Home অনুবাদ নাজিম হিকমতের রুবাই / ভুমিকা ও ভাষান্তর : জিললুর রহমান

নাজিম হিকমতের রুবাই / ভুমিকা ও ভাষান্তর : জিললুর রহমান

প্রকাশঃ April 2, 2017

নাজিম হিকমতের রুবাই /  ভুমিকা ও ভাষান্তর :  জিললুর রহমান
0
1

নাজিম হিকমতের রুবাই

ভুমিকা ও ভাষান্তর :  জিললুর রহমান

তুরস্কের কিংবদন্তিতুল্য কবি নাজিম হিকমত। বাঙালি কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর কবিতা অনুবাদ করেছিলেন। তাঁর জেলখানার চিঠি বাংলা ভাষাভাষি পাঠকদের কাছে বেশ পরিচিত। তবে নাজিম হিকমতের রুবাই সম্পর্কে খুব বেশি পাঠক জানেন না বলেই ধারণা করি। বাংলায় এর আগে নাজিম হিকমতের রুবাই অনুদিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। রুবাইয়াৎগুলো কবি লিখেছেন জেলজীবনে বসে প্রেয়সীর বিরহ বেদনার সঙ্গে তাঁর সংগ্রামী সমাজ চেতনাকে একীভুত করে। তাই কবি জালালুদ্দিন রুমির মরমী সুফিভাবাপন্ন রুবাইয়াতের ছকে ঘটিয়েছেন দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের প্রয়োগ। কেননা, জীবনাদর্শ হিসেবে তিনি গ্রহণ করেছিলেন মার্কসবাদকে। একটা সনাতন কাব্য-প্রকরণকে কীভাবে আধুনিকায়ন করা যায়, হিকমতের রুবাইগুলি তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

তুর্কী ভাষায় হিকমতের লেখা রুবাই পড়ার সৌভাগ্য আমার ঘটেনি, ওই ভাষাটাও জানি না। আমার অনুবাদের উৎস হচ্ছে ইংরেজিতে তর্জমাকৃত একটা গ্রন্থ (Rubaiyat by Nazim Hikmet, Translated by Randy Blasing and Mutlu Konuk, Copper Beach Press, 1985)। ইংরেজি  অনুবাদকদ্বয় জানাচ্ছেন, নাজিম হিকমত তাঁর রুবাইয়াৎ লেখা শুরু করেন ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরে। সেটা ছিল তার আঠাশ বছরের রাজনৈতিক কারাবন্দী জীবনের অষ্টম বছর। তাঁর স্ত্রী পিরায়ের কাছে এক চিঠিতে তিনি একটা পরিকল্পনার কথা জানান : আমি একটা নতুন বই লিখতে শুরু করেছি – ‘পিরায়ের জন্য রুবাইয়াৎ’। এর থাকবে ৪০টি ভাগ। আমি এমন কিছু করার চেষ্টা করছি যা পশ্চিমা বা প্রাচ্য সাহিত্যে কখনো হয়নি, আর সেটা হচ্ছে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে রুবাইয়াৎ-এর কাঠামোতে উপস্থাপন করতে। আশা করছি আমি এতে সফল হবো। কারণ তোমার প্রেম। তোমার প্রেমই আমাকে এই সাফল্য এনে দেবে। ঈশ্বর-প্রেম যেভাবে রুমিকে অনুপ্রাণিত করেছিল, ঠিক তার উলটো দিক থেকে আমি জাগতিক প্রেমকে অবলম্বন করে এই রুবাইয়াৎগুলো লিখবো।”

নিজের এই পরিকল্পনা অনুসারে ১৯৪৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে হিকমত এর ৪টা সিরিজ লিখে ফেলেন : প্রথম সিরিজটি প্রাথমিকভাবে কিছুটা দার্শনিক, দ্বিতীয়টি সামাজিক, তৃতীয়টি স্পষ্টতই গীতিধর্মী, আর চতুর্থটি ব্যাঙ্গাত্মক। প্রথম সিরিজে রুমির সুফিবাদী নিগূঢ় অর্থপূর্ণ কবিতার নব্য প্লেটোনিক ভাবনাকে অগ্রাহ্য করে  তিনি বস্তুবাদী দার্শনিকতার সূচনা ঘটান। দ্বিতীয় সিরিজে বিশ শতকের ফারসি কবি ওমর খৈয়মের আনন্দবাদ থেকে সরে এসে তিনি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রুবাইয়াৎগুলি লেখেন। হিকমত এভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের একটা বিশেষ কাব্য-প্রকরণ রুবাইয়াৎ, যার ভাববস্তু ছিল অধ্যাত্মধর্মী- ঈশ্বরপ্রেমই যার মূল কথা, সেই ভাববস্তুর পরিবর্তে জাগতিক প্রেমকেই কবিতার বিষয় করে তুলেছেন। এভাবেই তাঁর রুবাইয়াৎগুলি সনাতন কাব্য-প্রকরণ, ধার্মিকতা, দার্শনিকতাকে তছনছ করে দিয়ে হয়ে উঠেছে সমাজ সম্পৃক্ত মানবিক প্রেমের আলেখ্য।

দেখা যাচ্ছে,  ইংরেজি তর্জমাকারীগণ রুবাইয়াৎয়ের সনাতন ছকটাকে (ককখ

ক) সর্বত্র অনুসরণ করতে পারেননি। হয়তো তর্জমার ক্ষেত্রে মূলানুগ থাকার জন্যে। আমিও অনুবাদের ক্ষেত্রে চেষ্টা করেছি ককখক ছকে অনুবাদগুলো সাজাতে, কিন্তু সবসময় তা হয়ে ওঠেনি। আর মূলানুগ থাকার জন্যে সমিল মুক্তছন্দে অনুবাদ করার চেষ্টা করেছি। কোথাও দু’-একটি শব্দ সংযোজন বিয়োজনের প্রয়োজন হলেও সচেষ্ট ছিলাম ভাবগত দিকটি অবিকৃত রাখার।

তীরন্দাজের পাঠকদের জন্য সম্পূর্ণ বইটি, অর্থাৎ তাঁর সব রুবাই এখানে অনুবাদ করে প্রকাশ করা হলো।

 

প্রথম সিরিজ

১ / ১

যে বিশ্ব তুমি দেখেছো বাস্তব, রুমি, এ কোনো আবির্ভাব নয়, ইত্যাদি

এ তো অনিঃশেষ আর অসৃজিত, এর চিত্রকরও প্রথম কারণ নয়, ইত্যাদি

এবং তোমার পোড়া মাংসের রুবাইয়াতের সেরাগুলো আমাদের ছেড়ে গেছে

এ যাওয়া তেমন তো নয় যে “সকল কায়াই ছায়া”, ইত্যাদি…

 

১ / ২

সে আসার আগে আমার আত্মা ছিলো না, অর্জন করেনি রহস্যময়তা, যা সে নয় :

আমার আত্মা তার একটা ইমেজ, আর সে তো বহির্বিশ্বের ইমেজ, আমাতে বিম্বিত হয়

আর এ ইমেজ আসলের চেয়ে অনেক দূরের, আবার অতি নিকটেরও

এ আমার প্রেমের সৌন্দর্য, আমাকে উদ্ভাসিত করে যায় …

 

১ / ৩

আমার প্রেমের উপমা আয়নায় যেভাবে বিম্বিত :

“সে নয় – আমিই বাস্তব” একদিন আমাকে বলেছে চকিত।

আমি প্রত্যাহৃত হলাম, আয়নাটি ভেঙে গেলো, আর উপমা লোপাট –

তবে, সদাশয়ের অপার মহিমা, আমার ভালোবাসা রয়েছে নিপাট …

 

১ / ৪

আমি তোমাকে ক্যানভাসে এঁকেছি কেবলি একবার

তবে হৃদয়ে তোমার ছবি তুলেছি দিনে হাজারো বার।

আশ্চর্যভাবে, তোমার প্রতিমা তাতে রয়ে যাবে

ক্যানভাসের আছে দীর্ঘ জীবন, যা নেই আমার …

 

১ / ৫

আমি পারি না তোমার প্রতিমাকে চুমু খেতে আর ভালোবাসতে,

তবে আমার শহরে তুমি তো রয়েছো রক্তে এবং মাংসে

আর তোমার লাল মুখ, যে মধু থেকে আমি প্রত্যাহৃত, তোমার ডাগর আঁখি, আহা,

তোমার সমর্পণ বিক্ষুব্ধ জলের মতো, তোমার শুভ্রতা আমি এমনকি পারিই না ছুঁতে …

 

১ / ৬

সে চুমু খেল : “এ ঠোঁট যুগল মহাবিশ্বের মতো বাস্তব,” সে বলে।

“এ সুগন্ধ তোমার আবিস্কার নয় তো, এ আমার চুলের বসন্ত,” সে বলে।

তাদের প্রত্যক্ষ করো আসমানে অথবা আমার চোখে

“অন্ধ পাবে না খুঁজে, তবে সেখানে তারারা আছে,” সে বলে …

 

১ / ৭

এ বাগান, সিক্ত ভুবন, এই জেসমিন ঘ্রাণ, এই জোছনা রাত তো

তখনো ঝিকমিক করবে  যখন আমি আলো থেকে বহির্ভূত,

কারণ, এ ছিলো আমার আসারও আগে, আর পরেও সে নয় আমার অংশ –

নিছক আসলের একটি প্রতিলিপি আমার মধ্যে উদিত

 

১ / ৮

একদা প্রকৃতি মা বলবে, “প্রস্থানের কাল, তবে –

আর নয় হাসি বা অশ্রুপাত, বৎস হে …”

আর অনিঃশেষ একদিন ফের এর হবে তো সূচনা :

জীবন-  সে না দেখে, না বলে, কিংবা ভাবে …

 

১ / ৯

বিচ্ছেদ প্রতিদিন কাছে টানে :

বিদায়, আমার সুন্দর পৃথিবী হে,

এবং হ্যালো,

ম হা বি শ্ব রে . . .

 

১ / ১০

ভরা মৌচাক  –

আমি বলছি, ভরা সূর্য তোমার দুচোখ . . .

তোমার চোখগুলো, প্রিয়তমা, ধুলো হয়ে যাবে কাল,

মধু পূর্ণ করবে অন্যসব চাক . . .

 

১ / ১১

সেখানে না আছে আলো

না কর্দম

প্রিয়া আমার, তার বিড়াল, আর তার গলার পুঁতিগুলো :

এর সবই একাকার মিশে আছে, মাখা ময়দার তাল যেমন  . . .

 

১ / ১২

বাঁধাকপি, গাড়ি, প্লেগের জীবানু, নক্ষত্র :

আমরা সকলেই আত্মীয় স্বজন মাত্র

না হে, আমার সৌরচক্ষু প্রেম, “আমি ভাবি, তাই আমি আছি”

তবে, আমাদের বিশিষ্ট পরিবারে, আমরা আছি বলেই আমরা ভাবতে পারি …

 

১ / ১৩

কেবল আমাদের মধ্যে মাত্রার যে তফাত

তা কেবল, হে আমার ক্যানারি :

তুমি পাখা সমেত, এক অচিন্তক পক্ষী,

আর আমি দুহাত নিয়ে, এক চিন্তাশীল মানুষ …

 

দ্বিতীয় সিরিজ

২ / ১

“পেয়ালা ভরে নাও মদ্যে, ধুলায় ভরে উঠার পূর্বেই,” খুররম বলে।

অস্থিসার নাক ও জুতোহীন এক লোক তার সামনে দাঁড়ায় তার গোলাপ বাগানে :

“তারকার চেয়ে আরো আশীর্বাদ ভরা এক ভুবনে,” সে বলে, বলে “আমি অনাহারে আছি,

রুটি কেনার জন্য আমার যথেষ্ট টাকা নেই, শুধুই মদিরা দেবে. . .”

 

২ / ২

মৃত্যু ও জীবনের ক্ষণিকতা নিয়ে ভাবতে মধুর দুঃখে,

টিউলিপ বাগানে ভরা জোছনায় মদ্য-পানে . . .

সারাটা জীবন আমরা কখনো এই মধুর দুঃখ বুঝিনিতো

এক কালো কয়লা ঘরের ভূতল ভাণ্ডারে, নগর প্রান্তে …

 

২ / ৩

সময় বয়ে যায় – সময়ের উদারতা গ্রাস করে তুমি চিরনিদ্রায় ঘুমানোর আগে;

স্ফটিক কাঁচের পানপাত্র ভরে নাও চুনিরং লাল মদে– যুবক, এখন প্রভাত, ওঠো জেগে …

নিরাভরণ বরফ শীতল ঘরে যুবকের ভাঙে ঘুম :

এ ছিলো গা-ঝাড়া দেওয়া কারখানার হুইসেল, আর এটা করেনি তো ক্ষমা বিলম্বে…

 

২ / ৪

চলে যাওয়া দিন নিয়ে আমার নেইতো পরিতাপ

কেবল এক গ্রীষ্মের রাত –

আর এমনকি আমার চোখের শেষ নীল দ্যুতি

তোমাকে আলোর ঝলকে দেবে আগামী দিনের সংবাদ…

 

২ / ৫

আমি , একটা মানুষ,

তুর্কি কবি নাজিম হিকমত, আমি –

বিশ্বাস মাথা থেকে পা পর্যন্ত,

আপাদমস্তক সংগ্রাম আর আশা – সেটাই আমি…

 

২ / ৬

আমি, ঘোষক, জানান দিলাম

আমার স্বর একটা বীজের মতো সঙ্গীন আর উদোম :

আমি আমার হৃদয়ের সময়কে নির্ধারণ করছি,

সেই সুরে, যখন প্রভাতের উদয় উদ্দাম…

 

তৃতীয় সিরিজ

৩ / ১

হয় জনগণ তোমাকে বাসবে ভালো

অথবা তারা তোমার দুশমণ।

হয় তুমি বিস্মৃত- যেন তুমি ছিলেই না,

অথবা তুমি এক মুহূর্তের জন্যেও মনের বাইরে নও…

 

৩ / ২

কাঁচের মতোই স্বচ্ছ, একটা বখে না-যাওয়া শীতের দিনে –

স্বাস্থ্যবান এক আপেলের সুদৃঢ় শাদা মাংসে কামড় বসাতে!

প্রেয়সী আমার, এতো তুষারময় পাইন বনের ভেতর

শ্বাস নেবার আনন্দের মতো, এই তুমি ভালোবাসবার মেয়ে…

 

৩ / ৩

কে জানে, হয়তো আমরা পরস্পরকে তেমন ভালো বাসতাম না

যদি আমাদের দুজনের দূর থেকে দেখা না হতো।

কে জানে, নিয়তি যদি আমাদের না করতো পৃথক এমন

আমরা হয়তো কোনো দিন কাছাকাছি আসতে পারতাম না এতো…

 

৩ / ৪

রাত ফ্যাকাসে হয়, দিন ভেঙে পড়ে।

জল যেমন থিতু হয়, সকলি পরিস্কার, স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

প্রেয়সী আমার, এ যেন আমরা অকস্মাৎ মুখোমুখি :

যা কিছু দেখি সব আলো, আলো…

 

চতুর্থ সিরিজ

৪ / ১

মিথ্যাকে অতিক্রমণে হৃদয়ে, বইয়ে, আর সড়কে,

মায়ের ঘুম-পাড়ানি গানে, ঘোষকের সংবাদে;

জানতে– এ এক বিশাল তৃপ্তি, প্রেয়সী আমার–

জানতে- অতীত কী, আর ভবিতব্যই বা কী যে…

 

৪/২

আমাদের বাহুগুলো ফলভারানত শাখা,

শত্রুরা ঝাঁকুনি দেয় বারবার,

আর মঙ্গলতর আমাদের ফল-ফলাদি ফলানো

ওরা দেয় না তো পায়ে বেড়ি, পরায় শৃঙ্খল মনে…

 

৪ / ৩

যত দিন তুমি ভালোবেসে যাবে

আর ভালোবাসো যত বেশি পারো,

যতদিন তোমার সর্বস্ব তুমি তোমারই প্রেমকে দেবে,

আর দেবে যত বেশি-বেশি, তবেই তুমি চির যৌবনা র’বে…

 

৪ / ৪

আমি ভাবি, ইয়াহিয়া কামালকে, বিখ্যাত অটোমান কবি :

এক দোকানের জানালায় দেখি, স্ফীতোদর আর বিষণ্ন মুখচ্ছবি।

আর কী কারণে যেন আমি ভেবেছি অকস্মাৎ

গ্রিক পর্বতমালায় মারা যাচ্ছেন পঙ্গু বায়রন বুঝি…

 

৪ / ৫

আমি এক সহনশীল মালি বটে,

আমার গোলাপ তুমি যা প্রতি সাত বছরে ফোটে।

আমার ভাঙে না মন, তুমি তো তেমনি বিরল –

আমি ভাবি, হয়তো তাতেই তুমি এতোটা প্রিয় হে…

 

৪ / ৬

এই কাজে তুমি অবশ্যই শক্ত হবে, আর গর্বিত কিছুটা :

না কোনো ক্রুরতা, পাপ, কিংবা মনোবেদনা

তবে মৃত্যু একাকী

দেখবেই তোমার বশ্যতা…

 

৪ / ৭

আমি বড়াই করছি না, তবে

দশ বছরের বন্ধন আমি বুলেটের বেগে ফেলেছি ছুঁড়ে।

আর আমার যকৃতের যন্ত্রণার পরেও

আমার হৃৎপিণ্ড আজও তেমনই হৃদয়, মস্তকও আজ সেই একই তো আছে…

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

  1. খৈয়ামের রুবাই অনুবাদ করে নজরুল ‘কাজীর অনুবাদ সকল অনুবাদের কাজী’ খেতাব পেয়েছিলেন মুজতবা আলীর কাছ থেকে। নাজিম হিকমত যে রুবাই লিখেছেন এটি জানলাম এ প্রথম। তাই এমন বলতে পারছি না। তবে হেকমতি যে দেখাতে পেরেছেন জিল্লুর তাতে সন্দেহ নেই। সুরা সাকি ছাড়া এ হেকমতি নতুন ধারণা দিলো রুবাই সম্পর্কে।

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close