Home কবিতা বৈশাখের অনুভূতিমালা > নববর্ষে তীরন্দাজের আয়োজনে এই সময়ের ৪৩ জন কবির কবিতা

বৈশাখের অনুভূতিমালা > নববর্ষে তীরন্দাজের আয়োজনে এই সময়ের ৪৩ জন কবির কবিতা

প্রকাশঃ April 14, 2017

বৈশাখের অনুভূতিমালা > নববর্ষে তীরন্দাজের আয়োজনে এই সময়ের ৪৩ জন কবির কবিতা
0
1

মাসুদ খান

হর্ষধারা

সরো, সরো, সরে দাঁড়াও, ঈশান থেকে তিরের বেগে ওই নেমে পড়ছে হংসবাহিনী– উঠানে, অঙ্গনে, ধানখেতে, নয়ানজুলিতে। আর নৈর্ঋত থেকে ছুটে আসছে দস্যি বাচ্চারা। এসেই দুই ডানা পাকড়ে ধরে উঠে পড়ছে রাজহাঁসের পিঠে। তা-ই দেখে তিড়িংবিড়িং নাচছে তিন-তিনটি ছাগশিশু। ঘাস থেকে মুখ তুলে মুচকি হাসছে খরগোশ, প্রশাখাজালের আড়াল থেকে কাঠবিড়ালি। এক হোঁদলকুতকুতে, দুষ্টের চূড়ামণি, এমনিতেই লেট লতিফ, তদুপরি পিছিয়ে পড়ছে বারবার, কুকুরছানার কান মলে দিয়ে, পোষা শজারুর শলাকা ধরে টান মেরে, খুচরা নৌটাংকি সেরে, দুই কাঁধে দুই অস্থির গুঞ্জরণরত হামিং বার্ডকে বসিয়ে নিয়ে এগিয়ে আসছে শেষ হংসবাহনের দিকে। হাঁসটি তখনো নয়ানজুলির জলীয় রানওয়েতে। উড়ালে উন্মুখ। বাচ্চাটি জলকাদা মাড়িয়ে হ্যাঁচোড়-প্যাঁচোড় করে উঠে পড়ছে সর্বশেষ হংস-ফ্লাইটে। পেছন পেছন হেলেদুলে আসছে কান-মলা-খাওয়া নাদুসনুদুস কুকুরছানাটিও।

তুলাপ্রসূ সব শিমুলের গাছ, ফলপ্রসূ সব আম ও আমড়া বাগান। তাদের ওপর দিয়ে উড়ে চলেছে হংসবাহিনী। এক-একটি হাঁসের পিঠে সওয়ার এক-একটি শিশু। উড়ে যেতে যেতে উৎফুল্ল বাচ্চারা ভূমণ্ডলের দিকে উড়ন্ত চুমু ছুড়ে দেবার মুদ্রায় ফুঁ দিচ্ছে হাতের তালুতে। একবার ডান হাত, আরেকবার বাম। তাতে দুই দিকে জেগে উঠছে ছোট-ছোট হাওয়াহিল্লোল। আর সেই হিল্লোলের হালকা ধাক্কাতেই সঙ্গে-সঙ্গে আগুন ধরে যাচ্ছে হুলুস্থুল কৃষ্ণ- ও রাধাচূড়ায়,  আর আমের পাতারা খিলখিল আহ্লাদে ঢলে পড়ছে প্রতিবেশী আমড়ার পাতাপল্লবের ওপর।

আজ আগুনে-বাতাসে গুলতানি, পলাশে-শিমুলে শয়তানি, আমে-আমড়ায় দুষ্টামি…

আর সাগর দুলছে পাহাড় ঢুলছে আকাশ ঝুলছে মাথার ওপর উড়াল শহর

ভোলাভালারা ভুলছে, লহরী তুলছে, ধীরে ঊর্ণা খুলছে মেঘের বহর…

 

সুবোধ সরকার

তখন আমার ফাল্গুন ওঠে চরমে

হাওয়া দক্ষিণ থেকে আসে

দক্ষিণে ফিরে যায়।

 

ফিরে যেতে যেতে হাত ধরে টানে

আমি মরে যাই মরমে।

 

তখনই আমার ফাল্গুন ওঠে চরমে।

হাওয়া দক্ষিণ থেকে আসে

সংসার ভেঙে যায়।

 

রাত্রি দ্বিপ্রহর

পাতা দিয়ে ঢাকা ওইতো দ্বিতীয় মোহর।

 

তখনই আমার ফাল্গুন ওঠে চরমে

 

বাঁচতে চেয়েছি খড়কুটো ধরে

তাও ভেসে গেছে তিস্তায়।

 

আবার উঠেছি খড়কুটো ধরে

আবার উঠেছি জঙ্ঘায়।

 

হাওয়া দক্ষিণ থেকে আসে

হাওয়া দক্ষিণে ফিরে যায়।

 

তখনই আমার ফাল্গুন ওঠে চরমে

 

মাথা ঠিক রাখা বড় দায়

ভাসে তমসায় ভাসে ভলগায় ভাসে গঙ্গায়।

 

জুয়েল মাজহার

নীল বায়োস্কোপ

মানুষ হিসাবে আমরা করেছি জীবনভর

হ্রস্ব-দীর্ঘ কতো প্রেম, লালনীল আলিঙ্গন কতো;

 

আলিঙ্গন শেষ হলে আড়চোখে তোমাদের আস্তিনের ভাঁজে

দেখেছি লুকানো ছুরি। সেই কথা কাউকে বলিনি।

 

একদা সকলই ছিল। চারপাশে কথা গম‌গম্!

বালখিল্য ভাবাবেগ, বিরহ ও ‘মধুর মিলন’

 

তামাকের কড়া ধ্বক, পান-দোক্তা, সাধ্যমতো পাত্রভরা মদ

 

এখন সেসব গেছে। নবায়নযোগ্য বহু

ডিজিট্যাল আশ্চর্য পুতুল এসে গেছে!

 

পুতুলের মুখজুড়ে লিমিটেড, কতো মাপা হাসি;

ভাঙা মন্দির আর সুড়ঙ্গের নিভৃত ফাটলে

রাতভর ডেকে গেছে প্রতিবাদী, বিরক্ত তক্ষক!

 

এটিও কি পশ্চিমবাহিত, চাবি-দেওয়া,? –– এই প্রশ্ন

বাতাসে ভাসিয়ে আমি

চলে যাবো রৌদ্রহীন ছায়ার আড়ালে একদিন

 

তার আগে আপাতত

সমুদ্রের ঝড়ে নত, ধস্ত এক

জেলেপাড়া আগলে বসে থাকি!

 

চৈতালী চট্টোপাধ্যায়

সহপাঠিনীর জন্য

কথা       পাহাড়-প্রমাণ জমে আছে

সিঁড়ি       উঠতে-উঠতে ছিঁড়ে গেছে

এক        নোনা মেয়ে সেই যে বান্ধবী

কত       রোগা চিঠি পল ক্লি-র ছবি

সব        শ্যাওলামতন কনকনে

ছিল       দেওয়া ও নেয়ার নির্জনে

মৃদু        হাত ধরাধরি ফ্রয়েডিয়

তাও       হয়েছিল নয় গোপনীয়

আর       তারপর কিছু ক্লান্তিকর

একই       ভাষাবিন্যাস শরীর  ঝড়…

নেশা       জমল এবং টলোমলো

এল        বিরহ ব্রিজটি উড়ে গেল

 

শামীম আজাদ

চিহ্নায়ন

এক টুকরো শীতে ঝল্‌মল করছে বাগানের হাড়

মাছরাঙা আর চিত্রা হরিনী এলাচি-দারুচিনি খেলছে

দাদীজীর চোয়ালে উৎসব ফুটে উঠছে

আর কি তপ্তনিদ্রাক্রান্ত থাকা যায় !

 

কূয়োকাটা ইচ্ছা দিয়ে সাধ বুন্‌তে শুরু করেছি

শিল্পপেশীতে পরিবেশিত হচ্ছে টক্‌টকে চাঁদ

এসে গেছে ভিসা বিহীন ভ্রমর

বাজাচ্ছে ভুভুজেলা

আর আমরা মাটির কলসী ভরে

না জায়েজ জল তুলবো না

একবার এসে আগুনের নুন চেখে যাও

তবেই তোমাকে আর জয়ফলের দিকে কাতর তাকাতে হবে না।

 

সাখাওয়াত টিপু

কথা বলবে না, কেবলি ভালবাসবে

জীবন গিয়েছে ভোরে সন্ধ্যা নদীর ভেতর

স্মৃতি কি জলায়ু ভরা নিষ্পাপ বাষ্পের মত

কতো দূরে গেলে মুছে যাবে তোমার উত্তাপ

মাঝামাঝি দুটি হাত, সেও অচেনা ভীড়ের

নদীর ওপাড়ে একা, যেছিল শুধুই পথিকের!

 

যে কূলে পায়ের ছাপ, সেতো জলে একাকার

বিষণœ সাগর জানে সেই- রেখার সমাপ্তি নেই

এখন কোথায় তুমি? সপ্ত শতাব্দির পরে যেন

আজ আবার কিভাবে ঝাউগাছে দুলছে বাতাস

ইতিহাসে লেখা হলো- অথচ ভবিষ্য হাহুতাস

 

যদি বলো নাই তবে কণ্ঠ ছেঁড়া বিসর্গ সভায়

কোন এক ভ-কবি লিখিয়াছে দুখাদ্য ভাষায়

বারবার যেন ভোরের আকাশ সন্ধ্যায় ভাসবে

আর কোন কথা বলবে না কেবলি ভালবাসবে

 

পরিতোষ হালদার

প্রতিবিম্ব

রক্তদ্রোণ পার হয়ে তোমার বাগান।

জন্ম নেবে বলে ফুটে আছে অজস্র পারুল

 

ঘুম ও গণিতের মাঝে ওতপাতা

ছুরি, কিছুটা রুপার মতো চকচকে করে প্রেম।

 

প্রলম্বিত চুম্বনের পর সহমরণই প্রকৃত জল

 

ছলনাবিজ্ঞান জানি- বৃষ্টি আঁকতে গিয়ে এঁকে ফেলি

পানিপথ, তোমার পাতানো সংসার।

ছদ্মনামের পাশে প্রতিদিন বড় হয় রোদ।

একবার ভাঁজ খোলো, প্রগাঢ় দিগন্ত তোমার তিতির।

 

আঁচলে ব্যতিক্রম বোন, হাওয়ায় উড়িয়ে দাও

ফুলতোলা মোহ।

ঘরের ভেতর হাজার দুয়ার। কী অদ্ভুত

পুষে রাখ গোপন সিন্দুকে।

 

রূপ খুঁজে দেখো, আয়নার সামনে তুমি ও প্রতিবিম্ব

সমান সমান।

 

মুজিব ইরম

গাউয়ালি লোক

হোক তবে হোক              গাউয়ালি লোক

কাদাজলে মিশে

আছি বেশ সুখে                সবুজের বুকে

দোয়েলের শিসে।

 

খালেবিলে পানি                মাছ ধরে আনি

ধান অফুরান

দয়ামায়া স্নেহ                ভুলে না তো কেহ

 বুক ভরা গান।

 

কাটে বারমাস                 জলে ভাসে হাঁস

গাছে গাছে ফল

খেলাধুলা নিয়ে                ভালোবাসা দিয়ে

জীবন সফল।

 

হোক তবে হোক              গুণগান হোক

গাউয়ালি লোক

আছি মিলেমিশে               পাট ধান শিষে

সুখে ভরা বুক।

 

আয়শা ঝর্না

কোমল গান্ধার

এক একটা দিন যায় যেন এক একটা পাহাড় নেমে যায়।

আমার দিনগুলি দিন নয় রাতও নয়! বেঁচে থাকাটা মৃতের

মতো, জীবন-মৃত্যুর সন্ধি নিয়ে বয়ে চলা এক নদী যেন।

নদীর কোন স্রোত নেই, নেই কোন ঢেউ শুধু কালো জল,

সভ্যতার সমস্ত তিক্ততাকে প্রানে ধরে কথা বলে কালো জল।

যেখানে জীবন শুধু দাঁড় বেয়ে চলা, ‘মাঝি তুমি ভয়

পাও না?’ এমন প্রশ্নে ঠা ঠা করে হেসে ওঠে সে

জীবন-মাঝি। ’যদি ঝড় ওঠে?’

’ওকে তিনতাস দেখাই, ও তখন কালিমুন্ডধারী। আমি

তখন কোমল গান্ধার। দাঁড় বেয়ে চলি ঋষভের নীচে ।’

 

সুমন গুণ

সখ্য

বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মেয়েটির সবটুকু রাখা

ক্লাসে করিডোরে লাইব্রেরির বেঞ্চিতে

সিঁড়িতে ক্যান্টিনে কমনরুমে

রঙিন আসন পাতা আছে, ডানা মেলে

এডাল সেডাল করে সেমেস্টার শেষ হয়ে আসে

 

এভাবে ছোটার বাঁকে বাঁকে

একজন, অল্প অল্প করে

ক্রমশ এগিয়ে আসে, থামে, ফিরে যেতে যেতে

আবার ঘনিয়ে আসে, থামে, হাত ধরে

একসঙ্গে এগোতে এগোতে

ক্রমশ পুরোটা পথ দুজনে অভিন্ন হয়ে ওঠে

 

জীবনে বন্ধুত্ব মানে ছোটো ছোটো হাজার জানালা

কখনও, কোনও না কোনও দিন

আলো ও হাওয়ার ঝাপটা গায়ে এসে লাগে, মনে হয়

সম্পর্ক নৌকোর মতো, জলে চরাচরে

আশ্রয়ের পাটাতন ছুঁয়ে থেকে দিন কেটে যায়

 

শিমুল মাহমুদ

বিষ বিষয়ক আনন্দ

ছেলেটি সিড়ি ডিঙিয়ে উঠে যাচ্ছে উঁচুতে; ছাদ থেকে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখি। দুহাতে ছুঁয়ে দিচ্ছে মেঘের পালক। এই মাত্র দেখা গেলো, মেঘের পালকে লুকিয়ে থাকা নীলপাহাড়; ঝাঁকবাঁধা শাদাহাতি, মন্থর ও ভাসমান। প্রতিভামুগ্ধ সন্ধ্যা।

এইসব অসম্ভব ঘটনা ঘটেছিল বালক-কালে। তারও আগে; জীবনবাবু বৈশাখ-আকাশে এক জাহাজ বিষ ঢেলে হেঁটে গিয়েছিলেন ট্রামের চাকায়। আমি হাঁটছি জীবনানন্দের বিষভেজা কবিতার দিকে; পিছে পিছে হেঁটে আসছে জমজ বোন, সন্ধ্যা ও রাত্রি। ‘সন্ধ্যা’ ও ‘রাত্রি’র মাতামহের নাম ‘আনন্দ’।

 

ফেরদৌস মাহমুদ

চারুশিল্পী

ছবি আঁকার সময় সব কটা দরজা-জানালা খুলে দেয়া ভালো।

 

ছবি আঁকতে গেলেই দেখতে পাই তোমাদের মাঠে রূপালি সময় হাঁটাহাঁটি করে।

কোলাহলের ভেতর আমরা হয়ে উঠি একে-অপরের গিটার। মসৃন কাঠে গেঁথে থাকা

রূপালি পেরেক কথা বলে লাল ইট বিছানো রাস্তায় শুয়ে থাকা অলীক রোদের সাথে।

 

ছবি আঁকতে গেলেই শুনতে পাই ফ্রক পড়া ছোট্ট খুকি রাজবাড়িকে করছে প্রশ্ন

কাঠমিস্ত্রী কার কাছ থেকে শিখেছে অমন রাজ-দরজা বানানো?

 

ছবি আঁকতে গেলেই টের পাই হঠাৎ কেমন করে ছোট্ট শিশু বড় হতে গিয়ে

বুড়ো গিটারিস্ট হয়ে যায়। সমুদ্রের নিচ থেকে সাবমেরিনের আলো উঠে এসে

গল্প করে কমিক্স বানানো নীল তিমির সাথে।

 

ছবি আঁকতে গেলেই টের পাই গমের হলুদ মাঠে সূর্যকে স্যালুট দেয় ভ্যান গগ,

সবুজ ধানের সাথে হ্যান্ডশেক করে এসএম সুলতান। কোলাহলের ভেতর করুণ

ভায়োলিন বাজে, বৃষ্টিতে নিরবে ভেজে সরু খালে বাঁধা লাল স্পিডবোট।

 

ছবি আঁকার সময় সব কটা দরজা-জানালা খুলে দেয়া ভালো।

 

শাহ্‌নাজ মুন্নী

উড্ডয়ন বিদ্যা

উড্ডয়ন বিদ্যা ভুলেছি সেই কবে তবু তুমি ভাবো

সব ছেড়ে ছুড়ে আমি উড়ে যাবো দূরে

মাটিতে হেঁটে যাওয়া পিঁপড়ারা জানে আর জানে আকাশে উড়ন্ত বিড়াল

কিভাবে করেছি আড়াল উণ্মাদ রোগের আভাস

সন্ধ্যাগুলো যখন টিপে ধরে গলা আর শ্বাস আটকে আসে

গোপনে গিয়েছি তখন বিষ বিদ্যা শেখার ক্লাসে

বাতাসে চেনা গন্ধ, ক্ষণে ক্ষণে ভেসে যাই উন্মাদনার তোড়ে

কেউ কি আছো এই ভুলে যাওয়া বিষাক্ত নগরে

নাকি আমিই প্রেতিনী এক ঝাপসা কুয়াশায় উড়ে উড়ে

মৃতদের সমাজে করি বসবাস,

জেনে রেখো,  শুধু মৃতদেরই প্রাপ্য অহিংস কারাবাস

জীবিতরা পায় ঈর্ষার বর্শা, উপেক্ষার নীরব উপহাস

 

খালেদ হামিদী

ধান থেকে শিশু হয়

চাঁদ হতে সিঁড়ি বেয়ে একদা নামিতেছিলো একটি বিড়াল।

শোনা মাত্র পুঁছ কেন এখনো ছড়াতে চাহি দূর মায়াজাল!

দেখো,  জোছনায় গাহে অসংখ্য সন্তান গান একাকার স্নেহে;

ফেরাবে আমাকে নারী শৈশব-কৈশোরে এই জনকের দেহে?

শিশু হতে অক্ষমতা নাকি পূর্বপুরুষের দীনতায় ম্লান

আমি,  হামাগুড়ি এঁকে সদা চলি শিশুদেরও হাঁটুর সমান?

জানার আগেই,  কোথা দুধের বাটিতে উল্টে ভাসে বিড়ালিনী?

এ সংঘট্টে চন্দ্রিমা ও মাতৃদুগ্ধে ব্যবধান খোঁজো কি সঙ্গিনী?

পাতার পৃথিবী থেকে নিদ্রাভঙ্গ শেষে পাখি হেঁটে দলে দলে

শ্রোতার আসনে যায়,  খুদে মনুষ্যরাজির সুরের অঞ্চলে।

তথাপি জগৎ আজো যথেষ্ট প্রাচীন জ্ঞানে কেন অশ্রুপাত!

ধান থেকে শিশু হয়,  ন্যূন চালেও মানুষ;  হোক অল্প ভাত।

 

কামরুল ইসলাম

দৃশ্য, দৃশ্যান্তর

অসুস্থ ভোরের পাশে শুয়ে আছে
অ্যারোবিক নেশায় ভরা মেঘরাশির লুনাটিক অ্যাসাইলাম

মুচিপাড়ার ওপারে বাঁশঝাড়ের ছায়ায় বন্দী আত্মার প্রার্থনা:
কয়েদীর সামান্য উঠোনে লাটিমের ঘূর্ণন নিয়ে
ফিরে আসুক হৈ চৈ দুপুর-

একদিন কাঁকড়ার ঝোল খেয়ে অবিরাম চুম্বন খেলায়
দিন গেছে মাতৃ-ভূগোলের দিগন্তের দিকে-

অবিরাম আকাশ ঝরে না পড়লে শিলাবৃষ্টি হাসে না
বজ্র তার ঝোলার ভেতর পুষে রাখে আগুনের খেলা…

 

মাসুদার রহমান

কৃষিজ

একজন দেবদূত আমাদের আদি কৃষকপিতার হাতে

একমুঠো শস্যবীজ দিয়ে, বলেছিল –এই নাও আনন্দ

 

আনন্দ! নরনারীগণ ভেসে গেছি সারারাত

পানীয় ও আলঙ্গনে

জ্বেলে রাখা আগুনের পাশে

এবং পরম্পরায় বীজদানাগুলো ছড়িয়ে দিয়েছি

প্রান্তবে গজিয়ে উঠছে সবুজ আনন্দ

 

মাতৃসদনে সদনে নাড়িছেঁড়া শিশুর ক্রন্দন

 

দেখ, সব বীজদানা ফেটে উড়ে যাচ্ছে পাখি

 

আহমেদ স্বপন মাহমুদ

আমি তারে দেখি নাই খুলে

আমি তারে দেখি নাই খুলে
কার চোখে জগতেরে দেখেছে সে
অথৈ অকুল সায়র কার চোখে ভাসে
চিনি নাই যারে, সকাশে সে আসে কোন ভুলে!

 

আসে আর যায়-
দূরে পাহারায় কতগুলো চোখ তড়পায়,
ভাসিতেছে ভেলার মতো বাণের জলে
নাচিতেছে চৈত্রের অসুখ ঢেউয়ের অতলে।

 

ভাসুক অযথা মন, নাচুক
দেখুক সে যত পারে খোলামেলা
বৈশাখে পহেলা আমিও চেয়েছি তারে
সুচিস্মিতা, উদাস অনলা।

 

পুড়ে যাক যথাভাষা, যথা কিছু ভাব
যথামাত্র তৃষ্ণার আগুন নিভে
কিছুমাত্র ঝড়ের শরীরে হারাক।

 

হারানো মনেরে খুঁজে কে পায় রত্নধন
শরীর যে বাসে ভাল সে কী ঊন-মন!

 

শরীরও তো চায় কিছু প্রেম
কিছু অম্লতা মনেতে ছড়াক
জগতের সমস্ত জল তোমার মুখ ছুঁয়ে
অকাতর ধুলির পৃথিবী ছেড়ে যাক।

 

রাজীব দত্ত

ফরসা ফল

একটা ফরসা ফল গড়িয়ে যাচ্ছে

 

আরো নীচে মাটি
সম্ভবত তার দিকেই
গড়িয়ে যাচ্ছে একটা ফল, ফরসা বলে
অন্য যেকোন ছবির দিকে
যেভাবে তাকাই, অইভাবে তাকিয়ে আছি
আর দেখতেছি, আরো আরো

 

ফরসা, একটা ফল গড়িয়ে যাচ্ছে

 

রুবেল সরকার

কাঁটাতার

যে গান গাইনি আমি, জেনো সে গান তোমার নয়

কথার পায়রা গেল, গেল করুণডাঙার ভয়!

অনর্থ হবে জেনে, যে খোঁপা খুলিনি ছলে

সে খোঁপার সুর তবে, ছুঁড়ে দাও রক্তপুকুরে-

আয়না কাটবে ছায়া, মুমূর্ষু নদী যাবে চিতায়;

যে তুমি তোমার নও, বেঁধো তারে পতনের মূলে।

সুরেও জখম থাকে, দূরত্বে ফেলানির আয়ু

এ দাগ প্রেমের নয়, দাগে-দাগে কেটেছি জরায়ু।

পুরো ভারতবর্ষ জানে, কে তোমার তুমি কার;

কাফেরে কাফের চেনে, মানুষ মানে না কাঁটাতার।

 

জাকির জাফরান

জ্যোৎস্নাসম্প্রদায়

[১৬]

তুমি ছিলে ময়ূরাক্ষী নদীর কিনারে। সেই থেকে

নদীতীরে জগত গড়েছি। একদিন আমাদের

প্রত্ন-প্রশাসন দেখে যারা হেসেছিল, আজ দেখো

সমাধিতে হলুদ কঙ্কাল হয়ে তারা শব্দহীন।

রাঢ় দেশে, নিঝুম প্লাবন থেকে গড়ে উঠেছিল

তোমার তামাটে মন, আর ছাইয়ের মধ্যে লৌহ

হয়ে তুমি দাঁড়িয়ে থেকেছ, লাল-কালো মৃৎপাত্র

আর মানচিত্র হাতে নিয়ে। লোহিত স্বপ্নের দেশে।

সহস্র বছর পর, আজ, ময়ূরাক্ষী নদীর পানিতে,

এক নেড়ি ইঁদুরের পা-ধোয়া জগতে, আধো-সাদা

জ্যোৎস্না পড়েছে। ইচ্ছে হয়, তামাটে কাজল-কাঠি

দিয়ে ছুঁয়ে দেখি তুমি আজও জেগে আছ কি না। আর,

লালচে কাঁকর মাটি দিয়ে বানানো ঢিবি’র কোণে,

তোমার ভাস্কর্য, আজোবধি চিরহরিৎ আমার মনে।

 

মুজিব মেহদী

অনুবাদ

একটা কাঠঠোকরা অনুবাদ করতে গিয়ে

গুঁড়ো কাঠে ভরে গেছে আঙুলের মন

 

জানি না পাখির ভাষা

জানি না কাঠের

তবু এই অনুবাদ ঘটনার মূল বুঝে ‘বোঝা’ ক্রিয়া চুপচাপ

কাজ করে সুনিপুণ ‘দেখা’ ক্রিয়া দিয়ে

 

অনুবাদ হলো ক্যামেরা ছাড়াই কোনো ছবি তোলা

মিট যেমন মাংসের ছবি

যাতে যথাযথ ধরা পড়ে আঁশ

রক্তের শুকিয়ে যাওয়া দাগ আর চোরা চর্বিরাশি

 

পাখিরা কি করতে পারে মানুষানুবাদ

 

হর্ষফাদ  

মুক্তি মণ্ডল

রোদ্দুর তলিয়ে গেছে।

আনন্দে জানালা খুলে বসি,

নরম শব্দের ঝনঝনে, জেনে গেছি বৃষ্টি পড়া

দৃশ্যের ভিতর

কিভাবে ফুটে ওঠে হলুদ র্দীঘশ্বাস।

 

কিভাবে নীলাভ তরঙ্গে র্সবস্ব নিয়ে

ওড়ে শূন্যে

কফিনের মৌন হাহাকার।

 

সহজ জীবনের আনন্দে দ্বার খোলে

হাওয়া, ভাসে সবুজ রহস্যের মমি,

এত সহজে তার দখো পাব ভাবিনি।

 

বৈঠা শব্দে আমি গভীর জলের তলে

ছুঁয়ে দেখেছি তার অবমুক্ত শরীর,

একাকি শুনেছি উৎফুল্ল জলের ধ্বনি

আর ক্রমে ডুবেছে

আমার দেহতরি।

 

জানি না কেমন করে মনের ভিতর

প্রাণ উচ্ছ্বাস করে হঠাৎ

ভেসে উঠলো গোধূলি আলোয়

ক্রন্দসীর মুখখানি

আমি তাকে র্হষফাঁদে আটকাতে জানি,

এরকম কখনো মনে হয়নি।

 

কচি রেজা 

বাহুতে ট্যাটু আঁকা আমার কন্যা  

এখন হাওয়ার নুন নেই! আমি বৃষ্টিজল আর গির্জার ঘন্টা পার হয়ে মুছে নিচ্ছি এক এক ফোঁটা শব্দ ! কতদিন শুধু নিন্দিত হয়েই অদৃষ্টকে ব্যাখ্যার বাইরে রেখেছি! পাখিনীকে দেখো , এই শিশির ওই গান ওই ডানা ! আমাদের যে যাত্রা তার চারপাশে হাওয়া ! এই হাওয়া যেকোনো ফুলের আয়ু ! আয়ুর জাফরান ! পথের প্রান্তে বৃক্ষ আমরা কি জানি , এই সূর্য বৃক্ষের বৃদ্ধি ! যাত্রাবেলায় তাই সব গাছই ছাতিম ! নিস্তব্ধতার উপর গাছসমগ্রের পা !  চোখেরও আজ জবা রঙ !  দেখছে  সংক্রমণের গোপন পথে অপচয়িত হচ্ছে  পাখি  !

 

মানুষ জানেনা , শিস হারিয়ে কতটা অসহায় আকাশের ঈশ্বর ! এখন যেতে চাই যেখানে বৃক্ষদিন , মানুষের সঙ্গে কুকুরের সখ্য ! এই শহর আর শহরের ছাদের হাওয়া  মুখস্থ আমার !

 

তুষ্টি  ভট্টাচার্য

প্যালেট

প্যালেট উল্টে যাওয়ার পরে দেখা গেল

লাল, নীল, সবুজের বদলে ক্যানভাস জুড়ে

ব্রোঞ্জ রঙের ছোপ পড়েছে।

ক্যানভাসের পিছনে কারা যেন কথা বলছে …

তাদের মৃদু উঠোন জুড়ে ছড়িয়ে আছে রূপোলী রেখা

 

রূপোলী মাছ, সোনালী মাছ সাঁতার দিচ্ছে অ্যাকোরিয়ামে

ডানা জোড়া উড়ান দিয়ে আকাশ এঁকেছে পাখিচিহ্ন

স্থবিরতায় কিছু রঙ এখনও থেকে গেছে।

 

প্যালেট থেকে দূরে, বসত থেকে দূরে যারা থাকে

তাদের রঙের নামটি কমলা

তাদের রঙের নামটি মেরুন

তাদের রঙের নামে গেয়ে উঠছেন তানসেন।

 

অনুপমা অপরাজিতা

সমুদ্রগাহনে আরেকবার

মন আমার চুপি চুপি

কৈশোর ডেকে বলে

আরও একবার সমুদ্রস্নানে যাই,

বালুরসৈকতে আঙুল ডুবাই

বালিয়াড়ি প্রেম বাঁধি

ছুঁয়ে যাওয়া আছড়েপড়া ঢেউয়ে

ভীষণ ইচ্ছে নিয়ে মত্ততা ছড়াই

অধরা দৃষ্টি উপচানো ঠোঁট

জলের তলে পুরোনো টান

দূর থেকে অদূরে হেঁটে যায়

হেঁটে যায় পায়ের ছাপ দূর বহুদূর

শামুকের দল শব হয়ে পড়ে থাকে নিভৃতকান্না বুকে নিয়ে

পেছনে ঠায় দাঁড়িয়ে ঝাউয়ের শাখা সারি সারি

আমার ঈশ্বরও দাঁড়ায় ঘাড়ের ওপর

আর আমি – আকণ্ঠ সন্তাপের পাঠ চুকিয়ে

মধুময় গোপনীয়তায় এক্কা-দোক্কা খেলি…

 

সৈয়দ নৌসাদ আলী

একটি জরুরি মুখবন্ধ

সতেরো নম্বর গলি আমি চিনি। আজ সেখানে সবকিছু নিস্তব্ধ।

প্রেমের সেই সাদা প্রিজমে আমি সাজিয়ে রেখে এসেছি

আমার কালো অক্ষরের সব লেখা। বহুকাল আর লেখা হয়নি

প্রতিটি দিন এখন একটি অচেনা গ্রহের মতো। জীবনের

দুই ডানায় বাজে অঙ্গারের বাজনা।

 

কেটে গেছে দশটি বছর। আলো নিভে গেলেও আলোর রেশ

আমার অজস্র ঘুমে, সহস্র ‍চুম্বনের স্মৃতি নিয়ে আসে।

রাত্রি ডাক দেয়। অপাপবিদ্ধ সেই চাহনি আমার অচল

নৌকা বেশি করে ফুটো করে দেয়।

 

ফুটো হয়েছে শহর। রেসের ঘোড়া। নেশাতুর গ্রহ।

ফুটো হয়েছে ফুটো হওয়া শোক। মৃত্যু সংবাদের

পাশাপাশি আমিও সটান নগ্ন হয়ে যাই গোরস্থানের

চার দেয়ালে। লজ্জা পায় আড়চোখে চেয়ে থাকা

কিছু শকুন। বেঁকে যাওয়া মনখারাপের মনে পড়ে

যায় সতেরো নম্বর গলি।

 

এইখানে সবকিছু নীরব। নীরব ঘরের ফায়ারপ্লেস

থেকে বেরিয়ে আসছে এক অভিশপ্ত গাছ। কি অদ্ভুত

তার হাসি। মনে হয় দুঃখের কোনো সিলেবাস নেই।

জুন মাস কী সুখময়! এই জুন মাসে ভিজেছিল

তোমার বাড়ি। সতেরো নম্বর গলিতে আজও তা বর্তমান।

বলতে পারো এখন তুমি কেমন আছো!

 

সিদ্ধার্থ বসু

দেশ

কাকে বলে দেশ? কী আমার মাটি?

বাজে-খাওয়া গাছ, ছিন্ন পাতাটি

ঝরে আছে পথে, ধুলো-ঢাকা পথ

এই গাঁ-শহরে আমার বসত

আমার বসত বাইরে-ভিতরে

দরজা নাড়িনি যত ঘরে ঘরে

আজন্ম বাঁধা যে ভাঙা দুয়ারে

বেঁচে থাকা মৃদু, ভীরু, চুপিসাড়ে

নিকটের দিকে ফেরানো সে বাস

তারই ফাঁকে দেখা চিলতে আকাশ

দিন কেটে গেছে যত না খেলায়

যাদের ঠেলেছি কি অবহেলায়

যাদের কান্না কাঁদিনি কখনো

সার্থক হাসি যাদের বুঝিনি

আজ আমি বলছি, কেউ যদি শোনো

যাদের জীবন, না আমি খুঁজিনি

সবাই আমার স্বদেশ, আপন

এই ধুলো-জল, এ বাতাস-মাটি

ওই চরাচর, এই গৃহকোণ

ঘুর্নিতে-ভাসা ছিন্ন পাতাটি

 

আতপ সুখের তাপ
হাসিদা মুন
প্রকাণ্ড মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়
কিছু মাতাল প্রহর খোঁজা
আতপ সুখের তাপে ঘষামাজা
ভালবাসাগুলোকে ভালবেসেই
মেরামত করে নিতে
জলে জল ঢালা ধারার প্রপাতে
অজানা বৃক্ষের ছায়ায়
বাঁকল খুঁজে ফেরে নির্বাণ মোহনা
বহুকালের পরিচিত ত্রি -ভঙ্গ ভঙ্গীতে
নিভৃতের অরণ্যময় সঙ্গীতে …

তানিয়া চক্রবর্তী

রক্তচাপজনিত ১০

প্রাচীন নাভিশ্বাসকে ধামসা-মাদলের সুর শেখাচ্ছি

আসলে বলয়ে বলয়ে অতিরিক্ত চেনার খেলা

চিহ্নিত হওয়ার আগে টালমাটাল

টালমাটাল হওয়ার আগে চিহ্নিত

 

পূর্বরাগ ও পূর্বরাগ

তুমি বাকল চেনো গাছের

পাহাড়ে পাহাড়ে বাকল দেখেছ

দেখেছ, পাহাড়ের ফাটল ও বাকলের বন্ধুতা

এই গল্পে অপলক শিশু

স্তন অভিমুখে পান শিখছে

এক হাতে পায়ের বুড়ো আঙুল

কচি, বিশুদ্ধ চোখ বাতাসকে প্রশ্ন করে

শোষণ, শোষণ কী?

ও গালা ভরা বালা আর কানপাশা

মুদ্রামাফিক স্থূল হচ্ছ কেন?

হালকা সোনা ধোয়া রঙে তুমি বলয়ের মতো

হে কমলালেবুর কোয়া,

তোমার আবেষ্টনে পৃথিবীর গোলক খিদে ভুলেছি

তাই অক্ষরেখা আমায় ঠেলে ফেল দিল গর্ভে

এখন গর্ভে আমি নির্ধারিত হচ্ছি

মায়ের পেটে কান দিয়ে শুনতে পাচ্ছি

বাইরের পৃথিবীতে নারীবৃক্ষের গল্প

আমার ভয় করছে, জন্মের ভয়

একটু পরেই আমার জন্ম হবে

ভয় বলতে ক্রমশ লালচে আপেল পর্বে

–ধুকপুক, ধুকপুক

আমার লালিত দিন লালনের উপযোগী হবে

আমাকে কে যেন ঠেলে বার করে দেবে

এ গালা ভরা সোনার উঠোনে

সুবর্ণরেখার শুকিয়ে যাওয়ার পর

আমার জন্ম হবে

কি কান্না, কি উলু, কি আনন্দ!

আঃ কোনো আনন্দ নয়

হ্যাঁ, আনন্দ তো বটেই

এখানে টান ও টানচোর

আমায় জ্যান্ত বার করে দিল ভূ-ত্বকে

আমি, আমি, আমি গর্ভজাত, রক্তজাত

নাভিকুর্ণিশ গর্ভশিশু, গায়ে বড় কান্নার দাগ

অন্ধগুহার থেকে আলো লালিমায়

এত চোখ ব্যথা করে

যে রাত্রিকালীন এ পূর্ণযুবতী দেহ

মাতৃগর্ভের দশমাস বিরতি চায়— ভ্রূণবিরতি

অসময়ের বৃষ্টির মতো

গাঢ়, গ্রাহ্য প্রাণ নারকীয় ঘরানার

নিক্কণ ভুলে ঘুম চায়

দৈত্যঘুম, নেশাঘুম, ভ্রূণঘুম

ঘুম স্থানীয় ওম থেকে জন্ম সন্ধির

ত্রাতার হাতে আমার হাত

হাতের শেকড়ে আয়ুগল্প

তাকে বিঁধিয়ে বিঁধিয়ে লাল করি

এ ভ্রূণপর্ব সবচেয়ে শ্লীল ও সুখী

এখানে রক্তচাপ জন্মকালীন

প্রবাহ করে নিজস্ব আহ্লাদে

এ দেহ থেকে খুলে যাচ্ছে  জবালিকারসের রাগ

দেহ থেকে খুলে খুলে পড়ছে

তন্ত্র, অঙ্গ, কলা, কোষ

কী হালকা এ ঝুমির শরীর!

ক্রমশ জরায়ুফুলে লেপটে লেপটে যাচ্ছি

গাত্রে কত গুচ্ছমূল, রসে ভরিয়ে দিচ্ছে

আঃ এ মাটিগর্ভ, অন্তস্থ মা

বিচ্যুত স্মৃতি খসে গেল

ভ্রূণজদেহে শুধু জন্মের ডাক

শুধু জন্মের ডাক

–কী আশ্চর্য ঘুম

কী আশ্চর্য ঘুম!

 

আরিফ শামসুল

কেউ সেদ্ধ জলপাই পেতে আসে

সরলরেখার শেষ বিন্দুতে থামিয়ে দিয়েছি ইচ্ছের পা।

এটা গ্রীষ্মযাপন‒

ভালো বুঝি আমফুল ও জলযাত্রা।

 

আমরা পাই নাই রডোডেনড্রন।

শাপ পেঁচানো ম্লেচ্ছ সংসারে

বনমুখীর দল সেদ্ধ জলপাই পেতে আসে।

 

আমার আকাশে বেড়ানো তোমার চোখে এত দুর্বোধ্য‍!

ব্যবকলিত হয়েছ জোনাকির রাতে!

দেখে ফাগ লাগে নাই কি তোমার বরজে?

তুমি তবে কোন লোকে থাকো?

 

ম্যারাথন দৌড়ের পথে

আজ বাবার মতো থমকে আছি।

বাঁকা সড়ক অপছন্দ আমার বংশীয় রোগ।

 

রত্নদীপা দে ঘোষ

আনন্দম

আনন্দ লিখে কি আর হবে ? আনন্দ না লিখেই বা কি হবে? আনন্দ তো আসলে একটা মেরুদণ্ড। লেখো অথবা না লেখো , আনন্দ মজবুত না হলে চলে কি করে ? আনন্দের বর নিয়ে আছি । আছি আনন্দের বউ নিয়ে । বউ-না নিয়েও আছি। আছি বউকথা নিয়ে। বউআড়ি নিয়েও আছি। হ্যাঁ । এ কথা ঠিক , আনন্দের বাপ হতে পারিনি। তবু আনদের উঠোনেই খাচ্ছি পাক। পাকআল্লাহর ঈশ্বরমন্দিরে। টেনে নিচ্ছে রস জারানো আনন্দের মছলি-উপকূল ।

জানলা দিয়ে দেখছি । গোটা দশ পনেরো আনন্দের একটা ভিড় । ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছি যে ঠিক কি ঘটছে।সালাম দিচ্ছে না কেউ , না দিচ্ছে প্রণাম । প্রত্যেকেই একে অপরের শরীরকে জড়িয়ে আছে ছাতার মতো । ছাতাও , ছাতা নয় ঠিক । যেন মা । প্রকারান্তরে , অন্তরের অন্তরে , মায়ের পংক্তি , মায়ের পাপড়ি … আনন্দ নিংড়ে প্রবল শ্বাস , চিনতে চেষ্টা করি … আনন্দের বাতাসগুলি , আবছা … ভিড়ের মধ্যে মাত্র একজনকেই চেনা চেনা লাগছে। হাত নেড়ে ডাকি । বলি , তুমি ক্যাডা গো ? সে হেসে বলে , চিনতে পারছো না ? আমি আনন্দের ছোটো মাইয়া গো ।

ইচ্ছে ছিল , শেষ বয়েসে পৌঁছে একেবারে শুরুর আনন্দে ফিরে যাবো । সিরিজ লিখবো । সেই বাসনায় এখন থেকেই প্রস্তুতি চলছে , আরেকটি নতুন আনন্দের অ্যাকাডেমির জন্যে জোরশোরসে মধু-ঘৃত – বেল্পাতা আর ফুলের ধুনি জ্বলছে। দেওয়াল ঘড়িটা দেওাল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। চেঁচাচ্ছে তারস্বরে লোনলিনেস । আমার দিকে যে কারো দৃষ্টি আছে , তা মনে হচ্ছে না। আমার যে এই মুহূর্তেই আনন্দ চাই , সে কথাও কেউ বুঝে উঠতে পারছে না … এখন একটু আনন্দের অজুহাত না পেলে । আমি যে এখুনি ফুরিয়ে যাবো … কেউ জাঞ্ছে না … হঠাৎ , দাওয়ার ভিড় একটু পাতলা কোরে … আমাকে ঘিরে ধরেছে শুভ পহেলা বৈশাখ … চেতনা আর চৈতন্যের মিঠে রোদে, হাঁ করে দেখছি , আনন্দ কী কোরে কবিতার আধার এবং উপকরণ হতে পারে।

 

রিমঝিম আহমেদ

লাল ছেলেবেলা

ঝুমকায় আস্ত এক শহর লুকোনো
নাকফুলে একজন্ম বন্দিমুক্তি খেলা
বাড়ি ফেরা বাড়ি ফেরা হলুদ সন্ধ্যায়
দ্বিভাষী বাতাসে ভাসে লাল ছেলেবেলা

কাঁচপোকা, রাফখাতা আলুথালু দিন
দূরত্ব লিখেছি তাই নিকট হারিয়ে
আরো কোনও দূর পথে অনিবার্য টান
শব্দঋণ বেড়ে যায় সীমানা পেরিয়ে

পরিসর জুড়ে কেউ ভুল নাম লেখে
খড়িমাটি ভিজে গেছে ঘষা শুধু সার
স্বপ্নের কবল থেকে বেঁচে যাওয়া ঘুম
টিফিন ছুটিতে ভিজে আমের আচার

দাঁতরাঙা ঝোপে নাচে সবুজ গোধূলি

শ্বাসকষ্ট ফেলে আসা শ্মশানের ধূলি

 

ঊষসী ভট্টাচার্য 

হে নূতন

ঠাম্মার বানানো কাসুন্দির গন্ধে,

ঘুম ভাঙে এখনো

সরষে ক্ষেত

পাঁচিলের রোদ্দুর

আমার খেলনা ঘর সাজিয়ে দেয়।

 

ঠাম্মার লালপাড় শাড়ি,

ঝুমকোলতার দুল

মনে করিয়ে দেয়,

ফেলে আসা ড্রয়িংখাতা

 

একেকটা বৈশাখ এলে,

ঠাম্মা এল মনে হয়।

 

‘চিরনূতনেরে দিল ডাক’…

 

ইশরাত তানিয়া

কীভাবে একটু চেয়েছিলাম

ঘুমের ভেতর অনেক দিন পর শুতে যাচ্ছি

শুতে যাচ্ছি!

ভাতের হাঁড়িতে একা একাই সংসার ফুটছে

রোদে পিঠ মেলে সেদ্ধভাত দেখছে

ভেজা মেহগনির রঙ খুলছে

বিস্ময়কর চশমার দিকে এগিয়ে

ঘুমঘুম চায়ের ইচ্ছে জাগে

দুধচিনির,

শান্ত লিকার ছড়িয়ে জলে, লেখা হলো

নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার মুহুর্তে

ট্রেন বলছে- সব তেমন জানি না

এই পাহাড় টাহাড়, বুনো প্ল্যাটফর্ম,

স্টেশান মাস্টারকে রেখে চলে এলাম

ছায়াগাঢ় স্টেশনের নাম অন্নপূর্ণা।

 

সিদ্দিক প্রামাণিক

গত্যন্তর

আপেল, কমলা আর বেদানার পাশ দিয়ে

যেতে যেতে হঠাৎ মুলো, কলা আর গাজরেরা

উন্মাদের মতো বল্লো-

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়া এ পৃথিবীর আর কোন গত্যন্তর নাই,

বলেই বাসি পাউরুটির মতো হাসতে হাসতে

আবার বল্লো, অযথারাও কেন যে মাঝেমধ্যে অনিবার্য হয়ে ওঠে!

 

প্রশান্ত সরকার

বীজ

দীক্ষিত হয়েছি যেমন মহামন্ত্রে ওঙ্কার ধ্বনি
কুণ্ডলিনি ছকে বাঁধা স্বল্পাবাসে জিপসি বালিকা
নেচেছিল খেলাশেষে, আমিও দেখেছি নাচগান
সোনালি তরল হাতে আমেজের গত ধরে রাখা

যেমন নির্বাণ ছিল দিব্যজ্যোতি ধ্যানবিন্দুতে
কপালে আগুন ছিল, বিবর্ণ চাদরের মতো
ঘুমঘোরে নিদারুণ বাল্মীকি বসে আশেপাশে
নিঃশ্বাস পড়ছিল, তখনও করুণ কারো স্বরে

চেতনার ভান জেনে ছুঁয়েছিল যেভাবে রমণী
বানপ্রস্থে ভেসে আসা অহেতুক হরিণীর ডাক
আমিও কি যাব তবে অন্তরীণ অনুভাব নিয়ে
যেভাবে রেশমকীট, নিজেরই খিদের অনুগত!

যতটা স্বভাবদোষে তুঁতপোকা বুনে গেছে ঘুম
প্রকৃত তরল থেকে চলকে উঠেছে, মরশুম…

 

শোয়াইব শাহরিয়ার

অমৃত প্লাবন

বোশেখের বৃষ্টিস্নাত প্রথম ভোরে প্রৌঢ় পাতা বেয়ে আসছে স্মৃতি।
স্মৃতির খোলস ছাড়তেই বাতাবিলেবুর কথোপকথন: ‘আয়রে বাপধন…
ছুঁয়ে যা তোর বহুল প্রতীক্ষিত স্বাপ্নিক সম্রাজ্ঞীকে।’
ময়ূরকণ্ঠী মাধবী ওপার থেকে— ‘এসেছি, এবার এসো।’

ছায়াঘন স্নিগ্ধ পথে ডানা মেলে দৌড় দিলাম; দৌড়…চলছেই…!
শীতল হাওয়ায় সমুদ্রের সমস্ত ঢেউ খেলছে তার এলোকেশী চুলে,
গোলাপি ঠোঁটে হাসছে হিমালয় হতে আসা অমৃত!
গোলাপ নুয়ে পড়েছে উন্মাদের স্বতঃস্ফূর্ত আহবানে।

তারপর সমুদ্রের প্লাবনে: সমুদ্র প্লাবিত হলো পুরো শহর!
এখানে-ওখানে, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মেঘ
প্লাবনে সব ভেসে গেল; থেকে যায় একটি সাঁকো— ‘ধৈর্য’!

যদি করি কখনো তীব্র অভিমান; অলক্ষে যাত্রা,
জানি, ধৈর্যই আমাদের দেখিয়ে দেবে— স্বর্গের দরজা।

 

রনক জামান

খেলা
একটাই ফুটবল ম্যাচ।
অদৃশ্য বলের পেছনে ছুটছে সবাই।

আর আমার জালজুড়ে অসংখ্য ফুটো। দিনরাত-
সেসব সেলাই করে লজ্জা ঢাকি।
তবু—
যে যেভাবে
পারছে এসে গোল ঠুকে যায়। আমার
ম্যাচটিকে পাতানো লাগতে থাকে।
মধ্যবিরতিতে এক ছোটলোক আত্মীয় এসে আরো
সন্দেহ
দিচ্ছে ঢুকিয়ে।
জোতিষী জানাচ্ছেন, বিগত জন্মের কথা,
কার্মিক ফল;
অর্থাৎ সকলই পাতানো।
—তবে কি জন্মান্তরে—
এই পরকালে, আমি স্বর্গে এলাম?
আমি কি জানি না, ঐ গোলপোস্টটাও এই ফাঁকে
চুরি হয়ে গেছে?

 

দেবর্চনা সরকার

ইচ্ছে গাঁও

তোমায় কতবার বলেছি আমায় নিয়ে পাহাড়ে চলো

তুমি তো জানো, এইসব খরস্রোতা নদী

একদিন শান্ত, স্থির হয়ে যাবে

সমস্ত চড়াই উৎরাই মিশে যাবে হলুদ উপত্যকায়

পাহাড়ের ঢাল বেঁয়ে ঘনমেঘ নেমে আসবে পায়ের কাছে,

কালো কুকুরটাও আরও একটু গা ঘেঁসে বসবে

 

তুমি তো জানো, একদিন সমস্ত চিৎকার

মঙ্গলঘণ্টা হয়ে বেজে উঠবে দূরের মন্দিরে…

 

সরোজ মোস্তফা

ধনেপাতা

গেটের সামনে পাতা বাহারের পরাবাস্তবতা

একটা বাড়ির নয়টি দু’তারা

বাবা-মাও লাঠি হাতে বসে আছেন পাহারা।

 

চোখের মনিতে পানি ছিটিয়ে ছিটিয়ে

বাড়ির ঢালু জমিতে সবুজ নামিয়ে

ধনেপাতা গোলাকারে ঢুকে যাই।

 

একটা ময়লা শার্ট ধুতে ধুতে উদয়াস্ত দৌড়াই।

আমাকে সাহায্য করে বাদাম বিক্রেতার কড়াই।

দশ টাকার বাদামে ছোট্ট শহরের ভিড় গুলো অতিক্রম করে একটা গুহায় ঢুকি।

একটা নিদ্রায় ঢুকি।

 

একটা নিদ্রায় গোলাকার হয় ধনেপাতা।

একটা নিদ্রায় মসৃণ হয়েছে দেহ-ফার্নিচার ।

 

সেগুন কাঠের অফিসযাত্রীকে কে পাহারা দেবে!

একা মেঘের অন্তরে একাই দৌড়াবে!

টিফিন বাটিতে ভাত-তরকারি-আশা

করাত কলের পাশে এক তলা বাসা।

একটা ট্রাকের ধোঁয়া ম্লান করে দেয়

ছাদের বাগানে বাঁচার হাওয়া বয়।

 

 

নাহিদ ধ্রুব

নালিশ

নালিশের আঙুল তুলে একটি শুঁয়োপোকা

রোজ এসে বসে কফির মগে প্রতি সন্ধ্যায়

 

একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বুক ভরে

একটু তাকিয়ে ফের বেকসুর ডুবে যায়

 

পান খাওয়া ঠোঁটের শৈশবপন্থী ফিরিস্তি

আধবোজা বিনয় বস্তুত মাতাল অট্টহাসি

মার্জিন টেনে দিয়ে রাত হয়ে যায় —

 

অতঃপর মগ হাতে ঘ্রাণ নিয়ে নিয়ে

একটি শুঁয়োপোকা পুনর্জন্মে প্রজাপতি হয়!

 

কুশল ইশতিয়াক

চৈত্রের কবিতা ১২

 

এরকম রাত বড়কালে খুব একটা আসে না
ছোটকালে ছিলো দুই এক বার, দেখা যায় ভালো
যায় না আবার; বুঝাও যায় না— সব বুঝা যায়

 

বিদ্যুত নাই, হ্যারিকেন আলো, মন টন ঠিক বসে না
ঘুটঘুটা রাতে, একা আন্ধার সব সরাইলো জ্যোৎস্না —
কারে ডাক দিব? দেবাশিস নাকি শুভাশিস ওইখানে?

বেলী গাছ তলে দেখা যাইতেছে কোন ভাইয়ের ছায়া?
এতো ঘ্রাণ আসে! ফুলের গন্ধে নাকি সাপ আসে
খুব খেলা করি; রাস্তায় কারা হাঁটে মেয়েলোক?
ফরসা আলোয় ভাইসা ভাইসা কোনদিকে যায়?

 

চাঁদে তাকাইলে চড়কা বুড়ির কথা মনে হয় —

 

দেখি অদ্ভুত এক ছায়াগাছ, এক বড় জাদুগাছ
আর সুমিষ্ট শাদা প্রান্তর; শাদা শুধু শাদা
বৃক্ষের তলে বুড়ি চড়কা কাটে— তার চুল পাকা,
বিড়বিড় করে— সে রাগ হইলে আপদ বিপদ
সারা রাত ধরে তার ছায়াতলে— করতেছি খেলা

 

এরকম রাতে মোরা আজীবন খেলার ভিতরে
আকাশের নিচে মোরা আজীবন ছোটর ভিতরে

আমরা থাকবো ছোট আমাদের মাথার ভিতরে
যতদিন আছি এভাবে বাইচা, স্মৃতি টৃতি নিয়া
খেলাছলে চারিদিকে মোরা ঘুরে ঘুরে ফিরে…

 

 

হিজল জোবায়ের

সুর

যাচ্ছে দিন স্বস্তিহীন

নির্বিরাম ঘাস পাথর

ডাকছে আয়,

সাংকেতিক লুব্ধকের

ভাবলীলায় দিনযাপন

গচ্চা যায়

 

দূর পাথার হট্টগোল,

আখমাড়াই, ঘর্ষণের-

শব্দ শোন্‌;

পূর্বদিক সূর্যলাল

কর্‌ বরণ তার মতন

উদ্ভাসন

 

হায়রে মন তারপরেও

দুঃখভার হয় না দূর,

স্বস্তিহীন;

ছিটকে যায় গর্ভবীজ

অগ্নিপাত, কম্পমান-

লেদমেশিন

 

ফুটছে ফুল শীতবকুল

আর্দ্র হিম শীতঋতুর

দিনগুলায়

রৌদ্রালোক জীব কি জড়

সবটাতেই আলতো তার

হাত বুলায়

 

শান্ত হও, শান্ত জল

বয় নদীর, মেঘমালায়

শান্ত ধীর-

স্বস্তি এক, খুব গোপন-

একটি সুর কান পেতে

শোন্‌ বধির…

 

অলঙ্করণ  > রাজীব দত্ত

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

  1. আপনাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। পরিবেশিত কবিতাগুলি কবিদের প্রতিনিধি স্থানীয় কবিতা। বৈচিত্র্যপূর্ণ এই কবিতা সম্ভার কৌতূহলী পাঠকের কাছে বড়ো প্রাপ্তি বইকি। বেশিরভাগ কবিতাই ভালো লেগেছে। আমার শুভকামনা রইলো সকলের জন্য।

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close