Home কবিতা ধাবমান ইতিহাসযান / কবিতাগুচ্ছ ৩ । সরকার আমিন, চন্দন চৌধুরী, সিদ্দিক প্রামাণিক, হাসিদা মুন
1

ধাবমান ইতিহাসযান / কবিতাগুচ্ছ ৩ । সরকার আমিন, চন্দন চৌধুরী, সিদ্দিক প্রামাণিক, হাসিদা মুন

প্রকাশঃ November 22, 2016

ধাবমান ইতিহাসযান / কবিতাগুচ্ছ ৩ । সরকার আমিন, চন্দন চৌধুরী, সিদ্দিক প্রামাণিক, হাসিদা মুন
0
1

সম্পাদকীয় নোট : মানবিক সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতিই আমাদের সংস্কৃতি। আর এই লক্ষ্যেই তীরন্দাজের বিশেষ আয়োজন ‘ধাবমান ইতিহাসযান’। পূর্বসুরীর মতো এই সময়ের কবিরাও মানবিক অবমাননার বিরুদ্ধাচ্চরণ করেছেন, বলেছেন সর্বমানবিকতার কথা। পড়ুন এই আয়োজনের  তৃতীয় গুচ্ছের চারজনের কবিতা।

 

সরকার আমিন / তুমি মালউয়ান হলে আমিও মালউয়ান

 

আমি রোজা রাখি…তুমি পুজা করো

আমি চুমু খাই মক্কার কালো পাথরে; তুমি স্নান করো গঙ্গায়

 

ঈদের দিন আমার ভাল লাগে…নতুন জামা পড়ি
তুমি দূর্গাপূজায় লাল শাড়ি কেনো

 

অসুবিধা কি?

 

আমাদের ধর্ম-কর্ম আলাদা
কিন্ত তুমি আমার বন্ধু। তোমার স্বামীও আমার বন্ধু
তোমার সন্তানও আমার বন্ধু।

 

আমরা খুশি হলে একসাথে জয়বাংলা বলি
বেজার হলে একসাথে আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো গাই

 

শোন জৈয়ন্তী রানী; তুমি মালউয়ান হলে আমিও মালউয়ান।

১৬/১১/২০১৬

 

চন্দন চৌধুরী / বন্ধুভয়

 

আমাদের ক্রোধেরাও বন্ধু ছিলÑ বরফ উত্তাপে; বুকেদের বাঘেরাও

ডেকে উঠত হরিণীর চোখে; সুখেরাও হেঁটে যেত

পাশাপাশি এবং দুখেরাও কাঁদত কাঁধে রেখে কাঁধ।

 

আমাদের সৌন্দর্য ছিল ষড়ঋতুজুড়ে।

 

তোমার পদচ্ছাপের পাশে আমার পদচ্ছাপ পড়লে কবিতা হয়ে যেত;

তোমার ঘরগুলো কথা বলত আমার ঘরগুলোর সাথে;

এবং আমাদের রক্তরাও ছিল ভাই বন্ধু ভাই…

 

এক ছিল আমাদের গ্রামের নাম, নদীর নামও, এমনকি মেঘ ও মাঠের…

তবু আজ মনে হয়

তোমার গ্রামের নাম আছে, আমার গ্রাম নাই

তোমার নদীর নাম আছে, আমার নদী নাই…

আজ শুধু বন্ধুভয়

তুমি আগুন হলে নিজেকে ছাই মনে হয়।

 

সিদ্দিক প্রামাণিক / দুটি কবিতা

 

সংখ্যালঘু

 

লানতের তক্তির মতো ঝুলানো মাদুলী

পৃথক বাতাসে দুলে দুলে

সংখ্যালঘু বলে ডাক দিলে –

মনে আসে ডোডোদের গান,

দুরতম দ্বীপে এখনো খুঁজে পাই ফসিল পালক।

 

অবশিষ্ট যা কিছু তা মৃতপাতার ইতিহাস

 

 

লাল মোরগ

 

যাবতীয় সম্প্রীতি ঢুকে গেলে পায়রার খোঁপে

অবরুদ্ধের ঝাঁপও নেমে যায় দুরের ইশারায়।

 

নিমগ্ন রাতের সমিপে-

তলোয়ার নগ্ন করে অন্ধ গায়ক শোনায় উদ্ধত গান

 

চোখে লু হাওযার সানগ্লাস, সব অচেনা অচেনা লাগে

সড়কে তড়পায় রক্তাক্ত লালমোরগ

 

হাসিদা মুন / সবুজতার অদলবদল

 

স্বর্ণবর্ণ বাঁশে কঞ্চির তরুণ পাতা দোলে

মিষ্টি বাতাসে সবুজতা করে অদলবদল

প্রকৃতি যেখানে সহস্র যুগেও ঠায় অবিকল

মনের বিদ্বেষে কেন মানবের বক্রভাব

কেন মুষ্ট্যাঘাত উঠে আসে অবিচল?

 

হিংস্রতায় পুরে দিলে বিপদসংকেত

উন্মুক্ত রক্তে নামে বিলাপের ঢল

কেন কেন – বিপন্ন হে সময়!

তোর বটুয়ায় ভরে দিস – আক্ষেপের জল?

 

 

শোনো হে মানুষেরা !

কন্ঠে তুলে নিওনা আর সংঘাতের ধ্বনি

চলো , জীবনের মাধুর্য দিয়ে – জীবনকে বুনি

প্রেম বিলিয়ে হই – প্রেমঋণে ঋণী

 

গুচ্ছাকার ফলে দ্যাখো কী যে শোভা পায়

দলছুট হয়ে পড়লেই – পায়ে দলে যায়

তোমরা কি অতীত থেকে ইতিহাস শেখোনি

দেখেছো দ্রাক্ষাকুঞ্জ – তার পতন দেখোনি?

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close