Home অনুবাদ ডেনিস ব্রুটাস > অনূদিত কবিতাগুচ্ছ >> সুমন্ত মুখোপাধ্যায়, মাসুদু্জামান ও নিশীথ ভড় অনূদিত

ডেনিস ব্রুটাস > অনূদিত কবিতাগুচ্ছ >> সুমন্ত মুখোপাধ্যায়, মাসুদু্জামান ও নিশীথ ভড় অনূদিত

প্রকাশঃ October 11, 2017

ডেনিস ব্রুটাস > অনূদিত কবিতাগুচ্ছ >> সুমন্ত মুখোপাধ্যায়, মাসুদু্জামান ও নিশীথ ভড় অনূদিত
0
0

ডেনিস ব্রুটাস > অনূদিত কবিতাগুচ্ছ >> সুমন্ত মুখোপাধ্যায়, মাসুদু্জ্জামান ও নিশীথ ভড় অনূদিত

ডেনিস ব্রুটাস সেই কবি যাঁর বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা রোডেসিয়া একদিন অলিম্পিক গেমস থেকে বাদ পড়েছিল। এর জন্যে তার ওপর নেমে আসে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। ১৯৬৩ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জেল থেকে পালাবার সময় পুলিশ পেছন থেকে গুলি করে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। ব্রুটাস এরপর চলে যান আমেরিকায়। ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেছেন। সারা পৃথিবীর বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন।  তাঁর জন্ম ১৯২৪ সালে জিম্বাবোয়েতে। তার কবিতার বইয়ের সংখ্যা অনেক। জেল থেকে লিখেছেন ঠাণ্ডা গরাদের ছায়াভর্তি সব কবিতা। দেশের বাইরে থেকে লিখেছেন অজানা অনুভূতি প্রবাহের কবিতা, মানুষ যা নিরন্তর বয়ে চলে। নির্বাসনে থাকতে কবিতা লিখেছেন, লিখেছেন নির্বাসনের পরেও। তাঁর মন ছিল এডওয়ার্ড সাঈদ যেমন বলেছেন, ‘নির্বাসিতের মন’। তাঁর কবিতা স্বাদ তাই একেবারেই আলাদা, বর্ণবাদ, জেলজীবন, নির্বাসন সব কিছুই অবিমিশ্র হয়ে আছে। ২০০৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

কবিতাগুচ্ছ

 

সুমন্ত মুখোপাধ্যায় অনূদিত >>

 

নির্বাসনের পরে

আমি সেই গাছ বাইরে

রাত্তিরবেলা হাওয়াতে

ক্যাঁচক্যাঁচ করে মরছি

একরোখা আর বঙ্কিম।

আমি সেই এক খণ্ড

ভাঙাচোরা টিন, বস্তির

খ্যানখ্যান করে বাতাসে

বিষণ্ন গলা তুলছি।

 

আমি একখানি কণ্ঠ

কাঁদছি গভীর রাত্রে

শেষ নেই যার কান্নার

সান্ত্বনা নেই কোথাও।

 

রেলবিহার

 

মাইল মাইল ইস্পাত নির্মিত

ছড়িয়ে রয়েছে এই যে আমার দেশ

তার পাশ ঠিক ন্যাংটো সুতোর মতো

দাঁড়িয়ে বাচ্চাগুলো

প্যাকাটির ঠ্যাং উটপাখি হাঁটু ফোলা

হাতদুটো তোলা ফাঁকা আর খিদে খিদে

অনেকটা যেন প্রার্থনা ভঙ্গিতে।

 

রক্তনদীর দিন

 

আমাদের হাওয়া বাতাসের পেটে

জঙ্গি-জঙ্গি বীজ ঢুকে গেছে।

এ তেমন বুঝিয়ে বলার মতো আশ্চর্য় কথা না।

ফর্দে পুকে রাখার মতো তেমন কিছু না।

 

আদতে এ হলো

পচা মাটি থেকে উঠে আসা বিষ। বিষ বায়ু।

হাওয়ার মতোই লম্বা সটান ছড়ানো

ছোটোখাট হাজার বস্তুর মতো

এদিকে ওদিকে সব চারিদিকে

নিশ্চিত জড়ানো।

 

আমাদের জলবায়ু এই আমাদের আবহাওয়া।

 

আমরা সব যুদ্ধবাজ হয়ে বেঁচে আছি

যুদ্ধভর্তি ডাঙায় এখানে

অবরুদ্ধ দেশে।

বাচ্চারা বন্দুক নিয়ে খেলে আর

স্কুল পড়ুয়ারা সব স্বপ্ন দেখে

খুন করবে কবে।

আমাদের স্বপ্নগুলো বোমারু পাখিতে

ভরে গেছে।

আমার লস্কর মানুষেরা

ভাবনায় রক্তের মধ্যে ভিজে গেছে। তারা

ফুলে আছে বিসর্জনে, মরে যাচ্ছে

নিষ্ঠুর হতাশ এক বিদঘুটে মরণে।

 

এখন নির্বাসনে

আমাদের মাথার ওপরে

শুধুই আকাশ

নীচে মেঘ

আর তার নীচে

মেঘ

তারও নীচে

সমুদ্র

এবং ডাঙা সব ধ্বংস হয়ে গেছে

শুধু এই আকাশ আর হাওয়া আর আলো

এর পরম ধারণা

ছুঁয়ে থাকা।

 

এমন ধ্বংসের পর

বাস্তব যা পাশবিক

তাকে

উড়িয়ে পুড়িয়ে দিয়ে

কী রইলো এমন যাকে

পারি না পারি না

আমরা কিছুতেই

মুছে ফেলতে পারি না কখনো?

 

শান্তি ফিরবেেআমাদের সে ক্ষমতা রয়ে গেল

রইলো কিছু আশা ভরসা

রয়ে গেল অটুট প্রত্যয় শুধু

মানুষ ফিরবেই বাড়ি

 

একদিন

বাড়ি ফিরবে সমস্ত মানুষ।

 

মাসুদু্জ্জামান অনূদিত >>

 

তারা তাকে ফাঁসিতে ঝোলালো, আমি বলি কী আসে যায় তাতে

 

ওরা ওকে ফাঁসিতে ঝোলালো, আমি বলি কী আসে যায় তাতে

এছাড়া তো বলা যেত না সে মরে গেছে

অথবা বোঝা যেত না কতটা প্রিয় বন্ধু ছিল সে আমাদের

আর সেই যে কাজগুলি আমরা করছিলাম

কাজের সূত্রেই আমরা গভীর বাঁধনে জড়িয়ে পড়ি

কাজগুলি ছিল এ-ওর সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেবার,

উচ্চাভিলাষী, বাসনা।

এখন সে তো মৃত : আমি তাই আর

বিষণ্নতায় ভোগার কথা ভাবি না

এই যে বিষণ্নতা কোন অতলে যে তাকে নিয়ে গিয়েছিল

অথবা ওরা ওকে যে কষ্ট দিয়েছিল

সেই কষ্টের মুখোমুখি ওকে হতে হয়েছে

অথবা কতটা সে হতাশায় ডুবে গিয়েছিল :

সেসব কথা এখন বলাটা খুবই সহজ, ওরা ওকে কীভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল,

আমি অবশ্য বলি কী আসে যায় তাতে।

 

 

নিশীথ ভড় অনূদিত >>

 

তোমাকে হারালেও এখন ভয়হীন

 

এখন ভয় করিনা আমি তোমাকে হারানোর

কিন্তু যখন সামনাসামনি চরম পরীক্ষার

কেমনভাবে যাব, তোমার মৌল ভালোবাসা

ছেড়ে, যাকে ধমক ছাড়াই, ছাড়তে ভয় পাই!

 

বুঝতে পারি

 

এখনও আমি বুঝতে পারি

পণ্য-ললনারা

ঠিক কী-ভেবে উৎসুক হয়

নির্মন ইস্পাতের সামনে

নিজের-নিজের ঊরুর বিস্তারে।

এমনকী আমার

এই ক্ষতাক্ত দেশের ধুলোও

নিস্প্রতিবাদ

সহ্য করে

তাদের বুটের লাথি।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close