Home কবিতা ধাবমান ইতিহাসযান : কবিতাগুচ্ছ ১
0

ধাবমান ইতিহাসযান : কবিতাগুচ্ছ ১

প্রকাশঃ November 17, 2016

ধাবমান ইতিহাসযান : কবিতাগুচ্ছ ১
0
0

সম্পাদকীয় নোট : মানবিক সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতিই আমাদের সংস্কৃতি। আর এই লক্ষ্যেই তীরন্দাজের বিশেষ আয়োজন ‘ধাবমান ইতিহাসযান’। পূর্বসুরীর মতো এই সময়ের কবিরাও মানবিক অবমাননার বিরুদ্ধাচ্চরণ করেছেন, বলেছেন সর্বমানবিকতার কথা। পড়ুন এই আয়োজনের প্রথম চারজনের কবিতা। 

ওবায়েদ আকাশ / তারকা শিকার

যেসব গুঞ্জন কোনো কাজে আসবে না

আজ তা বাতাসে উড়ুক

পুড়ুক দীর্ঘশ্বাস, শতাব্দির অস্থি মজ্জা

অঘ্রাণের কাতর কোরাস

 

রঙধনু ফেঁসে গেছে মেঘেদের কুহক প্রজ্ঞায়

যদি বলো একবার তবে

সাম্রাজ্যের সুই-সুতো আস্তিনের প্রান্ত ধরে

ছিঁড়ে ফেলতে পারি

যদি বলো গভীর পাতাল খুঁড়ে

তুলে ধরি রক্তাক্ত বীভৎস স্বীকৃতি

 

তোমাদের শ্বেতসূর্যের দেশে

আগুন কোনো শেষ চিহ্ন নয়

পাথর-ভাস্কর্য সিনায় — বুলেট এক

ছেনালি চরিত্র ছাড়া আর কিছু নয়

 

ঐ দেখো মৃতপ্রাণ নক্ষত্রে কতটা প্রবল!

এই মাটি, ততোধিক পবিত্র বিশ্বাস

আমরাই মিশে আছি ভূমিপুত্র ভূমিকন্যা

কানায় কানায়

 

জ্বালাও। ছোটাও তবে বোকা গুলি

সহিংস লোবান!

রকমারি বুলেট কি শিখেছিল

কোনো কালে কোনো দেশে

তারকা শিকার?

 

পিয়াস মজিদ / পরিস্থিতি

 

রক্তাভ চাঁদ

তারাপোড়া ছাই

রোদফুল মেঘফুল কুয়াশার ফুল

তোমার গোপন গোলাপ

রাক্ষসীর সৌন্দর্য, গার্বেজের গন্ধ

দামিনীর গান, কৃষ্ণরাতের নীল রক্তপাত

অন্ধ বোর্হেস, পৃথিবীর সবশেষ ছোটগল্প

ভূমি ও শীর্ষের ইকুয়েশন

রোববার বানিশান্তা, সাধু থোমারের গির্জা

এক কিলো হর্ষ, তিন কিলো বিষাদ

ক্ষণিকা আর শাশ্বতী

বুদ্ধের চুল, হিংসার কিংডম

জুলাই মাস তেরছা বৃষ্টি;

মেঘের হামলায় ত্যক্ত আকাশ

নিউ টেস্টামেন্ট, গ্যাস চেম্বার, ঈশ্বরকণা

দূর্গার ভাঙা মাথা, সাঁওতালি-রঙ কান্না…

মরচে পড়ে পড়ে আরো ধারালো হওয়া

আমাকে খুনের ছুরিটা।

 

কামরুল ইসলাম / পোশাক

 

হরিহর মিস্ত্রির নৌকোর গড়নই আলাদা—এই কথা ঢেউয়ের

 

সেই নৌকোর গলুইযে সুধাংশু, আলিমুদ্দি, রেহেনা, পার্বতী

জলের পুরনো কেচ্ছা নিযে জাগিয়ে তুলছে কাকডাকা ভোর —

 

সম্মিলিত নদীযাত্রা শেষে আমরা কখনই কী করে

ঢুকে পড়ি রাক্ষসের অন্ধকার ঘরে

মোহন্ত, এবার, অবিনাশী মন্ত্রে তোমার জ্বালিয়ে দাও অবাধ্য লণ্ঠন —

 

মুচিপাড়ার কাছাকাছি এসে শ্যামপাখি জ্বলে ওঠে হঠাৎ

কাঁঠালতলায় ভোরের কাঁচুলি ছিঁড়ে নেমে আসে অন্ধকার

রক্তের গহীনে দেখি সুধাংশু কিংবা রহিমুদ্দির অভিন্ন মুখ

এই রক্তের ভেতরে এক ছোঁয়াচে অসুখ, বুনেছিল কারা?

কারা ওই রূমাল উড়িয়ে ভেঙে দিল বাতাসের বুক!

 

করমচা গাছের তলে বৃষ্টি এসে ছুঁয়ে গেল রমেশের হাত

সেঁজুতির শাড়ির আঁচল বিঁধে গেল করিমের কাঁধে

এমত সাঁতার নিয়ে সারারাত জেগে থাক চাঁদের চেরাগ —

 

একটি অনিঃশেষ ঘাটের পাড়ে জমে ওঠে নানারঙ পাখিদের হাট

ওই হাটে পাওয়া যায় উচ্ছ্বাসে ভরা শুধু মানুষেরই অভিন্ন পোশাক।

 

সুমী সিকানদার / অ-সম প্রীতি

 

ঘরের পিছে আগুন দিলি

সামনে দেখা দিলি না

আমি তো তোর বন্ধু ছিলাম

তুইও কি তা ছিলি না?

 

ভিন্ন গড়ন ভিন্ন ধরম

আগুন দিলি উচ্ছেদে

চামড়া পোড়ার চাইতে বেদন

বন্ধুরে তো বিচ্ছেদে।

 

 
হিন্দু আমি আগেও ছিলাম

প্রতিমাতো ভাঙেনি

ঈদের চাঁদের খুশী আমার

ভাগেতে কম পরেনি।

 

কোন ধর্মের কোন ইশারায়

সাঁওতালেরই ঘর পোড়ে

খোলা আকাশ মাথার উপর

বিবেক বেচে সের দরে।

 

 
একটাই দেশ কয়টা রঙের

মানুষ ছিলাম একসাথে

গায়ের রঙের কয়লা ধুয়েই

মানুষ আছি এক ছাঁচে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close