Home কবিতা নাহিদ ধ্রুব > ভূমি দস্যুদের দেশে >> দীর্ঘকবিতা
0

নাহিদ ধ্রুব > ভূমি দস্যুদের দেশে >> দীর্ঘকবিতা

প্রকাশঃ September 15, 2018

নাহিদ ধ্রুব > ভূমি দস্যুদের দেশে >> দীর্ঘকবিতা
0
0

নাহিদ ধ্রুব > ভূমি দস্যুদের দেশে >> দীর্ঘকবিতা

 

 

অনেকদিনের পরে রাজার ছেলে
দাঁড়ায়ে থাকবে এই ভূমির তলে
হয়তো তাদের মনে পড়বে স্মৃতি
গাছেরা যা রেখেছে পাতায় ধরে

যখন তাদের পিতা হয়েছে গত
শব তার খেয়ে ফেলেছে সাপে
প্রতিশোধের স্পৃহা মনে নিয়ে
ছেলেরা সব পৌঁছে যাবে ঘাটে

যে ঘাটে দাঁড়ায়ে তাদের বাবা
কৃষক থেকে হয়েছিল রাজা
এই উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে
জয় করেছিল সিংহের থাবা

ঈশ্বর তারে দিয়েছিল দীক্ষা
সূর্য — তারে দেখায়েছিল পথ
কৃষক তার বন্ধু স্বজন নিয়ে
লুট করেছিল ব্যর্থ মনোরথ

ফিরে যখন এসেছিল ঘাটে
তার জন্য প্রস্তুত ছিল সৈন্য
খাজানা সব ছিনিয়ে নিয়ে
কারাগারে করেছিল রুদ্ধ

অথচ তার মনে ছিল না দ্বিধা
দর্প দেখায়ে ডেকেছিল রাজাকে
তারে যদি দিতে হয় শাস্তি —
রাজাকে মল্লযুদ্ধে নামতে হবে

এইভাবেই রাজাকে মেরে রাজা
পেয়েছিল ক্ষমতার স্বীকৃতি —
ঈশ্বর তারে বলেছিল ডেকে
তুই হবি এই পৃথিবীর অধিপতি

রাজা তখন অন্য রাজাদের কাছে
সমন পাঠায়েছিল মুক্তির সোপানে
বলেছিল সমুদ্র পাড়ি দিতে হবে
যেতে হবে — নতুন ভূমির সন্ধানে

তারপর থেকে শুরু হলো যাত্রা
বজ্রাঘাতের হাতুড়ি ঠুকলো থর
তারা যখন পাড়ি দিতেছে মেঘ
সমুদ্রে উঠিলো উত্তাল এক ঝড়

তবুও কভু হাল ছাড়ে নাই রাজা
পৌঁছায়েছে নতুন ভূমির কাছে
সেইখানে গিয়ে দেখলো রাঙা মাঠে
ফসল ফলেছে যৌবনরসের সাথে

বিপুলায়তন যুদ্ধ হয়েছিল শুরু
রক্ত ছড়ায়ে যাচ্ছিল চোখে মুখে
নতুন ভূমির রাজা তখন এসে
প্রস্তাব দিলো — সমঝোতা হবে

যুদ্ধ বিরতিতে করা হলো চুক্তি
স্বর্ণ, রুপার সাথে দেয়া হবে ভূমি
রাজা ভাবলো অপয়া জঙ্গল ছেড়ে
এইখানে গড়বে প্রজাকুল ঘাটি

এই ভেবে কিছু প্রজাদের রেখে
রাজা ফিরেছিল আনন্দ প্রাণ নিয়ে
কিন্তু নতুন ভূমির ঈশ্বর ছিল ভিন্ন
সূর্যের সাথে একপাতে কী খাবে?

রাজা যখন খুঁজছে নতুন ভূমি —
তখন ওইখানে মরছে তার প্রজা
রাজাকে নিয়ে রচিত হচ্ছে লিপি
হাওয়া বয়ে আনিলো মৃত্যুর বার্তা

একা একা হাওয়াদের কথা শুনে
রাজা ভাবলো আক্রমণের কথা
কিন্তু প্রজারা সব ব্যর্থতা জেনে
মুখ ফিরালো কেউ সঙ্গ দিলো না

এতো এতো পরাক্রমশালী রাজা
মুখথুবড়ে পড়ে গেলো খাঁদে —
এমনকি তার ছেলেরাও সরে গিয়ে
দাঁড়ায়েছিল নিজস্ব বৃক্ষের কাছে

জীবনের এই পরিণতি দেখে রাজা
আহতাবস্থায় সমুদ্র পাড়ি দিলো —
একার পথে ওডিন ছিলো সাথে
তার কাছে রাজা সব খুলে বললো

সে কখনওই চায় নাই রাজা হতে
আসক্তি ছিলো না ভূমিদের প্রতি
সে এক কৃষকের মতো ঘরে —
চেয়েছিল — ফসলের চড়ুইভাতি

এইসব বলে বলে — একা রাজা
পৌঁছে গেলো ভূমিদস্যুদের দেশে
রাজদরবারে নগ্ন পায়ে হেঁটে —
বললো তারে হত্যা করতে হবে!

সব ভেবেচিন্তে ভূমিদস্যুর রাজা
ঠিক করলো রাজার শাস্তি —
যীশুর মতো ক্রুশবিদ্ধ করে
ফেলে দেয়া হলো বলে — শান্তি

মৃত্যুর আগে বাঁধন খুলে তার
ফেলে দেয়া হলো সাপেদের মুখে
এমন একটা গর্ত খুঁড়ে তারা —
উৎসব করেছিল রাজাকে নিয়ে

হাওয়ারা এই কথা নিয়ে উড়ে
এসেছে যখন ছেলেদের কাছে
প্রতিশোধের ফাঁদে তখন তারা
পা দিয়েছে সব প্রজাদের নিয়ে

অনেকদিনের পরে রাজার ছেলে
এসে দাঁড়ায়েছে এই ভূমির তলে
অনেক অনেক যুদ্ধের পর তারা
জেনেছে জীবন যুদ্ধ করেই মরে

সমুদ্রে নেমে গেলো সব নৌকা
হুংকার দিতেছিল আপন মনে
ঈশ্বর তখন বিভক্ত দেহ নিয়ে
দলেদলে সকলের সাথে চলে

তারপর — মহাযুদ্ধ শুরু হলো
রক্তের সাথে মিশে গেলো রক্ত
মানুষ পড়ে রইলো নিথর দেহে
জানা গেলো না কার কী ধর্ম!

রাজা গেলো নিয়ে সব রাজা
পড়ে রইলো চিরযৌবনা ভূমি
অনাবাদী ফসলের মাঠ থেকে
শোনা যায় শুধু মৃত্যুর ধ্বনি!

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close