Home কবিতা নাহিদ ধ্রুব >> কবিতাগুচ্ছ

নাহিদ ধ্রুব >> কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশঃ June 3, 2018

নাহিদ ধ্রুব >> কবিতাগুচ্ছ
0
0

নাহিদ ধ্রুব >> কবিতাগুচ্ছ

 

স্থবিরতা
.
আমার বুকের উপর পা দিয়া তুমি দেখিতেছিলা পাখি — তোমার উচ্চতাভীতি ছড়ায়ে যাইতেছিল পাতায় পাতায়। যেটুকু নির্যাশ, ঘাস ছিঁড়িলে — তা অধিগ্রহণে আমার আত্মা পার হয়া যায়।
.
আমি একটা গাছের মতন দাঁড়ায়ে থাকি — আমার জঠরে আছে এক পাখির বাসা। তুমি আমার ডালে পা ঝুলায়ে আদর করিতেছিলা সেই পাখি, আমার আর মানুষ হওয়া হইলো না।

 

চ্ছেদ

জঙ্গলেতে বইসা ছিলাম আমরা তিনটা প্রাণী
সন্ধ্যাবেলায় যাইতেছিলাম সামিয়াদের বাড়ি
.
যাইতে যাইতে অন্ধকারে আজান দিলো দূরে —
একটা শিয়াল ডাকলো নাকি দলের কাছে গিয়ে?
.
এই পথে কতো গেছি ভয় লাগে নাই তখন —
পাহাড় টিলা পার হইতেছি বুকের ভেতর দহন
.
নয়টা বাজে ছাড়বে ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস —
নদীর কাছে গিয়া আমরা বানাবো নতুন দেশ
.
তেতুলতলায় সামিয়ার দাঁড়ায়ে থাকার কথা
ডাক দিবো কোকিলকণ্ঠে নাচবে লতাপাতা
.
শিকড় গজায়ে গেলো জঠরে বসিলো পাখি
সাঙ্গ হইলো অনন্তকাল মাটির ডাকাডাকি
.
সামিয়ার হাতে মেহেদী, দেখতে লাগছে ভালো
দূর থিকা তাকায়ে দেখি তার চোখেতে আলো
.
মনে হইলো অন্ধকারে কেউ টর্চ মারছে চোখে
ঝলসায়ে গেলো দৃষ্টি আমার চোখের পলকে
.
নয়টা বাজে ছাড়বে ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস —
ট্রেনলাইনে একলা আমি তিনটা আমার চ্ছেদ।

 
ছাড়াছাড়ি

একটা পঙ্গু ফুলের কাছে জানতে চাইলাম ঘ্রাণের ইতিহাস। মৈনাক মৌমাছি মধু চুরির সময় জানাইলো সে বোবা। বাতাসের কোন নাক নাই, সুগন্ধ ক্যামনে ছড়ায় জানা গেলো না। বুনো দম্পতীর ঘরে বেড়ে ওঠা হাঁস সজ্ঞানে ফিরিলো না বাড়ি — এমন সন্ধ্যাবেলায় আমাদের হইতেছিল ছাড়াছাড়ি। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর মাখোমাখো বাসন্তী চাঁদ — জোনাকিরা ফিরিতেছিল বনে, রেখে অন্ধ হাওয়ার রাত। কেরোসিনের অভাবে পুড়ে যাইতেছিল ফিতা — পৃথিবীতে এমন রাত আসে যখন বাদুড়ও চোখে দেখে না।

 
এস্কেপ রুটে

.
গুলি খাওয়ার পর পৃথিবী যায় অন্য এক গ্রহে
যেখানে সূর্যোদয় অনেকগুলো রাত হয়ে ফোঁটে
.
পাপড়িতে ছড়ায়ে থাকে হাওয়া পবনের মন —
চারিদিকে কতো হাহাকার, মৃত্যুর আলাপন
.
তখন আকাশে প্রতিধ্বনিত বোমাদের হাততালি
ছাউনির নীচে কী জখম — যেন জমেদের বাড়ি
.
জোয়ার টানছে গোরস্থান ভাসছে কতো লাশ
পৃথিবীর কোন সন্তান নাই আছে শুধু সন্ত্রাস
.
জেরুজালেম থেকে সিরিয়া হয়ে এস্কেপ রুটে
পৃথিবীর বাইরেও অন্য গ্রহে কতো ফুল ফোঁটে
.
তাদের সৌরভে নিঃশ্বাস নেয় পৃথিবীর শয়তান
রক্তে রক্তে কতোটা মানুষ কতোটুকু বলিদান?

 
আততায়ী

কার ঘাড়ে ক’টা মাথা বোঝার আগে
দুই হাতে মানুষ কতো কামান দাগে
.
অক্ষত থাকে খুলি, লিগামেন্ট সচল
আঘাতকও ঠিক মানুষের অবিকল
.
টনক নড়ে না তবু ফিনকি দেয়ালে
অন্ধ মেঘ ঘনায়েছে হাওয়ার ধারে
.
আকাশেতে লুকায়েছে আততায়ী চাঁদ
খুনের ভেতরে দেখি মানুষের ফাঁদ
.
তারে তুমি কোপ দাও আর্টারি ধরে
দুইভাগ জগতেরে তিনভাগ করে
.
এমন ছিন্ন করো বৃক্ষ থেকে পাতা
ঘাড় তোলার আগে ঝরে যাক মাথা

 
চিঠি

যে চিঠি আমি লিখি নাই কোনদিন
তার ভাঁজ কেন পড়ে আছে মনে?

 

কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ
যে গাছেতে ফাঁস নিছিল কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ
তারে জড়ায়ে আদর করি বেহুদা সন্ধ্যায়
গাছটা খুব একঘরে, পাতায় পাতায় ধূলা
পোকা সব ঘুরপাক খায় মোমের আলোয়
.
বজ্রপাতে ভাগ হইছে নাকি গাছের মাথা
দূর থিকা তাকায়ে দেখি রাক্ষসের মুখ
কতো হাওয়ার বলি হইছে গাছের শিরায়
গাছ জানে গিঁট পাকানো মেঘের অসুখ
.
এমন অসুখ ছড়ায়েছে ছায়াচ্ছন্ন ক্ষেতে
কাস্তে হাতে ফসল সব পানির দিকে যায়
ফুটফুটা এক জলায় পাঁচমিশালি টান —
ডুবতে কষ্ট ভাইবাই চাঁদ ফাঁস নিতে চায়
.
এমন গাছের ডালেডালে অপমৃত্যুর স্বাদ
আমি তারে জড়ায়ে থাকি একান্ত সন্ধ্যায়
বুকের ভেতর ডুব দিছে কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ
ফাঁস নেয়ার আগে গাছের বন্ধু হইতে হয়

 
ট্র্যাজেডি
তুমি আমার দিকে তাক করে আছো মৃত্য,
স্মৃতির ভেতর তো কতো মানুষ মারা যায় ;
টবে টবে মানুষ ফোটে নাই কোনকালে
একে একে সমস্ত ছায়া নীড়ে ফিরে যায়।

তবুও একটা ট্রমার ভেতর দৌড়ায় ট্রেন,
মৃত্যুর পেটে জন্ম নেয় স্নায়বিক ক্ষয় —
তাদের দীর্ঘ পথে থাকে মরচেপড়া ফুল —
জগতে মৃত্যুর অধিক কোন ট্র্যাজেডি নাই!

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close