Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ আমার প্রথম বই তোমার সমাসঙ্গে কবিতা উঠান-এ সত্যি নেচেছিলাম > আমার প্রথম বই >> অনুপমা অপরাজিতা

তোমার সমাসঙ্গে কবিতা উঠান-এ সত্যি নেচেছিলাম > আমার প্রথম বই >> অনুপমা অপরাজিতা

প্রকাশঃ July 3, 2017

তোমার সমাসঙ্গে কবিতা উঠান-এ সত্যি নেচেছিলাম > আমার প্রথম বই >> অনুপমা অপরাজিতা
0
0

তোমার সমাসঙ্গে কবিতা উঠান-এ সত্যি নেচেছিলাম 

যে-কোন ক্ষরণ থেকে সৃষ্টি হয় কবিতার। আমার এমনটাই ধারণা। সেটা বিষাদ বা আনন্দ দুই-ই হতে পারে। শব্দশ্রমিক শব্দের গায়ে পরিয়ে দেয় ঝলমলে পোশাক- আনন্দের বা বিষাদের। মাখিয়ে দেয় সুরভি। আমার মতে প্রতিটি কবিতাই কোনো না কোনোভাবে আত্মজৈবনিক। কবির ভাষ্য, কবির কথা। প্রথম কবিতার বইও তাই আত্মজৈবনিক হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের অনুভূতিতে ঠাসা থাকে কবিতার বুনন।

আমিও কবিতায় নিজের কথা বলি, বলবার চেষ্টা করি। কবিতার ঘরবাড়িতে আমার উঁকি দেওয়া আর হাঁটাহাঁটি সেই শৈশব থেকে। কবিতা হচ্ছে কী হচ্ছে না, তা নিয়ে খুব বিপন্ন বোধ করতাম একসময়। একদিন প্রিয় ব্যক্তিত্ব কবি প্রাবন্ধিক গল্পকার অনুবাদক সব্যসাচী লেখক প্রফেসর ড. মহিবুল আজিজ স্যারকে কয়েকটা কবিতা দেখালাম। স্যারকে বললাম, স্যার কবিতা কী হচ্ছে? স্যার বললেন, হচ্ছে! লিখতে থাকুন। লিখতে লিখতে একসময় আরও সমৃদ্ধি পাবে লেখা! এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাইনি। তবে সেটা পূর্ণতা পেয়েছে আমার জীবনসঙ্গী কবি প্রণয় কান্তি নাথের ভালোবাসাময় অনুপ্রেরণার কারণে।

প্রথম সব কিছুই প্রথম প্রেমের মতো অনুরণণে ঠাসা। প্রথম কবিতার বইটির অনুভূতি বলে প্রকাশ করা বেশ কঠিন কাজ! প্রথম মা হবার মতো উচ্ছাস উদ্বেগ আর আবেগতাড়িত ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকে বই প্রকাশের আগে ও পরের প্রতিটি দিনক্ষণ! পৃথিবীকে নতুন করে দেখা! নিজস্ব ঢঙে নিজের অভিব্যক্তি আবেগ জনসম্মুখে শব্দে-শব্দে রাঙিয়ে তোলা এবং তা দুই মলাটে বন্দি করার কী-যে অফুরান আনন্দ, তা বর্ণনাতীত। তবু বলি।

সেটি ছিল ২০১৪ সাল। সুপ্রিয় চিত্রশিল্পী উত্তম সেনের প্রচ্ছদে স্বনামধন্য প্রকাশনা শুদ্ধস্বর থেকে প্রকাশ পেয়েছে আমার প্রথম কবিতার বই ‘তোমার সমাসঙ্গে কবিতা উঠোন’। বইটির ভূমিকা লিখেছেন প্রিয় কবি সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান। উনি এত সুন্দর ভূমিকা লিখেছিলেন যে সেই ভূমিকা পড়ে আনন্দে কেঁদেছিলাম সেদিন!

ভূমিকার কিছু অংশবিশেষ এখানে তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না : “কাব্যচর্চা তো এক ধরনের প্রথাভাঙার লড়াই। খুব বেশি লোকাচার মেনে চললে, প্রথার প্রতাপে হার মানলে এক কিসিমের কবিতা হয়তো তবুও লেখা হতে পারে। কিন্তু ওই রচনাকে কবি শিরোপায় সম্বোধন করতে সকলের মন সায় দেয়না। আবার সমাজে নিরন্তর বিচরণরত রসিক অথচ নিরেট অকবিজনও প্রকৃত কবিসত্ত্বাটিকে ঠিক ঠিক কেমন যেনো শনাক্ত করে ফেলেন। আর কাব্যচর্চার নামে বিপুল অকবিরাতো ওদের কাছে হাস্যাস্পদই। এটা বেশ ভালোভাবেই মালুম করা যায়, সমাজের আলো হাওয়ার ভেতরে চলাচল করতে গিয়ে। কাজেই প্রকৃত কবির পথে কোন বাধা নেই। তার চোখে ধাঁধা নেই কোনো। কিন্তু তারপরেও কবিতাচর্চচা কী একটা নিরন্তর সচলতা, চেতনাগত সজীবতা বা সুন্দরের দিকে সতৃষ্ণ আকুলতা নয়? অনুপমার একসঙ্গে অনেক অনেক কবিতা পাঠের সুযোগ পেয়ে আর সে বিষয়ে আমার যৎসামান্য পাঠ-অভিব্যক্তি লিখতে গিয়ে ওপরের কথাগুলো এলো একেবারে খাস দিলে। অনুপমার জীবনস্পন্দিত কবিতাগুলোকে কী নামে ডাকা যাবে? ওর একটি আস্ত কবিতাই পড়ে ফেলি :

বৈরী বিরোধ অবহেলা মাখা নিরাশাটিকে

          ধূ ধূ নীল শূন্যতায় উড়িয়ে দিয়ে

          ব্যক্তিক সীমাবদ্ধতা ছুঁড়ে ফেলে

মননের আর মেধার স্ফুলিঙ্গের

অনুতে অনুতে

আরেকটিবার উজ্জীবিত হতে চাই।

নভোচারী মনটাকে তামাট প্রতারণার

হাত থেকে তুলে এনে

স্নায়ুর শিরায় শিরায়

চাষ করতে চাই অপরাজিত প্রেম।

প্লাবনের ভাঙনের জলোচ্ছাসে উর্বর করে

তুলতে চাই আমার সমস্ত পোড়োভিটে।

তন্দ্রাচ্ছন্ন অমলিন স্বপ্নের ক্যানভাসটিকে

রাঙাতে চাই ঝলমলে আত্মপ্রকাশের তুলিতে।

দুঃস্বপ্নের মরীচিকাকে মাড়িয়ে

পল্যুটেড বিবর্ণ প্রহরগুলোয়

অচেনা ইচ্ছের প্রলেপ ছড়িয়ে-

আমি সংক্রমিত হতে চাই বাউরি বাতাসে

মেধাশ্রমিকের হাতে হাত রেখে

বোধের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বপন করতে চাই

সুশোভন হৈমন্তিক মগ্নতা।

বাঙলা একাডেমির বইমেলায় যেদিন আমার প্রথম বইয়ের প্রকাশনা উৎসব হয়েছিল সেই দিন আমার কবিজন্ম হয়েছিল মনে হয়। তবে, এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে কবিতা রচনার প্রেরণা পেয়েছিলাম ভেতরে ভেতরে। সত্যি সেদিন নেচেছিলাম কবিতার উঠোনে। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে একজন নতুন কবিকে যেভাবে আবাহন করেছিলেন, সেটা ভাষায় বলে প্রকাশ করা যাবে না। সেখানে উপস্থিত ছিল শুদ্ধস্বরের কর্ণধার আহমেদুল রশীদ টুটুলসহ বন্ধু প্রিয়জন অনেকেই।

আজও ওই বইয়ের কবিতার সরণী ধরে আমি পথ হাঁটছি। এরপর আমার আরও দুটো কবিতার বই বেরিয়েছে। কোথায় কতদূর পৌঁছুতে পারবো জানিনা? আজও আমি কবিতা পড়ি, কবিতার বাড়িঘরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করি, সেখানে আমার হয়তো ঠাঁই হবে বলে বিশ্বাসও করি।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close