প্রস্তুতি নিতাম
বৃষ্টি তখনও নেমে আসছে
আর সে বিছানায় চলে এসেছে
অন্ধকারে
চাঁদকে দেখতাম
ভীত জানালা দিয়ে
কি সাহসের সাথে
ধরে রাখতো
প্রায় পুরোটা বৃষ্টিকে,
আমি নুহের কথা ভাবতার আর
তার কিস্তির কথা
আর আমি ভাবতাম, এটা আবার
এসেছে।
আমরা সবাই ভাবতাম
এমনই ভাবতাম।

আর তখন, চকিতে, সেটা হয়তো
থেমে যেতো।
আর এটা সব সময়ই মনে হতো
থেমে যাবে
হয়তো ভোর ৫টায় অথবা ৬টায়,
তারপর শান্তি,
কিন্তু যথার্থ নিরবতা নামেনি
কারন ওটা চলছেই
টিপ
টিপ
টিপ
আর তখন কোন ধোঁয়াশা নেই
আর সকাল ৮টা হয়ে গেছে
নেমে এসেছে উজ্জ্বল হলুদ সূর্যালো,
ভ্যান গগের হলুদ-
পাগলাটে, দৃষ্টি আচ্ছন্নকারী।
আর তখন
ছাদের নল ছুটে
একগাদা বৃষ্টির জল
নেমে আসে
উষ্ণতায় বর্ধিত হতে থাকে
ধুম, ধুম, ধুম!

আর সবাই জেগে ওঠে আর বাইরে দেখে
আর বাইরে সব আঙিনা
তখনও ভেজা
সবুজতর সব সবসময়েল সবুজের চেয়ে
বেশি
আর সেখানে পাখিরা আছে
আঙিনাতে
উন্মাদের মতো কিচিরমিচির করছেই,
তারা ভালো মতো খেতে পাইনি
গত ৭ দিন ৭ রাত ধরে
আর তারা ক্লান্ত হয়ে হয়ে
ফলমূলের জন্যে
আর
তারা অপেক্ষায় আছে পোকারা
নিচ থেকে উপরে ওঠে আসবে
প্রায় ডুবে যাওয়া পোকাগুলো।
পাখিরা তাদের অপরহরণ
করবে উপরে
আর গিলে ফেলবে
নিচে; সেখানে ছিলো ফিঙে আর চড়–ই।
ফিঙেরা চেষ্টা করে চড়–ইদের তাড়িয়ে দিতে
কিন্তু চড়–ইরা,
ক্ষুধায় মত্ত,
ক্ষুদ্রতর এবং দ্রুততর
খুঁজে নেয় তাদের
পাওনা।

পুরুষরা তাদের বারান্দায় দাঁড়ায়
সিগারেট ধরায়,
এখন জানে
তাদেরকে বেরুতে হবে
বাইরে
তাদের কাজের সন্ধ্যানে
যা হয়তো বা নেই আদতে
তাদের, গাড়ি চালু করতে হবে
যেটা হয়তোবা চাইছে না
চালু হতে।

আর একদার সুন্দরী
বৌয়েরা
তাদের বাথরুমে দাঁড়িয়ে আছে
আচড়াচ্ছে চুল,
মেকআপ লাগাচ্ছে,
চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের পৃথিবী ফিরিয়ে আসনে
আবার একসাথে,
চেষ্টা করছে ভুলে যেতে
ভয়াবহ বেদনাগুলি যা
তাদের আকড়ে আছে,
ভাবছে কি করতে পারে
তারা এখন
নাস্তার জন্যে।

আর রেডিওতে
আমাদের বলা হচ্ছে
এখন স্কুলগুলো
খোলা।
আর
শিগ্গিরি
আমি সেখানে
রওনা দেই স্কুলের পথে,
অসংখ্য খানা-খন্দ
রাস্তায়,
সূর্য একটা নতুন
পৃথিবীর মতো,
আমার বাবা মা
ফিরে আসে সেই
ঘরে,
আমি পৌঁছাই ক্লাসঘরে
সময় মতোই।

মিসেস সোরেনসর আমাদের অভিবাদন জানায়
বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত কার্যাদি
করবো না আজ, মেঝে
এখনও খুব ভেজা!’
‘কিন্তু আমরা বিরতির সময়
খুব বিশেষ কিছু
করতে যাচ্ছি,’ তিনি বলে যান,
‘আর এটা হবে খুব
মজার!’

বেশ, আমরা সবাই ভাবছিলাম
এটা কী হতে
পারে
আর দুইঘণ্টার অপেক্ষাকাল
মনে হলো দীর্ঘতর
কেননা মিসেস সোরেনসন
এগিয়ে এলেন
তার পাঠ শুরু
করতে।

আমি তাকাই ছোট্ট
মেয়েগুলোর দিকে, তাদের দেখে মনে হয়
খুব সুন্দর আর পরিচ্ছন্ন আর
সতর্ক,
তারা স্থির হয়ে বসে আর
সোজা হয়ে বসে
আর তাদের চুলগুলো ছিলো
দারূণ সুন্দর
ক্যালিফোর্নিয়ার
সৌরালোকে।

আর তখন বিরতির ঘণ্টা বাজলো
আর আমরা সবাই অপেক্ষা করছিলাম
মজার জন্য।

তখন মিসেস সোরেনসন বললেন
আমাদের :
‘এখন, আমরা যেটা করতে যাচ্ছি
সেটা হলো আমরা বলতে চাই
একে অপরকে যে আমরা কী করেছিলাম
এই বৃষ্টি আর ঝঞ্জার সময়টায়!
আমরা প্রথম সারি থেকে শুরু করে
এবং ডানদিকে যেতে থাকবো!
এখন, মাইকেল, তুমিই
প্রথম…!’

বেশ, আমরা সবাই শুরু করলাম বলতে
আমাদের গল্পগুলি, মাইকেল শুরু করলে আগে
আর সেটা চলতেই থাকলো আর চলতেই থাকলো,
আর দ্রুতই আমরা অনুধাবন করলাম যে
আমরা সবাই মিথ্যা বলছি, আসলে
পুরোপুরি মিথ্যা বলছি না তবে অধিকাংশই মিথ্যা বলছি
আর কোন কোন বালক চাপা হাসি হাসছিলো আর কোন কোন বালিকা
তাদের দিকে বিশ্রীভাবে
তাকাচ্ছিলো আর
মিসেস সোরেনসন বললেন,
‘ঠিক আছে, আমি চাইছে
যৎকিঞ্চিত নিরবতা
এখানে!
আমি শুনতে আগ্রহী কী
করেছো তুমি
ঝড়-বৃষ্টির সময়
এমনকি যদি তুমি
কিছু নাও করে থাকো সেটাতেও আগ্রহী।’

অতএব আমাদেরকে গল্প বলতে হলো
আর সেগুলো ছিলো যথার্থই
গল্প।
গল্প।

এক বালিকা বললো যে
যখন প্রথম রংধনু
উঠলো
সে দেখেছিলো ঈশ্বরের মুখ
সেটার শেষপ্রান্তে।
কেবল সে বললো না
কোন প্রান্তে।

এক বালক বললো সে আটকেছিলো
তার মাছধরার পুলটাকে
জানালার বাইরে
এবং সে ধরেছিলো একটা ছোট্ট
মাছ
আর এটাকে খেতে দিয়েছিলো
তার বিড়ালকে।

প্রায় সবাই বললো
মিথ্যা কথা।
সত্যিটি ¯্রফে
ভীষণ ভয়াবহ আর
বিব্রতকর
সবার জন্য।

আর তখন ঘণ্টা বেজে গেলো
আর বিরতি হলো
শেষ।
‘ধন্যবাদ তোমাদের,’ বললেন মিসেস
সোরেনসন, ‘এটা ছিলো খুব
সুন্দর।
আর আগামীকাল মাঠ
শুকিয়ে যাবে
আর আমরা পারবো
সেটাকে ব্যবহার করতে
আবার।’

অধিকাংশ বালকরাই
উল্লাস করলো
আর ছোট্ট বালিকারা
বসে থাকলো সোজা আর
স্থির,
তাদেরকে দেখাচ্ছিলো এতো সুন্দর আর
পরিছন্ন আর
সতর্ক,
তাদের চুলগুলো সূর্যের আলোতে মনোরম দেখাচ্ছিলো
পৃথিবী হয়তো কখনো আর দেখতে পাবে না
এমন।

 

পদ্যমিল

গোল্ডফিস সারারাত গিটার দিয়ে গান গায়,
আর বেশ্যারা নক্ষত্রের সাথে অস্ত যায়
বেশ্যারা নক্ষত্রের সাথে অস্ত যায়

 
আর্টক্লাসে গরু

ভালো আবহাওয়া
হলো
ভালো নারীর মতো-
এটা সব সময় পাওয়া যায় না
আর যখন পাওয়া যায়
এটা টেকে না
দীর্ঘক্ষণ।

পুরুষরা হলো
অনেক স্থির :
যদি সে খারাপ হয়
তাহলে অনেকটাই সুযোগ রয়েছে
সে তেমনই রয়ে যাবে,
কিংবা যদি সে ভালো হয়
সে হয়তো ঝুলে
রবে,
কিন্তু নারী
বদলায়
নানা মাধ্যমে
শিশু
বয়স
খাবার
আলাপচারিতা
যৌনতা
চাঁদ
সূর্যের অনুপস্থিতি
কিংবা উপস্থিতি
কিংবা ভালো সময় দ্বারা।
একজন নারী অবশ্যই পালিত হোক
জীবনধারণের মাধ্যমে
ভালোবাসায়
অন্যদিকে পুরুষ হতে পারো
শক্তিশালী আরো
ঘৃণার মাধ্যমে।

আমি আজ রাতে স্প্যাঙ্গলারের বারে মদ পান করছি
এবং আমি গরুগুলোর কথা স্মরণ করছি
একদা ওদের একেছিলাম আর্ট ক্লাসে
এবং তাদেরকে সুন্দর লাগছে
তাদেরকে যে কোনকিছুর চেয়ে উত্তম লাগছে
এখানে।আমি স্প্যাঙ্গলার বারে পান করছি
ভাবছি কোনটাকে ভালোবাসা উচিত
কোনটাকে ঘৃণা, কিন্তু নিয়ম কানুন উধাও:
আমি ভালোবাসি ও ঘৃণা করি
নিজেকেই-
তারা আমার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে
যেমন কমলালেবু টেবিল থেকে পড়ে যায়
আর গড়িয়ে সরে যায়, এটা তাই যা আমাকে
স্থির করতে হবে:
নিজেকে হত্যা করবো নাকি
আমাকেই ভালোবাসবো?
কোনটা বিশ্বাসঘাতকতা?
কোত্থেকে এ তথ্য
আসছে?
বই।

ভাঙা কাচের মতো :
আমি আমার
পায়ু মুছবো না ওদের দিয়ে
তবু, এদিকে হয়ে আসছে
অন্ধকার, দেখেছো?
(আমরা এখানে পান করি আর কথা বলি
একে অপরের সাথে আর
ভাব দেখাই জানি।)
গরুটিকে কেনো সবচেয়ে বড়
ওলান দেভে
গরুটিকে কেনো সবচেয়ে বড়
পশ্চাদদেশ দেখে।

বর্তমান অস্ত্র।

বারটেন্ডার আমার দিকে একটা বিয়ার ঠেলে দেয়
সেটা বার থেকে ধৌঁড়ে আসে
ঠিক যেন অলিম্পিকের দৌঁড়বিদ
আর একটি পাইলার যা আমারই হাত
এটাকে থামায়, ওঠায়,
সোনালী অচেতন প্রলোভন,
আমি পান করি আর
সেখানে দাঁড়াই
আবহাওয়া গরুর জন্যে খারাপ
কিন্তু আমার তুলি তৈরি
রেখা টানতে
সবুজ ঘাস তৃণ চোখ
বেদনা আমাকে ঘিরে ধরে চারদিক থেকে
একটা শট চাই
দ্রুত
আমাকে সাহস আর ভালোবাসা দেয়ার জন্য
এগিয়ে
যেতে।

 
জুতা

যখন তুমি তরুণ
এক জোড়া
নারীর
উঁচু হিলের জুতা
নেহাত বসে আছে
একা
আলমারিতে
পারে আগুন জ্বালাতে তোমার
হাড়ে;
যখন তুমি বৃদ্ধ
এটা নেহাত
একজোড়া জুতা
যার ভেতরে
কেউ
নেই
আর
নেহাতই
যেমন।

 
সমাপ্ত

আমরা সেই সব গোলাপের মতো যারা কখনোই মাথা ঘামাইনি ফোটার কথা ভেবে যখন কিনা উচিত ছিলো আমাদের ফোটা আর
এটা যেন এমন
সূর্য বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছে
অপেক্ষায় অপেক্ষায়

 

মিনিস্কার্ট পরা এক মেয়ে বাইবেল
পড়ছে আমার জানালার বাইরে

রবিবার, আমি খাচ্ছি একটা
গ্রেপফ্রুট, চার্চ সমাপ্ত হলো রাশিয়ান
অর্থোডক্স
পশ্চিমের।

সে কালো
পূবের গোত্রদের মতো
বিশাল বাদামী চোখ তার বাইবেল থেকে উপরে তাকালো
তারপর আবার নামালো। একটা ছোট্ট লাল-কালো
বাইলে, এবং যখন সে পড়ছে
তার পা নাচাচ্ছিলো, নাচাচ্ছিলো,
সে এক মৃদু ছন্দের নৃত্য
বাইবেল পড়ার কালে…

লম্বা সোনার দুল
দুইহাতে দুটো করে সোনার ব্রেসলেট
আর একটা মিনি-স্যুট পরা, আমার ধারণা,
কাপড়টি তার শরীরকে আলিঙ্গন করছে,
সেই কাপড়ের ভেতরে হাল্কাতম বাদামি ত্বক,
সেই এইভাবে ওইভাবে পাক খায়,
দীর্ঘ লম্বা হলদে পা সূর্যের আলোয় উষ্ণ…

তার সত্তায় কোন পলায়নপরতা নেই,
কোন বাসনাও নেই…

আমার রেডিও ঐকতানের সুর বাজাচ্ছে
যেটা সে শুনতে পাচ্ছে না
কিন্তু তার নাড়চড়া যেন কাকতালীয়ভাবে
সেই সুরেই হচ্ছে
ঐকতানে…

সে কালো, সে কালো মেয়ে
সে ঈশ্বরের কথা পড়ছে
আমিই ঈশ্বর।

 

সত্য

লোরকা’র অন্যতম সেরা লাইন
হলো,
‘নিদারূণ যন্ত্রণা, সদাই
নিদারূণ যন্ত্রণা…’

এটার কথা ভেবো যখন তুমি
হত্যা করো
একটি তেলাপোকা কিংবা
রেজর তুলে নাও
শেভ করতে
অথবা জেগে ওঠো সকালে
হতে
মুখোমুখি
সূর্যের

 
লেখা

অধিকাংশ সময় এটাই একমাত্র
জিনিস
তোমার আর
অসম্ভবের মধ্যবর্তী।
কোন নেশা,
কোন নারীর প্রেম,
কোন সম্পদ
এটার সাথে তুল্য নয়।

 

আটকা পড়া

পোশাক খুলো না আমার ভালোবাসা
তুমি হয়তো একটা ম্যানিকুইন পেয়ে যাবে :
ম্যানিকুইনের পোশাক খুলো না
তুমি হয়তো
ভালোবাসা পেয়ে যাবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close