Home অনুবাদ চিনুয়া আচেবে > একগুচ্ছ কবিতা >> অনুবাদ কামরুল ইসলাম

চিনুয়া আচেবে > একগুচ্ছ কবিতা >> অনুবাদ কামরুল ইসলাম

প্রকাশঃ July 14, 2017

চিনুয়া আচেবে > একগুচ্ছ কবিতা >> অনুবাদ কামরুল ইসলাম
0
0

চিনুয়া আচেবে > একগুচ্ছ কবিতা 

ঔপন্যাসিক, কবি ও ছোটগল্পকার চিনুয়া আচেবের জন্ম নাইজেরিয়ায়, ১৯৩০ সালে। তাঁর জন্মের সময় নাইজেরিয়া ছিল বৃটিশ উপনিবেশ।আচেবের উপন্যাস ও ছোটগল্পে আফ্রিকার পুরনো ও নতুনের দ্বন্দ্বই প্রাধান্য পেয়েছে বেশি।তাঁর লেখায় আফ্রিকার লোককথা, নানা উপজাতির বিশ্বাস-আচার-সংস্কারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। আফ্রিকার সমৃদ্ধ অতীতের দিকে তাকানোর জন্য তিনি বিশ্বমানবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস থিংস ফল অ্যাপার্ট (১৯৫৮) সম্ভবত তাঁর শ্রেষ্ঠ ও বহুল পঠিত সাহিত্যকর্ম। আচেবের আরো উল্লেখযোগ্য উপন্যাস- নো লংগার অ্যাট ঈজ (১৯৬০), অ্যারো অব গড (১৯৬৪), আ ম্যান অব দ্য পিপল (১৯৬৬) এবং অ্যানথিলস অব দ্য সাভানাথ (১৯৮৭)। ২০০৯ সাল থেকে মৃত্যুর (২১ মার্চ, ২০১৩) আগ পর্যন্ত তিনি আমেরিকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিশ্বমানের বেশকিছু ভালো কবিতাও লিখেছেন, কিন্তু তাঁর কবি-পরিচিতি আড়ালে চলে যায় তাঁর গল্প-উপন্যাসের তুমুল জনপ্রিয়তায়র কারণে। তীরন্দাজের পাঠকদের জন্য তাঁর কিছু কবিতা বাংলায় অনুবাদ করা হলো। অনূদিত কবিতাগুলো কারকানেট প্রেস কর্তৃক প্রকাশিত কালেক্টেড পোয়েমস (২০০৫)-এর অন্তর্ভুক্ত। – অনুবাদক

 

বেনিন রোড

গতিই সন্ত্রাস

শক্তিই সন্ত্রাস

ওজনও সন্ত্রাস

 

প্রজাপতিটি নিরাপত্তা খোঁজে তার হালকা পাখায়

ওজনহীনতার মধ্যে,তার তরঙ্গায়িত উড়ালের মধ্যে-

ক্রসরোডের চিত্রবিচিত্র আলো গাছগাছালি হয়ে

হাইওয়েতে এসে পড়েছে, যেখানে আমাদের অস্তিত্ব

খুঁজে পায় কেন্দ্র ও ঝিরঝিরে বাতাসের মোহ

 

একজন মানুষের অধিক সামর্থ্য নিয়ে আমি আবির্ভূত হই

আমি দেখলাম আমার শক্ত সিলিকন শিল্ডের ওপরে

একটি ফিনফিনে প্রজাপতির উজ্জ্বল হলুদ আহুতি-

 

বিমান আক্রমণ

সোভিযেত  প্রযুক্তির অশুভ অরণ্য থেকে

মৃত্যুর পাখিটি উড়ে এল দ্রুত

যে লোকটি তার বন্ধুকে অভিবাদন জানাতে

রাস্তা পেরুচ্ছিল

সে খুবই ধীর হয়ে গেল

আর তার বন্ধু যে দ্বিখণ্ডিত হল

সে এখন এই দুপুরে বন্ধুর সাথে হাত মেলানোর চেয়ে

অন্য চিন্তায় আচ্ছন্ন-

 

প্রথম গুলি

সেই উদ্দেশ্যহীন নিঃসঙ্গ রাইফেলের গুলি

অন্ধকারে বুক-সমান উঁচু দিয়ে

আমাদের নার্ভাস শহরতলির মধ্য দিয়ে

ছুটছে…বজ্রপাতের সময়

যেভাবে স্মৃতিগৃহে ঢুকে পড়ে

বিপুল কোলাহল, সেভাবে এখনো তা

অধিকতর শক্তি যুগিয়ে

উড়াল দিয়ে এসে

বসেনি এখানে।

 

পাইন গাছ

শূন্য সময়ের তীর ঘেঁষে পাইন গাছ যেন আজ

সবুজ স্মৃতির পতাকাবাহক

প্রকৃতির বিরল মণিমুক্তোর পাহারায় রত

এই অমায়িক বৃক্ষ

 

পাইন গাছটি এখন

হারিয়ে যাচ্ছে সেইসব দেশদ্রোহীর ছায়ায়

যারা উৎফুল্লভরে বুক চিতিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে

যেন তারা ভুলে গেছে

সেইসব পতাকা যেগুলোর সাথে তারা

বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল

 

পাইন গাছ, তোমাকে বিশ্বাস করা যায়

কারণ তুমি মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারো

কোন স্কুল আর আমাকে শেখাতে পারে

তোমার এই নীরবতা আর অনঢ় বিশ্বস্ততা?

 

রিফ্যুজি ক্যাম্পে একজন মা

কোনো ম্যাডোনা ও তার সন্তান

এই ছবিটির মায়ের কোমলতাকে স্পর্শ করতে পারবে না

যাকে শীঘ্রই তার সন্তানকে ভুলে যেতে হবে।

বাতাস ভরে গেছে ডায়রিয়ার মল-মূত্রের গন্ধে

আর হাড়-চিটচিটে শুকনো পাছা আর শূন্য পেটের

এই শিশুরা ছুটছে সব শ্রমের বাজারে

এই একজন মা ছাড়া আর কেউ-ই সুদীর্ঘকাল

তাদের সন্তানদের যত্ন নেয়নি।

তার দাঁতগুলোর মধ্যে প্রেতের হাসি

আর চোখের তারায় মাতৃগর্ভের স্মৃতি

সে তার বাচ্চাটিকে গোছল করিয়ে পাম তেলে

সমস্ত শরীর মুছিয়ে অতঃপর সে তাদের নিত্য ব্যবহার্য

জিনিসপত্র থেকে একটি ভাঙা চিরুনি তুলে নিয়ে

তার শুকনো খুলির মলিন জটপড়া চুলগুলো

আঁচড়াতে থাকে আর চোখ তুলে গান গাইতে গাইতে

যত্নের সাথে সিঁথি কাটে-

এসব নিতান্তই মামুলি ব্যাপারও হতে পারতো তার সন্তানের

নাস্তা ও স্কুলের প্রস্তুতির আগে। এখন সে যা করছে তা একটি

ছোট্ট কবরে একগুচ্ছ ফুল রাখার মতোই।

 

কামরুল ইসলাম : কবি ও প্রাবন্ধিক, অনুবাদক।

 

 

 

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close