Home কবিতা তাসনুভা অরিন / কবিতাগুচ্ছ ও কবিতাভাবনা > পাঠ-প্রতিক্রিয়া / মাসুদুজ্জামান

তাসনুভা অরিন / কবিতাগুচ্ছ ও কবিতাভাবনা > পাঠ-প্রতিক্রিয়া / মাসুদুজ্জামান

প্রকাশঃ March 6, 2017

তাসনুভা অরিন / কবিতাগুচ্ছ ও কবিতাভাবনা > পাঠ-প্রতিক্রিয়া / মাসুদুজ্জামান
0
1

তাসনুভা অরিনের কবিতাগুচ্ছ ও কবিতাভাবনা > পাঠ-প্রতিক্রিয়া / মাসুদুজ্জামান

 

জিভের নিচে লুকাও তক্ষক
চেষ্টা আছে
বিরোধী স্রোতে সাঁতার কাটার

অযথাই কো ইন্সিডেন্স খুঁজে খুঁজে বলা ”অন্তত উকুনের কথা ভেবে

আমরা চুল না কাটতে পারি, জীবহত্যা মহাপাপ”

বরঞ্চ
চোখের উপর চোখের পায়রা সরিয়ে
রুম টেম্পারেচারের কাছাকাছি নিয়ে আসি ঠোঁট
তোমার তাপমাত্রা জ্বর পর্যায়ের কিনা , জানার দরকার নাই
তুমি একটা সমুদ্র না হাঁড়িতে শীতের রস , জানার দরকার নাই

আমাদের প্রেম হবে হাসপাতালে, মর্গে অথবা সাততলার ফার্নিচারের দোকানে
আমরা দুঃখ করতে করতে প্রেম করবো
এগিয়ে দেব হাত, পিছিয়ে নেব পা

এটা একটা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের প্রতিযোগিতা, কে কতক্ষণ জিভের নিচে লুকিয়ে রাখে চুইঙ্গাম।

 

উর্বশীর বেহালা

দুঃখই বয়স, মৃত্যু আর বিকৃতি
আমি দুঃখকে ঘৃণা করি
তার চেয়ে ঘৃণা করি
দুঃখকে রঙিন করার চেষ্টা

এই চেষ্টায় বরাবরের মত এবারও সফল
নিজের ছায়াকে যীশুর মত দেয়ালে পেরেক লাগিয়ে প্লাস্টিক পেইন্ট করছি
আমি মাটিতে বাস করিনা
করলে বিড়াল ছেড়ে গুইসাপ পুষতাম
ফোঁস ফোঁস করতে করতে আমার সাথেই থাকত

ছায়াকেও ঘৃণা করি
স্যাঁতস্যাঁতে, শীত বাড়িয়ে দেয়
উর্বশী তুই এবার বেহালা ধর

 

লুসিফারের সবুজ চোখ

 

সাপ তোমার চোখ এত তরল আর সবুজ কেন ?
পাখির দিকে তাকালে আমি করুন হয়ে যাই
তুমি কি পাখি পান করা এক ক্লান্ত দৈর্ঘ্য?
আমি ক্লান্ত হই
মেরুদণ্ড খাঁড়া জিভ দেখলেই।

প্রকাণ্ড অন্ধকার নিয়ে উড়ে যেতে যেতে
তোমার চোখে ব্রহ্মাণ্ড জন্মের ইতিহাস জেনে বিষাক্ত হই
লুসিফার, তোমার চোখ সবুজ আর তরল
দেহ নরম আঁকাবাঁকা
ঈশ্বরের ভুলভাল ড্রয়িং
তার স্কেচবুকে উড়তে উড়তে খোঁড়া হয়ে যায় যাদের পা
তারা শিল্পী

সাপ, আমি পান করি তোমার চোখ আর সবুজ

 

চলো আকাশ দেখি কচ্ছপের মতন

 

আজ একটা অন্ধ গল্প চশমা খুলে আকাশ দেখার জন্ম বলল
সময়ের বয়স গুনতে গুনতে সংখ্যার মৃত্যু হয়
কিন্তু মানুষ মরেনা
সে একটি মহাবিষের বয়স পেরুনো কচ্ছপ
এখানে মৃত্যু অসম্ভব

তোমার খাপখোলা যৌনরস ছিল নিমপাতার মত তিতা
তার বাকল থেকে খসে পড়া খুশখুশে সন্ধাতারা
‘ আমি’ ‘আমি ‘ ‘আমি’ জড়িত জৌলুস

জানতেই যখন অন্ধ গল্পের কোন গলিপথ থাকেনা
শাদা দেহের কচ্ছপ পেড়িয়ে যায় ত্রিকালদর্শী বেলপাতার সমস্ত সঞ্চয়
মৃত্যুদের কন্থস্থ করে ছড়িয়ে দাও ঔরসে

ব্যেবিলনের বেলুন তখনো উড়ছিল তক্ষকের উল্কি এঁকে
সংখ্যা নিয়ে জন্মায়নি কোন আকাশ
তার কোন দিগন্ত বিলাপ নেই

জন্ম মানে পরাবাস্তব খাঁচায় জন্মান্ধ ধ্যানী পাপিয়ার মৃত্যু
জীবন জন্মান্ধের চশমা পরার মত অভিনয়
আকাশ আকাশ খেলা পাখির সার্কাস

চলো , আকাশ দেখি কচ্ছপের মত

 

মানুষের নিউমারলজি নাম্বার শূন্য

 

বিজ্ঞান বলে মগজের কোষ আর বৃদ্ধি পায়না কিন্তু খুলিটা বড় হয়
মগজ আর খুলির অনুপাত ধরি ২-৬ অথবা ২-১০
বাড়তি খুলির জন্য বাড়তি পৃথিবীর দরকার ছিল বলে আমি খুন করতে গেলাম ২ জন মানুষকে
তারা আমাকে ১ জন মানুষকে খুন করতে বলল।
যাকে খুন করতে গেলাম সে আমি
নিজেকে খুন করার পর জানতে পারলাম মানুষের নিউমারলজি নাম্বার ০
আমার জন্ম কবে হয়েছিল?
অথবা জন্ম যখন হয়েছিল পৃথিবী জন্মেছিল কী?

 

তিমির দুঃখ তেলসুর

 

দুঃখ নিজেই একটা নরম ইরেজার। নিউরনের প্যাচগুলো কী সুন্দর মুছে ফেলে !
‘কিপ ট্রাস্ট অন মি, আই উইল নট বি উইথ ইউ’

আমাদের গ্রে ম্যাটার সিক্স বি পেন্সিলে আঁকা পথের মোচড়
আমাদের পা ভাঙার গল্প
একটা ডালে দুইটা পাখির লেজ কিভাবে নীল হতে থাকে, সেসব
দুঃখ মোছার দুঃখ কই ?
আমরা কখনো কি জেল পেনে শরীর একেছিলাম
সব গ্রে ম্যাটার
নিউরনের প্যাঁচ লাল ওয়াইনের মত ছিল
না না ওতে কোন রঙ ছিলনা।

 

নৌকা বিকল্প সাঁতার 

 

পানি আর দেহের উষ্ণতা কাছাকাছি না হলে অবগাহন সম্ভব কী ?
সাঁতার সম্ভব।

সাঁতার ওপারের আয়োজনে প্রচণ্ড প্রয়োজন ।
সাঁতারে উষ্ণতার আদান প্রদান নয় , শারীরিক সঞ্চালন হতে হতে এগিয়ে যেতে হয়।

মানুষ পোশাক পরতে শেখার পর নৌকা হয়ে সাঁতার কাটে
অথবা কারোরই ব্যক্তিগত ডলফিন না থাকায় নৌকা বিকল্প সাঁতার
এমনকি তিমির পেটে মানুষ জন্মায়নি জন্য সে ঢুকে গেল সাবমেরিনের গর্ভে

সে কবে দুই পায়ে হাটলো ।
জগতের সকল পশুই তার পা
সকল শরীর সাঁতারুর পোশাক
অবগাহন !
এলিয়েনিক ব্যাপার

Top of Form

Bottom of Form

কোথাও কোথাও মৃত্যুর গল্প হয়

ভূত প্রেতের আসরে দু একটি অভিমানী মুখ আত্মহত্যার কথা বললে
অনেকদিন বেঁচে থাকতে থাকতে মৃত্যুর কথা মনে হয়
শুনতে ভালই লাগে

মৃত্যু প্রবণ মানুষ সাধারনত জৈবিক
তবে জৈবিক মানুষ মৃত্যুপ্রবণ না
লবণাক্ত

শাদা আর নোনতা স্বাদের মানুষের আসরে
শুনতে ভাল সব মৃত্যুর কথা হচ্ছে

Top of Form

Bottom of Form

মিউজিয়াম থেকে খুলে আনো তিমির হাড়

 

কয়েক ডজন নৌকার বিচ্ছিন্নতাসহ একটা সামুদ্রিক গল্প ঔরসে জন্মের খোলস ছিঁড়তে পারেনা।
তুমি পতিত পরাগ, হলুদ দ্রবণ
বয়সের বিষাদ নিয়ে বসে দেখ অন্ধকারের লবন নাক্ষত্রিক কান্নায়

সকালের কাছে বিকালের দরজা খোলা যায়না জেনেও
মিউজিয়াম থেকে খুলে আনো তিমির হাড়
পান্থপাদপের পাশে দাঁড়িয়ে গুন পৃথিবীর বয়স
তোমার বয়স কত?

জন্মান্ধের গর্ভে আটকে থাকা আজন্ম মানুষ
খ্রিস্টাব্দ অথবা খ্রিস্টপূর্ব
পৃথিবী অক্ষত যোনির বিষাদ যাপন রক্তের ধারা
তার কোন প্রেম অথবা প্রেমিক ছিল না
কালপুরুষের গর্ব নিয়ে বেঁচে আছে মুখর অন্ধকার

আমারা শূন্য সময়ের স্থিরচিত্রের  নেগেটিভ মাত্র

 

ব্লাড গ্রুপ

আমার কোন অক্ষর নাই
একটা ঝর্না আছে
যারা দূরে গেছে বলতে পারিনি
এখানে নিষ্ঠুরতার পূজা হয়
আমি উপাসনা করি রক্তের
তোমার ব্লাড গ্রুপ কি
এবি নেগেটিভ?
আমার একটা মুমূর্ষু পৃথিবী আছে

 

চাবিওয়ালা

মানুষের মুখ স্পঞ্জ অথবা শিমুল তুলার জাজিমের মত হতে পারত

দরজা খুলে চোখ বন্ধ রাখা যায়না, এটা সংবিধান
মানুষের মুখের মত

তার চোখে তালা, ঠোঁটে তালা, কানে তালা, হাতে তালা
একটা মানুষকে দেখতে দেখতে তাকে খোলার চাবি খুঁজতে খুঁজতে নিজের শরীরেও অসংখ্য তালা গজিয়ে যায়

তাদের দেখে আমি অথবা আমাকে দেখে তাদের আর আরাম লাগেনা
আমরা হাঁসফাঁস করি, হৃদরোগীর মত
উচু উচু হাঁসপাতালের ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে চাবিওয়ালা খুঁজি
চাবিওয়ালা, তোমার মুখ কি মানুষের মত?

স্পঞ্জ অথবা শিমুল তুলার জাজিমের মত মুখ হতে পারত, কেউ কেউ।

 

নীল ডানার জাদুকর

ভালো লাগে

সখের ডানার নিচে কবুতর কিরাত
আফসোস থেকে থেকে উজ্জ্বল ষাঁড়ের ক্ষিপ্রতা, শিঙ অথবা শৃঙ্গার

হাতের ব্যায়াম থেকে নড়েচড়ে উড়ে যাওয়া মেদ জমে জমে সাইবেরিয়ার শ্বাসনালী

শীতে মেদের দাম বেড়ে যায় পশুর হাটে
ছায়া গুটিয়ে নেয়া এই শীতে , গাছের কৌশল
যেমন জাদু , জাদুকরের হাতের ব্যায়াম

চোখের মঞ্চে ফুল, পাখি, কবিতা আর কবুতার
মঞ্চের পেছনে নীল জাদুকর
তার সখের ডানার নিচে কবুতর কিরাত

 

না হলে আমি অনিষিক্ত হতাম

আমার কোন প্রেম, প্রেমিক, জ্যোৎস্না নেই ঈশ্বর
জিবনাঙ্কে পৌঁছে বলছি “আমি পুষি না, কাউকে”

দুঃখ নাকি কবিতার আত্মা
কবিতারা তাহলে আত্মহত্যা করে মুক্তি দিক কবিকে
কবিরা মুক্ত হলে মানুষ বাঁচে প্রেম, ঘাম আর কামে

মানুষ সঙ্গীত ভালোবাসে না
ভালোবাসার ভান করে
মানুষ ভান করতে করতে মানুষ, দেবতা, অসুর, বিমান, জঙ্গল, নদী, রসায়ন সব হয়

জীবন এক বেহুদা পোশাক
পাল্টাতে পাল্টাতে প্রেমিক, জ্যোৎস্না, ঈশ্বর হয়
মূলত জীবনাঙ্কের জ্বরে পৌঁছে সে শীতল হাত হাতড়ায়
ত্বরিত অনুভবে ভাবে কোথাও তিন তারের সুর ছিল
হয়ত সঙ্গীতও

সে যা শুনেছে অন্য কারও বিলাপ
অন্য কারও দুঃখে, দুঃখের ভান করতে করতে সে খুব দুঃখী হয়ে গেল
সবাই বলতে পারেনা “আমি পুষি না কাউকে”
কেউ না কেউ তো আমাকে পুষেই

না হলে আমি অ নিষিক্তই হতাম

 

উর্বশীর ভায়োলিন

 

ঠোঁটে আমিষ লাগিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখ শরবতের গ্লাস
জল আর চিনির যোগ বিয়োগ সংবাদ
আন্ডারলাইন করা আছে যেসব হেডলাইন
ড্রামাটিক মোড় নিতে পারে যেকোনো সময়

 

মোহনায় ডুবে গেছে একশ দুইটা জাহাজ
মিলনে তেতো হয় আমিষের সংসার
শৃঙ্গার শেষে ফিরে আসো
চুমুক দাও গাড় ভায়োলিন সন্ধ্যায়

 

চিনির অভাব নাকি নাশপাতির জিভে
তোমার ঠোঁট মিষ্টি না তেঁতো
জানতে চায়নি জরগ্রস্ত জিভ

বাঘের চোখ লেহন করে করেও ক্লান্ত বনের কিছু জিভ
এ সভায় আমন্ত্রিত আজ

 

তাদের যোগ বিয়োগ সংবাদ ঘুরে ঘুরে দেখ শরবতের গ্লাস

 

মৃত্যুমঞ্চ ভাঙার আগে  

 

একজন মানুষ মৃত্যুর আগে খুব শান্ত থাকে।

টলমল নদী খেয়াকে বলে পার হও, এতটুকু গোল করবোনা।
জানবেনা পরিচিত চড়ুই যাকে আমি জানিনা

কিন্তু এখানে, মৃত্যুর আগেই মৃত্যুমঞ্চ ভেঙে গেল
আর কারও মৃত্যু হবেনা
আমরা একসাথে বৃদ্ধ হব
কোন বারুদ থাকবেনা।
ঘাসের রং সাদা হবে

কোন স্মৃতি থেকে আমি জন্মেছিলাম তারা (বাবা মা) মনে রাখেনি
আমার মনে আছে মাতৃগর্ভে মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে আমি জন্মেছিলাম
কারো জন্মই ঈশ্বরের নয়, বাবা মা’র ভুলে

আমি তাই ভেঙে দিলাম মৃত্যুমঞ্চ

 

বিভূতি পারদে দর্পন আঁকি

 

প্রতিস্বর আমিকে ভেঙে যে দর্পণ নিজেকে দেখে বিভূতি পারদে
তার কয়েকটি ছায়া মূলত একটি ছায়ার কাঁপন

শব্দ হিসাবে ‘এক’ একক ও বহুমাত্রিক
ঈশ্বর ঈশ্বর গন্ধে কিছুটা অর্বাচীন

আমি ‘এক’-কে বহু অথবা বহুতে ‘এক’ ভেবে এঁকেছি অর্থহীন প্রহসন

কাঁচ আর আয়নার প্রভেদ ছিল পারদে
ছায়া আর উপছায়ায় প্রভেদ যেমন আমিতে

অথচ, নিজের বাঁকা ঠোঁট বলছিল আয়না ভেঙে দাও
বাঁকা আয়নার ঈশ্বর আঁকাবাঁকা লাগে।

 

নির্জন

 

কোলাহল ফিরত শব্দকে কি দিয়ে শান্তি দেব
প্রাচীন হিমাগারে হু হু ঢুকে যাচ্ছে যারা দূরপাল্লার যাত্রা শেষে
ওখানে মৃত্যু আছে
একা সমুদ্র হিমাগারে জমে যায়
চিতল মাছের যৌবন, গর্ভবতী ইলিশ লাল রঙের কানকোসহ

তুমি চুপ করে বসো, ভরপেট পোকা
তোমার রঙ দেখি
মনির রঙ দেখি

আর, তুমি তো আমার মতো
কোলাহল ফিরত বহুল উচ্চারিত শব্দ ‘নির্জন’

দুপুরের অনেক আগেই পাখিতে খাওয়া সকাল পেকে সন্ধ্যা হয়ে যায়

রাত দিন বাড়ে কমে
এসব তো সৌরকথা

তাছাড়াও আমার কোন দুপুর ছিলনা
হারিয়ে গিয়েছিল শব্দে, চিৎকারে, তর্কে

 

সিসিফাসের অন্ধ চোখ 

 

আমার ইউনিফর্ম পছন্দ না
এক কালারের ড্রে, জুতা, মোজা, চুলবাঁধা

সবার হাতে হাতে ‘আমার বই’ টাইপ সরকারি পড়াশুনা
ভালো লাগেনা
স্কুল আর স্কুল ফেরত ক্রিকেট ক্রিকেট করা মানুষের হাততালি
অথবা বিনোদন সংবাদে, নায়ক নায়িকার পেটের ব্যথা

বেশিক্ষণ ঢেউ দেখলে, মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়
সেক্স পজিশন পাল্টে পাল্টে একই ধরনের যৌনসুখ অথবা মদের আসরে মানুষের কৃত্রিম মাতলামি

শিশু দেখলে হুড়মুড় করে আদর করা আর সাপ দেখলে শিউরে শিউরে ওঠা

আমি দেখেছি, মানুষ মাথা ঝুলিয়ে হাটে বলে পৃথিবীকে কাঁঠালের মতো দেখতে লাগে
মূলত বুদ্ধি থাকে পায়ের পাতায়

মানুষ সাদা সেলাইবিহীন ইউনিফর্ম পরে কবরে নামে
আমার কাফনের রঙ নিশ্চয়ই সাদা হবেনা।
খুব রঙিন হবে

বলে যাচ্ছি

এইযে আমার সবকিছু ভালো লাগেনা, এটা ভালো
পৃথিবীর এক চোখ সবসময় অন্ধ

 

এত ফুল কেবল কফিনে শোভা পায়

আমাকে ফুল না দিয়ে
হেমলক আর হ্যাঁমেলিনের বাঁশি দিও
তোমার শহরে কবুতর থাকবেনা
অথবা ঘড়ীর কোন ঘণ্টা

আমরা পান করবো
গাড়ির ইঞ্জিনের সবটুকু পথ
এপিটাফের সবগুলা পদবী
এইত ছিল পৃথিবী

এক পৃথিবী ফুল, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোরস্থান

 

কবিতাভাবনা 

 

মুহূর্তে মুহূর্তে যা রূপ পাল্টায় তার রূপ ধারণ ছদ্মবেশীর সহজ সাধনা না। যেন  আয়োজন করা প্ল্যানচেটের অভিমুখী কবি ও কবিতা। এখানে তাদের মুখস্থ জন্ম-মৃত্যুর আরাধনা আছে, মৃত্যুদূতের সাথে প্রেমের আলাপন আছে। কবিতা  সচেতন মন থেকে জন্মানো গোধূলির সংবাদ না, আরও একটু ভিতরে যেখানে যাযাবর তার পথ গুটিয়ে বলতে পারে, “আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।”

কবিতা নির্জ্ঞান মনে জমতে থাকা নৈবেদ্য যা নিজের ভিতর আমি সত্তাকে ভাষায় প্রকাশ করে অথবা ভাঙতে ভাঙতে নিজেকে সেইরূপে পাওয়া যেখানে একটা ফসিল, হাত ফসকে উড়ে যাওয়া বেলুনের জন্য হাহাকার করে। উপমায় সে দশভূজা আর অন্তর্দৃষ্টিতে তৃতীয় চোখ। সে পুরুষ আর প্রকৃতির মিথস্ক্রিয়া যার থেকে জন্ম নেয় ‘আমি’।

এই আমির  কোন তৃতীয় সত্তা নেই। তবে মুহুর্মুহু রূপবদল আছে, তাই কবিকে কবিতাই করে রাখে ছদ্মবেশী। কবিতা তাই কবি থেকে ভিন্ন কিছু না। তবে কবিতা সবসময় কিছু রহস্য নিজের ভিতর রেখে, বাকিটা খরচ করে পাঠকের চিন্তার অনুপাতে। এটা একটা গোল্ডেন রেশিও নিজের সাথে নিজের যেখানে পাঠকের অংশগ্রহণ  উৎসাহের চেয়ে বেশি কিছুনা। তবে কবির সাথে কবিতার সম্পর্ক যেমনই হোক, সময়ের সাথে কবি আর কবিতা একক অথবা দ্বৈতভাবে জড়িত। সময়কে না গোনা হয়ত স্পর্ধা আবার তাতে শ্যাওলার মতো ভাসতে না পারা ব্যর্থতা। তাই প্রত্যেক সময়ের নিজস্ব বোধই কবিতা ।

কবিতা, কবির কাছে পোষ মানুক আর নাই মানুক, কবিতা যখন  টিকটিক শব্দ করে হাঁটতে থাকে, কবিকে তার ন্যানো সেকেন্ডের পালস অনুভব করতেই হয়।

কবিতা মুহূর্তের মতো সত্য আবার মুহূর্তের মত মিথ্যা।

 

পাঠ-প্রতিক্রিয়া / মাসুদুজ্জামান

কবিতা সত্য-মিথ্যার বিমিশ্রণ। কিন্তু কবিতার পঙক্তিপুঞ্জ সময়কে স্পর্শ করে পাঠকের বোধকে রহস্যজনক পথে উদ্দীপ্ত করে। এমনটাই ভাবনা তাসনুভা অরিনের। অরিনের কবিতা আগে সম্ভবত একটামাত্র সংকলনে পড়েছি। এখনও অব্দি তার কোনো কবিতার বই বেরিয়েছে বলে আমার জানা সেই। সংকলনের কবিতাগুলি তখন ভালো লেগেছিল। কারণ এখনকার কবিদের ভাষায় ও ভাবচ্ছবিতে কবিতা নির্মাণ করেন তিনি। তাকে নিঃসন্দেহে বলা যায় একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি। কিছু দৃষ্টান্ত দিই। এখানে প্রকাশিত প্রথম কবিতাতেই পড়ছি এরকম পঙক্তি : আমাদের প্রেম হবে হাসপাতালে, মর্গে অথবা সাততলার ফার্নিচারের দোকানে / আমরা দুঃখ করতে করতে প্রেম করবো…।” তার এই প্রেমানুভব, যা তিনি পাঠকের মধ্যে সঞ্চারিত করেছেন, সেই প্রেমে অ্যান্টি-রোমান্টিক হয়েও রোমান্টিক। কারণ, ওই দুঃখবিলাস। সমকালেরই অভিজ্ঞান এটা। পরের কবিতার প্রথম পঙক্তিতেই দেখুন ওই দুঃখের কথা দিয়েই শুরু হচ্ছে কবিতাটি। তবে এবার বিলাস নয়, দাঁড়াতে চান দুঃখের বিরেুদ্ধে। কী বলবো একে? অ্যান্টি-পোয়েট্রি? হয়তো-বা। প্রথম দু’টি কবিতায় সহজ ভাবচ্ছবির মাধ্যমে অরিন কথা বললেও, পরের কবিতায় অনেকটাই বিমূর্ত আর অর্থহীনতার সৌন্দর্যে অবগাহন করতে প্রলুব্ধ হলেন : “পাখির দিকে তাকালে আমি করুন হয়ে যাই / তুমি কি পাখি পান করা এক ক্লান্ত দৈর্ঘ্য।” কবিতাটি কিছুটা সুরিয়্যালিস্টিক, কিছুটা ইম্প্রেশনিস্টিক। পরের কবিতাটিও অনেকটা এরকমই। কিন্তু এই পঙক্তির কোনো অর্থ আছে, বা হতে পারে বলে মনে হলো না : “শাদা দেহের কচ্ছপ পেড়িয়ে যায় ত্রিকালদর্শী বেলপাতার সমস্ত সঞ্চয়।” না, আমি অর্থডক্স কাব্যভোক্তা নই, অর্থহীনতার মধ্যেও যে অর্থের অতিসূক্ষ্ণ একটা ইঙ্গিত থাকে, তাও তো পেলাম না। কিন্তু এর কোনো কোনো পঙক্তি আবার বেশ উজ্জ্বল : “জন্ম মানে পরাবাস্তব খাঁচায় জন্মান্ধ ধ্যানী পাপিয়ার মৃত্যু / জীবন জন্মান্ধের চশমা পরার মত অভিনয় / আকাশ আকাশ খেলা পাখির সার্কাস।” আমার মনে হয়, অরিন তার চারপাশে, তারই সময়ের যারা কবিতা লিখছেন, তাদের এই নিরঞ্জন, উদ্ভটত্বের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যদি কবিতা না লিখতেন, তাহলে এরকম দ্যুতিময় পঙক্তিই পাওয়া যেত। কিছু কিছু শব্দের প্রতিও তার পক্ষপাত চোখে লাগে, যেমন দুঃখ, তক্ষক, মৃত্যু – এইসব। অরিনের কবিতা আরও বৈচিত্র্যময় আর অরিনের মতোই হয়ে উঠবে, সেটুকু প্রত্যাশা করতেই পারি। এর আয়োজন তিনি শুরু করে দিয়েছেন, কিন্তু তাকে যেতে হবে অনেকটা পথ। গড্ডলস্রোতে ভেসে না গিয়ে খুঁজে পেতে হবে নিজের স্বর আর নিজস্ব শৈলী।

আমি মনে হয় আর কথা না বাড়াই, পাঠক, আপনারা কবিতাগুলি পড়ে দেখুন এবং তারপর আপনারাই ভাবুন, কতটা ভালো কবিতা লিখছেন অরিন। অরিনের জন্য অগ্রজের শুভকামনা থাকলো।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

  1. কবি কবিতা লেখেন নিজের জন্য এবং পাঠকের জন্য। তাসনুভা অরিন নিঃসন্দেহে নিজের জন্য লিখেছেন তবে কোন ধরনের পাঠকের জন্য লিখেছেন জানিনা। এত কঠিন এবং খাপছাড়া লেগেছে কোন কোন কবিতা দুবার পড়েও লাইনের সম্পর্ক মেলাতে পারি নাই। এটা আমার ব্যর্থতা হয়তো। কবিতাগুলি সহজ স্বাভাবিক গ্রহনীয় হোক এই কামনা রইল।

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close