Home গদ্যসমগ্র প্রবন্ধ জাহানারা পারভীন / এলিয়ট-ভিভিয়েন : বেদনার্ত সম্পর্কের ঘুড়ি [২]

জাহানারা পারভীন / এলিয়ট-ভিভিয়েন : বেদনার্ত সম্পর্কের ঘুড়ি [২]

প্রকাশঃ January 3, 2017

জাহানারা পারভীন / এলিয়ট-ভিভিয়েন : বেদনার্ত সম্পর্কের ঘুড়ি [২]
0
0

[সম্পাদকীয় নোট : টি. এস. এলিয়ট যখন আত্মপ্রতিষ্ঠা আর সৃষ্টিশীলতায় ডুবে আছেন, তখনই তার স্ত্রী ভিভিয়েনের জীবনে আবির্ভুত হন দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল। তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। এই সম্পর্ক কী এলিয়টের সৃষ্টিশীলতাকে সাহায্য করেছিল, নাকি প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেছিল – এরই বিস্তৃত কিন্তু চমকপ্রদ বিবরণ পাওয়া যাবে উপন্যাসের মতো লেখা জাহানারা পারভীনের এই রচনায়। আজ প্রকাশিত হলো এর দ্বিতীয় পর্ব।]

এলিয়টের সমস্যা যতটা না অর্থনৈতিক তার চেয়ে বেশি মনস্তাত্ত্বিক। বিবাহিত জীবনে শারিরীক, মানসিক সংকট প্রকট হয়ে ওঠে, দুর্বল হয়ে পড়ে স্নায়ু। প্রথমে স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুর সম্পর্কের কানাঘুষায় কান না দিলেও পরে আহত হয়েছেন।  মনে হয়েছে রাসেল তার স্ত্রীর মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাহ্য করেছে। এলিয়ট পরে লিখেছেন, খুব খারাপ কাজ করেছে রাসেল। অটোলিন মরেলকে বলেছেন, ভিভিয়েনের মানসিক স্বাস্থ্য আরো খারাপ করে দিয়েছে রাসেল, মেয়েটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে সে। তবে এ নিয়ে প্রকাশ্যে তর্কে জড়াননি। কারণটা বৈষয়িক। রাসেলের সাথে পত্রিকাগুলোর যোগাযোগের কারণেই সেখানে ছাপা হয়েছে তার কবিতা, গদ্য, রিভিউ। তাই দু’জনের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও নীরব থেকেছেন।

সাবেক প্রেমিকাকে লেখা চিঠিতে এলিয়ট দম্পতির মাঝে নিজের ভূমিকাকে দর্শক ও পর্যবেক্ষকের বলে দাবি করে রাসেল অস্বীকার করেছেন তাদের সংসার ভাঙার সামান্যতম দায়। সব দোষ চাপিয়েছেন এলিয়টের ঘাড়ে। কিছুটা তার স্ত্রীর ঘাড়েও।  বলেছেন যে তার ও  মিসেস এলিয়টের ঘনিষ্ঠতা তাদের বিবাহিত জীবনে থেরাপি হিসেবে কাজ করেছে। রাসেল ভিভের প্রতি সব দায়িত্ব পালন করায়  গার্হস্থ্যজীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তিতে থেকেছেন এলিয়ট। এমনটাই মনে হয়েছে তার। সম্ভবত তার জানা ছিল ছাত্রের বিবাহিত জীবনের  প্রকৃত অসুখ। ভিভিয়েন হয়ত তাকেই বলেছেন অস্বাভাবিক যৌথতার রহস্য। রাসেলও এসব নিয়ে কথা বলেননি কখনো।  আত্মজীবনীতে এলিয়টের বিবাহিত জীবন সম্পর্কে একমাত্র মন্তব্য পাওয়া যায় ১৯১৫ সালে লেখা লেডি অটোলিন মরেলকে লেখা চিঠিতে। সেখানে ভিভিয়েনকে কিছুটা হালকা, সাহসী ও প্রাণোচ্ছল বলে উল্লেখ করেছেন। তার জীবনে ভিভিয়েন এক অস্বীকৃত, অগুরুত্বপূর্ণ নাম। স্বামীর অমনযোগে আহত, অবসাদে ভোগা, স্নায়ু বিপর্যয়ের শিকার ভিভকে সহজেই নিজের প্রতি দুর্বল করেছেন রাসেল।

রাসেলের সাথে সম্পর্ক ভাঙার পর আরো একযুগ  সংসার করেছেন এলিয়ট দম্পতি। রাসেলের জীবনীকার রে মঙ্কের মতে ১৯১৫ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত ভিভিয়েনের সাথে সম্পর্ক রেখেছেন রাসেল। তিন বছরের অভিশাপ, ক্ষত, আজীবন বয়ে বেড়িয়েছেন ভিভ। রাসেলের পাশাপাশি ভিভিয়েন হারিয়েছেন এলিয়টকেও, হারিয়েছেন সংসার।  বন্ধুর প্রতি সরল বিশ্বাসে চিড় ধরলে স্ত্রীর প্রতি আরো শীতল হয়ে যান কবি। কদিন আগেও রাসেলের চিঠির জবাবে তাকে আশ্বস্ত করেছেন তার ঘরে বন্ধুর অবাধ আসা যাওয়া নিয়ে কোনো অস্বস্তি নেই। বরং তার অনুপস্থিতিতে পরোপকারী বন্ধু তার স্ত্রীর খেয়াল রাখে – এ নিয়ে স্বস্তি বোধ করেছেন। লন্ডনের বাইরে স্কুলে শিক্ষকতা করার সময় মাস তিনেকের জন্য সেখানে ছাত্রাবাসে থেকেছেন। এ সময় বাসায় আসা যাওয়ার জন্য আগে-ভাগেই গৃহকর্তার অনুমতি চেয়ে চিঠি লিখেছেন রাসেল। জবাবে এলিয়ট তাকে জানিয়েছেন অগাধ আস্থার কথা।

৪ হার্টিংটন

ইস্টবার্ন, প্রাসেক্স ম্যানসন

১১ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫

প্রিয় মিস্টার রাসেল,

চিঠিতে আপনার সৌজন্যতায় আমি অভিভূত। আপনার উদারতা ও উৎসাহ আমার বড় পাওয়া। আমার অনুপস্থিতিতে রাতে বাসায় এসে কারো থাকাটা আমি কখনো মেনে নিতাম না যদি না সে আপনি ছাড়া অন্য কেউ হত। অন্য কারো ক্ষেত্রে কোনো শর্তেই এভাবে প্রথা ভাঙার কথা মাথায় আসত না। কিন্তু আপানার ক্ষেত্রে এই অনুমতি চাওয়াটা নেহায়েতই অপ্রয়োজনীয়।

পুরোপুরি কবিতায় ডুবে থাকা নিপাট ভদ্রলোক এলিয়টের মনে তখন অন্য চিন্তা কাজ করেনি। এজরা পাউন্ডের মতই রাসেলকেও ভেবেছেন পরম সুহৃদ, যার ওপর নিশ্চিন্তে ভরসা করা যায়। এই স্বস্তি কেটে যায় যখন প্রকৃত সত্য সামনে চলে আসে। সম্পর্কের শীতল জল পরিণত হয় বরফে।  আরো বেশি করে ডুবে যান কাজে। হয়ে পড়েন নিস্পৃহ, নির্লিপ্ত। রাসেলের মুখে এলিয়টের সংসারের অশান্তির কথা শুনে চিন্তিত হন সাবেক প্রেমিকা অটোলিন মরেল। উদ্বিগ্ন হন এই ভেবে যে ভিভিয়েন না রাসেলের প্রেমে পড়ে যায়। এর ফলে রাসেলকে নিয়ে রটনার সম্ভাবনা ভাবিয়ে তোলে আবোরো রাসেলের সংসারে ফিরতে আগ্রহী অটোলিনেকে। যে-ফ্লাটে এলিয়ট-ভিভিয়েন থেকেছেন তার মালিকানা রাসেলের হলেও সেটা অটোলিনের যত্নে, মমতায় সাজানো। মনোমালিন্য ও দূরত্বের কারণে সে ঘর সাময়িকভাবে ছেড়ে এসেছেন মাত্র। এ বিচ্ছেদ সাময়িক। প্রেমিক রাসেলের ওপর অন্য কোনো নারীর আবেগী নির্ভরতা ভালো লাগে না তার। বুদ্ধিমতি অটোলিনের অজানা ছিল না প্রেমিকের নারীপ্রীতির স্বভাব। তার সঙ্গে একই সাথে হেলেন ডাডলি নামের এক নারীর সাথে সম্পর্ক রেখেছেন রাসেল। ভিভিয়েনের সাথে  ঘনিষ্ঠতার সময়ও প্রেম করেছেন উইনি জেনস্টিন এলিসের সাথে। অটোলিন ভিভিয়েনের সাথে তার স্বামীর দূরত্ব তৈরি করতে নিষেধ করেন রাসেলকে :

এটা যদিও অনধিকার চর্চা তবুও তোমাকে এখানেই থামিয়ে দিতে চাই। তোমার উচিত তাদের জীবন থেকে সরে আসা। ভিভিয়েনের আত্মবিশ্বাস দেখে মনে হচ্ছে তুমি ধীরে ধীরে তাকে এলিয়টের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলছ, যা তোমার ভাবমূর্তির জন্য ভয়ংকর হয়ে দাড়াবে।

এসব পরামর্শে কান দেননি রাসেল। একসময় প্রশ্ন ওঠে বন্ধুমহলেও। এলিয়টের বন্ধু রবার্ট সেনকটের প্রশ্নের মুখে রাসেল অস্বীকার করেন সম্পর্কের সত্যতা। বলেন, ভিভিয়েনের সাথে আমার যৌন সম্পর্ক বা এরকম অভিজ্ঞতা হয়নি। রাসেলের জীবনীতেও এ নিয়ে কোনো প্রসঙ্গ বা স্বীকারোক্তি নেই। রবার্ট এইচ বেল ‘বার্টান্ড রাসেল এন্ড দা এলিয়টস, ইন দ্যা আমেরিকান স্কলার’ গ্রন্থে প্রেমিকা কলেটকে ১৯১৭ সালের ৩১ অক্টোবর লেখা রাসেলের চিঠি প্রকাশ করেছেন যাতে প্রমাণিত হয়েছে ভিভিয়েনের সঙ্গে অন্তরঙ্গতা।

রাসেলের আরেক জীবনীকার রে মঙ্ক অন্য অনেককে লেখা রাসেলের চিঠিপত্র, রাসেলকে লেখা বন্ধুদের চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে জানান ১৯১৫ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত এই তিন বছর এলিয়টের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছেন রাসেল। রাসেল-ভিভিয়েনের সম্পর্ক নিয়ে রে মঙ্কের মন্তব্য এলিয়টের জীবন নিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা করে তিন খণ্ডের জীবনী লেখা লিন্ডাল গর্ডনের চেয়েও সাহসী, কিছুটা বিতর্কিতও। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত রে মঙ্কের লেখা বার্টান্ড রাসেলের জীবনী বার্টান্ড রাসেল : স্পিরিট অব সলিচ্যুড গ্রন্থে দেখা যায় কিভাবে রাসেল ভিভিয়েনকে  তার প্রতি আকৃষ্ট করেছেন। রে মঙ্ক দাবী করেছেন প্রমাণ না রাখতেই ভিভিয়েনের সব চিঠি নষ্ট করেছেন রাসেল। অপরাধবোধের কারণেই  আড়ালে রাখতে চেয়েছেন এই অধ্যায়। হার্ভার্ডের অধ্যাপক লিন্ডাল গর্ডন এই সম্পর্ককে প্রেম মানতে নারাজ। তার  মতে ভিভিয়েনকে রাসেল মনে করেছেন হাতের পুতুল। এলিয়টের জীবনী এ পারফেক্ট লাইফ-এ লিন্ডাল গর্ডন বলেছেন, রাসেলের যৌনতার খেলায় উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন ভিভিয়েন। একটা বিষয় এখানে পরিস্কার। এলিয়ট রাসেলকে শিক্ষকের সম্মান দিয়েছেন, দুর্দিনে সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞ ছিলেন। আর রাসেল প্রথম দিন থেকেই চেয়েছেন তার প্রেমে পড়ুক ভিভিয়েন।

১৯১৭ সালে কনস্টেন্ট মালেসনের সাথে সম্পর্ক ভাঙার পর লেডি অটোলিন মরেলকে রাসেল লিখেছেন, যৌন সম্পর্ক তার লেখায় শক্তি যোগায়। আর নিজের কাজকে অবমূল্যায়ন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। বলেছেন, তার কাছে ভিভিয়েন  উদ্দীপনারও বেশি কিছু। ১৯১৬ সালের শুরুতে এলিয়ট যখন পিএইচডি থিসিসের কাজে ব্যস্ত, ভিভিয়েন ও রাসেল তখন সপ্তাহে দুবার দেখা করতেন। একসাথে দুপুর বা রাতের খাবার খেতেন। অটোলিন মরেলের কাছে রাসেল স্বীকার করেছেন ভিভিয়েন তার জীবনের জন্য প্রয়োজনীয়, এই সম্পর্ককে খারাপ দৃষ্টিতে দেখার কিছু নেই। তবে এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেননি। একে দীর্ঘ করার ইচ্ছাও তার ছিল না। ১৯১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ চিঠিতে অটোলিনকে লিখেছেন :

যা চাই তা পাওয়া খুব স্বস্তিকর নয় সব সময়। অনেকটা স্বার্থপরের মত। আমি যা স্থায়ীভাবে চাই, সচেতনভাবে নয়। কিন্তু গভীরভাবে যা উজ্জীবিত করে। আমার মস্তিস্ককে সচল রাখে। আমাকে রক্তচোষা পিশাচে পরিণত করে। আমি উজ্জীবিত হই। সাফল্যের অনুভূতি আসে মনে। মিসেস এলিয়টের সাথে মিশে সেই সাফল্যের অনুভূতি হয়েছে। কারণ আমি তাকে অর্জন করেছি, সত্যি অর্জন করেছি। কাজটা খুব কঠিন ছিল না।

ভিভিয়েন সম্পর্কে কলেটকে বলেছেন :

ওকে দেখলে মোটেও বুঝতে পারব না ওর মাঝে কী দেখেছি আমি। মনে হবে সে সাধারণ, ছোটখাট এক নারী। তেমন চোখে পড়ার মত বা গুরুত্বপূর্ণ কেউ নয়।

‘এলিয়ট’স ডার্ক এনজেল : ইন্টারেকশন অব লাইফ এন্ড আর্ট’ গ্রন্থে রোনাল্ড স্টুয়ার্ড দাবী করেছেন ভিভিয়েনের সাথে পরিচয়ের এক বছরের মাথায় অভিনেত্রী কলেটের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছেন রাসেল। কলেটকে বলেছেন মিসেস এলিয়টের সাথে ঘনিষ্ঠতার কথা। ভিভিয়েনের সাথে দূরত্ব তৈরি করেছেন কলেটের পরামর্শে। একাধিক নারীসঙ্গের জন্য কলেট তাকে ছেড়ে গেলে ১৯১৭ সালে আবারো ফিরেছেন ভিভিয়েনের কাছে। লন্ডনের বাইরে কটেজ ভাড়া করেছেন। সেখানে অধিকাংশ সময় ভিভের পাশে থেকেছেন রাসেল। সাপ্তাহিক ছুটিতে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এলিয়ট। ১৯১৭ সাল খুবই ব্যস্ততায় কেটেছে এলিয়টের। এ বছর যোগ দিয়েছেন লয়েল্ড ব্যাংকে। ব্যাংকের কাজ ছাড়াও লন্ডনের দুই প্রান্তে দুটি কলেজে ক্লাস নিতে ছুটোছুটি করতে হয়েছে। পাশাপাশি ইগোইস্ট পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করতে হয়েছে। তুমুল এই ব্যস্ততায় অধিকাংশ সময়  কবির সংসার ও স্ত্রীর দেখাশোনা করেছেন  বার্টান্ড রাসেল। ‌‘রার্টান্ড রাসেল : স্পিরিট অব সলিচ্যুট’ গ্রন্থে লেখক রে মঙ্ক দাবী করেছেন রাসেলের জীবনে একাধিক নারী থাকলেও একই সময়ে তিনি একজনকেই ভালোবেসেছেন। অন্য জনের সাথেও যোগাযোগ রেখেছেন। রে মঙ্ক বলেছেন, অটোলিন মরেলের সাথে সম্পর্কের সময় তিনি সাবেক প্রেমিকা হেলেন ডেডলির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। ভিভিয়েনের সঙ্গে প্রেমের সময় ভেবেছেন মরেলের কথা। অভিনেত্রী কলেটের সঙ্গে তুমুল প্রেমের সময় তার সঙ্গে কথা বলেছেন ভিভিয়েনকে নিয়ে। কলেটকে নিয়মিত আবেগের ফুলঝুড়ি মার্কা চিঠি লিখলেও বুদ্ধিমতি কলেট জানেন প্রেমিকের স্বভাব। রাসেলকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান ১৯১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর লেখা শেষ চিঠিতে :

তোমাকে নিজের প্রেমিক পরিচয় দিতে সংকোচ হয় আমার। প্রকৃত অর্থে তুমি আমার নও, অটোলিন মরেল আর মিসেস এলিয়টের প্রেমিক।  ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি আর যেন দেখা না হয় আমাদের।

কলেটের কাছে প্রত্যাখ্যাত রাসেল আবারো ফিরে যান ভিভয়েনের কাছে। আত্মজীবনীতে রাসেল এলিয়ট দম্পতির সাথে বন্ধুত্ব, সহযোগিতার কথা বললেও জীবনীকাররা ঠিকই ইতিহাস খুঁড়ে বের করেছেন প্রকৃত সত্য। এ  বিষয়ে মরেলকেও বিভ্রান্ত করেছেন রাসেল। অন্য কোনো বিষয়ে মরেলের কাছে অসত্য বলেননি রাসেল। তবে কলেটের কাছে স্বীকার করেছেন, ভিভিয়েনের সাথে সম্পর্কটা শেষ পর্যন্ত নিষ্কাম থাকেনি। ভিভিয়েনের ওপর দায় চাপিয়ে বলেছেন, ভিভই বন্ধুত্বের চেয়ে বাড়তি কিছু চেয়েছে। ছাত্রের স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের লক্ষণরেখা পার করার দায় নিতে চাননি বলেই আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেননি এসব প্রসঙ্গ। আরো তিন বছর বেঁচে থাকলে ভিভিয়েন দেখতে পেতেন তার জীবনের দুই প্রধান পুরুষই পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার। ভিভিয়েনের মৃত্যুর পরের বছর ১৯৪৮ সালে এলিয়ট এবং দুই বছর পরে ১৯৫০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বার্টান্ড রাসেল। এলিয়টের মত তিনিও নষ্ট করেছেন ভিভিয়েনের সব চিঠি। আত্মজীবনী লেখার সময় উদ্ধৃতির জন্য কাজে আসতে পারে এমন অজুহাতে অটোলিনের কাছে ফেরত চেয়েছেন নিজের লেখা সব চিঠি। মরেল ফেরত দেন ১৯১১ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত তাকে লেখা চিঠিগুলো। পরে  রাসেল বলেন, এগুলো সব বস্তাপচা, নষ্ট করে ফেলা উচিত। অটোলিন কয়েকটি চিঠি নিজের কাছে রেখে না দিলে, এ সম্পর্ক নিয়ে অন্যদের কাছে না লিখলে, রাসেল-ভিভিয়েন অধ্যায়ের অনেক সত্য অস্পষ্ট থেকে যেত। ১৯২১ সালে ওয়েস্টল্যান্ড লেখার সময় লন্ডনের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকার সময় প্রতি সপ্তাহে একটি বা দুটি চিঠি ভিভিয়েন পাঠিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন কবি। এলিয়ট জীবন থেকে চলে যাওয়ার পর স্বামীকে লেখা একশ  চিঠির কোনো উত্তর পাননি। এসব চিঠির কোনো হদিসও পাওয়া যায়নি। ভালেরি সম্পাদিত এলিয়টের চিঠিপত্রের কোনো খণ্ডে স্থান পায়নি এসব চিঠি। ভালেরি বলেছেন, কিছু চিঠি তার সামনে নষ্ট করেছেন কবি। এলিয়ট ও রাসেলকে লেখা চিঠিগুলো পেলে এই ত্রিভুজ সম্পর্ক নিয়ে আরো ম্পষ্ট ধারণ পাওয়া যেত। তবে এটুকু বলা যায় তাদের সম্পর্ক ছিল স্ববিরোধী।

[চলবে]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close