Home কবিতা ধূসর পাণ্ডুলিপি >> এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবিদের একগুচ্ছ নতুন কবিতা
0

ধূসর পাণ্ডুলিপি >> এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবিদের একগুচ্ছ নতুন কবিতা

প্রকাশঃ October 8, 2017

ধূসর পাণ্ডুলিপি >> এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবিদের একগুচ্ছ নতুন কবিতা
0
0

ধূসর পাণ্ডুলিপি >> এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবিদের একগুচ্ছ নতুন কবিতা 

প্রান্ত পলাশ >>

মানুষ

পেয়ারাপাতার কাছে গেলে

ডেকে ওঠে কাদের কুকুর

ছাদে বসা অপরের নারী

রাস্তায় পায়ের নূপুর

 

এতটা মাংসের লোভ মাখা

চিকেনের ঝলসানো ঝোলে

ধূমকেতু-লেজে নামা ছড়ি

গাছের পোশাক বল্কলে

 

মানুষের ঘেউ ঘেউ রবে

থেমেছে সিলিং ফ্যান একা

ওভেনে গরম ভাত তবু

পায় নাকো মাংসের দেখা

 

এত এত পোশাকের ভিড়ে

পার্কে হাঁটছে এক নারী

উবু হয়ে কারাতের ঢঙে

শুয়ে আছে ফ্রিজে তরকারি

 

রাশিয়ান ভোদকার মতো

জড়োসড়ো যখন হৃদয়

সিরিয়ায় বর্ষিত বোমা

টয়লেটে রেখে যেতে হয়

 

তবে কি রক্ত কোনোখানে

ডেকে গেছে মানুষের নাম

চিত্রকলার ফ্রেমে কাঠ

অহেতুক রং বদলালাম

 

বালিশ নিজেই ঘুমঘোরে

রেখেছে শরীরে তার পা

মঙ্গলে বিদ্যুৎ যাবে

মৌলভি বলে যাবে ‘না’

 

ছাদ থেকে সব দেখা যাবে

অদিতির চশমার ফাঁকে

সমুদ্রপাড়ে ভাবে কেউ

‘ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে’

 

দেশ দেশ দেশপ্রেমে ভরা

ফ্রিজে থাকা সোডাটির নাম

যে কেউ বলতে পারে ‘ফাক’

তেলে ভরা মোর ইসলাম

 

তা হ’লে শুক্রতারা কেন

সন্ধ্যায় প্রতিদিন আসে

মানুষ আজব প্রাণী এক

মরে যেতে বড় ভালবাসে

 

রান্না

 

তোমার রাঁধুনি দেখি, পেছনে দাঁড়িয়ে

 

এর আগে, যেভাবে ছাড়িয়েছিলে মুরগির চাম,

মাংস থেকে অবাঞ্ছিত লোম— চর্বি ও পশম;

জলে ভেসে কোথা গেল বেসিনের লাল! আম

কুচি ক’রে কেটে ফের ডাল— এ দুপুরে দৃশ্য উপশম।

 

স্লিভলেস চোখে দেখছি তোমার বাহু, মশলায় রাখা আঙুল-চামচ;

রক্তও হারিয়ে গেল মরিচের লালে, আলু কিছু গিলে খেল তার।

পেছনে দাঁড়িয়ে শুনি বহুভোগ্য রোল— পাতিলের বুকে খচখচ,

কিচেন এমনই, নানা ঝাঁঝে মিশে থাকা জীবন সবার।

ঘেমে-নেয়ে তুমিও অস্থির, ঘাড়ের পশমে জমা জল

সুগন্ধ এনেছে। কোথাও উঠেছে ঝড়, কে যে হিন্দু কে যে মুসলিম—

কানে বাজে টিভির খবর। আমারও শরীরে ঢল,

ঘামের? রান্নার? না কি খাবার ও খাদকের ঘৃণার আফিম?

 

তোমার রাঁধুনি দেখি, কিচেন ছাড়িয়ে

 

শাহ মাইদুল ইসলাম >>

 

দুপুরগাছে বাহ

সোমত্ত দুপুর, আকাশে একটা তীক্ষ্ণ ঈগল

ভারী চক্কর দেয়

চিরদিকের সূর্য রান্না করে

তার প্রার্থনাসমূহ

 

উজ্জ্বল একখিলি মুখ

জলদি জানালায়

ঘাই

মারে

 

দুপুরগাছে বাহ ২

 

বড়মুখ করে চোখের পাতা

নির্ণিমেষ তাকিয়ে আছি…

হে দৈব বৃক্ষ, পালন করছি তোমারই হুকুমত

রক্তনাড়া দেখছি, হাসিও

কাঠ চেরাইয়ের ঘুমের ভেতর

 

আমফুলের ছায়ায় মৃত মাছেরা

চোখ মটকে আছে—

লাগাতার ঘুমের শোরগোল থেকে যেন ডাঁই করে রাখা

করাতদুপুরে ফুলকি ছুটছে আহাদের

 

ভারবাহী একটা ঝানু ট্রাক নিঃশব্দে মাড়িয়ে গেল;

হৃদয় নিংড়ানো পথ

 

রিমঝিম আহমেদ >>

মেঘ-পাহাড়ে

ঘুমের ভেতর আরো মেঘ,

সজল শ্রাবণের দানা, মাথানত

করে কোন চাঁদের পড়শি!

বর্ষার ভাড়ারে কত জল

নেপথ্যে রোদে পুড়ে গুঁড়ো

হয়ে যায়? পাহাড় চাষিরা

জানে কত ঢালু হৃদয়ের বুক

সবুজ হতে হতে উড়ে যায়

পাখিদের ঘুমে। আহা জুম,

দূরের টঙঘর! ছায়ার

আত্মাধীন শীতলতা।

দুচুয়ানির গেলাসভরে কার মুখ

আটকে রাখি নেশার ছলে!

 

পথিক

কিছুটা আলাপ গন্ধ নিয়ে যেতে চাই

জলের ঐ উপবনে তৃষ্ণার মতন

অনেকটা ফিসফাস জমা করে রেখে

টানছি ঘুমের ঘানি প্রলাপ-প্রবণ

 

মর্গের ঐ ছায়াছবি আগলে রেখেছি

দাফনে কাফনে ঢালি অলেখা বারতা

প্রসন্ন প্রদাহ দেহে করে সিলগালা

স্মৃতিপথ হেঁটে আসে বুনো ঝরাপাতা

 

চকে আঁকা হাসিটুকু ঝাড়নে মুছেছি

এফোঁড়ওফোঁড় করে জীবন সেলাই

পাথর মুখের কাছে ফুলের সুঘ্রাণ

নত দিনে অবিরল প্রণয় কুড়াই

 

পরগাছা হাতে-পায়ে গজিয়ে উঠেছে

‘আমি’ কি আমারি খোঁজে পথিক হয়েছে?

 

হাসিবুল আলম >>

মঙ্গলরোগ

আমার  দরকার ছিল বুধবার। আজকে ক্যানো জানি

‘বুধবার বুধবার’ লাগছে। কিন্তু বুধবার আজকে না।

আগামীকাল বুধবার। যদিও আগামীকাল  আমার কাছে

বুধবারের কোনো দরকার নাই।

 

আজ মঙ্গলবার- আমি চাই তোমার মঙ্গল হোক।

তুমিও আমার মতো মঙ্গলরোগে ভুগতে থাকো যে কারো সাথে

অন্তত পরবর্তী যে কোনো বুধবার পর্যন্ত!

 

এক প্রকার গাছ

মানুষটা আসলে একপ্রকার গাছ। অপেক্ষা করে

আছে।

কোনো এক কাঠুরে এসে। তাকে হাত ধরে নিয়ে

যাবে করাতকলে।

তারপর তার হাত কাটবে। পা কাটবে। চোখ থেকে

রোদ খুলে নিবে।

শাখা ভাঙবে। প্রশাখা ভাঙবে। পাতা ছিঁড়বে। এবং

শেকড় কমাবে।

এভাবে ভাঙতে-ভাঙতে। বা ছিঁড়তে-ছিঁড়তে।  বা

কাটতে-কাটতে

পর্যায়ক্রমে একদিন মুখ থেকে বেসামরিক জিভটাও

কেটে নিয়ে

ঠিকঠাক এই পৃথিবীর বসবাস উপযোগী করে

তুলবে তাকে।

 

মানুষটা আসলে এক প্রকার গাছ। অপেক্ষা করে

আছে।

 

আসাদ জামান >>

নন্দন

উল্টে দেয়া যায় সহজেই, যেন এ ছকগুলো-

হতে পারে আরও কিছুটা জ্যামিতিক,

কিছুটা জটিল আরও।

যতটা রহস্যগন্ধী ফুল,পড়ে ফেলা যায় আরও নিভৃতে

আয়তনে অই শূন্যের ওপর দাঁড়িয়ে তোমার বৃতিমূল।

বৃতিগুলো ফ্যাকাশে-লাল, নাভি -পদ্মের ধারণা নিয়ে দাঁড়াও

প্রাচীন শ্লোকে আমিও তবে উস্কে দিতে পারি দুখিনী ল্যাম্পপোস্ট।

তবু কী যেন ভাবনায় ওড়ে  স্বপ্ন শৃগাল

অজস্র মিথোচারী-

তোমার ভাবনার নভোচারী রথ

গতির প্রশ্নে ছিটকে পড়া আমর্ম রুবাই–

আমোদপ্রিয় পাথর -মুক্তোর দেশ উল্টো পোশাকের

নন্দন নিয়ে ঘোরে।

 

আস্থা

 

নক্ষত্র থেকে নক্ষত্রের দূরে সরে যাওয়া

ফলত সমস্বর নিভে আসে ক্রমশ

সহস্র আলোকবর্ষ দূরে—

তির তির করে কাঁপছে আলোকমালা

ওকি আদৌ ছিলো ওখানে,

অই কারুচিত্রের দাবারু আকাশ!

ভ্রম-মন্থরতা পেরিয়ে—

কেমন চূর্ণতার দিকে চলে যাচ্ছে প্রিজম চোখ,

কাকে আজ জানবো গূঢ় সত্য!

এই ভ্রম-মন্থর সময়,এই বিভাজন

কেবল অসংযম ছড়িয়ে যাচ্ছে শরীরময়;

পরস্পরের শত্রু হয়ে উঠছি আমরা

ছায়াকে মুছে ফেলার জন্য তৈরি করছি ছায়া

ছায়ার অন্তরালে ওৎ পেতে আছি,

বৃংহন শেষে ঝাঁপিয়ে পড়বো, রক্তাক্ত করবো

যতটা তোমাকে —

ততোধিক নিজের অনুভূতিসকল

ওষ্ঠে অস্ফুট সকল শব্দ সম্ভাবনা।

 

আল ইমরান সিদ্দিকী >>

 

মলিন প্রবাসী

কমলা আলোর কোমল বিকালে

নিস্তরঙ্গ পুকুরের জলে

শাপলা ফুল ও পাতার ওপরে

ঝরছে কমলা কৃষ্ণচূড়ার ফুল।

 

ফুলের ওপর ফুল ঝরা দেখি

ফুলে ফুলে আজ এত মাখামাখি!

আলোও ঝরছে পানির ওপরে

চূর্ণ চূর্ণ জাফরান বিলকুল!

 

সেও তো দশেক বছরেরও বেশি,

হয়ে গেছ তুমি মলিন প্রবাসী

আমরা বঙ্গে দু্ইবেলা খেয়ে

বাংলা ভাষায় দু’চার কবিতা লিখি

 

তোমার তুষার, তোমার গাউন

তোমার শিরোপা, বিষাদ-ক্রাউন

আর যতশত খাবারের ছবি

যতটাই পারি দূর থেকে এঁকে রাখি।

 

কেননা তুমি তো লিখতে পারো না

ভীন ‍ভাষা ঠেলে বলতে জানো না

সময় কোথায় তোমার অতটা

আমরা এখানে জ্যামে-ঘামে বসে ভাবি

 

লেখার ভিতর কত কত স্মৃতি

অনুযোগে ভরা যত সম্প্রীতি—

চূর্ণ চূর্ণ জাফরান ওড়ে

ছবির গভীরে ভাঙাচোরা কত ছবি!

 

বিষণ্নতাবোধে

তুমি তো আমারই—

সঙ্গমের শেষে বিষণ্নতাবোধে

কেঁদে ফেলা নারী।

খেতে পারো কলা, একাধিক—

ট্রিপটোফেন করে দেবে

মেজাজকে ঠিক।

ধরো, সূর্য নাই, আকাশ কপিশ

আরও সাত দিন—

শেষ দিনে তুমি খেতে চাইবে বিষ?

মন ভালো করা গান,

ইন্ডিয়ান ফ্লুট চলো শুনি

কী-বা আর দিতে পারি, স্নেহে খানখান।

 

উপল বড়ুয়া >>

 

পতনোন্মুখ

আরও নিচে বধ্যভূমির ধারে এই আমার আদিম সঙ্গীত

বেজে যাও বেজে যাও—ফুলের সুবাস যেখানে এসে রাখে

দাঁড়ি ও কমার স্তুতি তার ধারে কাছে কোথাও রয়েছে

এক বুভুক্ষু রাখাল; বাঁশি বাজায়। পৃথিবীর জন্য নিয়ে

আসে চমৎকার রোদ। বলে—মাটি তুমি রসালো ফল।

শ্বাসমূল ছিঁড়ে ধেয়ে আসে জলগান; মাটিখেকো মেয়েরা

খুব ঘুরছে আজ দিগ্বিদিক তারপর লিখে রাখছে পুঙ্খানুপুঙ্খ

অথচ এই সমৃদ্ধ পতনের ধারে আমার আদিম গান

বর্হিভূত প্রেমিক আত্মা নিঃসংকোচে শুয়ে আছে উন্মাতাল।

 

দূর শৈশবের গান

ঐ স্তনপাহাড়ে আজ ঘুরে ঘুরে মারা যাচ্ছে ঘোড়সওয়ার; দস্যু-তাতারের দল

ভোঁতা শরতের দিকে তারা ধেয়ে যাচ্ছে হুল্লোড়ে— থিকথিকে মেঘেদের দেশে

সম্ভাব্য সব ঘটে যাচ্ছে; বধ্যভূমির পাড়ে দাঁড়িয়ে ডাকতে ইচ্ছে হচ্ছে—‘কুহু’

একটা ‘প্রবেশ নিষেধ’ গেইটের সামনে দুইটা কুকুর শুঁকে নিচ্ছে নিজেদের

শেষ রাতের ঘ্রাণ— কড়া নিরাপত্তার ফটক পেরিয়ে ওগো শিউলি তোমাকে

খুব পেতে ইচ্ছে করে আজ কুকুরের মতো-ব্যাঙের মতো কোমরে পা তোলে

ঐ স্তনপাহাড়ের খাদে কাশবনে আমার আধখাওয়া লাশ পাওয়া যাবে কবে?

 

মাজহার সরকার >>

 

সেজদায় কামিনীবল্লভ

মাটি থেকে চিৎকার উঠে যাবে আসমানে

যোনিমুখে শিশু এসে ফের লুকাবে

গর্ভে

পাহাড় উড়ে যাবে বাতাসে, দু’ভাগ হবে সামান্য সুঁই

পিপঁড়ার ডাকে বধির হবে কান

অগ্নেয়গিরির মুখে কাপাঁ হাতে শেষ সিগারেটটা

জ্বালিয়ে দেখবে

সমুদ্রের সব পানি শেষ ফোঁটা হয়ে

জমে আছে মরিচাপড়া ট্যাপের মুখে

মাটি চেয়ে আছে, ভগিনী শুয়ে আছে

এককেটা ভাতের দানা আকার নেবে তিমির

তবু ক্ষুধা নেই, তবু জ্বালা জ্বালা

শরীরে রক্ত ফুটতে শুরু করবে

চোখ দুটো পাথর হয়ে কোটরে ঘটঘট শব্দ করবে

এবার আর কোন দরজা বানাবে

পালাবে

মুখমণ্ডল ধুয়ে, হাত কনুই মুছে

মাথার এক-চতুর্থাংশ ঘষে

আমি কি সঠিক স্থানে পেরেছি পৌঁছাতে পানি?

 

সুন্দরী প্রতিযোগিতা

বলো পৃথিবীতে কী তোমার প্রিয়

ভাতের সাথে লবণ, ধরণীর দ্বিধা!

মা

তারপর?

টাকি মাছের ভর্তা

তারপর?

লা’নত তাদের যারা বিরোধিতা করলো

যারা সুন্দরী দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিলো আবর্জনার দিকে

ক এর কাছে নদী সুন্দর

খ এর কাছে পাহাড়

গ এর গোলাপ সুন্দর

পুরো বর্ণমালার কাছে

বগল থেকে উচ্ছেদ করা ঘুঘুর বাসা

হেয়ার রিমুভার।

 

কুশল ইশতিয়াক >>

 

এই বৈশাখ ১৫

সন্ধ্যা হইলেই ঝিঁঝিঁ ডাকে আমার বুকের ভিতর

 

বন্ধ করে রাখি, চোখটা বন্ধ করে রাখি

ফিরতি পথে উড়াল দিয়া উইড়া গেলো পাখি

পাখি তোমার নিবাস কনে— কোম্নে বাড়িঘর

মাটির পথে, অবহেলায় পইড়া আছে খড়

পথের ধুলা উড়াই দিয়া ফুরায় গেছে ফুল

চান কি তারা, দিশেহারাই, জগত লাগে ভুল

সন্ধ্যাবেলা বনের দিকে যাইতেছে মোর পা

বাড়ির পথে ফিরতে গেলে, মন্দির দেখি না

তয় কি আমি হারাইছি সে আমার প্রিয় মুখ

হারাইছি সে উঠান আলো— পুঁথি পাঠের রাত

চক্ষু জুড়ে জোছনা খেলা বক্ষ জুড়ে ঘাত

নিশি রাইতে বন বাদাড়ে ঝইরা গেছে ফুল

পথ হারানো নাবিক আমি, জগত লাগে ভুল

সুরমা ঘ্রাণে ডুইবা আছি, মৃত্যু কারে কয়

ডাকছে ঝিঁঝিঁ রাত বিরাতে হইছে দেহ ক্ষয়

বাড়ি ফেরত আসতে গিয়া হারায় ফেলছি পা

কন্যা ছোট— মাগো তোমায় দেখতে পারছি না

 

একটি ইচ্ছেপূরণের রাত

সুপারিগাছের দিকে তাকিয়ে মনে হলো এই হাওয়া সুন্দর। মনে হলো এই হাওয়া এসেছে বেহেশত থেকে, অখন্ড অবসর এখন আমার। মনে হলো দেহ খুলে আজ চাঁদ দেখব, দেহ খুলতেই স্পষ্ট হয়ে পড়ে বোটা। ফুলের ধারে আমি আর যাব না, প্রত্যেক শরৎকালে আলোকের এরূপ কিছু হেতু থাকে। পৃথিবীর যে জানালা অবারিত খুলে গেল, তা ঠিক আছে। আমি ওই চারকোনার ভিতরে বসবাস করি, রাঁধি বাড়ি, খাই। খেঁচা শেষ হলে বেঞ্চিতে এসে ঘুমাই।

 

নাহিদ ধ্রুব >>

বিষাদবায়ুর ছায়া ৩০

দুইটা বক, ঢিল ছুঁড়িয়া

দেয়ার পর সামান্য দূরে

অথচ —

দৃষ্টিকোণের কাছাকাছি বসিয়া রয়।

তারা বুঝি

ছায়াতরুর কাঠুরিয়া —

ক্রমপরম্পরায় ঝোপঝাড়ে

হাঁটিয়া বেড়ায়।

 

পৌঁছায়ে যায় কাঙ্ক্ষিত খোড়লে

পরতের পর পরত নামিয়া আসিলে

তাদের ভ্রম হয়!

ছায়া কি হাওয়ার সাথে কথা কয়?

 

অদূরভবিষ্যতে

করতালির মতন আওয়াজ হইলে

দিকভ্রান্ত এক বিভ্রান্তি —

আসিয়া

তাদের সম্মুখে দাঁড়ায়

মনে হয় সমস্ত বোধের ভেতর

একপ্রাণ বিষণ্ণতা

খেলা করিয়া যায়।

 

তারপরিতাপে বকদ্বয় ফের

উড়িয়া যায় —

চতুর্দিকের আকাশ এইভাবে

ঢাকা পড়িলে

মানুষ তাকায়ে থাকে দূরবীনে

অন্ধকূপের জঠরানলে —

পালকযুক্তা মেঘ পুড়িয়া যায়

 

মানুষ, পোড়াগন্ধ পায় —

তাদের হৃদয়ের উনুনে

মৃদ্যু আঁচে —

সিক্ত হয় বোধ

মানুষ,

আধলা ইট খুঁজিয়া বেড়ায়

বিপন্ন এক গুলতি নিয়া—

আসমানে ছুড়িয়া দেয়

বিষাদিতা পালক।

 

এমন পলকা অভিযানে

যে ম্রিয়মাণ অভিজ্ঞতা,

মেঘে মেঘে ভাসিয়া বেড়ায় —

তারে ছাড়িয়া যাইবার

জন্য —

বকদ্বয়

দৃষ্টিভ্রমের কাছাকাছি রয়।

 

বিষাদবায়ুর ছায়া ৩১

আমি একটা নাদান বৃক্ষের মতন গজায়ে

উঠিয়াছি ব্যালকুনির রেলিঙ ধরিয়া —

ভেন্টিলেটরের মধ্যি যে চড়ুই বাধিয়াছে

শ্বাসমূল — তারে বিশুদ্ধতা মনে করিয়া —

আমি ঠোক্কর খাইতেছি নিঃশ্বাসে ;

কতোকার বুলবুলি পাখি —

সেঁধিয়ে গিয়াছে আমার খনিজসম্পদে।

 

এ আহ্বায়িত হাওয়ায় দুলিতেছি ভীষণ —

আকাঠ তারে আঁকড়ায়ে রাখিয়াছি নিকটে

আমারে ঘিরিয়া ধরিছে আতশি এক চোখ

তোমারে খুঁজিতে বিষণ্ণতা আসিয়াছে চিত্তে

 

এই ঘর অনাদরে, যারে ফেলিয়া গিয়াছো —

যে বাড়িয়া উঠিয়াছে আপনাআপনি সঙ্গোপনে

এই ছায়াকরী জল, পালিত হাওয়া কি তারে,

নিয়ন্ত্রণ করিতে পারে? কে পারে শুনাইতে

লোক ঠকানো গান — একদিন এইখানে বসিয়া

আমরা একটা বাগানের কল্পনা করিতাম!

 

আদিত্য আনাম >>

কুয়াশাপরান : ১

তোমাদের শাশ্বত আশ্বাসে আর উল্লসিত হয় না

আমাদের কুয়াশাপরাণ।

চকিত ইশারায় দিনে দিনে যারা জেনে গেছে

তোমাদের লিমেরিক ধোকা!

তারা আমাদেরই প্রানবন্ত চক্ষুদ্বয়।

এই উপ্তত স্রোতে হে নাকডাকা কুমির?

তোমাদের দেখাবো এবার ক্রোধের শানেনুজুল ও

রাগান্বিত অক্ষরের ঢেউ।

 

কুয়াশাপরান : ২

তবু জেগে থাকে অনাগত প্রত্যাশার এক একটি নির্ঘুম চোখ

ম্লান হয়ে আসে যারা কুয়াশাপরানের ক্রোধে ও কচলানও দুঃখে।

আমাদের ব্যাধি-ব্যঞ্জনার মরীচিকারা সাহসী পাখার অভাবে

চোখ-মুখ বন্ধ করে মেনে নেয় বাতাসের কলঙ্কিত রাগ।

 

কুয়াশাপরাণ : ৩

ওরা এসেছিলো শ্বাপদ পায়ে

ওদের কাঁধে ও কোমরে ছিলো শ্মশানের উল্লাস দিয়ে গড়া

পাশবিক মারণাস্ত্র।

পলকে উড়িয়ে দিলো প্রসিদ্ধ ফুল

পথে ও প্রান্তরে শুইয়ে দিলো আমাদের

মৌলিক মগজের লাশ।

রুবি, এরপরেও কি জানতে চাও?

কীভাবে আমাদের পরানগুলি হয়ে গেলো কুয়াশাতম!

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close