Home কবিতা নির্ঝর নৈঃশব্দ্য / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশঃ February 26, 2017

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ
0
0

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য / পাণ্ডুলিপির কবিতাগুচ্ছ

 

সন্ধ্যাহত

নিজেকে ফুরিয়ে খুঁজি চোখের অপর

আমি ও অপর আছে একই প্রকাশ

আমার চোখের হাড়ে ঘুমের বিবর

মুদ্রিত চোখের খোঁপে পতিত আকাশ

চন্দনঘ্রাণের ভার কেউ দিয়েছিলে

কিছুটা নিঝুম বায়ু উড়ে উড়ে ডোডো

আলোছায়া দৃশ্য হলে হাত রাখি চুলে

অস্ফূট মুখের রেখা আঁধারের গডো

কম্পমান ওষ্ঠাধরে মৃত্যু এসে সাজে

যেই কথা চিরদিন প্রাণে থর থর

ফুল ফোটার শব্দরা কানে কানে বাজে

কালের বোঁটায় জাগে পরমায়ু ঝড়

সরে যাই ঝরে যাই পুড়ে যাই সাঁঝে

সন্ধ্যাতারা বিঁধে আছে চোখের ভিতর

 

 

চিতাস্বর

 

কারো চোখ মরে যায় বাতাসের বনে

যাবে কি যাবে না ভেবে মরে আরবার

ফেটে যায় চিতাস¦র আগুনের ঘ্রাণে

মৃত চোখ নেবে না তো দৃশ্যের ভাগাড়

মৃত চোখ হেঁটে চলে যেতে পারে দূরে

জাতিস্মর বেদনায় মৃত চোখ ঘামে

ছায়া রেখে মাঠে চোখ উড়ে যেতে পারে

অপর কালের নাম চোখেদের নামে

বাগানের গানে লাগে প্রকাশের কালি

কাজলের সিঁড়ি ভেঙে একাকীত প্রাণ

আকাশের পিঠে নেমে মেঘ ছিঁড়ে ফেলি

পিয়েতা শেষে হয়েছে পাথরের গান

গানের ভিতর চির যাতনার বলি

রাত্রিভুক হয়ে থাকি তারার সমান

 

 

ঘুমছায়া

 

দেহরেখা চিনে নেয় কাকাতুয়া রাত

পায়ে পায়ে পথ আছে এঁকাবেঁকা লেখা

রাতের বিবরে আছে লুকোনো করাত

একফালি ক্ষত নিয়ে হেঁটে যাই একা

শ্বাসগুলি এঁকে রাখি অগোচরে ঝিম

গাভীন ক্ষেতের আড়ে নিঝুম রাখাল

রোদ আর ক্ষত মিলে আদিম আদিম

পরিপাটি ঘুমছায়া ঘাসের আড়াল

চারিধার গাঢ় হলে কথাকলি নাচে

রাঙা সিঁথি মুছে দিই রাবণ আঙুল

দুপুর জড়িয়ে থাকে বেলপাতা গাছে

একই চিরুনি চিরে আমাদের চুল

তোমার হাতের ভাঁজে নিশ্বাসের কাছে

সবুজ ঘ্রাণের দেশে ছিলাম রাতুল

 

ভগ্নাংশ

 

হলুদের বনে শাদা বাদলের নাম

দেয়ালের খাঁজে মুছে দিলাম জানালা

আধেক ধনেশ হাতে হলুদ হলাম

আধেক আলো বাহিরে ফেটেছে ত্রিফলা

হাতের ভাঁজের মুখ থির হয়ে আছে

একা বীণা বেজে গেছে একখানি তারে

আধেক জিরাফ এসে বোবা হয়ে গেছে

আধেক কিন্নরী আছে ঘোরের ওপারে

বাসনা রুমাল রাখি গাভীন ছায়ায়

বুকজুড়ে বুক পোড়ে সকলি নিঝুম

আধেক রুমালে লেখা ভুলো না আমায়

আধেক ছোঁয়ায় ভুলে থেকেছি অঘুম

চিরক্ষয়ে পড়ে আছে নিরাময় গাঁয়

আধেক গন্ধমাদন দূরে পড়ে ঘুম

 

 

ঋতুলেখ

 

আনন্দময় তোমার ইশারার পাশ

গুনে গুনে সব ঋতু লিখে রাখি চোখে

বাঁশিভাঙা সুরে চুর পতিত আকাশ

রাখালের তৃষ্ণা আমি মাঠে রাখি এঁকে

তুমি পুড়ে গেলে জেগে থাকি আর্তনাদে

এ প্রাচীন হাত খুলে আকাশের ভাঁজ

এখনো রাত্রির মদ সারা রাত কাঁদে

কেঁদে কেঁদে দুইচোখ মাতাল কোলাজ

রোদ আর জোছনার মাঝখানে থাকি

আমি রাখালের তৃষ্ণা বুনে দিয়ে মাঠে

শব্দের উত্তরে এক ডোডোনদী আঁকি

নদীদের বলি আসো বেঁধে রাখো ঘাটে

নদীপাখি বাঁধে হাতে স্রোতাধীর রাখী

রাখী পরে বসে থাকি সরল চৌকাঠে

 

জবাঘুম

 

অন্ধের দেশে পেরিয়ে রাস্তা স্নানঘর

ঘুমজবা জেগে থাকে সারা দিন রাত

কতিপয় তারা খসে আকাশে উত্তর

যে জাগে দুহাতে ধরে রাতের করাত

পেরিয়ে রাস্তা স্নানের ঘর জবাঘুম

ওখানে দুজনে তবে কাড়াকাড়ি করি

সহজ চিহ্নের লোভে আদিম কুসুম

তেঁতুল পাতায় তার চুল গাঁথা জরি

ছায়া বুঝি দুজনের আদতে দুজন

স্বপ্নান্ধ চোখে গন্ধটা লেগে থাকে শুধু

রূপবতী রূপ নিয়ে ক্ষয়িত গোপন

কথাকলি চক্রমনে পায়ে পায়ে জাদু

বাতিঘরে আলো পুড়ে হয় ছাইবন

আলোর কান্নায় ভিজে যায় দৃশ্য ধুধু

 

চোখপাখি

 

আমাদের দুই তীর সমান নিবিড়

দুই তীরে বেঁধে ফেলি যত গীতধ্বনি

সেইসব ঘ্রাণ ছুঁয়ে অমৃতের ক্ষির

বুকে করে চিরদিন একা বয়ে আনি

অজানিত নদী এক ঘুরে ঘুরে আসে

এই নদী চোখে ধরে শুধু বসে থাকা

আমি জানি ঘুমহীন রাতের বাতাসে

চারিধারে নিমপাতা থরে থরে রাখা

ফুল খুলে চুল খুলে গান গেয়ে যাই

ভাঙা গান আকাশের চুল হয়ে বাঁচে

নিমি ঝিম খোকামেঘে বাদল নাচাই

নাচ শেষে ডুমুরের ফুল হয়ে বাঁচে

ডুমুর কলাবতীর প্রতিবেশী ভাই

ওইগাছে চোখপাখি ঘর বেঁধে আছে

 

 

বৃন্দাবনী

 

ভাঁজ খুলে পড়া যায় ফলিত গণিত

খুঁজে খুঁজে ছোঁয়া যায় সকল আঁধার

যা কিছু ফলিত আছে ভাঙনের মিথ

যা কিছু বিস্ময় তার সকলি পাহাড়

ঝিমি ঝিম ঘুমঘরে গোপনে সকাল

রাতচেরা ঘুম আছে গহিন আকর

পুঁইবোঁটা ঘষে দিলে দুইহাত লাল

শিকড়ের টানে কেউ হয় না শিকড়

ভুল এলে চোরাপথে সখিনী শরত

শিরাজুড়ে নদী ঘুরে রজঃবতী জ্বর

শিমপাতা ঘষে দিলে শাদা গীতপথ

ডালপাতা লাল হয় দখিনের ঝড়

শিকড়ের টানে কেউ ঝরাপাতা রথ

বৃন্দাবনী বাজে তার পরানের পর

 

 

নিমফুল

 

আমাকে স্পর্শ করো মিছিলের ভিড়

আমাকে স্পর্শ করো দূর পরমায়ু

নিয়ে যাও হাত ধরে বৈতরণী তীর

তুমি আমি হয়ে আছি ঘূর্ণিময় বায়ু

আমাকে স্পর্শ করো নিজের ভিতর

আমাকে স্পর্শ করো স্রোতাধীর হাঁস

বাদামের মধ্যে আমি বাদামের ঘর

সাঁতারের খেলা তার জ্বলে তালশাঁস

আমাকে স্পর্শ করো কবন্ধ ধাঁধায়

আমাকে স্পর্শ করো জাহাজের গতি

গতিমুখে সবুজ গান একা বেজে যায়

নিশ্বাসের আড়ে পোড়ে যতিহীন রতি

আমাকে স্পর্শ করে লাল কামনায়

ঘুরে ঘুরে নিমফুল উড়ে যাও স্মৃতি

 

 

প্রাণরাক্ষস

 

ভ্রমণ সরল হলে পথে ছনখোলা

অসুখের রং সব তোমাকেই আঁকে

অন্ধ ফুলদল আছে স্মৃতিচুর লীলা

জেনেছি তুমি সুন্দর হলে সব থাকে

রেখার মিছিলে আঁকা ছিলো গতকাল

যেই ধামে ধ্যানে বসে কিছুই পারি না

আমার তোমাকে ছেড়ে যাওয়া সকাল

আমার তোমাকে ছুঁড়ে দেয়া সব ঘৃণা

আমাকে নিজের মাঝে জমা করে দিয়ো

আমার হাতের মধ্যে আঙুলের ছাই

প্রাণরাক্ষস আমার হুহুপাখি প্রিয়

অক্ষয় নখ আমার কোনো পায়ে নাই

বিসুখ আমাকে যেতে দিয়ো যেতে দিয়ো

ওইখানে আমি একা খাক হয়ে যাই

 

 

যে বই থেকে কবিতাগুলি গৃহীত হয়েছে 

 

হুহুপাখি আমার প্রাণরাক্ষস (২০১৭, কবিতা)

প্রকাশক : মেঘনাদ

মূল্য : ১০০ টাকা

লিটিল ম্যাগ চত্বরে মেঘনাদ-এর ১৮ নম্বর স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close