Home অনুবাদ দাভিদ দিওপ > একগুচ্ছ অনূদিত কবিতা >> অনুবাদ জয়ন্ত বিশ্বাস

দাভিদ দিওপ > একগুচ্ছ অনূদিত কবিতা >> অনুবাদ জয়ন্ত বিশ্বাস

প্রকাশঃ July 19, 2017

দাভিদ দিওপ > একগুচ্ছ অনূদিত কবিতা >> অনুবাদ জয়ন্ত বিশ্বাস
0
0

দাভিদ দিওপ > একগুচ্ছ কবিতা 
দাভিদ দিওপ ১৯২৭ সালে ফ্রান্সের বোঁর্দো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন সেনেগালি আর মা ক্যামেরুনীয়। আজীবন রোগাক্রান্ত এই কবি প্রথমজীবন কাটিয়েছেন পিতৃভূমি সেনেগাল আর মাতৃভূমি ক্যামেরুনে। এর পর ফ্রান্সে বসবাস করা শুরু করেন। Coups de Pilon নামক একমাত্র কাব্যগ্রন্থেই তাঁর কবিপ্রতিভার স্ফুরণ ঘটেছিল। তাঁর কবিতায় শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা কৃষ্ণাঙ্গদের নিপীড়নের বেদনা ও ক্রোধ অসামান্য কাব্যরূপ পেয়েছে। ১৯৬০ সালে তরুণ বয়সে এক বিমান দুর্ঘটনায় সস্ত্রীক মারা যান।

জলোচ্ছ্বাস

কষাঘাত করে ক্রমশঃ
মুক্তির মাতাল জলোচ্ছ্বাসে;
উন্মাদ সেই জানোয়ার গর্জায়
কী অন্ধ আক্রোশে।
বিগতজন্মা ক্রীতদাসের সমাধি থেকে
জন্ম নেওয়া ফৌজ,
সুয়েজ-পারের খালাসি কিংবা হ্যানয়-নগরের কুলি-
কার নিস্তার বিষরূপী এই মারণ-ধর্ম থেকে?
তাদেরই নিনাদের সুর মিশেছে আজ
মুক্তিমাতাল জলোচ্ছ্বাসে;
যার কষাঘাতে আজও
উন্মাদ এক জানোয়ার ওঠে গর্জে
কী এক অন্ধ আক্রোশে!

দুর্বিনীত পঙক্তিমালা

হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি!
জ্বী-আজ্ঞে করতে করতে, ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতেই
একদিন তুমি মরে যাবে;
জানতেও পারবে না-
কেন!
নিজের শরীরের রক্ত-মাংস পানি করে, আরেকজনের

ধ্বংসাবশেষ আগলে রাখতে গিয়ে,
তোমার চোখের সব আনন্দ-উচ্ছ্বাস আজ
কোথায়!
ভাই আমার, তোমার চোখে তো শুধুই আতঙ্ক আর ক্লেশের
ছায়া দেখা যায়।
বরং উঠে দাঁড়াও!
বরং চিৎকার করে বলে ওঠো-
“না! আর না!”

সময়

স্বপ্ন দেখার একান্ত সময় আছে;
নিস্তব্ধতার রন্ধ্রের ভিতর দিয়ে সেই বিশেষ সময় আসে,
রাত্রিগর্ভের নির্জনতায়।

সন্দেহ করার একান্ত সময় আছে;
যখন শব্দের জটিল উত্তরীয় ছিঁড়ে যেতে থাকে
প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসের সাথে।

যন্ত্রণা সহ্য করার একান্ত সময় আছে;
মায়েদের পাষাণদৃষ্টির ছায়ায় যুদ্ধের বক্রপথে
সে সওয়ার হয়ে আসে।

ভালোবাসার একান্ত সময় আছে;
মাংসের তুমুল গানে জীবন্ত-জ্যোতির্ময় কুঁড়েঘরে
সে আসা-যাওয়া করে।
গাছের শরীরে সূর্য মৃদুরঙিন আঁচড় দিয়ে যায়,
সেও তেমনি প্রতীক্ষায় থাকে-
অনাগত দিনের বুকে আঁকিবুঁকি কাটার।

উন্মাদনার একান্ত সময়ে
কিংবা
ব্যগ্রতার একান্ত সময়ে
মানুষের নিরপেক্ষ আর স্পষ্ট জায়গাটাকেই
সময়
নিজের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
এটাই নাকি সময়ের সবচাইতে উর্বর শুক্রকণা!

আফ্রিকা

আমার ভালোবাসা-
আফ্রিকা।
প্রাচীন সাভানার* বীর যোদ্ধাদের গর্বিত জননী-
আফ্রিকা।
অনেক দূরে একটি নদীর পাশে
আমার পিতামহীর ঠোঁট থেকে আজও
আফ্রিকার বুনো সুর ভেসে আসে।
আজ অবধি
তোমাকে স্বচক্ষে দেখা হলো না,
আফ্রিকা।
কিন্তু তুমি জেনো-
আমার দৃষ্টিসীমার গাঁথুনি দিয়ে গিয়েছে
তোমারই রক্ত!
অনিঃশেষ মাঠের বুক ভরে আছে
তোমার ঝরানো কৃষ্ণবর্ণ রক্তে!
যে-রক্ত তোমার ঘামের!
যে-ঘাম তোমার শ্রমের!
যে-শ্রম তোমার দাসত্বের!
যে-দাসত্ব তোমার বুকের সন্তানদের!
উত্তর দাও,
আফ্রিকা!
তুমি কি আজও নম্রতার ভারে ন্যুব্জ
সেই শিরদাঁড়া?
এই কী তোমার সেই শীর্ণ পৃষ্ঠদেশ-
কালোর উপরে লালের আলপনা আঁকা,
যা “আজ্ঞে হুজুর” বলতে বলতে মুখের কষে ফেনা তুলতো
দ্বিপ্রহরের রাস্তায়;
সাদা সাহেবের জ্যাম্বকের** সামনে,
অসহায়?

এক আধ্যাত্মিক স্বর কানে কানে বলে যায়-
“রে আমার অগ্নিগর্ভ সন্তান,
ওই যে দেখেছিস,
শক্তপোক্ত বৃক্ষ জন্ম নিচ্ছে হলুদ আর সাদা ফুলের মাঝে ওইখানে,
নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি হয়ে?
ওরই নাম আফ্রিকা, তোর আফ্রিকা!
চেয়ে দেখ, ওই বৃক্ষ থেকে ধীরে ধীরে
সহিষ্ণুতা আর কাঠিন্য আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে,
শিকড়ের সাথে।
এই বৃক্ষই একদিন জন্ম দেবে
সন্তান; তুই তাকে আদর করে ডাকবি
স্বাধীনতার তিক্ত স্বাদ!”

* সাভানা – মধ্য আফ্রিকার তৃণভূমি/পশুচারণভূমি
** জ্যাম্বক – চামড়ার চাবুক

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close