Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ অণুগল্প দুটি অণুগল্প > অদ্বয় চৌধুরী

দুটি অণুগল্প > অদ্বয় চৌধুরী

প্রকাশঃ June 24, 2017

দুটি অণুগল্প > অদ্বয় চৌধুরী
0
0

দুটি অণুগল্প > অদ্বয় চৌধুরী

সংক্রমণ
বাঁ দিকের সিটে বসে থাকা লোকটা মেয়েটির কাঁধে তার ডান হাতটা ছোঁয়ায়, আলতো করে মাসাজ করতে থাকে। মেয়েটি চমকে উঠে তাকাতে লোকটা মুখ নীচু করে নেয়। তারপর ফিসফিস করে জানায় সে একজন কনট্র্যাক্ট কিলার। খুন করা ছেড়ে দিয়েছে, কিন্তু হাত নিশপিশ করে। কাতর আর্জি জানায় তাকে সাহায্য করার জন্যে।

মেয়েটি তার মন দিয়ে বসে লোকটাকে। লোকটা মন দেয় মাসাজে আরও বেশি করে।

নার্সিংহোমে কয়েকদিন ভর্তি থাকার সময় দেখা হয় না লোকটার সঙ্গে। প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার সময় আবার দেখা হয়। মেয়েটির বমি উঠে আসে। লোকটা তার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। গায়ে রক্তের গন্ধ।

জ্ঞান ফেরার পরে চোখ খুলে মেয়েটি দেখে একজন নার্স তার সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করছে। পাশে লোকটা দাঁড়িয়ে। নার্সের কাঁধের দু’ পাশে তার হাত দুটো নড়াচড়া করছে।

সেই রাতে মেয়েটার বেড খালি পড়ে থাকে। তারপর, একসময় নিঝুম অন্ধকারে তার সন্তানের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় মেয়েটা। শিশুটি কেঁদে ওঠে। তারও হয়তো বমি পায়।

মেয়েটার হাত কিন্তু নিশপিশ করতে শুরু করেছে ততক্ষণে।

সম্পর্কগাছ

এসো, দু’ সারি ঝাউগাছ হই। ছুঁয়ে থাকি একে-অপরকে। আষ্টেপৃষ্ঠে থাকি একে অপরের সঙ্গে। সাগরের তুখোড় হাওয়ায় উপড়ে যাওয়ার ভয় নেই। বরং, ক্রমশ বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রে ছড়িয়ে যায় আপন শিকড়। তারপর পরস্পর আলিঙ্গনে তৈরি হয় এক মায়াবী চাদর যার উপর প্রচণ্ড গরমে দু’ পশলা বৃষ্টি ঝরে পড়ে। কল্পনারা আরামদায়ক ভাতঘুমে ভেসে বেড়ায় সাত সাগর আর তের নদীর পারে। এসবকিছুই ঘটে, কিন্তু দেখা যায় না। এসবই তো পর্দার পিছনের অদৃশ্য চালিকাশক্তি। যা অনুভব করা যায় তা হল সালোকসংশ্লেষ। জেগে ওঠে ছোটো কিন্তু দুর্নিবার শপথে নিরন্তর বাষ্পীভূত হতে চাওয়া জলকে ধরে রাখা প্রেমরঙা পাতা। যা দেখা যায় তা এই প্রেমরঙা পাতা। হ্যাঁ, এখানে পাতার রং প্রেমই তো। নিয়ত সংশ্লেষে ক্রমাগত প্রাণবায়ু নিঃসরণে সে আরও আরও প্রেমিক হয়ে ওঠে।

তোমাকে লেখা প্রতিটা চিঠিই শেষ পর্যন্ত প্রেমের ইস্তেহারে বদলে যায়। কোনো এক মায়াবী সংকেতে। অথবা মায়াবী গোপনীয়তাকে পাশে সরিয়ে আলিঙ্গন করে প্রকাশ্য বিদ্রোহ। প্রকাশ্য আলিঙ্গনে যে বিদ্রোহের আঁচ আছে তা কোনো গোপন সংকেতে নেই যে! এভাবেই গোধুলীর মায়াবী কুহক এড়িয়ে এগিয়ে চলে প্রেমপত্র। তার পরিশেষের পথে, যে পরিশেষ আদপে অস্তিত্বহীন। যে পরিশেষ আসবে না কখনোই।

এভাবেই সমস্ত লেখা বদলে যায় প্রেমপত্রে। এভাবেই সমস্ত প্রেমপত্র ক্রমাগত বেড়ে ওঠে সম্পর্কগাছের মতো। এভাবেই সমস্ত সম্পর্কগাছ পেরিয়ে যায় ইতিহাসদাগ।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close