Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ ডোন্ট আন্ডারএস্টিমেট দ্যা পাওয়ার অফ জাহাঙ্গির > ছোটগল্প >> জেবাউল নকিব

ডোন্ট আন্ডারএস্টিমেট দ্যা পাওয়ার অফ জাহাঙ্গির > ছোটগল্প >> জেবাউল নকিব

প্রকাশঃ July 4, 2017

ডোন্ট আন্ডারএস্টিমেট দ্যা পাওয়ার অফ জাহাঙ্গির > ছোটগল্প >> জেবাউল নকিব
0
0

ডোন্ট আন্ডারএস্টিমেট দ্যা পাওয়ার অফ জাহাঙ্গির

এক

পাখিগুলো উড়ছে কেনো? তাদের উড়ার জন্য কত্তবড় আকাশ। আমার প্রেমিকা উড়তে পারে না মোটেই। কী নির্মম! কী অন্যায়! কী ঘোর! কী অনাচার! কী দুঃখ! কী বিষাদ! ঠোঁট চেপে শিষ দেয় কে ওখানে? মনে হচ্ছে কারো কবর খুঁজছে কেউ। কবর খুঁজতে এসে শিষ দেওয়া লোকের বড় অভাব। কোথায় যেনো শুনেছিলাম “পাপ না মুছা আমার স্বভাব- আমাকে মরতে দিন” শুনিনি আসলে। এমন একটা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তার ধারে কাকে যেনো কবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম। কোথায় দেখেছিলাম? সাথে থাকুন মনে পড়লে বলবো। এই দেশে কত কিছুই না দৈনিক ঘটে যাচ্ছে। শেষ কবে যে অবাক হয়েছিলাম মনে নেই। একবার হেঁটে যাচ্ছিলাম মালিবাগ ধরে। হঠাৎ কে যেনো লাল রঙের গাড়ি থামিয়ে আমার দিকে হেঁটে আসছিলো। লাল রঙের গাড়ি গুলো পয়সাওয়ালাদের হয় ভেবে আমার কিঞ্চিত ভয় হচ্ছিলো। মোটাসোটা লোকটা কাছে এসেই হাতে ২৫০ টাকা দিয়ে বলেছিলো,

-জাহাঙ্গির ভাই এইটা রাখুন। আপনার থেকে নেওয়া টাকাটা দিতে পারিনি।

– চিনতে পারছি না। আমাদের কী আগে দেখা হয়েছিলো?

– আমি মিতুল। আগ্রাবাদে তিন বছর একসাথে মেসে ছিলাম। এখন ব্যবসা করছি তুমুল।

– আচ্ছা।

টাকাটা হাতে ধরিয়েই সে হেঁটে চলে যাচ্ছে। আমি তার টিশার্ট এর পেছনে তাকিয়ে বেশ অবাক হলাম। টিশার্ট এর পিছনে আর্ট করা একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর তার বুকের নিচে লিখা “আমাকে ধর্ষণ করুন।” শেষ কবে অবাক হয়েছি মনে নেই। আজকে হলাম।

তিন বছর আগের কথা মনে পড়ে গেলো। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে একটা সস্তা বাসায় হিজিবিজি করে আমারা ৫জন ছিলাম। প্রেমিকা’র ঘাড়ে চেপে দীর্ঘদিন ভালোই চলছিলো। একদিন আমাকে চমকে দিয়ে প্রেমিকা বলেছিলো,

-“চাকুরি খুঁজো। আমার বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে ক্রমশ। আর আটকাতে পারছিনা।”

অথচ দেখুন… তাকে প্রেমিকা বলার আগে বলেছিলাম,

– চাকরি আমাকে দিয়ে হবে না। আমি খেতে পেলে খাই নয়তো উপোষ থাকি। তোমার উপোষ থাকার অভ্যাস আছে?

– চাঁদ আলো দিলে আমি রোজ উপোষ থাকতে পারি।

বিশ্বাস করে গলায় তবে একটা সাপ ঝুলিয়ে ছিলাম ভাবতে ভাবতে খবরের কাগজ উল্টিয়ে চাকরির বিজ্ঞাপন খুঁজতে লাগলাম। সকাল থেকে মেয়েটার ঘ্যানঘ্যান শুনে শুনে কানটা পুরোই গেলো। বলে কিনা “চাকরি খুঁজো দ্রুত নয়তো আমাকে পাবে না। আমি চলে যাচ্ছি।” ইচ্ছে করছিলো বলি- যাও, যেতে ইচ্ছে হলে থেকে থেকে লাভ কী?” একটা প্রচণ্ড মায়ার ঘোর বাঁধা দিচ্ছিলো আর দরকারি কথা গুলো আমি সহজে বলতে পারি না। মনে হচ্ছিলো এমন বললে ভীষণ অন্যায় হতো। মেয়েটা পাখির মতো উড়তে পারে না। তবে তার ডানায় আমি মোটেই শিকলে বাঁধি নি। অবশেষে একটা ইন্টার্ভিউ দিতে গেলাম। অবান্তর প্রশ্ন শুনে বুঝলাম তারা আসলে লোক আগে থেকেই নিয়ে রেখেছে এসব কেবল ফর্মালিটি। দু চারটা গালি দিয়া স্ট্রেটকাট বের হয়ে চলে আসলাম। খুব পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছে আজ। চাকরী হয়নি তাই আনন্দ নয়, যেখানে ক্ষোভ লুকিয়ে ভদ্র ভণ্ডামির অভিনয় করতে হয় সেখানে এই প্রথম গালি আর রাগ ঝাড়লাম বলে। প্রেমিকা সন্ধ্যায় ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলো,

-“চাকরিটা হলো?”

আমি চুপ করেছিলাম দেখে লাইন কেটে দিয়ে মেসেজ করলো, “আমি আর পারবো না বাবা কে আটকাতে, একটু পরে আমাকে দেখতে আসবে। ছেলে পাইলট।”

আমি কোন রিপ্লাই দিলাম না। এসময় মানুষের খুব কষ্ট হওয়া উচিৎ, কান্না পাওয়া উচিৎ, মদ বা সিগারেটে অন্য কিছু মিশিয়ে খাওয়া উচিৎ আমার কিছুই হচ্ছে না। আমি কী মানুষ না? এত এত মানুষ কষ্টে থাকে আমার কষ্ট গুলো কোন মহান ঘোড়া পিঠে নিয়ে ছুটছে জানিনা। যদি তার সন্ধান পেতাম আরেকটু অবাক হবার সুযোগ পেতাম।

সেদিন আমাকে নিয়ে বাসায় খুব হাসাহাসি হচ্ছিলো। সাথে আমিও হাসছিলাম যেহেতু আমার কষ্ট অন্যের জমিতে চাষ হয়। রাত তখন ২.৩০ মিনিট। এখনো আমার খিদে লাগে নাই। আশ্চর্য… আমার খিদেগুলোও যেনো অন্য কেউ অন্য পেটে চাষ করছে। ভাবতে ভাবতে বাথরুমে গিয়েই খানিক টা কষ্ট ও খিদে লেগেছিলো যখন দেয়ালে  লেখা দেখলাম : “সুন্দরী প্রেমিকা চলে গেলো হেলিকপ্টারের ড্রাইভের সাথে। কী হলোরে জাহাঙ্গির।” এটা নিশ্চয় কালো মোটা খাটাস মিতুল লিখেছে। রাগ লাগছে খুব। ইচ্ছে করছে প্রেমিকার বাবাকে ধরে এনে দড়িতে ঝুলিয়ে দিই। কথা নেই বার্তা নেই হুট করেই মেয়েকে বিয়ে দিবে। লিপস্টিক লাগিয়ে, শাড়ি পড়িয়ে, মুখে ক্রিম মেখে এই যে নিজের মেয়েকে বিক্রি করার জন্য তৈরি করছেন একবারও তার মতামত জানতে চেয়েছেন?

এ কেমন সংস্কৃতি? ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে ব্যাপারটা কেমন জানি। ভালো লাগলে বিয়ে করবে না লাগলে করবে না।

এত এত সংস্কৃতি বিলীন হয়ে যায় এটা চুলায় জ্বলতে পারে না?

নারী ইকুয়াল ভোগ শব্দটি রয়ে যাচ্ছে এভাবেই…

 

দুই

আমার বয়স যখন তেইশ তখন মা একটা কথা প্রায় বলতো, “তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। তোকে না পেলে একটা হাঁস পাললেও ভালো হতো, ডিম দিতো।” এমন শুনে হাসতাম। আজ মনে হচ্ছে কথাটা সত্যিই। মা আমাকে না পেলে হাঁস পালতে পারতো। নিজেকে ভীষণ চার্জ ছাড়া ফোনের মত লাগছে। খুব চা খেতে ইচ্ছে করে। শ্যাওলা বারান্দায় বসে ভাবছি একটা চায়ের দোকান দিবো। নাম হবে ‘কবি চা’। হরেকরকম কবিদের নামে চা থাকবে। কোনটা খাবেন? রবি চা? নাকি কাজী চা? জীবন চা, গুণ চা, রুদ্র চা, সুনীল চা, আজাদ চা, হাফিজ চা? সাথে সিগারেট খাওয়ার সুব্যবস্থা আছে। শর্ত হলো একটাই প্রতি দশ মিনিটে একটা চায়ের অর্ডার দিতে হবে। বাঙালির অভ্যাস ভালো না। দশ টাকার চা খেয়ে দু-ঘণ্টা বসে এমন কাউকে থাকতে দেওয়া যাবে না। প্রেমিক প্রেমিকা হলে কিছুটা ছাড় দেওয়া যায়। গুণ চা টায় কিছু রোমান্টিসিজম মিশিয়ে তাদের জন্য স্পেশাল থাকবে। এ বাসায় আসার পর থেকেই তেমন ভালো চা খাওয়া হচ্ছে না। এলাকার চাচা’টা দয়া করে থাকতে দিয়েছে। সাথে দুবেলা ভাত ফ্রি। অনেক পুরনো বাসা হলেও ভালোই লাগে। ছাদে ইদানীং তেমন যাওয়া হয় না পাশের বাসায় এক রহস্যময় নারীর ভয়ে। এসেই এমন ভাবে তাকাবে যেনো আমি দীর্ঘদিনের চেনা। একদিন বলেই দিয়েছিলাম- আপনার কী প্রেমিক নেই? উত্তর না দিয়ে চুপচাপ চলে যায়। তারপর দীর্ঘদিন দেখিনি। শুনেছি তার পঞ্চাশোর্ধ্ব বাবা নতুন বিয়ে করেছে। বিমাতার আচরণ ভালো না। এই বাসাটায় যখন তখন রাত করে ফেরার ব্যবস্থা আছে। তবে সেই জন্য কিছুটা খাটনি করা লাগে। চাচা’টার তিনটি রুমমেট আছে। তাদের মধ্যে একজনের নাম জালাল। বিস্কুট কোম্পানিতে মার্কেটিংয়ের চাকুরি করে। ভোরে বের হলে ফিরে দশটার পর। আমি দরজা খুলে দেই। ভালো লাগে তারে। সিগারেট শেয়ার করে। যদিও আমার ভাতের মত সিগারেটেও নেশা নেই। পেলে খাই না পেলে উপোষ থাকি। চায়ের ব্যাপারটা ভিন্ন। যত খাই ততই ভালো লগে। তবে দয়ার জীবনে অত বেশি আবদার রাখতে নেই।

 

 

তিন

জমিগুলো কিনতে আসছিলো কারখানার মালিক। জমি কিনতে গেলে এলাকার সেয়ানাদের ট্যাক্স দেওয়া লাগে। তো যারা যারা সেয়ানা তাদের মধ্যে একটা সেয়ানা উন্নয়ন কমিটি করা হইছে। সেখানে দায়িত্ব পড়ছে তবলীগ জামাতের বিশিষ্ট নেতা রবি ভাইয়ের। রবি ভাইয়ের চেহারা সুন্দর রং ফর্সা সাদা। চেহারায় একটা নুরানি নুরানি চাপ আছে। গত কয়েক বছর আগে নাকি রবি ভাই এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা আছিলেন। জগা মেম্বারের সাথে আঁতাত কইরা সালিশ বাণিজ্যে ভালই টাকা পয়সা কামাইতো। এলাকায় প্রভাব দেখাইতে যাইয়া দু-চারটা মামলাও খাইছিলো। সে অনেক পুরানো কথা এখন রবি ভাই তবলীগে আছেন। নামাজ কলমা পড়েন মাঝেমধ্যে ঘর ছাইড়া দূরে মসজিদে যান। রাতে মসজিদেই থাকেন। বনভোজনের মত কইরা রাঁধেন সব, এক হইয়া মজা কইরা খান।

২৬ মে বিকেলে জাহাঙ্গির টং দোকানে বইসা চা খাইতেছে। মুখ ঘুরতেই দেখে একদল সাদা পাঞ্জাবি ওয়ালা জাল টুপি মাথায় দিয়া লাইন ধইরা আসতেছে। জাহাঙ্গির একটু নড়েচড়ে বসে। লাইনের সামনে আছিলো রবি ভাই। জাহাঙ্গিরের দিকে মুখ কইরা লম্বা একটা সালাম দিয়া কইলো।

– ভাই আমাদের সাথে চলেন, সামনের মাসে উত্তর বঙ্গে চিল্লা আছে।

– আপনারা কে? আর চিল্লাই বা কি?

– আমরা তবলীগ জামায়েত। আল্লাহর রাস্তায় আছি। চিল্লা মানে হইলো দাওয়াতে বের হওয়া। তিন দিনের একটা চিল্লা আর চল্লিশ দিনের একটা চিল্লা। আপনে কোন টায় যাইবেন?

– তো থাকমু কই?

– কেন মসজিদেই।

মসজিদে থাকবে শুনে জাহাঙ্গির একটু টেনশনে পড়লো। তার কিছু বাজে অভ্যাস আছে। খারাপ স্বপ্ন দেখে একবার ঘুমের মধ্যে জালালের নাক টেনে বলেছিলো আমার ক্যামরা দে। ক্যামরা দে। মাঝে মঝে কুকুর কুকুর করে চিল্লায়ও। আর তার মোটেই যেতে ইচ্ছে করছে না। এসব ভেবে চিন্তিত হয়ে বললো,

– আমারতো সমস্যা ভাই। রাতে ভীষণ দুর্গন্ধ ছড়াই।

– নাউজুবিল্লা। আপনার বায়ু ছাড়ার সময় হইলে মসজিদের বাইরে গিয়া ছাড়িবেন জনাব।

– আপনারা যে ঘর বাড়ি চাইড্ডা দাওয়াতে বের হইয়া যান। আপনাগো বৌ পোলা কে দেখে? তারা খায় কী? আপনে কোন ব্যবসা বাণিজ্য করেন?

– আল্লাহর রাস্তায় আছি। আল্লাহ খাওয়াবে।

– আল্লাহয় কি খাওয়া আপনার ঘরে আইন্না দিয়া যায়?

জাহাঙ্গিরের এই প্রশ্ন শুনে ভ্রুক্ষেপের কপাল ভাজ করে হাঁটা ধরলেন রবি ভাই। একটা কড়া আতরের গন্ধ নাকে আসছে খুব। মনে হচ্ছে এদিকের আকাশে আতর গন্ধের মত ধর্ম ভণ্ডামি, মূর্খ মতবাদ, অন্ধত্ব ও মুখোশের সুনিপুণ বাতাস হুহু করে মানুষের নাকে ঢুকে যাচ্ছে। শ্বাস নিচ্ছে আর ক্রমে বেহুঁশ হচ্ছে মানুষ।

 

চার

কিছু বিকৃত ও হীনমন্যতার মানুষে মানুষে চারপাশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে। জবরদস্ত চলাফেরা করতে হচ্ছে। এদেরকে মূলত মূর্খ, বোকা ও লীন চিন্তার উন্মাদ ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারছি না। এরা কারা? ধরতে চাচ্ছি গলা চেপে। পারছিনা। হঠাৎ টের পেলাম জালাল ডাকছে। আজ শুক্রবার। গত রাতে বৃষ্টি হবার কথা থাকলেও হয়নি। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমাকে ফ্লোরে বালিশ ছাড়াই রাত কাটাতে হয়েছে। জালালের ভাই এসেছে গ্রাম থেকে আমার জায়গায় সে ঘুমিয়ে ছিলো। বেশ মশার কামড় খেতে হয়েছে সারা রাত। আমার সন্ধানে কে যেনো এসেছে। চোখ কচলাতে সামনে এগিয়ে দেখি মিতুল।

– তুই হঠাৎ? ঠিকানা  পেলি কই?

– বলছি পরে। চলো বাইরে যাবো।

– আমার ঠিক ঘুম হয়নি রাতে।

সেই ঘাড়ত্যাড়া মিতুল আগের মতই আছে। একটা শার্ট হাতে নিয়ে চল চল বলে হাঁটা দিলো। আমি সুবোধ বালকের মত তার পিছনে হাঁটা শুরু করলাম। মনে পড়লো মালিবাগ মোড়ে তার পিঠে কি যেন  লেখা দেখেছিলাম। আজকে কিছু লেখা নেই। সেই লাল গাড়ি। আমি চেপে বসলাম। কিছু দূর যেতেই গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার ধারে বসলাম। একটা বিষাদী আকাশ ঘিরে ধরছে। ধেয়ে আসছে যেনো কিছু টগবগ দুঃসংবাদ ঘোড়া। আমি এখানে কেনো বুঝে উঠতেই মিতুল জিজ্ঞেস করলো,

– আজ কার বিয়ে?

– মেঘের উপর তারা তারার ভেতর মেঘ, তার ভেতরে উড়ে উড়ে যাচ্ছে শঙ্খধ্বনি- কার বিয়ে আজ?

– কারা যেনো বাঁধা পড়ছে সাত পাকে।

– দেখ, দুটো আলাদা ধোঁয়ার মেঘ জলে আকাশটারে মাতাল মাতাল লাগে।

– রাত হলেই সব খসে পড়বে। কেউ থাকে না। কেউ কাউকে রাখে না। এই উজ্জ্বল হিমেল সূর্য, ঘোলাটে মেঘ সব খেয়ে নিবে শালা জানোয়ার শুয়োরের দল।

মিতুল হঠাৎ এতটা ক্ষোভ ছাড়ছে কেন। জানতে ইচ্ছে হলো। মনে হচ্ছে টগবগে দুঃসংবাদ ঘোড়া থেকে নামছে সে। ভীষণ ক্লান্ত।

– বেঁচে থাকলে একদিন আমার হাতেও ভাগ্য রেখা দেখা যাবে, এটা ভেবে ভেবে মৃত্যু আর কত দীর্ঘ হবে?

– তুমি এখনো বেঁচে আছো এটাই আর কম ভাগ্য কিসের?

– বেঁচে নেই আমরা কেউ, মনে হচ্ছে তুইও। মৃত্যুটা দীর্ঘ হচ্ছে কেবল।

– আমি মরনব্যধির আক্রোশে চুপ মেরে জীবনের কাছে ধর্ষিত হচ্ছি রোজ

– তাহলে মরে গেছিস সেটা মানলি?

– শকুন যেদিন ছিঁড়ে খেলো নিতুর শরীর সেদিন তার আত্মহত্যায় আমিও খুন করেছি নিজেকে।

নিমেষেই স্ববিরোধী এক শঙ্খচিল উড়ে যেতে দেখলাম। ক্রমে কালো হয়ে যাচ্ছে গুমোট আকাশ। চারিদিকে কোন শব্দ নেই অথচ বাতাসে কি দারুণ ভয়ানক চিৎকার। পৃথিবীটা ক্রমেই অচেনা হয়ে উঠছে। ধর্ষিতার বুকের উপর দাঁড়িয়ে পৃথিবীর কাছে প্রশ্ন রাখতেই পারি যেনো – আমি কে? আমি এখানে কেন?

 

পাঁচ

নিচে নেমে আসছে জঙ্গম আকাশ। কোথায় যেনো শোনা যাচ্ছে বোবা কান্না। মৃত্যুর থিওরি ক্লাস থেকে ভেসে আসছে বিক্ষিপ্ত মধ্যবিত্ত কোন বাবার করুণ ভায়োলিন সুর। ক্ষুধার্ত চিৎকারে ম্লান হয়ে যাচ্ছে একটি ধর্ষিত শিশু। পৃথিবীর গাঢ় যন্ত্রণা উপভোগ করছি। আযানের ধ্বনি বেজে উঠতেই মনে হয় আমি বেঁচে আছি কেন? পৃথিবীতে আমার কাজটা কী? উপরে বসে এত এত বিষাদ বৃষ্টি না ঢেলে আমাকে তুলে নাও। মানুষ মরলে তারা হয়ে যায়। অন্ধকার কাল রেখা ম্লান হলে আমরা আদিম গুহায় প্রবেশ করবো।

একটা অশুভ স্বপ্ন আমি প্রায় দেখতাম। যখন ১০-১২ বছরের ছিলাম, হঠাৎ ঘুম ভেঙে কেঁদে চিৎকার করে উঠতাম। এতটা ভয়াবহ হিংস্রতা ঘুম ভাঙার পরো কিছুক্ষণ থেকে যেতো। আবার যদি ঘুম আসতো সকালে কিছুই মনে থাকতো না। আজ দেখি বীভৎস একটি কাজের ছেলে ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছে । সাথে আরো কেউ আছে। কিসের দায়বদ্ধতা আমাকে কুড়েকুড়ে খাচ্ছে। ভয় হচ্ছে খুব। একটা ভুতুড়ে ভোর, মনে হচ্ছিলো পালাচ্ছি। কোথায় যাচ্ছি আমি? কানে আসছিলো অশনিসংকেত… সব কিছু মনে পড়ছে না। ভুলে যাচ্ছি, ভুলে যাচ্ছি। কে আছো অন্ধকারের কাছাকাছি? একটু আওয়াজ দাও মিথ্যে মিথ্যে বেঁচে থাকায় তুমুল সাহসী হয়ে উঠি। চারিদিকে এত এত হাহাকার শুনে এই খানে আজো আমি দাঁড়িয়ে আছি। আসলে আমার শব দাঁড়িয়ে আছে। হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা : “পাপ না মুছা আমার স্বভাব- আমাকে মরতে দিনভ”

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close