Home ছোটগল্প তমাল রায় / বড় হওয়া > পাণ্ডুলিপি থেকে ছোটগল্প

তমাল রায় / বড় হওয়া > পাণ্ডুলিপি থেকে ছোটগল্প

প্রকাশঃ February 27, 2017

তমাল রায় / বড় হওয়া > পাণ্ডুলিপি থেকে ছোটগল্প
0
0

তমাল রায় / বড় হওয়া > পাণ্ডুলিপি থেকে ছোটগল্প

বাবলি আর সিনারি আঁকে না। আঁকতে বসলেই আঁকে মানুষের মুখ। কিন্তু মুখগুলো যে কেন কেবল খারাপ হয়ে যায় কে জানে।

বাবলি যা জানে তার মধ্যে অনেক কিছুই পড়ে। কিন্তু যা কাল রাতে জেনেছে তা ও কখনোই আগে শোনেনি। কাল রাতে খুব গরম। ঘাম হচ্ছিল খুব। মা নিজেই বলেছিল স্নান করতে। আর ও যথারীতি উদোম হয়েই স্নান করতে গেল পাশের ঘরে টপ আর হট প্যান্ট খুলে। যেই না বেরিয়েছে ও মার মুখোমুখি। আর মা বলল টাওয়েল জড়াও আগে। ও ভাবছিল মজা করছে মা। শোনেনি। মা কানটি ধরে গালে একটা চড়। আর ও ভ্যাঁ। মা তখন চিৎকার জোড়েনি। বরং হিস হিসিয়েই বলছিল -কতবার বলেছি বড় হয়েছ। বোঝো না? বুকগুলো দেখেছ? এভাবে কী  করে বড় হবে তুমি। মা খুব আপসেট। বাবলিও। কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল মা প্রায় ৩০ মিনিট। শেষে বাবা আসায় ও মুক্তি পেলো। ছাড়া পেয়ে ও বাবাকে বলল ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে, ও না’কি বড় হয়েছে। চেঞ্জ করবে, বেরিয়ে যাও। এবার ও আয়নায় দেখছিল শরীর নিজের। দশ এখন বাবলি। বেশী আর কই। চুল আঁচড়ে, পড়তে বসল। পড়ে আর কই।  থেকে থেকেই আয়নার সামনে। বাবা দেখেও না দেখার ভান করছিলো। আর মুচকি হাসছিলো। বাবলি তা বুঝে রাগ করলো খুব। বললো সে খাবে না আজ রাতে। মা চিকেন মানচুরিয়ন রেঁধেছে। এনে সামনে রাখলো। বাবা বসল, মাও। ও কিন্তু খাবে না। আজ কিছুতেই খাবে না। কিন্তু লোভ ও লাগে যে। কি করে আর..

পড়তে ওর যে কেন ভালো লাগে না, কে জানে। পড়তে বসলেই মাথায় কী কী যেন সব ঘোরে।  ভূতে ধরেছে বলে, কাজের দিদা। চেহারাটা দেখ, মুখে কালি, রোগা লিক লিকে।

আজ স্কুলে প্রেম বলেছে – তোকে চুমা খাবো অয়ন্তিকা। বাবলির ভালো নাম অয়ন্তিকা। বাবলির দাদা বলেছে -লিখে রাখবি সব, তো যে যা বলে। দাদা আরও ওস্তাদ। নিজের তো দাদা নয় পিসতুতো। কিন্তু মনে ধরেছিল কথাটা। ও লিখে রেখেছে রাফ কপিতে- Prem is a stupid. said toke chuma khabo.

ম্যাথস কপি নিতে ভুলে গেছিল, রাফ কপিতেই করে দেখাতে গেল অন্বেষা ম্যামকে। ম্যাম সোজা নিয়ে গেল প্রিন্সিপাল ম্যামের কাছে। ডাক পড়ল গার্ডিয়ানের। – বাড়িতে একটু ডিসিপ্লিন শেখান। বাচ্চা বড় কি এমনি হয়? মার কাজ ছিল। আসতে পারেনি। অগত্যা বাবাই গেছিল। ওর মা বলেছিল প্রেমের এগেইনস্টে কমপ্লেন করতে। সবাই ছোট। বাবা কমপ্লেন করেননি। শুনে চলে এসেছেন। বাবলির মুখ হাঁড়ি। কথা বন্ধ করেছে বাবার সাথে। বাবা কিছু বলেনি। কীই বা বলবে। বাবলি পোগো চ্যানেল দেখছে না। কার্টুন নেটওয়ার্ক ও। থমথমে বাড়ি। ভাগ্যিস পিসিমণি এলো। নইলে এমনটাই চলত।

বড় তো সবাই হয়, কিন্তু কী করে হয়? কলম্বাসের মত জাহাজ নিয়ে বেরুতে হয়? ও ঠিক বুঝে পায় না। সবাই বড় হয়,ওর বুঝি ইচ্ছে হতে নেই বড় হবার!

সবাই বেরিয়ে গেলে ঘর থেকে বাবলি, মার ব্রেসিয়ারটা নিয়ে পরেছিল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখছিলো কেমন লাগে। ধুস। হয়ই না। ঢল ঢল করে। খুলে ফেলে বাবাকেই এসে জিজ্ঞেস করল- বাবা মার মত হবে কবে? বাবা নিউজ চ্যানেল থেকে মুখ সরিয়ে কিছুক্ষণ সময় নিলো বুঝতে। পরে বলল- একটু তো লাগবে সময়, আগে বড় হও। মা যাচ্ছিল পাশ দিয়ে। কটমট করে তাকালো, কিন্তু হেসেও ফেললো। মাকে এই জন্য বাবলি জিজ্ঞেস করে না। কেমন যেন পিয়ালি ম্যামেরই মত। কেবল ক্যাঁট ক্যাঁট। বাবা তুলনায় ফ্রেন্ডলি। বাবাকে তবু জিজ্ঞেস করা যায়।  বাবলি আজ কৌশানির বাড়ি গেছিল। কৌশানির দিদু বলছিল – কোনো ছেলের গায়ে হাত দেবে না। আর তোমার গায়েও যেন কেউ হাত না দেয়। লক্ষ্য রাখবে। দিন কাল খারাপ। কত কী ঘটে। রাতের খাওয়া শেষ হলে, ও বাবা আর মার মাঝে শোয়। এটাই দস্তুর বেশ কিছুদিনের। মাঝে ও একাই শুত আলাদা বিছানায়। উল্টোদিকের কাকীমা গলায় দড়ি দিল। সে রাতে ও তিনবার চমকে চমকে উঠেছিল। তারপর থেকে গত এক বছর ও এভাবেই শোয়। মুশকিল হল ও তো পাশবালিশ সরে গেলে ঘুমের মধ্যে ও বাবার গায়েই পা তুলে দেয়। আজ কেমন অস্বস্তি লাগছে। যদি বাবার গায়ে পা তুলে দেয়, কৌশানির দিদু যে বললো। বাবাও তো পুরুষ, তাই না। আজ আর ঘুম আসছে না। ও চোখ বন্ধ করে ঘাপটি মেরেই শুয়েছিল। বাবা মা ঘুমালে, ও উঠে এসে বসল জানলার এক্সটেন্ডেড বক্সটায়। চারদিকে তেমন কোনো শব্দ নেই, সবাই বোধ হয় ঘুমিয়ে গেছে। একটা সিকিউরিটি লাইটপোস্টে ঢং ঢং করে লাঠির বাড়ি মারছে, মানে চোর আমি আছি, তুমি এসো না প্লিজ। একটা কুকুর একা কী যেন খুঁজছে। হলুদ আলোয় কুকুরটাকে দেখে খুব মায়া হল বাবলির। ও ডাইনিং টেবল থেকে বিস্কিটের কৌটো এনে ছুঁড়ে দিচ্ছিল নীচে,কুকুরটার খেয়াল পড়তেই দৌড়ে এসেছে। খেয়াল করেনি। এভাবে কতক্ষণ, খেয়াল নেই। হঠাৎ দেখে কাঁধে হাত। চমকে উঠেছিল। বাবা। হাত ধরে বলল – বাবলি চল শুতে হবে। ও এসে শুলো। বাবা ওর মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছিল। আর বাবলি কী আড়ষ্ট।

টিভি দেখতে ভালো লাগে না আর। কেমন একঘেঁয়ে। ও ফেসবুকে একাউন্ট খুলতে গেছিল। মা বকেছে খুব। খবরদার। অথচ মা বাবা দুজনেই মোবাইল নিয়ে ঘাঁটছে সারাক্ষণ। আর তা নিয়ে দুজনে রাত হলে ঝগড়াও করে কত।

স্কুলে মোবাইল নিয়ে এসেছিলো আজ তৃণা। দেখাচ্ছিল অহন ওকে টেক্সট করেছে, আই লাভ ইউ তৃণা। তৃণার মুখে চোখে খুব হাসি। তৃণার বাবা মা দুজনেই চাকরি করেন। তৃণা একা ফ্ল্যাটে থাকে। আপদ বিপদ যদি কিছু হয়, তাই ফোনটা তৃণার কাছেই থাকে। কিন্তু স্কুলে ফোন আনা নিষিদ্ধ। ও এনেছে লুকিয়ে। জানতে পারলেই স্কুল টিসি দিয়ে দেবে। কিন্তু বাবলি ভাবছিল আই লাভ ইউ তো সিরিয়াল খুললেই। ও বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল, বাবা ওরা কি সত্যি ভালোবাসে? বাবা বলেছে – আরে ওরা পয়সা পায় অভিনয় করে, ওদের যা বলতে বলে বলে। এতো অভিনয়। তাহলে অহনেরটাও কি অভিনয়? মাথা ভর্তি প্রশ্ন গজ গজ করে। ঘুমই হয় না রাতে, খেতেও ইচ্ছে করে কই। ভাল্লাগে না কিছুই। কদিন হল ভাল্লাগে নার জগতে ও ক্রমশ ঢুকে পড়ছে। কিসে যে ভালো লাগবে কে জানে।

ঝিন্টির একটা ডগি আছে ল্যাব্রাডর, আয়ুষের পাখি, আরে বাবা একা একা থাকা যায়? ও মাকে কত বলে, মা একটা বোন এনে দাও মানুষ করব। কিছুই দেবে না। ওই বা কেমন করে থাকে!

খরগোশ পুষেছে ও গোটা কয়। খরগোশগুলো খুব মিষ্টি। খাঁচা থেকে বার করে আনে রোজ, আদর করে অনেক। কিন্তু এক সাথে বার করলেই ঝামেলা। ঝাঁপিয়ে পড়ে ওরা। আর কী মারামারি। ও সামলাতেই পারে না। দুজনকে ধরেই মারতে যায়। দেখে ফেলেছিলো সকালে যে কাকুটা কাগজ দেয়, সেই কাকুটা। কী বকলো। বাবলি তুমি না বড় হচ্ছ। বাবলি হাঁ করে চেয়ে, জানো না ওরা এখন আদর করছে। এখন এভাবে মারে। ব্যস। বাবলির মাথা গেল ধরে। ও রাগ করে বাবাকে এসে বলেছিল, বাবা বড় হলে কত কী জানতে হয়? বাবাও হাসলো। বললো -অল্প অল্প। বেশী জানলেই মাথা খারাপ। ওমা কদিন পর খরগোশটা পাঁচ, পাঁচটা বাচ্চা দিলো। তিনটে মরল। দুটো বাঁচল। খুব যতœ করেছিল বাবলি। মা স্কুল ছুটির পর এসেই দাঁত খেঁচালো। আমি পারবো না। তুমি এবার বোঝো বাবলি। আমার অত সময় নেই। বাবলি মাকে কিছু করতেও বলেনি। এমনকি মরা বাচ্চাগুলোও নিয়ে গিয়ে পাশের ভ্যাটে নিজেই ফেলে এসেছিল, খুব কষ্ট হচ্ছিল তাও। কেবল বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল – বাবা, মারামারিটাও আদর? বাবা কিছু উত্তর করেনি। বাবলির মন খারাপ হয়েছে খুব। বাবা তো ফ্রেন্ড ওকে বুঝিয়ে বলতে পারতো। ও কি এতই বোকা!

একা থাকার অভ্যাসটা ভালো। সবাই তাই থাকে। ও যে কেন পারে না। মা তো ড্যাম বিজি। বাবা তবু কিছু কথা শোনে। কিন্তু ওর যদি কেউ থাকতো, যাকে শেয়ার করবে। কেউ নেই। কেন?

মাসের ওই কটা দিন বিশেষ করে খুব লজ্জ্বা লাগতো, হুইসপার আল্ট্রাকেয়ার। বলতে বলতেই মা সরিয়ে দিতো চ্যানেল। ও জিজ্ঞেস করেছে বহুবার। মা বলেছে -বড় হও জানবে। কেন যে এত চুপ চুপ, ফিস ফাস, ওর মাথাতেই ঢোকে না। আজ স্কুলে কৌশানির ব্যাগে দেখে অমন একটা প্যাকেট, দেখেই বাবলি জিজ্ঞেস করেছিল, কিরে এটা? কৌশানি কেবল বলল, উফফ তুই না কিচ্ছু জানিস না। ভূত একটা। সেই থেকে ওর মন খুব খারাপ। কৌশানিও বড় হয়ে গেল, আর ও ছোটোই। বাড়ি ফিরে ইস্তক ও আজ খায়নি। অনেকক্ষণ স্নান করেছে। আর নিজের স্টাডি রুমের দরজা বন্ধ করে একলা হয়ে গেছে। আয়নার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মুখ ভেংচেছে। ভূত একটা। ভূত তুই বাবলি। বলে কিছুক্ষণ হেসে গায়ে চাপা দিয়ে শুয়ে গেছে। কতক্ষণ শুয়ে ছিল খেয়াল নেই। ঘুম ভাঙ্গলো মার ডাকে। দরজা খোলো বাবলি। আর ওর মনে পড়ল স্কুলের ব্যাগটা বাইরে রাখা। আর তাতে আছে প্রেমের দেওয়া কাগজটা। -লাভ ইউ বাবলি। ইস মা যদি দেখে ফেলে খবর আছে। ও দরজা খুলেই দৌড়লো ব্যাগ আনতে। না ঠিক আছে। ওটা নিয়ে এসে একবার গন্ধ শুঁকলো। ইস কেমন একটা গন্ধ। বমি এলো। গলায় আঙুল দিয়ে বমি করলো। অনেক। কিন্তু পেটে তো কিছুই নেই। শুধু টক জল। এসে শুলো বিছানায়। আজ থেকে একা শোবে ও। সারা রাত ও কাল ভূতের স্বপ্ন দেখেছে। ভূতগুলো দাঁত নখ বার করে ওকে যেন গিলতে আসছে।

আজ রেজাল্ট বেরিয়েছে। ফার্স্ট ইউনিটের। জিওগ্রাফি, ম্যাথস, হিস্ট্রি, ফিজিক্স-ওয়ার্ক হার্ড। মাকে রেজাল্ট দেখালে বার করে দেবে বাড়ি থেকে। কতক্ষণ যে বসে খেয়াল নেই। দারোয়ান কাকু বললো – এই তুমাদের পুল কার তো কখন চলে গেছে। তুমি বসে? ও বাইরে এলো স্কুলের। মাথা কাজ করছে না। একটা গাড়ি থেকে মুখ বার করে চেনা একটা ড্রাইভার আঙ্কল বললো চলো তোমায় পৌঁছে দিই, গঙ্গার ধারেতো তোমাদের ফ্ল্যাট। ও মাথা নাড়লো। আর কিছুই খেয়াল নেই।

বাবা বসে, মাও। কৌশানির বাবা মা এসেছে দুজনেই। ও কিছুই জানে না। মা কেবল কাঁদছে আর বলে চলেছে – আমার মেয়েটা আর বড় হবে না। ও কেমন ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইল অনেকক্ষণ। তারপর পাশ ফিরে শুলো। ঘোরার আগে কেবল বললো, আমায় একটু একা থাকতে দেবে? চোখ দিয়ে কেবল জল গড়িয়ে নামছে। বাবলি বড় হচ্ছে।

 

অভিষেক

তারপর তিনি বললেন ঐ উজ্জ্বল অথচ অনাড়ম্বর প্রস্তরখণ্ডে গব্য ঘৃত মাখাতে। কল্যাণীর চক্ষু মুদ্রিত। সে তার সমস্ত ভক্তি উজাড় করে ঘৃত মাখাতে শুরু করল দক্ষিণ হস্ত দিয়ে। তার বন্ধ চোখের ওপারে তখন সবুজ বনানী,কল্যাণী দৌড়চ্ছে ক্ষিপ্র হরিণীর ন্যায়। হৃৎকম্প দ্রুত। দূরে কোথাও একটা ডোডো পাখি ডাকছে। পাখিটাকে খুঁজে বার করতেই হবে। দৌড় আর দৌড়, কার যেন হাত ধরেছিল সে, সে কোথায় এখন?

তিনি বললেন আলোক বিচ্ছুরিত ঐ প্রস্তরখণ্ড কে মধু সহযোগে আবৃত করতে। বাম হস্ত দ্বারা দক্ষিণ হস্তকে স্পর্শ করে নিষ্ঠাভরে মধু দ্বারা মার্জনা করতে লাগলো।তার মুদ্রিত চক্ষু বেয়ে নেমে আসছে অশ্রু। বন্ধ চোখের ওপারে তখন বৃষ্টি পড়ছে অঝোর। জলে জল মিশলে কখনো অগ্নুৎপাত হয়!  সে জলজ জীবনে বড় আবিল আর্দ্রতা।আর আগুন একই সাথে। জল বাড়ছিল।বাড়তে বাড়তে গলা অবধি।সে জলে নৌকো ভাসলো। তর তর করে বয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ প্রবল তুফান।পাল ছিঁড়লো,কান্ডারি কই? পালিয়েছে? তবু যাত্রা। হোক এলোমেলো, তবু সে উদভ্রান্ত যাপনের বর্ণ ছিল গাঢ় লাল।

তিনি বললেন এবার পুস্প দ্বারা আবৃত কর।কল্যাণী সহস্র বর্ণময় পুস্পে আবৃত করলো প্রস্তর খন্ড।মুদ্রিত চক্ষুর ওপারে তখন কত ফুলেল প্রান্তর।মালিকা গাঁথার বিষয়ে কল্যাণীর ছিল প্রভূত আগ্রহ।তীব্রতা ছিল তবু তার বংশানুক্রমিক ঐতিহ্য তাকে শিখিয়েছিল সংযম।পুস্পবনে কি করে যেন প্রবেশ করেছিল দুষ্ট-দংশক কীট।যদিচ এ রঙ্গমঞ্চে কীট ও ছিল ক্রীড়ার অংশ বিশেষ। দংশন কখনো ঋদ্ধতাও দেয়,তবু তা বড় পীড়াদায়ক।কল্যাণী বিভ্রান্ত হয়নি। স্থির,ও নিস্তরঙ্গতায় প্রবেশ করছিলো ধীরে ধীরে।নির্জন এ দংশিত ফুলেল যাপনের বর্ণ ছিল বিষবৎ নীল অথচ প্রিয়।

তিনি বললেন – এবার দুগ্ধ,ধারাস্নানে যেন ছেদহীন হয়।চক্ষু উন্মীলন করলেন কল্যাণী।এ প্রকৌশলে চক্ষু উন্মোচনই দস্তুর।তার অন্তর্চক্ষু ছিল অস্থির সকালের ন্যায়।ন্যাশপাতি বর্ণের সকাল।সে সকালে ছিল গোল্লাছুট,লাফান দড়ি,কুমির ডাঙা,লুকোচুরি।সেখানে পর্বত ছিল,ছিল আরোহণ,প্রতিটি আরোহণ ছিল আর্তিময়,বেদনাবিধুর।ছিল খাদ,যা ভয়াল,অথচ প্রিয়।পর্বত যা কিনা পতনকেও তো নির্দিষ্ট করেই।পিচ্ছিল অথবা রুক্ষ এ অভীষ্ট ইচ্ছার সকাল ছিল পুরু হলুদ।

এবার মুক্তি। মোহ হতে। মাধুর্য  হতে।শর্করা দিয়ে মার্জনা করুন। কল্যাণী ঘৃত, মধু, দধি মুক্ত করতে দুগ্ধ সহযোগে স্নান শেষে শর্করা দ্বারা মার্জনা করতে শুরু করলেন। মোহ মুক্ত হও,কলুষতা মুক্ত হও। চক্ষু আবার মুদ্রিত। দুপুরের রোদ, সকালের অস্থিরতা, বিকেলের অবাঞ্চিত তরণী বহমানতা এখন সন্ধ্যের স্নিগ্ধতায় প্রবেশিত। এখন রাত। অথচ এ নিস্কম্প স্নিগ্ধ যাপন শুধু শ্বেত বর্ণময়। যা কিছু বাহ্যিক অথচ আবরণ এ সময় উন্মোচনের।লজ্জ্বাহীন হও।বাম,দক্ষিণ,অগ্র বা পশ্চাৎ এর দিকে দৃকপাত নিবৃত কর।এ এক আদিম,পবিত্র অন্তর উদ্ভাসনের কাল।পক্ককেশ পিতা,দন্তহীন মাতা,অজাত সন্তান রইল এ দৃশ্যের গোপন সাক্ষী। না সেই সব উদভ্রান্তকারী,চটুল ক্রীড়ামোদী ফেলে আসা সাথীদের এ দৃশ্যে আগমন নিষিদ্ধ।

কল্যাণীর কর্ণে এখন অপ্রবেশিত পাখির কুজন,নদীর বহমানতা অপ্রবেশিত,পর্বতের উত্থান অথবা পতন এ দৃশ্যে আসীন নয়।

  • কল্যাণী?

স্থির নয়নে কল্যাণী তাকালেন।তাঁর নির্দেশে সে ঐ প্রস্তর খন্ডে স্থাপন করলো বিল্বপত্র।

কল্যাণী সান্যাল।বয়স ৩৮। এবর্টেড, মিউচুউয়ালি সেপারেটেড এক প্রস্তরখণ্ডকে অভিষিক্ত করলেন। অভিষেক হল রুদ্র, প্রবল এবং পুরুষের – এই ধর্ষণ মুখর, তিমিরময় মৃত্যু উপত্যকায়।

 

 

লেখক পরিচিতি

তমাল রায়। জন্ম ১৯৭০-এর নকশাল আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত বরানগরে। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে ও বাংলা সাহিত্যে স্নাতক। ছোটগল্প লেখার শুরু কুড়ি বছর বয়সেই। ছক ভাঙা গল্প লেখার দিকেই ছিলো মূল ঝোঁক। গল্প ও গদ্য উভয় ধারাতেই সাবলীল। ১৯৯০ থকে ঐহিক পত্রিকার সম্পাদক। প্রকাশিত ছোটগল্পের বই দুটি। নিঝুমপুরের না-রূপকথা ও তিতিরের নৌকোযাত্রা। ২০১৫তে একাডেমি পুরস্কারে সম্মানীত, সম্পাদনার জন্য।

প্রাসঙ্গিক তথ্য

হ্যালুসিনেটেড অক্ষরমালা

প্রকাশক : চৈতন্য

মূল্য : ২২০ টাকা

পাওয়া যাচ্ছে চৈতন্যের বইমেলায় চৈতন্যের ৬৩৪-৩৫ নম্বর স্টলে

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close