Home কবিতা তিথি আফরোজ >> কবিতাগুচ্ছ

তিথি আফরোজ >> কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশঃ May 16, 2018

তিথি আফরোজ >> কবিতাগুচ্ছ
0
0

তিথি আফরোজ >> কবিতাগুচ্ছ

 

মানুষ

 

জন্ম আর জলের খেলা বেদনা সঙ্গম

তাড়া করে, তন্দ্রাকে ঘুম ছুঁতে দেয় না

ঘাতক বেশে তাড়া করে হরণ তালে

দৌড়ে বাঁচতে চাই কাকতাড়ুয়ার সার্টের কার্নিশে

বনময় শূন্যতা ঘরময় আঁধার

এখানে ছিলো না কেউ ওখানেও নেই

শুধু মৃত্যুদূূতের পিছু তাণ্ডব

পা আর চলছে না…

বনবনান্তে দৌড়ে… বুকের শব্দ বেড়ে গেলে

একটা মানুষ খুঁজি,

মানুষ – যাকে বুকে ধরলে ভয়ে শব্দ পালায়।

 

 

কষ্টের ঘ্রাণ

 

বহু দিন ছুঁয়ে দেখিনি…

চিকচিকে হিরক বিন্দুর শৈলী;

যার স্পর্শে প্রতিটি ভোরের শৈত্যপ্রবাহ

এক ঝাঁক উচ্ছ্বাস নিয়ে পালায়

 

দূর্বা ঘাস অফুরন্ত প্রাণশক্তি সঞ্চার করে

শিশির কণার প্রেমে; শীতের রোদ্দুর

তাপ হারিয়ে অসহায় হয় নীল বিকেলে

তখনই জেগে ওঠে উচ্ছ্বাস

পুনরায় ছুঁতে চায় প্রেম

 

ক্রমশ কালো হয়ে আসা রাত

সেই এলোমেলো কষ্টের ঘ্রাণ আনে

অবাধ্য যুবকের প্রিয় চুলগুলি

তন্দ্রার মধ্যে খুঁজি আজও

যা বহুদিন ছুঁয়ে দেখিনি…

 

 

পতিতা

 

আজ একটা ঝরাপাতার সাথে কথা হলো

শীত আসলে সে ঝরে পড়ে আর মিশে যায়

ভূগর্ভের পরম ভালোবাসায়।

 

লাল পাতাটিই বললো, সে নিজেই পতিতা;

জোড় করে শোনালো তার ছন্দপতনের গল্প

ঘরে বউ রাখা পুরুষের লজ্জাহীন প্রেমের পদাবলি

গাছ থেকে তার ভূগর্ভে নেমে আসার গদ্য

আরো ঘর ছাড়া পদ্যময় জীবনের সারসংক্ষেপ

 

তাকে সবাই পাতা বলেই জানে আর সেই জানে

তার পতিতা হয়ে ওঠার উপাখ্যান;

একমুঠো ভাত পেট ভরাতে পারে তা বুঝেন সবাই

কবি তুমি কি বোঝ, কীভাবে একটি

কাঁচা জীবন শুকনো হতে হতে

ভূগর্ভে পতিত হয়ে যায়!

যে জীবন পতিতার সে জীবন আর অন্য কারো নয়

হাসিগুলা তার চুর চুর মতিচূর্ণ।

 

 

কলমের আঁচড়

হৃদয়ে কলমের দাগ লেগে আছে তার

চোখের বুননে হারানো জল।

 

স্কুল বালিকার কলমের আঁচড়

উড়ে গেছে যতবার

ততবার খুন হওয়া মাছের মতন

ছটফট করা বাঁদুড় ফিরে গেছে জানালায়।

 

প্রেম কিছু নয়

ভালোবাসা দীর্ঘ বিশ্বাস, দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস

যা নিয়ে প্রতিটা বছর বৈশাখ আসে

আবার চলেও যায়, না বলে

 

একটি খাম ছেঁড়া কাগজও রূপান্তরিত

রাখিনি অবশিষ্ট,

হ্যাঁ- এভাবেই বদলে যায় সবাই,

যেভাবে বদলায় গোল্ডফিল পাখির পালক

ঋতু বদলের সাথে সাথে।

সেভাবেই জন্ম নেই বুকে- অদ্ভুত সব ক্ষত।

 

 

মন

 

শুনছো আমাকে?

না; জাদু-টোনার ঘোরে মোহগ্রস্থ নিশ্চয়।

শুনবে না জানি, তবুও আগুন বাতাস

আর নিশুতি রাত কৌতূহলী করে।

 

শুনেছি মনের সাথে মন ছুঁইলে

কথাগুলো ছুঁয়ে যায় সংযোগ ছাড়াই

মন ছোঁয়া যে আকাশ ছোঁয়ার মতো

যতো কাছে যাই ততই দূরে সরে যায়

জীবন থেকে মহাজীবনে যেতে চাই মন ছুঁতে…

 

 

পুরুষ তোমার পুরস্কার

 

যার নাভিমূলে এঁকেছি ঠোঁটপালিশ-

সুখ কাতরতার বিনিময়ে সে পুরুষ বুক ভরা ঝড় পুরস্কার দিয়েছে

নখের পথ বেয়ে জল জড়ানো চুলের ডগায় দিয়েছে দীঘল পাথার।

 

একরাশ প্রেম…

শূন্য পথ পূর্ণ করেই চর্বণ করলো শিশুর কলিজা

রক্ত আর মজ্জার স্বাদ গ্রহণকারী বাঘের সঙ্গম দেখে

জেগে ওঠা ক্ষুধা মৃত্যুর মতো সহজ সাবলীল হয়

অতঃপর নির্গত হয় লোহিত কণিকা।

 

চাঁদের গায়ে লেপ্টে থাকা অমাবস্যার দুঃখের মতো

রাতের কাহিনিগুলো সিঁধেল চোর পাশা খেলে

তৈরি হয় আগুন আর অ্যাশট্রের অভিধান

 

যুগ ধরে শিশ্নগুলোর চাটুকারিতায় মুখর থেকে নির্লজ্জ বেহারা

পালকীর গান ভুলে এঁকে যায় হৃদয় বিলে কার্বনডাই-অক্সাইড

আর…

বৃক্ষ জীবনের প্রেম নিয়ে লোমশ বুক জমিনে জিহ্বার পেলব শিহরণ

ছড়ায় কুসুমবুচি।

 

অনন্ত ক্ষুধা আর তন্দ্রার মাঝামাঝি বসে বালক জীবনের ফসিল

গ্রহণের ফলে দিয়েছে প্রেমিক উচ্চতর দক্ষতার ধ্যানমগ্নতা…

ফলে সুখ দক্ষিণা দিচ্ছে নারীজন্ম,

দিবে পুনর্জন্মেও সমগ্র ইন্দ্রিয়তে

যাবতীয় স্বাদ এনে দিবে কল্কের জরায়ু ছিঁড়ে…

 

 

অর্ঘ্য

 

রাতে রাত খুঁজি

যার আছে প্রবেশদ্বার;

অণুর মধ্যে অনন্ত মিলে

গুরু তোমার সন্ধান চাই

 

দড়ি দিয়ে নৌকা টানি

পবন মারে হুতাশন

বেগে বেগে জল উছলায়

নৌকা জলে কথা হয়

 

জলের ভিতর লবণ চলে

যার নাই বাছ-বিচার

মীন লবণে খেলা হলেই

গুরুর দেখা চান্দে পাই

 

অমাবস্যা পূর্ণিমাতে

যতই জ্বালান জ্বলাও মন

এই পোড়ার সিদ্ধি ভজন

মিম মোকামে অর্ঘ্য রয়

 

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close