Home কবিতা জাগরী বন্দ্যোপাধ্যায় >> কবিতাগুচ্ছ
0

জাগরী বন্দ্যোপাধ্যায় >> কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশঃ August 20, 2018

জাগরী বন্দ্যোপাধ্যায় >> কবিতাগুচ্ছ
0
0

জাগরী বন্দ্যোপাধ্যায় >> কবিতাগুচ্ছ

 

 

[সম্পাদকীয় নোট : জাগরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার প্রথম প্রকাশনা, অর্থাৎ প্রথম কবিতার বইটির প্রকাশক ছিলেন কবি জয় গোস্বামী। সেই বইটির নাম নগর বাহিরিরে ডোম্বি । এরপর আরও দুটো বই বেরিয়েছে। কবিতা ও গদ্য- দুই ক্ষেত্রেই স্বতন্ত্র স্বর ও শৈলীর চিহ্ন রেখে যাচ্ছেন। এই প্রথম তীরন্দাজের জন্য লিখলেন তিনি। জাগরী থাকেন সীমান্তের ওপারে। ]

 

 

অ্যাসাইলাম

 

১ 

কাঁটা জোড়া ঘোলমউনি দিয়ে,
আজকে সপাট নীল ঘুলিয়েছে কেউ
ঘেঁটে একাক্কার ।
নলিনীর দলগত জলমতি আজও চপল,
চেনা বৃত্তি
এ মনোবিকার।
জিভেতে জড়িয়ে থাকা লালা
আর মায়াময় জননীর দুধ
নিখুঁত মিথ্যের মত গাঢ় দেখি
ভুলে যাওয়া জন্ম সাবুদ।
অবেলায় গড়াগড়ি মেঘলা রাস্তায়
ক্লিনিক-নর্দমার রক্তরস ঢেউ!
নাকি প্রেত ভ্রুণাকার?
নলিনীর দলগত জলমতি আজও তরল
আহা মুক্তি!
এ মনোবিকার।

মেঝেতে ছড়ানো সারে সার
ওষুধ, রাংতা, রুপো, রিক্ত অ্যাম্পুল
কুড়াবার ফুরসৎ কারো আছে কারুর বা নেই।
ছেঁড়া পাল। ভেঙে গেছে মই।
তাছাড়া ডাঙায় কিছু রয়ে গেছে ধার।
মহাব্যস্ত জীবনের ডেক-এ,
সফেন আপ্রন গায়ে
নাবিকেরা শশব্যস্ত।
কিছু লোক কোনদিন শেখেও না ঠেকে।
এইভাবে পায়ে পায়ে জমেছে আঁধার।
হেলে পড়া বৃক্ষ যেন বাজ-এ,
অন্ধকার কোটরের খোসা, মড়িঘর।
সেরকমই শব্দ চুপ,
সেরকমই নেভা নেভা স্বর
আজ এ জাহাজে।
সুরহীন মাস্তুল হাঁটু মুড়ে
দিকদিশা খোঁজে!
নাকি ছেড়ে দিলো হাল!
দরকারী প্রেমচিহ্ন চেপে রেখে শেষের পাতায়
ধানক্ষেত গিলে নিল ফুলে ওঠা খাল।
ধেয়ে এল আঙ্গিনায় অযথা হার্মাদ।

জনস্থানে , আচম্বিতে, নির্লজ্জ , অকালপ্রসুত।
মৃত্যু!
তোমার এই অকারণ সাম্রাজ্যবাদ।

 

টবে পোঁতা ন’টা আর বারো’টার মত
সময়ে সময় রেখে ফুটে ওঠে প্রতিবেশী বঁধু।
সকালের নখে ঘুম
দুপুরের দুই কানে সোনা
বিকেলে যতই সাজো
দশ’টার নিউজ না নিয়ে
ফিরে যে দেখবে না সেও
সকল সন্ধানী লোকই এই সত্য জানে।
শাশুড়ী মনেতে জানে
কোনদিন কে হল বালাই।
শুধু অভিজ্ঞতা বলে।
এ সংসারে শিশু-বৃদ্ধ ধারা
কখন কারোর জন্য চোখ তুলে নেই অপেক্ষায়।
সব জেনেবুঝে।
ন’টা আর বারোটার মাঝে,
বধুঁখানি একা একা দোল খাচ্ছে দখিনা হাওয়ায়

 

 

সন্তান যা চায়

 

কোনদিন যারা
সীমা পেরোনোর কথা ভুলেও ভাবেনি।
তাহাদেরই পাকশালে পরস্পর চাটাচাটি করে
সদাশিব বাঘ, শিশু মেষ।
তাহাদেরই পাকশালে কাচালঙ্কা আর টিয়াপাখি
বদলাবদলি করে নেয় ঝুড়ী ও পিঞ্জর।
এই সংসারে,
চৌকাঠে বসা মানা।
দোরে গামছা রাখা!
তওবা শ্রীহরি।
ঘরের মেঝেয়,
জলের আলপনা আঁকা হবে শেষ দিন
তব থাকা এ দিগরে।
তবু কিজানি কি করে
গুপ্ত গলিপথ বেয়ে এ বাড়ীতে বেড়ে যায় ঋণ।
তাধিন তাধিন…
শব্দে এ সংসারে মেয়েছেলে নাচে না সন্ধ্যায়।
মাসে চারদিন,
গরদের ধুতিটাকে লুঙ্গি যথা পরিধান করে
পুরুষটী পুজা দেন আপিস-ফেরত।
তাই নিয়ে হাসাহাসি চলে।
মাছওয়ালা এই ঘরে হাঁকে না পশরা কোন বেস্পতিবার।
কলতলে, খাটাপেটা বাসনেরা রোজ
সন্তুষ্ট ভরে ওঠে উপচানো জলে।
নালিতে বসানো ঝারি, নিরাপদে ধরে রাখে অন্যমনে ভেসে যাওয়া আংটি বা দুল।
সকালে মশগুল
নকুলদানারা ফোটে চা-এ।
এই ঘরদোরে
দেহগুলি সংলগ্ন দেহের খাঁচায়।
মনগুলি, যথাযথ দাঁড়ে।
এমন সংসারে
কখোনো আমার জননীকে বেহদ্দ বিধবা বেশে দেখাবে না ভাল।
বাঁধানো ছবিতে,
বাবাকেও কতখানি হতশ্রী দেখাবে তাই ভাবি।
কোনদিন যারা, সীমা পেরোনোর কথা ভুলেও ভাবেনি,
আহা! তারা একসঙ্গে থাক।
একসঙ্গে দুগগা দুগগা বলে
একদিন, একই সঙ্গে যাক।

 

 

ছুটি

 

 

ফুলছাপ বালিশের স্বপ্নের পাশে
একার পাহারা রেখে যাই।
তাও, রোজ ঘুমন্ত চম্পাকে ফেলে
ছুট দেয় সাত সাতটি ভাই; এই তো কাহিনি।
আধখাওয়া টারম্যাকে মেঘেদের বেলী ল্যান্ডিং
দেখবার ফুরসুত কার?
ছেনাল বৃষ্টি আধো-অন্ধকারে রোজ লিফট চায়,
গৃহবাসী খুলছে না দ্বার।
রেলগাড়ি ভরা বন্ধু সাক্ষী রেখে দিয়ে
এ শহরে স্বার্থপর ঝাঁপায় লাইনে।
বাহ! বেশ তো গুছিয়ে নিলি নিজের পকেট!
আমরা রয়েছি পড়ে, হিংসা-সবুজ এই ট্রেনে
আপিসেও হয়ে গেল লেট।
-” তবে যাই বল!
সতত দায়িত্বশীল সেজে থাকা যাত্রাপথে, রণে…”
অই দ্যাখো!
কাকে বলছি কিবা!
মাগীবাজ শেষ মেঘটিও
কখন গিয়েছে নেমে আগের স্টেশনে!

 

 

জাগরী বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পূর্ণ নাম জাগরী ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্ম ১৯৭৮। আসানসোলে। কবিতার বই তিনটি : নগর বাহিরিরে ডোম্বি (জয় গোস্বামী প্রকাশনা), কিসসা-এ হাতিম-তাই (সম্পর্ষি), কনিষ্ঠ প্রেমিক ও বৃক্ষ (কাগজের ঠোঙা)

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close