Home গদ্যসমগ্র ভ্রমণ নওশাদ জামিল / লঙ্কাপুরীর দিনরাত্তির ২
0

নওশাদ জামিল / লঙ্কাপুরীর দিনরাত্তির ২

প্রকাশঃ December 7, 2016

নওশাদ জামিল / লঙ্কাপুরীর দিনরাত্তির ২
0
0

নওশাদ জামিল / লঙ্কাপুরীর দিনরাত্তির ২

চারটি বড় আকারের মন্দির নিয়ে এ গঙ্গারামায়া মন্দির। প্রথমেই ঢুকি হাতের বাম পাশের বড় মন্দিরটায়। গাঢ় হলুদ রঙের মন্দির। ঢোকার পথেই সিংহের বড় মূর্তি। হাঁ করে যেন দাঁড়িয়ে। আমরা সিংহের দিকে তাকিয়ে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশমাত্রই তাজ্জব হয়ে গেলাম। আয়তনে যেমন বড়, দেখতেও তেমন নান্দনিক। গোটা মন্দির কারুকার্য করা। বিশাল বিশাল কাঠের থাম। তাতে বুদ্ধের অলংকরণ। মন্দিরগাত্রে নানা মোটিফ। সব মোটিফই গৌতম বুদ্ধের নানা কাহিনি অবলম্বনে আঁকা। বিশাল মন্দিরের শেষ মাথায় গৌতম বুদ্ধের ছোট-বড় অনেক মূর্তি। একতলা এ মন্দিরটি পাথর দিয়ে তৈরি। ওপরে গম্বুজ আকারের টালির ছাদ। মন্দিরের গঠনশৈলী বেশ নজরকাড়া। মন্দিরের স্থাপনাগুলো শ্রীলঙ্কান, থাই, ভারতীয় এবং চীনা স্থাপত্যের সংমিশ্রণে গড়া। ভবনটি যেন দেখতে চীনের কোনো প্যাগোডার সঙ্গে সাযুজ্যময়।
গঙ্গারামায়া টেম্পল শুধু আরাধনার জায়গা নয়, একই সঙ্গে এটি শিক্ষালয়ও। পাশাপাশি বুদ্ধ-ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণারও উত্তম জায়গা। বিশাল এলাকা নিয়ে অবস্থিত এই মন্দিরে তাই প্রতিদিন হাজার মানুষ ভিড় করেন। তাঁদের মধ্যে পর্যটকের সংখ্যাই বেশি।
প্রায় ১২০ বছর আগে বিহারটি নির্মাণ করেছিলেন কলম্বোর এক জাহাজ ব্যবসায়ী। দানশীল সেই বণিকের নাম ডন বাস্তিয়ান। তিনিই প্রথম বিহার নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং প্রচুর টাকা খরচ করে নির্মাণ করেন মন্দিরটি। পরে আশপাশের জায়গা সংগ্রহ করে বাড়ানো হয় মন্দিরের পরিসর। গোটা মন্দিরে বুদ্ধমূর্তির সংখ্যা কত হবে কে জানে। নানা রঙের, নানা ভঙ্গির কয়েক হাজার বুদ্ধমূর্তি গোটা মন্দিরের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত। শুধু বুদ্ধমূর্তি নয়, গঙ্গারামায়ার মিউজিয়ামে দেখি দেশ-বিদেশের বুদ্ধনিদর্শনের অপূর্ব সমাহার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার, রাষ্ট্রপ্রধান শ্রীলঙ্কান সরকারকে যেসব বুদ্ধমূর্তি ও বুদ্ধ-ঐতিহ্যের স্মারক উপহার দিয়েছেন, গঙ্গারামায়া মন্দিরের জাদুঘরে তা থরে থরে সাজানো। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম এক বুদ্ধমূর্তি আছে সেখানে। আছে হাতির দাঁতের তৈরি নানা উপকরণ। আছে কয়েক হাজার বছর আছে নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনও।

03
বিহার, জাদুঘর দেখে আমরা পাশের আরেকটি মন্দিরে প্রবেশ করি। গোটা মন্দির কাঠের তৈরি। দুইতলা বিশিষ্ট। নিচতলায় অসংখ্য বুদ্ধমূর্তি। আছে পুরনো গাড়ির সংগ্রহও। এ ছাড়া আছে সিংহের মূর্তি, নানা আকারের হাতির মূর্তি। কাঠের সিঁড়ি বেয়ে আমরা উঠি মন্দিরের দ্বিতীয় তলায়। সেখানেও প্রচুর মূর্তি। মন্দিরের কাঠগুলোতেও খোদাই করে আঁকা বুদ্ধের নানা মূর্তি। এ মন্দিরের পাশেই উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বোধিবৃক্ষ দাঁড়িয়ে । তার নিচে ধ্যানরত বুদ্ধের মূর্তি। সেখানে দেখি পূর্জা অর্চনা করছেন শ্রীলঙ্কান বুড্ডিস্টরা।
মন্দিরের পাশেই আছে বড় আকারের কমরপ্লেক্স। সেখানে দেশ-বিদেশের বুদ্ধ পুরোহিতদের গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু পূর্জা অর্চনা নয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও প্রসারের জন্য গঙ্গারামায়া টেম্পলে রয়েছে রিসার্চ সেন্টার, আছে ট্রেনিং সেন্টারসহ নানা কিছু।
দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত আমরা ঘুরে দেখি গঙ্গারামায়া টেম্পল। মন্দিরের পূর্ব দিকে লেকের দিকে চোখ যেতেই দেখি – মন্দির থেকে একটি সেতু চলে গেছে লেকের মাঝ বরাবর। সেখানেও এক ঐশ্বর্যময় মন্দির দাঁড়িয়ে। শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পর গঙ্গারামায়া টেম্পলে যোগ হয় নান্দনিক ও চমৎকার নির্মাণশৈলীর আরেকটি মন্দির – নাম সীমা মালাকা। বেইরা লেকের পানির ওপর ভেসে আছে মনোহর এ মন্দির। বিস্ময়কর বিষয় এই যে, শ্রীলঙ্কার এক মুসলিম ব্যবসায়ী এ মন্দির নির্মাণের যাবতীয় খরচ বহন করেন। এ মন্দিরের ডিজাইন করেন জেফরি বাওয়া – পৃথিবীর বিখ্যাত এক স্থপতি, তাঁকে শুধু শ্রীলঙ্কার নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা স্থপতিবিদ মনে করা হয়।
শতাধিক বছর আগে নির্মিত হয়েছিল সীমা মালাকা (Seema Malaka) মন্দির। পরে কিছু অংশ ভেঙে যায়, বাকি অংশ ডুবে যায় বেইরা লেকের পানিতে। এরপর ১৯৭৬ সালে আমীর এস মোসাজীর স্মরণে তার বাবা মুসলিম ব্যবসায়ী এস এইচ মোসাজী মন্দিরটির পুনর্নির্মাণের সমস্ত ব্যয় বহন করেন। ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধ ও অসাম্প্রদায়িকতার এ এক অনন্য নজির।
বিকেলে কলম্বোর একটি ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁয় খেয়ে আমরা হেঁটে হেঁটে দেখি এ শহর। গঙ্গারামায়া মন্দিরের খুব কাছেই গল ফেস সৈকত। সন্ধ্যাটা কাটিয়ে দিই কলম্বোর সৈকতে। দিনভর কলম্বোর পথেঘাটে ঘুরে বুঝতে পারি মানুষগুলো বেশ সুশৃঙ্খল। সবাই ট্রাফিক আইন মেনেই রাস্তা পারাপার করেন। আইন মেনেই গাড়ি চালান। ফলে জ্যাম তেমন নেই। ঘুরতে ঘুরতে দেখি প্রচুর মোটরসাইকেল। তার মধ্যে হেলমেটবিহীন একজন মোটরসাইকেল আরোহী দেখিনি। পেছনে বসা মানুষটির মাথায়ও দেখি হেলমেট। সামনে বসা ছোট্ট শিশুটির মাথাতেও দেখি হেলমেট।
সেদিন সন্ধ্যায় ফুটপাত ধরে হাঁটি অনেকটা পথ। সর্বত্রই প্রশস্ত ফুটপাত। বেশ পরিচ্ছন্ন। ফুটপাতে দোকান নেই, ভিখারির উৎপাতও নেই। মানুষ বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই হাঁটছেন ফুটপাত ধরে।
কলম্বো রাজপথে প্রাইভেটকারও তুলনামূলক কম, পাবলিক বাস বেশি। কলম্বোর সব জায়গায় পাবলিক বাসে যাওয়া যায়। এ ছাড়া টুকটুক তো আছেই। পাবলিক বাসে কোনো দাঁড়ানো প্যাসেঞ্জারও নেই। মানুষজন সুশৃঙ্খলভাবে বাসে উঠছেন। অনুরূপভাবে রাস্তা পার হচ্ছেন আইন মেনেই। জেব্রা ক্রসিং ছাড়া সাধারণত কাউকে দেখিনি রাস্তা পার হতে। কেউ রাস্তা পার হবেন, দাঁড়িয়েছেন জেব্রা ক্রসিংয়ের পাশে, তখনই গাড়ি থেমে গেল। গাড়িচালক নিজে থেকেই মানুষকে রাস্তা পার হওয়ার সুযোগ করে দিলেন যেন খুশি মনেই। অস্ফুট স্বরে বলি – আহা! কী শান্তি।

গল ফেস সৈকতে একচক্কর

02
কলম্বোতে যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁদের জন্য গল ফেস সৈকতে যাওয়াটা ফরজ কাজ। কলম্বোর প্রাণকেন্দ্রে ফুরফুরে হাওয়া বিলিয়ে দিচ্ছে অনিন্দ্য সুন্দর এক সৈকত। পাশেই দাঁড়িয়ে কলম্বোর বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক এলাকা। ঠিক সামনেই পুরাতন পার্লামেন্ট ভবন। খানিক এগোলেই সৈকত ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর বিখ্যাত গল ফেস হোটেল।
গঙ্গারামায়া টেম্পল ঘুরে বিকালে হাঁটতে হাঁটতেই আমরা চলে আসি গল ফেস সৈকতে। শ্রীলঙ্কার অন্যান্য বিচের সাথে গল ফেস সৈকতের বিস্তর তফাৎ। অন্য সৈকতগুলো শানবাঁধানো নয়, কলম্বোর এ সৈকতের তীরটা শক্ত পাথর দিয়ে বাঁধানো। ভারত মহাসাগরের তীরে বৃটিশ আমলে নির্মিত হয় বিশাল বাঁধ। সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে সেই পাথরের বাঁধে। সমুদ্র থেকে বেশ উঁচুতে বাঁধের ওপর মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা। ভিন্নধর্মী এ সৈকতের পোশাকি নাম ‘গল ফেস গ্রীন’। সৈকতের একদিকে মহাসাগরের বিশাল বিস্তৃতি, অন্যদিকে কলম্বো শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মাঝখানের চারপাশটা খোলা, উন্মুক্ত। বাঁধের পেছনটায় কার্পেটের মতো শুয়ে আছে সবুজ চত্বর।
পর্যটকেরা বিকালে ও সন্ধ্যায় শানবাঁধানো সমুদ্রের তীরে ভিড় করেন। দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ থেকে বইতে থাকে মহাসাগরের মাতাল হাওয়া। মানুষ সেই হাওয়ায় আড্ডা দিচ্ছেন প্রাণভরে। বাঁধের ওপর সুন্দর বসার জায়গা। সেটিও পাথর দিয়ে তৈরি। পাথরের বেঞ্চিতে শ্রীলঙ্কার তরুণ-তরুণীরা, প্রেমিক যুগলেরা, পর্যটকেরা বসে আছেন হাত ধরাধরি করে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য যেন অপূর্ব জায়গা। সামনে থেকে ছুটে আসছে সমুদ্রের ভেজা হাওয়া। অনেকের মাথার ওপর ছাতা। আশপাশের মানুষের দৃষ্টি এড়াতে, বিকালের রৌদ্র থেকে ছায়া পেতে ছাতার নিচে বসে গল্প করছেন অনেকেই। হেঁটে হেঁটে সমুদ্রের তীরে একটা ফাঁকা বেঞ্চি পেয়ে যাই আমরা, বিকালে সেই বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করি সমুদ্রের সান্নিধ্য।
১৮৫৬ সালে এ বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ সিংহলের গভর্নর স্যার হেনরি জর্জ ওয়ার্ড (১৭৯৭-১৮৬০) শহরবাসীর বিনোদনের জন্য, বৈকালিক ভ্রমণের জন্য এ বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ধারণা করি শুধু বিনোদন নয়, সমুদ্রের ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে শহরকে রক্ষার জন্যও বাঁধের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৮৫৯ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তখন থেকেই এটি হয়ে উঠেছে কলম্বোবাসীর এক অফুরান বিনোদনকেন্দ্র।
বিশাল খোলা চত্বরে এক ফোঁটা ছায়া নেই। মাথার ওপরে ঝকঝকে নীল আকাশ। সামনে নীলাভ জলরাশি। বিকাল হলেও রোদের তেজ আছে বেশ। অসংখ্য মানুষ উপভোগ করছেন খোলা সৈকতের দৃশ্যাবলি, তাঁদের বেশির ভাগই টুরিস্ট, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছেন। বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা হতে না হতেই বেড়ে যায় মানুষের পদচারণ। যেন মানুষের মেলা বসে যায়। পাথরের বেঞ্চিতে বসে বসে ভাবি, কলম্বোবাসী খুব ভাগ্যবান। তাঁদের সমুদ্র দেখতে দূরে যেতে হয় না। অনেকে ঘরে বসেই দেখতে পারেন সমুদ্রের মায়াবী সৌন্দর্য। হঠাৎ চোখে পড়ে একটি বড় কাঠের সেতু। বাঁধ থেকে সেই সেতু চলে গেছে সমুদ্রের কিছুটা ভেতরে। সমুদ্রকে ভালো করে দেখার জন্য, পর্যটকদের আনন্দ দেবার জন্য এ ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। আমরা হেঁটে হেঁটে যাই ওই ব্রিজের মাথায়। সুনীল সমুদ্র ব্রিজের গোড়ায় আছড়ে পড়ছে ফেনিল হয়ে। শেষবিকালের রক্তিম আভায় ছবি তোলার জন্য জায়গাটা অতীব মনোহর।
কলম্বোতে কোনো কোলাহল নেই। চারদিক শান্ত, বেশ নিরিবিলি। সৈকতটাও ছিমছাম। কিছুক্ষণ বসলেই স্নিগ্ধ হাওয়ায় মন-প্রাণ কোমল হয়ে যায়। দেখতে দেখতেই পশ্চিম কোণে সূর্য হেলে পড়ছে প্রকৃতির নিয়মে। বিকালের মায়াবী আলোয় লক্ষ্ করি সৈকতে এক নববিবাহিত দম্পতিকে, তাঁদের পরনে বিয়ের ঝলমলে পোশাক, নতুন জুটি ফটোগ্রাফার দিয়ে ছবি তুলছেন নানা ভঙ্গিমায়।
ঊর্মি মনোযোগ দিয়ে দেখছিল ওই দম্পতিকে। মনে মনে হয়তো ভাবছিল, আহা! বিয়ের পোশাক পরে যদি ছবি তোলা যেত কোনো সমুদ্র সৈকতে!
বাঁধের ওপর সারি সারি ভ্রাম্যমান খাবারের দোকান। ভ্যানে বিক্রি হচ্ছে চিংড়ি, কাঁকড়া, সামুদ্রিক মাছ ভাজা। বিক্রি হচ্ছে চিপস, পানিসহ নানা খাবার। ছোটবড় অনেক দোকান চারদিকে। ভ্যানের ওপরই ভাজা হচ্ছে কাঁকড়া, মানুষ খাচ্ছেও খুব। বাঁধনকে বলি, চলো কাঁকড়া ভাজা খাই। বাঁধন এককথায় রাজি। কিন্তু ঊর্মি কাঁকড়া খাবে না। চিংড়ি ভাজা খেল সে। কাঁকড়া ভাজার সঙ্গে হালকা পেয়াজ কুচি ছড়িয়ে দিয়েছে। খেতে ভালোই লাগল।
খাওয়া-দাওয়া সেরে আমরা হাঁটতে থাকি বাঁধ ধরে। হঠাৎ দেখি ব্রিজের গোড়ায় এক পান বিক্রেতা, পুরান ঢাকার মতো অবিকল পান যেন, বিভিন্ন মশলা দিয়ে সাজিয়ে বিক্রি করছেন। শ্রীলঙ্কা মশলার দেশ, পানও উৎপন্ন হয় প্রচুর। ফলে রাস্তাঘাটে নানা জায়গায় বিক্রি হয় মশলাপান।
পানের কথা থাক, ধূম্রশলাকার কথা বলি! রাস্তায়-ফুটপাতে নানা মানুষের দিকে তাকাই – কারো হাতে সিগারেট নেই। শ্রীলঙ্কানরা প্রকাশ্যে রাস্তায় ধূমপান করেন না। বিকালে গল ফেস সৈকতের পাশে একটা ছাউনির ভেতর দেখেছিলাম একজনকে ধূমপান করতে। চেহারা দেখে বুঝি শ্রীলঙ্কান। টুরিস্ট পরিচয় দিয়ে ওই মানুষটিকে বলি – রাস্তায় কাউকে দেখছি না ধূমপান করতে, বিষয়টা কি বলুন তো? ভদ্রলোক হেসে ফেললেন আমার কথায়; গ্যাসলাইট এগিয়ে দিয়ে বললেন, তেমন কিছু নয়। শ্রীলঙ্কায় সিগারেটের দাম অনেক বেশি। এ ছাড়াও বাস, ট্রেনসহ পাবলিক প্লেসে ধূমপান আইনত নিষিদ্ধ। যদি কেউ আইন ভঙ্গ করেন তাহলে অনেক টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্মম হলেও কথাগুলো সত্য। শ্রীলঙ্কায় সিগারেটের দাম আকাশছোঁয়া। শুধু দাম বেশি তা নয়, অনেক দোকানে সিগারেটই বিক্রি হয় না। গোয়েন্দাদের মতো খোঁজাখুঁজি করে একটিমাত্র দোকানে পেলাম বেনসনের অস্তিত্ব। দাম শুনে ঘাবড়ে গেলাম। প্রতি স্টিক ৪০ রুপি। বলে কী এই ব্যাটা!

চলবে / পরবর্তী অংশ ১১ ডিসেম্বর আপলোড করা হবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close