Home কবিতা ধাবমান ইতিহাসযান : কবিতাগুচ্ছ ৪ / শামীম রেজা, মুজিব ইরম, শুভাসিশ সিনহা, স্বরলিপি
1

ধাবমান ইতিহাসযান : কবিতাগুচ্ছ ৪ / শামীম রেজা, মুজিব ইরম, শুভাসিশ সিনহা, স্বরলিপি

প্রকাশঃ December 1, 2016

ধাবমান ইতিহাসযান : কবিতাগুচ্ছ ৪ / শামীম রেজা, মুজিব ইরম, শুভাসিশ সিনহা, স্বরলিপি
0
1

মানবিক সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতিই আমাদের সংস্কৃতি। আর এই লক্ষ্যেই তীরন্দাজের বিশেষ আয়োজন ‘ধাবমান ইতিহাসযান’। পূর্বসুরীর মতো এই সময়ের কবিরাও মানবিক অবমাননার বিরুদ্ধাচ্চরণ করেছেন, বলেছেন সর্বমানবিকতার কথা। পড়ুন এই আয়োজনের  চতুর্থ গুচ্ছের চারজনের কবিতা।

 

শামীম রেজা / যখন রাত্তির নাইমা আসে

 

যখন রাত্তির নাইমা আসে শিলিগুড়ি পাহাড়ের ধারে, উৎসবহীন

ঈদ নামে আমাদের নগরে, সেই একবার কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে

হাঁটতে গিয়ে মনে হইছিল খুবসুরত আমার পৃথিবীর, এমন

সুন্দার বুঝি আমাগোরে ডাকে। আর একবার মঙ্গার বাড়ি গিয়া

অনাহারী দুইশো একটা লাশ দাফনের কালে, কাফনের মইধ্যে

খুঁজে পায়াছিলাম বীভৎস সুন্দরেরে; ঠিক তার পরের বছর

গাইয়া-গাইয়া চেহারা লইয়া জীবনবাবু আইসা দাঁড়ায়ে ছিলেন

মৃতপ্রায় ধানসিড়ি নদীটার ধারে, যখন কি-না লাবণ্যরা

হারাইতে থাকে দূর ক্যাসিনোর জিপসি আঁধারে। চে’র ছবি

আঁকা খণ্ডিত মুখ বুকে আঁইকা তরুণী হাঁইটা যায় টিভির পর্দায়

কিংবা আজিজ সুপারে, উরুসন্ধিতে চিচিঙ্গার ঘ্রাণ। ডাক দিয়া

বলি জীবনবাবুরে, আহাজারি করো না, তোমার বনলতা সেন

নাটরের কোথাও থাকে না। দেখে যাও এই যে তোমার

প্রিয়তমা রুপসীয়া গ্রাম! মাধুরী আর নাদিয়াদের এই

বালাখানা, এখানে অঘ্রানে বালাম ধান ওঠে না, অর্ধেক লোক

থাকে অনাহারে আর আমরা বেজোড় প্রতিবেশী – কতক

থাকি বাটাজোড়ে।

 

মুজিব ইরম / কসম

 

সেই কবে লক্টন জবার ডাল দিয়েছিলে তুমি

দিয়েছিলে রাধাচূড়া

তুলসির চারা…

 

আমার বাগানে মাধ্যমিক মনে

তারা ফুটেছিলো খুব…

 

রোজ ভোরে মা আমার

ওজিফা তেলাওয়াত শেষে পানি দিতেন বাগানে

জবাগাছে তুলসিচারায় রাধাচূড়াতলে…

 

তুলসির রসে

মায়ের ছোঁয়ায়

একদা আমার সান্নিপাতিক জ্বর কমে গিয়েছিলো…

 

ঈশ্বর জানেন

তুমি তো আমার জানের টুকরা ছিলে

পড়শিনী ছিলে, আজও আছো, খোদার কসম…

 

শুভাশিস সিনহা / ভাঙার গান

 

বেশি দূর নয়, জল ছুঁয়ে দিলে জাগবই,

ও মাটি তোমাকে মেঘেদের মতো ডাকবই।

 

জমিন তোমার ভেঙে দেব সব আল

দেখব কেমন ভূগোলবিহীন চষে যায় কার হাল।

এখনই তো সময়,

জাগবই।

 

সুন্দর চাঁদ, সরাও তোমার ছায়া

ঘুমবিহ্বল চোখের পাপড়ি ভুলুক ঘুমের মায়া।

এখনই তো সময়,

জাগবই।

 

স্বরলিপি / ঘুমের ভ্রমণডায়েরি

 

পাসপোর্ট হারিয়ে এপাতা-ওপাতায় হেঁটে যায় দিন

তার গালেপড়া লাল লাল তিল

ক্যান্সারের ঘাঁয়ে জমা করে কারুকাজ।

 

সাবানের মোড়কে চন্দন সুবাস

কালোর বিপরীত – বন্দনা লেখে

 

দৃষ্টিতে ঝুলতে থাকে চক্ষু হাসপাতাল, এই সব দিনেও

কর্কশ কাকেরা বাঁচায় কোলাজ গানের প্রতিশ্রুতি।

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close