Home অনুবাদ তায়েব সালিহ > একমুঠো খেজুর >> অনুবাদ অর্ক চট্টোপাধ্যায়

তায়েব সালিহ > একমুঠো খেজুর >> অনুবাদ অর্ক চট্টোপাধ্যায়

প্রকাশঃ July 16, 2017

তায়েব সালিহ > একমুঠো খেজুর >> অনুবাদ অর্ক চট্টোপাধ্যায়
0
0

তায়েব সালিহ > একমুঠো খেজুর

অনুবাদ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়

তায়েব সালিহ : সুদানের উত্তর প্রদেশের আল দাব্বায় ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।ছোট্ট একটা কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় তাঁর ইচ্ছা ছিল কৃষিকাজ করার। লন্ডনভিত্তিক একটা আরবি পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজের জন্য চলে আসার আগে কিছুদিন স্কুল-শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিবিসির আরবি বিভাগেও কাজ করেন তিনি। জীবনের শেষ দশ বছর প্যারিতে থেকে ইউনেস্কোর হয় কাজ করেছিলেন। নিজের গ্রাম, জনপদ আর জনমানুষই স্থান করে নিয়েছে তাঁর কথাসাহিত্যে। আশি বছর বয়সে ২০০৯ সালে লন্ডনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

একমুঠো খেজুর

তখন আমার বয়েস নিশ্চয়ই বেশ কম ছিল। ঠিক কত ছিল মনে নেই, কিন্তু মনে পড়ে, দাদার সঙ্গে বেরোলেই লোকজন হয় আমার মাথায় আলতো করে চাঁটি মারতো নয়তো গাল টিপে দিতো। অথচ দাদাকে কেউ কিছু করতো না। অদ্ভূত ব্যাপার হল বাবার সঙ্গে কখনো কোথাও বেরোতাম না। বরং দাদা যখন যেখানে যেত আমায় সঙ্গে নিয়ে যেত। শুধু যে দিনগুলো আমি সকালবেলা মসজিদে যেতাম কোরান পড়তে সেই সকালগুলো বাদ থাকতো। মসজিদ, নদী আর মাঠ—এই ছিল আমাদের জীবনের সারাৎসার। যদিও আমার সমবয়সীরা মসজিদে গিয়ে কোরান পড়তে একেবারেই পছন্দ করতো না, আমার খুবই ভালো লাগতো। ভালো লাগার কারণ ছিল আমার চটপট কোনোকিছু মুখস্থ করতে পারার ক্ষমতা। আর বাইরে থেকে কেউ আসলে শেখ আমাকেই দাঁড় করিয়ে ‘দ্য চ্যাপ্টার অফ দ্য মারসিফুল’ মুখস্থ বলতে বলতেন। বাইরে থেকে আসা লোকেরাও আমার মাথায় আলতো চাঁটি মারতো বা গাল টিপে দিতো, ঠিক যেমন দাদার সঙ্গে বেরোলে করত।

হ্যাঁ আমার মসজিদ আর নদী—দুই-ই খুব ভালো লাগতো। সকালবেলা কোরান পড়া শেষ হতেই কাঠের স্লেট নামিয়ে রেখে জিনের মত রুদ্ধশ্বাসে ছুটতাম মার কাছে। সেখানে কোনো রকমে নাস্তা খেয়েই দৌড়োতাম নদীতে গোসল করতে। সাঁতার কাটতে কাটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তীরে বসে নদীর বাঁকের দিকে চেয়ে থাকতাম। দেখতাম পানি কিভাবে এঁকে বেঁকে পূবদিকে এগিয়ে চলেছে আর অ্যাকেডিয়া গাছের ঘন জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে গেছে। আমি কল্পনার ডানা মেলে দিয়ে ভাবতাম ঐ গাছের আড়ালে একটা গোটা দানবগোষ্ঠী থাকে। আমার কল্পনায় সেইসব দানবরা ছিল লম্বা আর রোগা। তাদের সাদা দাড়ি আর টিকোলো নাক ছিল, দাদার মতো। আমার শতসহস্র প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে দাদা নাকের ডগাটা আঙুল দিয়ে একটু ঘষে নিতেন। দাদার দাড়িটা ছিল নরম তুলোর মতো। তার মধ্যে বেশ এক সম্ভ্রান্ত ভাব ছিল। সারা জীবনে আমি ওর থেকে বেশি বিশুদ্ধ সাদা রং কিম্বা ওরকম সৌন্দর্য দেখিনি। দাদাও নিশ্চই বিরাট লম্বা ছিল কারণ আমি যা দেখেছি, এমন কোন পাড়াপড়শী ছিল না যাকে দাদার সঙ্গে কথা বলতে গেলে মাথা তুলে ওপরের দিকে তাকাতে হত না। এমন কোন বাড়িও ছিল না যার ভেতর ঢুকতে গিয়ে দাদাকে মাথা নামিয়ে ঝুঁকতে না হত। তখন আমার মনে পড়তো নদীর জলের ঐ বাঁকের কথা; কিভাবে জলটা অ্যাকেডিয়া গাছগুলোর পেছনে গিয়ে বাঁক নিত। দাদাকে আমি ভীষণ ভালোবাসতাম। আমি ভাবতাম, বড়ো হয়ে আমিও দাদার মতো লম্বাচওড়া হবো আর লম্বা লম্বা পা ফেলে হাঁটবো।

আমার বিশ্বাস আমিই দাদুর সব থেকে প্রিয় নাতি ছিলাম। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই কারণ আমি যা শুনেছি, আমার ভাইগুলো ছিল অপদার্থ আর আমিই ছিলুম সব চেয়ে বুদ্ধিমান বাচ্চা। বুঝতে পারতাম দাদু কখন চায় আমি হাসি আর কখন চায় আমি চুপ করে থাকি। তাছাড়া আমি সারাদিনে দাদার নামাজের সময়গুলো মনে রাখতাম। আমায় কিছু বলতে হত না। সময় হলে বসে নামাজ পড়ার জন্য কাপড় নিয়ে আসতাম, আর জাগে পানি ভরে দিতাম দাদার হাত-পা ধোয়ার জন্য। যখন দাদার কোনো কামকাজ থাকতো না, আমার মিষ্টি গলায় কোরান শুনতে বেশ পছন্দ করতো। আমি দাদার মুখ দেখে বুঝতে পারতাম কোরানপাঠ ওঁকে কতটা স্পর্শ করছে।

একদিন আমি দাদাকে আমাদের প্রতিবেশী মাসুদের কথা জিগোলাম : “আমার মনে হয় তুমি আমাদের প্রতিবেশী মাসুদকে খুব একটা পছন্দ করোনা, না?” দাদা নাকের ডগা ঘষে নিয়ে উত্তর দিলো : “লোকটা অলস আর আমি অলস লোক পছন্দ করিনা।” আমি সওয়াল করলুম : “অলস লোক মানে কি?” দাদা এক মুহূর্তের জন্য মাথা নামিয়ে কি যেন ভাবলো; তারপর বাইরের বিশাল মাঠের দিকে তাকিয়ে বললো : “এই বিরাট জায়গাটা দেখেছো, মরুভূমি থেকে নীলনদের তীর পর্যন্ত? একশোর বেশি ফেদান আছে এখানে। ঐ খেজুর গাছগুলো দেখছো? আর ঐ গাছগুলো- সান্ত, অ্যাকেডিয়া আর সায়াল? এসবকিছু মাসুদের বাবা মাসুদকে দিয়ে যান।”

এরপর দাদার চুপ করে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে আমি ওঁর দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ওঁর শব্দ-চিহ্নিত সুবিশাল পরিসরের দিকে তাকালাম। নিজেকে বললাম : “আমার কিছু এসে যায় না ঐ খেজুর বা অন্য গাছগুলোর মালিক কে? কে এই কালো ফুটিফাটা মাটির মালিক তাতে আমার কোনো দরকার নেই। আমি শুধু এটুকু জানি যে এই জায়গাটা আমার স্বপ্নের জায়গা, আমার খেলার মাঠ।” দাদা আবার বলতে শুরু করলো : “চল্লিশ বছর আগে এসবকিছু মাসুদের ছিল। এখন এর দুই-তৃতীয়াংশ আমার।” এটা আমার কাছে নতুন খবর ছিল কারণ আমি ভাবতাম আল্লার ইবাদতের প্রথম দিন থেকেই এই গোটা জায়গা দাদার।

“আমি যখন প্রথম এই গ্রামে আসি, আমার কাছে এক ফেদান জমিও ছিল না। মাসুদ এই সমস্ত জমির মালিক ছিল। এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। আমার ধারণা আল্লা ওকে ডেকে নেওয়ার আগেই আমি বাকি জমিটা কিনে নিতে পারবো।”

জানি না কেন দাদার এই কথাগুলো শুনে আমার ভয় লাগলো আর মাসুদের জন্য খারাপও লাগলো। আমি মনে মনে খুব চাইতে লাগলাম যাতে দাদা যা বলেছে তা না হয়। আমার স্মৃতিতে ছিল মাসুদের গান গাওয়া, ওর চমৎকার গলা আর শক্তিশালী হাসি, যেন জল বয়ে যাচ্ছে অবিরত। আমার দাদা কখনো হাসতো না।

দাদাকে জিগোলাম মাসুদ কেন ওর জমি বেচে দিয়েছিল।

‘মহিলা’, দাদা বলে উঠলো আর এমনভাবে উচ্চারণ করলো শব্দটা, আমি ভাবলাম ‘মহিলা’ বোধ হয় ভয়ঙ্কর খারাপ একটা কিছু। “দেখো বাবা, মাসুদের ছিল অনেকগুলো বিয়ে। যতবার ও বিয়ে করেছিল, ততবার আমায় একটা-দুটো ফেদান বিক্রি করে দেয়।” আমি তাড়াতাড়ি অঙ্কটা কষে ফেলে বুঝলাম মাসুদ নিশ্চই খান নব্বই বিয়ে করেছিল। তারপর আমার মনে পড়লো ওর তিন বিবির কথা; মনে এলো ওর মলীন জামাকাপড়, খোঁড়া গাধা, ছিন্নভিন্ন ঘোড়ার জিন, ওর ছেঁড়া হাতাওয়ালা জোব্বা। মনের ভেতর যেসব চিন্তাভাবনা ধস্তাধস্তি করছিল তাদের যেই না শান্ত করেছি, দেখি লোকটা আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। আমি আর দাদু দৃষ্টি বিনিময় করলাম।

“আজ আমরা খেজুরগুলো নামাবো। তুমি থাকবে না?” মাসুদ বললো।

আমার মনে হল আসলে মাসুদ চায় না দাদা ওখানে থাকুক। দাদা অবশ্য এই প্রস্তাবে লাফিয়ে উঠলো। ওঁর চোখের কোণে এক নতুন উৎসাহের আলো ঝিলিক দিয়ে উঠলো। আমার হাত ধরে দাদা আমায় মাসুদের খেজুরক্ষেতের দিকে নিয়ে গেল।

দাদার জন্য কেউ একজন বলদের চামড়া দিয়ে ঢাকা একটা টুল এনে দিলো বসার জন্য। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। যদিও ওখানে অনেক লোকজন ছিল আর আমি প্রায় সবাইকেই চিনতাম, আমি তাও খালি মাসুদের দিকেই চেয়ে রইলাম। এতো লোকের জমায়েত থেকে দূরে এমন নিরুত্তাপ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে, যেন এসব নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই; অথচ খেজুরগাছগুলো তো ওরই। কখনো-সখনো অনেকগুলো খেজুর একসঙ্গে নিচে নামানোর চড়া শব্দে ওর টনক নড়ছিল, এই যা। একবার, যে ছেলেটা খেজুর গাছের ওপর উঠে বড় একগোছা খেজুর কাটার জন্য কাস্তে চালাচ্ছিল, তার দিকে তাকিয়ে মাসুদ চেঁচিয়ে উঠলো : “দেখো, গাছের হৃদয়টাই কেটে দিও না যেন।”

ও কি বললো তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামালো না আর গাছের টঙে বসে ছেলেটাও আগের মতোই খেজুর কাটা চালিয়ে গেল। সে দ্রুত উৎসাহের সঙ্গে নিজের কাজ করতে লাগলো আর অচিরেই গোছা গোছা খেজুর যেন বেহেশত্ থেকে নেমে এলো।

আমি তখন মাসুদের বলা ‘গাছের হৃদয়’ কথাটা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলাম। ভাবছিলাম খেজুরগাছের মন, আবেগ, অনুভূতির কথা। তারও একটা ধুকপুকানো হৃদয় আছে। মনে পড়লো একদিন মাসুদ আমায় একটা ছোট খেজুরগাছের ডাল নিয়ে খেলতে দেখে বলেছিল : “বাবা, মানুষের মতোই খেজুরগাছেরও আনন্দ হয়, যন্ত্রণা হয়।” একথা শুনে আমার ভেতরে ভেতরে কেন জানি না কেমন লজ্জা পেয়েছিল।

এরপর আবার যখন সামনের ঐ বিস্তীর্ণ মাঠের দিকে তাকালাম, দেখলাম আমার সমবয়সী বন্ধুরা পিঁপড়ের মতো সেখানে সাঁতার কাটছে। খেজুর গাছের চারপাশে ঘুরে ঘুরে ওরা খেজুর তুলে তুলে খাচ্ছে। খেজুরের বড়ো বড়ো ঢিপি হয়ে রয়েছে চতুর্দিকে। দেখলাম লোকে এসে সেসব মেপে, ওজন করে তুলে নিয়ে বস্তায় ভরে নিলো। আমি গুনলাম, তিরিশটা বস্তা। লোকজনের ভিড় ভেঙে গেল; শুধু রয়ে গেল ব্যবসায়ী হোসেন, পূবদিকে আমাদের পাশের জমির মালিক মুসা আর অন্য দুটো লোক যাদের আমি আগে দেখিনি।

একটা আলতো হুসহুস শব্দ শুনে দেখলাম দাদা ঘুমিয়ে পড়েছে। তারপর লক্ষ করলাম মাসুদ ঠায় একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে, খালি মুখে একটা ডাঁটা ঢুকিয়ে চিবোচ্ছে, যেমনভাবে দীর্ঘদিন না খেতে পাওয়া মানুষ অল্প একটু খাবার পেলে বুঝতে পারেনা কি করবে।

হঠাৎ দাদা উঠে পড়লো আর এক লাফে চলে গেল খেজুরের বস্তাগুলোর কাছে। দাদার পেছন পেছন গেল হোসেন, মুসা আর অচেনা দুটো লোক। আমি মাসুদের দিকে তাকাতে দেখলাম, সে খুব আস্তে আস্তে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে, যেন পিছোতে চাইলেও তার পা তাকে এগিয়ে যেতে বলছে। ওরা বস্তাগুলোর চারদিকে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে সেগুলো পরীক্ষা করতে লাগলো। কেউ কেউ একটা-দুটো খেজুর তুলে খেয়েও নিলো। দাদা আমাকে একমুঠো ভর্তি করে খেজুর দিলো আর আমি সেগুলো চিবোতে লাগলাম। দেখলাম মাসুদ হাতভর্তি খেজুর মুখের কাছে এনে শুঁকে আবার ফেরত দিয়ে দিলো।

তারপর দেখলাম ওরা নিজেদের মধ্যে বস্তা ভাগ করে নিতে লাগলো। হোসেন নিলো দশটা, দুজন অচেনা লোক পাঁচটা করে, মুসা নিলো পাঁচটা আর দাদা পাঁচটা। কিছুই বুঝতে না পেরে মাসুদের দিকে তাকালাম। দেখলাম তার চোখ ক্রমাগত ডানদিক বাঁদিক করছে, যেন ঘরের রাস্তা হারিয়ে ফেলা ইঁদুরছানা।

“এখনো আমার কাছে তোমার পঞ্চাশ পাউন্ড ধার রইলো। এ নিয়ে পরে কথা বলবো।” দাদা মাসুদকে বললো।

হোসেন ওর সহকারীদের ডাকতে তারা গাধা নিয়ে এলো, দুটো অচেনা লোক উট নিয়ে এলো আর খেজুরের বস্তাগুলো তোলা হলো। একটা গাধা এমন চেঁচিয়ে উঠলো যে তাতে উটগুলোর মুখে ফেনা কাটতে লাগলো আর তারা সরবে নালিশ করতে শুরু করল। আমার মাসুদের কাছে যেতে খুব ইচ্ছে করলো; ইচ্ছে করলো ওর জামার কোনটা টেনে ধরতে। শুনতে পেলাম ওর গলার ভেতরকার ঘড়ঘড়ে একটা আওয়াজ, যেন ভেড়া জবাই হচ্ছে। কোন অজ্ঞাত কারণে বুকে একটা সুঁচালো ব্যাথা অনুভব করলাম।

আমি দূরে ছুটে গেলাম। পেছন থেকে দাদার ডাক শুনে একটু ইতস্তত করে আবার দৌড়াতে লাগলাম। ঐ মুহূর্তে আমার মনে হলো দাদাকে আমি ঘৃণা করি। পা চালাতে লাগলাম, যেন নিজের মধ্যে গুপ্ত থাকা কোনকিছু ত্যাগ করার চেষ্টা করছি। নদীতীরে পৌঁছলাম যেখানে জল অ্যাকেডিয়া গাছের পেছনে সবে বাঁক নেবে নেবে করছে। তারপর, কেন জানি না, গলায় আঙুল দিয়ে বমি করলাম, যতক্ষণ না আমার খাওয়া সব খেজুর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।

 

 

 

 

 

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close